Tuesday, 6 August 2013

রক্তে রাঙ্গা ৬ই আগষ্ট - ফিরে দেখা , এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ।

দুর্গাপুর , ৬ই আগষ্ট : ইস্পাত নগরীর আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা ৬ই আগষ্ঠ - নগরীর প্রথম শহীদ যুগল , কমরেড আব্দুল জব্বর ও কমরেড আশীষ দাসগুপ্ত এর শহীদ দিবস । ১৯৬৬ - জনবিরোধী কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে উত্তাল বাংলা উত্তাল দুর্গাপুর । ছাত্র - যুব - মহিলা - শ্রমিক - কৃষক আন্দোলনের তরঙ্গে বিপর্যস্ত কংগ্র্রেস সরকার , হিংস্র পুলিশী আক্রমনের আড়ালে মরিয়া শ্রেনী স্বার্থ রক্ষায় । ৫ই আগষ্ট , ১৯৬৬ -  পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে  কাপুরুষের  মতো আক্রমন চালানো হয়েছিল  শান্তিপূর্ন  ভাবে আন্দোলনরত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদের উপরে । পুলিশের লাঠির ঘায়ে মাথা  চৌচির হয়ে যায় তরুন কমরেড আব্দুল জব্বরের । পরের দিন , ৬ই আগষ্ট । ধর্মঘট আর মিছিলের মধ্য দিয়ে , শাসকশ্রেনীর বর্বরতার জবাব দিয়েছিল দুর্গাপুরের ইস্পাত শ্রমিক , মেহেনতী জনগন , গনতন্ত্রপ্রিয় মানুষ । ক্ষিপ্ত শাসকশ্রেনীর পুলিশ, সে দিন  ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল কমরেড আশীষ দাসগুপ্তকে । তিনি ছিলেন দুর্গাপুরের ইস্পাত শ্রমিকদের আপন সংগঠন , হিন্দুস্হান স্টিল  এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের ( HSEU )  সহ-সম্পাদক ও দুর্গাপুরের ইস্পাত কারখানার ওয়ার্কস কমিটিতে নির্বাচিত  অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্বাচিত শ্রমিক  প্রতিনিধি । সারা বাংলা গর্জে উঠেছিল এই বর্বরোচিত হত্যালীলার বিরুদ্ধে । দুর্গাপুর নেমে এসেছিল রাস্তায় । স্বাধীন  ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের নয়া রাস্তার নাম হোল  , দুর্গাপুরের প্রথম  শহীদ কমরেড আশীষ -জব্বর  রক্তে ভেজা - দুর্গাপুর । না এই আত্মবলিদানের শেষ এখানেই শেষ নয় । ভারতের শাষকশ্রেনীর হিংস্র শ্রেনী আক্রমনের মুখোমুখি ব্যারিকেড বৃহত্তর  দুর্গাপুরের রক্তস্নাত ট্রেঞ্চে প্রান দিয়েছেন ৪০ জন কমিউনিষ্ট ও বামপন্হী । আজ আবার আক্রান্ত পঃ বঙ্গের গনতন্ত্র , মেহেনতি মানুষের অধিকার । আক্রান্ত  দুর্গাপুর । আজ আবার ৬ই আগষ্ট , ডাক দিচ্ছ উত্তরাধিকারীদের , ১৯৬৬ -র অপরাজেয় দুর্গাপুরের ব্যারিকেড অক্ষুন্ন রাখার । 
  
আজ ,দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে , যথাযথ মর্যাদায় পালিত হোল ৪৮- তম শহীদ-দিবস ।শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে , HSEU এর পক্ষ থেকে , ইউনিয়ন দফ্তরে  গত ৪ঠা আগষ্ট শিশুদের বসে আঁকো প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ছিল ৪০৭ জন প্রতিযোগী । ঐ শিশুদের অভিভাবকরাও অংশ নিয়েছিলেন তাৎখনিক বক্তৃতা  ও বিতর্ক প্রতিযোগীতায় । আজ সকালে  হিন্দুস্হান স্টিল  এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের ( HSEU )- র DSP শাখার দফ্তরে রক্তপতাকা উত্তোলন ও শহীদবেদীতে মাল্যদান  করেন কমরেড অজিত মুখার্জী , পি কে দাস , অরুন চৌধুরী , ব্রজমানিক চক্রবর্তী প্রমূখ । মূল অনুষঠানটি হয় আশীষ মার্কেট ও সংলগ্ন জব্বরবাগে ।শহীদবেদীতে  মাল্যদান করেন কমঃ জীবন রায় , রথীন রায় , এস কে এন চৌধুরী সহ অন্যান্য গন-আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ । ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী ) - র ১এ ও ১বি জোনাল কমিটির দফ্তর শহীদ  আশীষ -জব্বর ভবনের অনুষ্ঠানে শহীদবেদীতে  মাল্যদান করেন কমঃ সন্তোষ দেবরায় , সুশান্ত ব্যানার্জী , নির্মল ভট্টাচার্য , আল্পনা চৌধুরী , লাল্টু সেনগুপ্ত প্রমূখ । এদিন ,শহীদ  আশীষ -জব্বর ভবনে উদ্বোধন করা হোল ,' বিনয় চৌধুরী  স্মৃতি পাঠাগার '।                                          উদ্বোধন করেন  কমঃ  অজিত মুখার্জী ।  এই উপলক্ষ্যে গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের  ইস্পাত নগরীর ১নং জোনাল কমিটির মুদ্রিত ,' শহীদ তোমাকে ' ফোল্ডারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কমঃ জীবন রায় । শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে সকালে  HSEU - র DSP শাখার দফ্তরে রক্তদান শিবিরে ২৫ জন রক্তদান করেন । 

