দুর্গাপুর , ৬ই জানুঃ : আজ , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ
) , আইএনটিইউসি , এআইটিইউসি ও স্টিল এমপ্লয়িজ ফোরামের যৌথ মঞ্চের ডাকে অবিলম্বে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার উদ্বৃত্ত কোয়ার্টার ও জমি লিজিং এর দাবীতে দুর্গাপুর
ইস্পাত কারখানার প্রশাসনিক ভবনে ( অ্যাডমিন বিল্ডিং ) বিশাল গণ জমায়েত হয় । ২০০৮ সালে
দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ হটাৎ
করে একতরফাভাবে কোয়ার্টার লিজিং বন্ধ করে । এই মুহুর্তে , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার
প্রচুর জমি ও কোয়ার্টার উদ্বৃত্ত হয় পড়ে আছে , বেআইনিভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে । প্রায় ১১০০
কোয়ার্টারে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী লিজিং এর আশায় কোয়ার্টারে বাস করছেন । বোকারো
, রাউরকেল্লার মত সেইলের কারখানাগুলিতে লিজিং চালু থাকলেও , কোন অজানা কারনে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় সম্পূর্ন বৈষম্যমূলক ভাবে
কর্তৃপক্ষ লিজিং বন্ধ রেখেছেন , তার ব্যাখ্যা দিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ । তাই ইস্পাতনগরী জুড়ে দুর্গাপুর
ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের এহেন আচরনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । এই
ক্ষোভ আজ আছড়ে পড়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রশাসনিক ভবনে ( অ্যাডমিন বিল্ডিং )
এ । সাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশাল গণ জমায়েতের চেহারা বুঝিয়ে দিয়েছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের অমানবিক
ও একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন কোথায় পৌঁছেছে । জমায়েত চলকালীন যৌথ মঞ্চের পক্ষে
এক প্রতিনিধিদল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষকে
অবিলম্বে উদ্বৃত্ত কোয়ার্টার ও জমি লিজিং শুরু করার দাবী জানানো হয় অন্যথায় যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেওয়া হয় । কর্তৃপক্ষ এই
বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্হার আশ্বাস দিয়েছে বলে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয় । আজকের গণ
জমায়েতে বক্তব্য রেখেছেন অরুন চৌধুরী , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী , স্বপন মজুমদার , কাজল
মজুমদার ,ললিত মিশ্র , বিশ্বজিত বিশ্বাস ,শম্ভু প্রামানিক , বিবেক সাহা প্রমূখ । গণ
জমায়েতের পক্ষ থেকে আজ থেকে শুরু হওয়া ৫-দিন ব্যাপি সারা ভারত কয়লা শিল্পের ধর্মঘটের
প্রতি পূর্ণ সংহতি জানানো হয় ।
Tuesday, 6 January 2015
Monday, 5 January 2015
প্রতিবন্ধীদের উপরে বর্বোরিচত আক্রমনের বিরুদ্ধে মহকুমা শাসকের কাছে পঃ বঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সন্মিলনীর ডেপুটেশন ।
দুর্গাপুর , ৫ঠা জানুঃ : রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের নৈরাজ্যর হাত থেকে প্রতিবন্ধীরাও
রেহাই পাচ্ছে না । প্রতিবন্ধীদের বিরুদ্ধে খুন – জখম – ধর্ষন – শ্লিলতাহানির মত মারাত্মক
অপরাধ বেড়েই চলেছে । অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করছে না । গত কয়েক দিনের
মধ্যে দুর্গাপুর মহকুমায় প্রতিবন্ধীদের উপরে পর পর নৃশংস আক্রমন ঘটেছে । গত ২৭ শে ডিসেঃ
পানাগড়ে ডিভিসি পাড়ায় একজন বিধবা প্রতিবন্ধীকে জনৈক কপিল পণ্ডিত ধর্ষন করে অথচ সেই
ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা গ্রহন করা হয় নি । গত ৩০শে ডিসেঃ দুর্গাপুরের ইস্পাতনগরীর
বি’জোনে শাসকদলের দুষ্কৃতিদের অমানবিক মারধোরে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হতে হয় প্রতিবন্ধী
শ্রী মোহন
পাসোয়ানকে । পুলিশ এক্ষেত্রেও দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা গ্রহন করে
