দুর্গাপুর , ২২শে নভেঃ : আজ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার সৃজনী হলে অনুষ্ঠিত হোল ১৩ - দফা দাবীতে দুর্গাপুর মহকুমার বাম গণ-সংগঠনগুলির কনভেনশন ।রাজ্যস্তরে ২৭টি বামপন্হী গণসংগঠন রাজ্যের মানুষের জলন্ত সমস্যার সমাধানের জন্য ১৩ - দফা দাবীর ভিত্তিতে সারা রাজ্য রাজ্যব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে । রাজ্যস্তরের গৃহীত কর্মসূচীর ভিত্তিতে জেলা ও মহকুমা স্তরে কনভেনশনের মাধ্যমে রাজ্যের সর্বত্র ১৩-দফা দাবীতে জোরালো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে । আজ অনুষ্ঠিত হোল দুর্গাপুর মহকুমার কনভেনশন । উপচে-পরা সৃজনী হলের মেঝেতেও আজ পা ফেলার জো ছিল না । হলের ভীড় উপচে বাইরে পৌঁছেছে । বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রতিনিধিরা আজকের পঃ বঙ্গ কিভাবে তৃণমূল সরকারের পরোক্ষে ইউপিএ সরকারের সাম্রাজ্যবাদ-ঘেঁষা উদার অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করছে এবং তারফলে জনজীবনে জীবন-জীবিকার উপর ভয়াবহ আঘাত নেমে এসেছে তা তুলে ধরেন । বক্তব্য রাখেন কমঃ আর সি সিং , রজত দত্ত , অনিত মল্লিক ও সিআইটিউ-র বর্ধামান জেলা কমিটির সম্পাদক কমঃ অজিত মুখার্জী । কনভেনশনের প্রধান বক্তা , সারা ভারত কৃষকসভার পঃ বঙ্গ প্রাদেশিক কমিটির সভাপতি কমরেড মদন ঘোষ বলেন যে আজকের পঃ বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী , পঃ বঙ্গ সহ সারা দেশে উদার অর্থনৈতিক নীতিকে লাগু করার জন্য কংগ্রেস - এন ডি এ ও ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে । শুধু তাই নয় , আজ ভারতে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছে আরএসএস - বিজেপি । সেই শক্তির সাথেও হাত মিলানোর ঐতিহ্য আছে শ্রীমতি মমতা ব্যানার্জী । আজ পঃ বঙ্গে , তৃণমূল সরকারের মদতে কালোবাজারীদের মদত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃত্রিম অভাব তৈরি করা হচ্ছে । পঃ বঙ্গের অর্থনীতিকে ভয়াবহ সংকটের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর সরকার । রুটি-রুজির উপর এই ভয়ংকর আক্রমনের বিরুদ্ধে জাগ্রত জন-কন্ঠকে টুঁটি চিপে ধরার জন্য গনতন্ত্রের নিধন যজ্ঞ চলছে । বামপন্হীদের উপরে চলছে নৃশংস হামলা । এই অরাজকতা ও ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি - বেকারত্ব - নারী লাঞ্ছনা - শিক্ষা ক্ষেত্রে সার্বিক নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ব্যপকতম মানুষকে লড়াইয়ের ময়দানে সামিল করতে হবে । কমরেড মদন ঘোষ , রাজ্যস্তরে ২৭টি বামপন্হী গণসংগঠন রাজ্যের মানুষের জলন্ত সমস্যার সমাধানের জন্য ১৩ - দফা দাবীর ভিত্তিতে সারা রাজ্য রাজ্যব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে , তাকে সফল করার আহ্বান জানান । কনভেনশনে ১৩-দফার দাবীর সপক্ষে ও হাওড়ায় প্রবাদপ্রতিম কমিউনিষ্ট জননেতা কমরেড জ্যোতি বসুর ও গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্তিকে কালিমালিপ্ত করার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উথ্থাপন করেন যথাক্রমে কমঃ রথীন রায় ও বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী এবং কনভেনশন এই প্রস্তাব দুটিকে বিপুল সমর্থন জানায়।কনভেনশনের সভাপতিত্ব করেন গণ-আন্দোলনের প্রবীন নেতৃত্ব কমরেড রথীন রায় ।
Friday, 22 November 2013
Wednesday, 20 November 2013
Sunday, 17 November 2013
শহীদদের রক্তে রাঙ্গানো দুর্গাপুর - শহীদ কমরেড সুকুমার ব্যানার্জী জন্মশতবার্ষিকী যুব - জাঠাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালো ।