         বিকালে ইউনাইটেড কন্ট্রাকটার্স ওয়ার্কাস ইউনিয়নের ( UCWU) আয়োজিত শহীদ নিমাই অধিকারী  ও পরিতোষ ভট্টাচার্য  স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের  রজত- জয়ন্তী বর্ষের ফুটবল  প্রতিযোগীতার  ফাইন্যাল খেলায়  ৩-১  গোলে ভারতী ভলিবল ক্লাবকে হারিয়ে জয়ী হয় আমরা ক'জন বয়েজ ক্লাব । বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রাক্তন সাংসদ জীবন রায় ও সুনীল খান । অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন , কমরেড রথীন রায় ,  DSP-র GM P&A I/C শ্রীমতি মীনাক্ষী রামন ও DGM P&A I/C  - জি সি সিনহা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অথিতি বৃন্দ । 
   
     সন্ধ্যয় , ১ নং বিদ্যাসাগর এভিন্যু-এ ( HSEU )- র DSP শাখার দফ্তরে  আয়োজিত গন-কনভেনশনের প্রারম্ভে ,  শিশুদের বসে আঁকো প্রতিযোগীতায় ও  তাৎখনিক বক্তৃতা প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেওয়া হয় । কনভেনশনে , একমাত্র  বক্তা  ছিলেন  কমঃ জীবন রায় । শহীদদের স্মরন করার সাথে সাথে কেন্দ্রর কং-ইউপিএ সরকারের জনবিরোধী নয়া উদারনৈতিক নীতি ও পঃ বঙ্গে তৃনমূল সরকারের গনতন্ত্র বিরোধী  নীতির বিরুদ্ধে একবিংশ শতকের সাথে মানানসই শ্রমিকশ্রেনীর জোরদার আন্দোলন গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যাখা করেন  ।  সভাপতিত্ব করেন  কমঃ  অজিত মুখার্জী  । 


                                                             












































Monday, 5 August 2013

ভারতের কমিউনিষ্ট আন্দোলনের মহান পথিকৃত ,' কাকাবাবু ' কমরেড মুজফফার আহমেদের ১২৫-তম জন্মদিবস পালিত হোল ।

দুর্গাপুর , ৫ই আগষ্ট : আজ ৫-ই আগষ্ট । পা-এ পা-এ পেরিয়ে এল ১২৫ বছর ; ভারতের কমিউনিষ্ট আন্দোলনের মহান পথিকৃত ,' কাকাবাবু ' কমরেড মুজফফার আহমেদের জন্মদিবস ( আগষ্ট , ১৮৮৯ - ডিসেম্বর ১৮ , ১৯৭৩ ) । ২০-এর দশকে ভারতের শিশু কমিউনিষ্ট আন্দোলনকে শাসক ব্রিটিশ সাম্রজ্যবাদী সরকার যখন টুঁটি চেপে আতুর ঘরে মেরে ফেলার চেষ্টা করছিল , তখন হিমালয়ের থেকেও অটল সেই ঝঞ্ছা-বিক্ষুব্দ্ধ দিনগুলিতে ভারতে কমিউনিষ্ট আন্দোলন গড়ে তোলার কারিগরদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কমরেড মুজফফার আহমেদ । পরবর্তি ৫০ বছর ধরে , স্বাধীনতার আগে ও পরে , ভারতে শক্তিশালী কমিউনিষ্ট আন্দোলনের অন্যতম কারিগর কমরেড মুজফফার আহমেদর সহজ-সরল কমিউনিষ্ট সুলভ জীবন-যাত্রা  , মার্কসবাদ-লেনিনবাদী মতাদর্শের প্রতি অকুন্ঠ নিষ্ঠা , সর্বোপরি জনগনের প্রতি অপরিসীম দায়বদ্ধতা ,  কমিউনিষ্টদের কাছে আদর্শ । তাঁর জন্মদিবস পালন - কমিউনিষ্টদের   সেই  আদর্শ  পালনের পুনরায়  শপথ গ্রহনের দিন । 

          সেই অঙ্গীকার নিয়েই শহীদ আশীষ-জব্বর ভবনে , ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী ) -র দুর্গাপুর ১এ ও ১ বি জোনাল কমিটির উদ্যোগে সকাল ১১-০০ সময়ে কাকাবাবু ' কমরেড মুজফফার আহমেদের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় । প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন কমরেড সন্তোষ দেবরায় , লাল্টু ( সুবীর ) সেনগুপ্ত , নির্মল ভট্টাচার্য , আল্পনা চৌধুরী প্রমূখ ।  