নি । গত ২রা জানুঃ খান্দরা কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র তুলতে গিয়ে খান্দরা
কলেজের তৃতীয় বর্ষের প্রতিবন্ধী ছাত্রী শ্যামা সহিস কে প্রথমে পুলিশ ও তার পরে পুলিশের
উপস্হিতিতে শাসক দলের দুষ্কৃতিরা নৃশংস ভাবে মারধোর করে । যথারীতি পুলিশ কোন ব্যবস্হা
নেয় নি ।
আজ , পঃ বঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী
সন্মিলনীর বর্ধমান জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জেলা কমিটির সম্পাদক শ্রী মদন বাউরীর নেতৃত্বে
এক প্রতিনিধিদল দুর্গাপুরের অবিলম্বে এই ঘটনাগুলিতে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্হা গ্রহন করে গ্রেফ্তারের দাবী জানিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি জমা দেওয়া
হয় । প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মহঃ ইসাক , তুলসী ঘোষাল , গৌতম ঘোষ ও মিঠু
মজুমদার ।
Sunday, 4 January 2015
ঠিকা শ্রমিকদের মিছিলে জনস্রোত ।
দুর্গাপুর , ৪ঠা জানুঃ : আজ , ইউ.সি.ডব্লু.ইউ.( সিআইটিইউ ) এর ডাকে দুর্গাপুর
ইস্পাতের কর্মরত ও উচ্ছেদ হওয়া ঠিকা শ্রমিকদের এক বিশাল মিছিল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেন গেট থেকে শুরু হয়ে
জিটি রোড ধরে ওল্ড কোর্ট হয়ে ভিড়িঙিতে আসে । ভিড়িঙি থেকে বেনাচিতি বাজার হয়ে ইস্পাতনগরীর
প্রান্তিকা সংলগ্ন পাঁচমাথা মোড়ে শেষ হয় । উচ্ছেদ হওয়া ঠিকা শ্রমিকদের পুনর্বহাল,চুক্তি
অনুযায়ী ঠিকা শ্রমিকদের বেতন প্রদান,চুক্তি অনুযায়ী বি-লিষ্ট ও নোটিফায়েড ঠিকা শ্রমিকদের
স্হায়ীকরন ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ভেতরে ট্রেড ইউনিয়ন গনতন্ত্রের পুনঃ প্রতিষ্ঠা
– এই চার দফা দাবীতে আজকের মিছিল হয় ।
গত ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল
সরকার আসার পরে , দুর্গাপুর ইস্পাতের ঠিকা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা ও অধিকারের উপরে তৃণমূলীরা
বর্বোরিচত হামলা চালায় । ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের বলি হয়ে কাজ হারিয়েছেন ৫০০ জন মহিলা শ্রমিক
সহ ৩৫০০ জন ঠিকা শ্রমিক । এদের মধ্যে অধিকাংশই গত ২৫-৩০ বছর ধরে কাজ করছিলেন । তৃণমূলীদের
শারীরিক আক্রমনের শিকার হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন ইউ.সি.ডব্লু.ইউ.( সিআইটিইউ ) এর নেতৃত্বের
অনেকে । রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদের
বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা গ্রহন করা দুরে থাক , উল্টে তৃণমূলীদের পাশে দাঁড়িয়েছে । শ্রমিক
নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়ছে । উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিকদের পরিবার নিদারুন সংকটে
পড়েছে । যেসব ঠিকাশ্রমিকরা বর্তমানে কাজ করছেন , তৃণমূলের নেতা , ঠিকাদার ও দুর্গাপুর
ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের একাংশের যোগসাজসে নিদারুন শোষন-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন ।
চুক্তি মোতাবেক ঠিকাশ্রমিকদের দৈনিক ৪৩৮ টাকা থেকে ৫০৫ টাকা পাওয়ার কথা কিন্তু দেওয়া
হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ! শ্রমিকদের পিএফ-ইএসআই এর তহবিলে সঠিক জমা করছে না ঠিকাদাররা
। পরিবর্তনের জমানায় ঠিকাদাররা ঠিকাশ্রমিকদের সপ্তাহে একদিন সবেতনে ছুটি , বছরে ৩৭
দিন সবেতন ছুটি , বার্ষিক ১১% হারে বোনাস , ওভারটাইমের ডবল পয়সা , ছাঁটাইকালীন সুবিধা
কেড়ে নিয়েছে । চুক্তি অনুযায়ী ২০১২ সালের মার্চের মধ্য বি-লিষ্ট ও নোটিফায়েড ভুক্ত
ঠিকাশ্রমিকদের স্হায়ী করার কথা । কিন্তু ইস্পাত
কারখানার কর্তৃপক্ষ সেই চুক্তি সরসরি উপেক্ষা করছে । বামফ্রন্টের সময়ে ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ অথবা ঠিকাদাররা কখন চুক্তি