দুর্গাপুর , ১৭ই নভেঃ : আশীষ - জব্বর সহ ৩২ জন শহীদদের রক্তে রাঙ্গানো দুর্গাপুর , শহীদ কমরেড সুকুমার ব্যানার্জী জন্মশতবার্ষিকী যুব - জাঠাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালো । ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের ( ডিওয়াইএফআই ) বর্ধমান জেলা কমিটির পক্ষ থেকে ছাত্রনেতা ও বর্ধমান জেলার শ্রমিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ কমরেড সুকুমার ব্যানার্জীর জন্মশতবার্ষিকী পালন ও তার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে শহীদ সুকুমার ব্যানার্জীর শহীদবরনের দিন গত ১৫ই নভেঃ কাঁকসার কুলডিহা গ্রামের শহীদ সুকুমার ব্যানার্জীর পৈত্রিক ভিটা থেকে যুব - জাঠার সূচনা হয় । আগামী ১৮ই নভেঃ , ৭০ কিমি পথ অতিক্রম করে এই জাঠা রাণীগঞ্জের বল্লভপুর পেপার মিলের গেটে , যেখানে কমরেড সুকুমার ব্যানার্জী শহীদের মৃত্যুবরন করেছিলেন সেই জায়গায় পৌঁছালে , জাঠা শেষ হবে এবং আগামী ১৯শে নভেঃ রাণীগঞ্জের পোষ্ট - অফিস ময়দানে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে শহীদ কমরেড সুকুমার ব্যানার্জী জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে । গতকাল সন্ধ্যায় জাঠা দুর্গাপুরে পৌঁছায় । আজ সকালে , ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের ( ডিওয়াইএফআই ) বর্ধমান জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক , কমঃ দেবানন্দ প্রসাদ ও উদয় রায়ের নেতৃত্বে শহীদ বিমল দাসগুপ্ত ভবন থেকে জাঠা শুরু হয়ে সিটি সেন্টারের সেইল আবাসনের মৌলনা আজাদ মোড়ে পৌঁছালে , জাঠাকে বিপুল ভাবে সংবর্ধনা জানানো হয় শ্রমিক - কৃষক - ছাত্র - যুব - মহিলা - অসংগঠিত শ্রমিক - সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্হিত বিশাল জনতা । উপস্হিত ছিলেন কমঃ সন্তোষ দেবরায় , সুবীর সেনগুপ্ত , আল্পনা চৌধুরী , বাদল মজুমদার , অরুন চৌধুরী , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী , অশোক চক্রবর্তী , বিজন জোয়ারদার , দীপক ঘোষ , শুভ্রা গাঙ্গুলী , অনিমা সাহা , একরাম মন্ডল , নাজিম মন্ডল সহ অন্যান্য গন - আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ । উপস্হিত ছিলেন ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের ( ডিওয়াইএফআই ) দুর্গাপুর ১এ জোনাল কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক কমঃ সুমন্ত্র ব্যানার্জী ও সুদীপ্ত মাইতির নেতৃত্ব যুব - সদস্যরা । জাঠা - যাত্রীদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন ( HSEU ) , CITU -র পক্ষ থেকে । এরপরে , যুব- জাঠাকে নিয়ে বিশাল মিছিল ইস্পাতনগরীর সেইল আবাসন , সি - জোন ও বি -জোনের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মেইন হাসপাতাল মোড়ে পৌঁছায় । পথে কবিগুরু , ভগৎ সিং মোড় ও চন্ডীদাস বাজার রোটারীতে জাঠা - মিছিলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় । জাঠা - মিছিল মেইন হাসপাতাল মোড়ে পৌঁছালে , সেখানে অপেক্ষমান বিশাল জমায়েত , গন - আন্দোলনের নেতৃত্ব কমঃ সুশান্ত ব্যানার্জী ও নির্মল ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে জাঠা - যাত্রীদের সংবর্ধনা দেয় । এরপরে , জাঠা - মিছিল ইস্পাতনগরীর এ'জোনের বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে প্রান্তিকায় পৌঁছায় এবং ইস্পাতনগরী ছেড়ে বেনাচিতির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে । জাঠা - মিছিল ইস্পাতনগরী অতিক্রম করার সময়ে বহু মানুষ রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থেকে মিছিলকে উৎসাহিত করেন ।
Subscribe to:
Posts (Atom)