                                                            







Saturday, 3 August 2013

অবিলম্বে বেতন-চুক্তি ফয়সালার দাবীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্পাত-শ্রমিক ও কর্মচারীদের দেশব্যপী বিক্ষোভ সমাবেশ ।

 দুর্গাপুর,৩রা আগষ্ট : অবিলম্বে , SAIL-RINL-CMO-Mines  এর স্হায়ী ও ঠিকা  শ্রমিক-কর্মচারীদের  বেতন-চুক্তি-পেনশন - বকেয়া ভাতা সহ NJCS-র উপযুক্ত ফয়সালার দাবীতে , রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্পাত-শ্রমিকদের সর্বভারতীয় সংগঠন SWFI ( স্টীল ওয়ার্কাস ফেডঃ অফ ইন্ডিয়া )/ CITU  - এর ডাকে ২রা-৩রা  আগষ্ট , দু-দিন দেশব্যাপী বিক্ষোভে ব্যপক সারা  মিলেছ । পঃবঙ্গ - ঝারখণ্ড - ওরিষ্যা-অন্ধ্র-তামিলনাড়ু - কর্নাটক - ছত্রিশগর ও মহারাষ্ট্র জুড়ে ছড়িয়ে আছে  SAIL ও RINL এর কারখানা এবং খনিগুলি । প্রসংগত, রাষ্ট্রায়ত্ত  ইস্পাত শিল্পের কর্তৃপক্ষের টালবাহানায়  বিগত ২০-মাস ধরে বকেয়া রয়েছে  নতুন বেতন-চুক্তি  এবং SWFI(CITU) সহ সমস্ত ট্রেড ইউনিয়নগুলি NJCS অবিলম্বে ফয়সালা ও দাবীগুলির বিষয়ে  এককাট্টা রয়েছেন । 

     ২রা  আগষ্ট , বিক্ষোভের প্রথমদিন ছিল ঠিকাশ্রমিকদের বিক্ষোভ কর্মসূচী । কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া-উদারনীতিবাদী অর্থনীতির দাপটে রাষ্ট্রয়ত্ত ইস্পাত শিল্পে ক্রমহ্রাসমান স্হায়ীশ্রমিকদের জায়গায় ঠিকাশ্রমিকদের নিয়োগ ক্রমবর্দ্ধমান এবং উৎপাদনবৃদ্ধিতে স্হায়ী শ্রমিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করলেও , সর্বভারতীয় ক্ষেত্র ঠিকাদারদের নির্মম শোষনের শিকার । যদিও পঃ বঙ্গে , বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে নূন্যতম বেতন-সীমার দাবী আদায় করা গিয়েছিল , তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় কম । বর্তমানে তৃণমূল সরকারের সময় সেই বেতনও মিলছে না । সম কাজে সম বেতন - CITU এর এই দাবীকে সামনে রেখে  কয়লা শিল্পের ঠিকা শ্রমিকদের  ৪-গ্রেডের মডেলের বেতন-চুক্তির ভিত্তিতে  অবিলম্বে NJCS এ ঠিকা শ্রমিকদের DA সহ বেতন-চুক্তির ফয়সালার দাবীতে প্রায় সর্বত্র বিক্ষোভ সমাবেশ হয় । স্হায়ী শ্রমিকরাও  সংহতি জানিয়ে এই বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগদান করেন । 

          ৩-রা  আগষ্ট ছিল স্হায়ী শ্রমিকদের বিক্ষোভ জমায়েত । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও মিশ্র ইস্পাত কারখানা সহ সর্বত্র ব্যপক জমায়েতের খবর পাওয়া গেছে । SWFI(CITU) সহ INTUC-AITUCH-HMS-BMS এবং  ইস্পাত শিল্পের প্রায়  সমস্ত ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে ২০% MGB , শতকরা হিসেবে ফ্রিঞ্জ বেনিফিট প্রদান , এক শিল্পে এক পেনশন সহ বিভিন্ন দাবীতে ঐক্যমত তৈরী হলেও  রাষ্ট্রায়ত্ত  ইস্পাত শিল্পের কর্তৃপক্ষের টালবাহানায়  NJCS এর ফয়সালা হচ্ছে না বলে অভিযোগ । 

              এই দিন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন গেটে HSUE-এর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ-সমাবেশে NJCS এর ফয়সালার সাথে সাথে অবিলম্ব দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার  আধুনিকীকরন ও সম্প্রসারের কাজ শুরু করার দাবীও পুনরায় উথ্থাপন করা হয় । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন SWFI-র সম্পাদক কমরেড পি কে দাস ,অরুন চৌধুরী , ললিত মিশ্র ,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ,প্রদ্যুৎ মুখার্জী । সভাপতিত্ব করেন কাজল মজুমদার ।