অমান্য করার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা ইউ.সি.ডব্লু.ইউ.( সিআইটিইউ ) এর নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে
পরে অধিকার আদায় করে নিতেন । আজ যখন ঠিকাশ্রমিকরা ঠিকাদার ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের
নির্মম শোষন-বঞ্চনার শিকার তখন তৃণমূলের নেতারা কেন নীরব সে কথা বুঝে নিতে ঠিকাশ্রমিকদের
বুঝে নিতে অসুবিধা হচ্ছে না । ইতিমধ্যে কেন্দ্রে বিজেপি-র সরকার ক্ষমতায় এসে শ্রম আইন
সংস্কারের নামে শ্রমিকদের অধিকার আইন করে কেড়ে নিতে চাইছে । এই সবের বিরুদ্ধে ঠিকাশ্রমিকদের
মধ্যে অসন্তোষের লাভাস্রোত বইতে শুরু করছে , আজকের বিপুলাকার মিছিল তারই ইঙ্গিত দিয়ে
রাখলো । মিছিলে যোগ দেন প্রাক্তন দুই সাংসদ
সুনীল খান ও সেখ সাইদুল হক , প্রাক্তন বিধায়ক বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী , গণতান্ত্রিক আন্দোলনের
নেতৃবৃন্দ , জেলা সিআইটিইউ , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম
ইউনিয়ন ও গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
Wednesday, 31 December 2014
তৃণমূলী দুষ্কৃতিদের হামলায় আবারও গুরুতর জখম হলেন প্রতিবন্ধী সম্মিলনির নেতা মোহন পাসোয়ান ।
দুর্গাপুর , ৩১শে ডিসেঃ : ‘ বদলা নয় , বদল চাই ‘ – পাড়ার দেওয়ালে তৃণমূলের
এই প্রতিশ্রুতি এখনও জ্বলজ্বল করলেও , ‘ পরিবর্তনে’-এর জমানায় এই পর্যন্ত ৪ বার তৃণমূলী
দুষ্কৃতিদের হামলায় গুরুতর জখম শারীরিকভাবে
প্রতিবন্ধী যুবক মোহন পাসোয়ান ।গতকাল রাতে বি’জোনের ভারতী মোড় থেকে নিজের বাড়ী নতুন পল্লীতে ফেরার পথে তৃণমূলী দুষ্কৃতি আজাদ সিং
ও তোতন সরকারের আক্রমনে গুরুতর জখম হয় পঃ বঙ্গ
রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনির ইস্পাতনগরীর বি’জোন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ও ডিওয়াইএফআই
এর সক্রিয় সদস্য কমঃ মোহন পাসোয়ান । খবর পেয়ে
লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ও গুরতর আহত অবস্হায় কমঃ মোহন পাসোয়ানকে বিধাননগর
এস.ডি.হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরে পুলিশর কাছে অভিযোগ
দায়ের করা হলেও , শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত
পুলিশ এখনও পর্যন্ত অপরাধীদের গ্রেফ্তার করতে পারে নি । এই ঘটনায় পঃ বঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী
সম্মিলনির রাজ্য কমিটির সদস্য মহঃ ইসাক তীব্র নিন্দা করে অবিলম্বে দুষ্কৃতিদের গ্রেফ্তারের
দাবী জানিয়েছেন ।
Tuesday, 30 December 2014
কর্তৃপক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিএসপি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী – অভিভাবকদের বিশাল বিক্ষোভ ।
দুর্গাপুর , ৩০শে ডিসেঃ : আজ , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার নগর প্রশাসনিক ভবনে
( টি এ বিল্ডিং ) দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার
শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে স্কুল স্হানান্তরের নামে ২টি মাধ্যমিক - উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল
( আকবর রোড গার্লস ও বি’জোন বয়েজ মাল্টিপারপাস ) বন্ধ করে দেওয়া , একতরফা ভাবে স্কুলের
ফী ৮২ গুন বৃদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট দোকান থেকে স্কুল ইউনিফর্ম কেনার নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিএসপি
স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী – অভিভাবকরা এবং হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ
)এর সদস্যরা তুমুল বিক্ষোভ দেখায় । হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ)
সহ ডিএসপি-র অন্যান্য স্বীকৃত ইউনিয়ন এর সাথে জেবিসি-তে
কোন আলোচনা ছাড়াই , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে গত ১৫ই ডিসেঃ
একতরফা এক সার্কুলার জারী করলে , ইস্পাতনগরীতে
ও সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । দফায় দফায় ছাত্র-ছাত্রী – অভিভাবকদের
বিশাল বিক্ষোভ নগর প্রশাসনিক ভবনে ( টি এ বিল্ডিং ) এ আছড়ে পড়ছে । আজকে বিক্ষোভ চলার সময় বক্তব্য
রাখেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর পক্ষে কমঃ বিশ্বরূপ ব্যানার্জী
ও স্বপন মজুমদার । তারা বলেন যে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর
পক্ষ থেকে লাগাতারভাবে স্কুল সহ ইস্পাতনগরীতে বিভিন্ন পরিষেবা সংকোচন করার জন্য দুর্গাপুর
ইস্পাত কর্তৃপক্ষের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা হচ্ছে । স্কুল-সংক্রান্ত
দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে ডিএসপি
স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী – অভিভাবকদের দাবীগুলিকে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন
( সিআইটিইউ) দৃঢ় ভাবে সমর্থন করে এবং তাদের লড়াই এর সাথে আছেন । অভিভাবকদের সংগঠনের পক্ষে শ্রী বিশ্বজিত নায়াক সহ
অন্যান্য অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরাও বক্তব্য রাখেন । সভাপতিত্ব করেন কমঃ কবিরঞ্জন দাসগুপ্ত
। পরে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) ও অভিভাবকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে
এক প্রতিনিধি দল জিএম ( টিএস ) শ্রী কাঞ্চন নন্দীর কাছে স্মারকলিপি জমা করে অবিলম্বে
স্কুল স্হানান্তরের নামে ২টি মাধ্যমিক - উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ( আকবর রোড গার্লস ও বি’জোন
বয়েজ মাল্টিপারপাস ) বন্ধ করে দেওয়া , একতরফা ভাবে স্কুলের ফী ৮২ গুন বৃদ্ধি এবং একটি
নির্দিষ্ট দোকান থেকে স্কুল ইউনিফর্ম কেনার
নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবী জানায় । জিএম ( টিএস) দাবীগুলির নিষ্পত্তি করবেন বলে আশ্বাস
দিয়েছেন বলে ইউনিয়ন এবং অভিভাবকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় ।
Sunday, 28 December 2014
মেহেনতী মানুষের ঐক্য ও বামপন্হীদের লড়াই রুখতে পারে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদকে ।
দুর্গাপুর , ২৭ শে ডিসেঃ – আজ , ইস্পাতনগরীর নেতাজী ভবনে ভারতের কমিউনিষ্ট
পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে , ‘ সাম্প্রদায়িকতা
ও মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান বিপদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সংগ্রাম ‘ – শীর্ষক এক আলোচনা সভার
আয়োজন করা হয় । আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক শ্রী গৌতম রায় । তিনি বলেন যে ১৮৫৭ সালের
মহাবিদ্রোহের পরে ভারতে ব্রিটিশ শাসকরা ভারতে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তারে ইন্ধন জুগিয়েছিল
। জাতীয় কংগ্রেসের সূচনাকাল থেকেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি সক্রিয় ছিল । পরবর্তীকালে
হিন্দু মহাসভা এবং তারও পরে আরএসএসের গঠনের
মধ্য দিয়ে সেই শক্তি আরও বিস্তার ঘটায় । কিন্তু লক্ষনীয় বিষয় হল যে ভারতের স্বাধীনতা
সংগ্রাম থেকে আরএস শুধু নিজেদের সরিয়ে শুধু রাখেনি , বরং হিন্দুরাজ্যের কথা বলার মধ্য
দিয়ে মুসলিম জনগনকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছিল । তারফলে প্রথমে পাকিস্হানের প্রস্তাব
উড়িয়ে দিলেও , পরে জিন্নাহ্ সহ অন্যান্যরা পাকিস্হান গঠনের দাবীতে ঝুঁকে পড়ে । আরএসএসের
নেতা গোলওয়ালকার যে কালচারাল-ন্যাশালিজমের কথা বলেছেন তার ভিত্তি স্বামী বিবেকানন্দ
এর বর্ণিত বৈদিক ধর্মের পরিবর্তে পুরান-ভিত্তিক এবং আরএসএস হিন্দু ধর্মের পরিবর্তে
হিন্দুত্বের কথা বলে । স্বাধীনতার পরে ,বিশেষ
করে মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পরে আরএসএসের প্রভাব কমতে থাকে । কিন্তু প্রথমে ভারতীয়
জনসংঘ ও পরে ভারতীয় জনতা পার্টি গঠনের মধ্য দিয়ে এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল , লালবাহাদুর
শাস্ত্রী , ইন্দিরা গান্ধী , রাজীব গান্ধীর মত কংগ্রেসী নেতা সহ জয়প্রকাশ নারায়ন এর
মত অকংগ্রেসী নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে আরএসএসের আজকের এই বাড়বাড়ন্ত ঘটেছে ।পশ্চিমবঙ্গে
আরএসএসের বৃদ্ধির পেছনে মমতা ও আরএসএসের পুরনো
সখ্যতার কথাও উল্ল্যেখ করেন শ্রী রায় । তিনি আরও বলেন যে আরএসএসের এই বৃদ্ধির পিছনে বহুমূখী কৌশল কাজ করছে
। বর্তমানে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মূল চালিকা শক্তি আরএসএস ও তার সহযোগী হিন্দুত্ববাদী
শক্তি সরাসরি ভারতের আবহমানকাল ধরে চলে আসা ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্যকেই কেবল আক্রমন
করছে তাই নয় , চ্যালেঞ্জ করছে ভারতের সংবিধানকে । এই পরিস্হিতিতে , ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার
সংগ্রামকে জোরদার করার জন্য চাই মেহেনতী মানুষের ঐক্য ও বামপন্হীদের লড়াই যা রুখতে
পারে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ শক্তিকে , রক্ষা করতে পারে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ বিপদের
হাত থেকে । সভায় বক্তব্য রেখেছেন দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক কমঃ
সন্তোষ দেবরায় । সভাপতিত্ব করেন কমঃ সুশান্ত ব্যানার্জী ।
Thursday, 25 December 2014
প্রয়াত হলেন পার্টি সদস্যা কমরেড শোভা মৈত্র ।
দুর্গাপুর , ২৫শে ডিসেঃ : প্রয়াত হলেন ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি
( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল সাংগঠনিক কমিটির অন্তর্গত
ডিএস -২ আঞ্চলিক কমিটির পার্টি সদস্যা কমরেড শোভা মৈত্র । চিকিৎসাধীন অবস্হায় গতকাল সকালে
মিশন হাসপাতালে তিনি প্রয়াত হয়েছেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বৎসর । অবিবাহিতা
প্রয়াত কমরেড শোভা মৈত্র মৃত্যুকালে ভাই-বোন সহ অন্যান্য আত্মীয় –পরিজন রেখে গেছেন
। আজ সকালে , ডিএস -২ আঞ্চলিক কমিটির দফ্তরে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হলে রক্তপতাকায়
আচ্ছাদিত করেন ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য ও দুর্গাপুর
ইস্পাত জোনাল সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক কমঃ সন্তোষ দেবরায় । মরদেহে মাল্যদান করেন কমঃ
সন্তোষ দেবরায় , সুশান্ত ব্যানার্জী , নির্মল ভট্টাচার্য , সুবীর সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য
নেতৃবৃন্দ । পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দফ্তর বি.টি.রণদিভে
ভবনে । সেখানে মাল্যদান করেন কমঃ অরুন চৌধুরী , জীবন রায় , পি কে দাস , বাদল মজুমদার
সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । পরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ।
সংক্ষিপ্ত জীবনী :১৯৪১ সালের ,২রা জানুঃ কমরেড শোভা মৈত্র জন্ম
গ্রহন করেন । ১৯৫৯ সালে তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় জোগদান করেন । ১৯৮৪ সালে তিনি
পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন । তিনি হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ( সিআইটিইউ
) ওবি সদস্যা ছিলেন ও ডিএসপি কো-অপঃ ক্রেডিট সোসাইটির ডাইরেক্টর ছিলেন । সহজ ,সরল জীবনযাপনে
অভ্যস্ত কমরেড শোভা মৈত্র তাঁর মিশুকে স্বভাব ও সুমধুর ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন
। দুর্গাপুরের শ্রমিক,সমবায় , নারী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ কমরেড শোভা মৈত্রের
মৃত্যুতে ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর
ইস্পাত জোনাল সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে আহ্বায়ক কমঃ সন্তোষ দেবরায় গভীর শোক প্রকাশ
করেছেন ।
Subscribe to:
Posts (Atom)
