Tuesday, 13 December 2016

দুর্গাপুরের শ্রমিক ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা প্রয়াত কমরেড এস.কে.এন চৌধুরী কে চোখের জলে বিদায় জানালো ইস্পাতনগরী ।



দুর্গাপুর,১৩ই ডিসেঃ – গতকাল , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতালে চিকিৎসধীন অবস্হায় প্রয়াত হলেন দুর্গাপুরের শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা সুনীলকান্তি নারায়ন চৌধুরী । তিনি ‘ কমরেড এস.কে.এন ‘ নামেই সমাধিক পরিচিত ছিলেন । বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন । মৃত্যুর সময়ে তাঁর স্ত্রী,দুই কন্যা ও জামাতা বর্তমান ।
আজ সকালে, প্রয়াত কমরেড এস.কে.এন এর মরদেহ প্রথমে নিয়ে আসা হয় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির দফ্তর ইস্পাতনগরীর আশীষ-জব্বর ভবনে। ইতিমধ্যে প্রয়াত  কমরেড এস.কে.এন এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আশীষ-জব্বর ভবনে পৌঁছান ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড অচিন্ত্য মল্লিক, পঃ বঙ্গ প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্পাদক কমরেড অমল হালদার , আভাস রায়চৌধুরী,বীরেশ্বর মন্ডল , দুর্গাপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতির রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি সেখ সাইদুল হক, বিজ্ঞান মঞ্চের রাজ্য কমিটিরি সদস্য রাম প্রণয় গাঙ্গুলী সহ অন্যান নেতৃবৃ্ন্দ । প্রয়াত কমরেড এস.কে.এন চৌধুরীর মরদেহে রক্তপতাকা দিয়ে আচচ্ছাদিত করেন কমরেড অচিন্ত্য মল্লিক ও কমরেড অমল হালদার । মাল্যদান করেন  অমল হালদার , অচিন্ত্য মল্লিক , বীরেশ্বর মন্ডল,নির্মল ভট্টাচার্য , আভাস রায়চৌধুরী,সুবীর সেনগুপ্ত , রথীন রায় , রাম প্রণয় গাঙ্গুলী সহ পার্টি ও বিভিন্ন গন-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির সম্পাদক ও দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ( তিনি সাংগঠনিক কাজে দিল্লিতে গেছেন ) এর পক্ষেও মাল্যদান করা হয় । পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার দফ্তর ( তিলক রোড ) ও দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট শাখার দফ্তরে ( বি.টি.রণদিভে ভবন,১নং বিদ্যাসাগর এভিন্যু ) । রক্তপতাকায় আচ্ছাদিত করেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর সভাপতি রথীন রায় । মাল্যদান করেন রথীন রায় , রামপঙ্কজ গাঙ্গুলী , প্রফুল্ল মন্ডল , মলয় ভট্টাচার্য , নিমাই ঘোষ সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন গন-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং  প্রয়াত কমরেড এস.কে.এন চৌধুরীর কন্যা ও জামাতা ।
এরপরে, মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সিটি সেন্টারে সি.আই.টি.ইউ এর বর্ধমান জেলা দফ্তরে । রক্তপতাকায় আচ্ছাদিত করেন সি.আই.টি.ইউ এর বর্ধমান জেলা কমিটির সভাপতি বিনয়েন্দ্র কৃষ্ণ চক্রবর্তী ও বংশগোপাল চৌধুরী । মাল্যদান করেন বিনয়েন্দ্র কৃষ্ণ চক্রবর্তী, বংশগোপাল চৌধুরী,বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী , মহাব্রত কুন্ডু ,পঙ্কজ রায় সরকার , গৌরাঙ্গ চ্যাট্যার্জী , বাদল মজুমদার ,শ্যামা ঘোষ , হারা সাঁই সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । সবশেষে , তাঁর মরদেহ সেইল আবাসন অঞ্চলে তাঁর ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় । পরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় । এর আগে ,তাঁর ইচ্ছা অনুসারে , পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মরোণত্তোর চক্ষুদান করা হয় ।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে স্ত্রী ও আত্মীয়-পরিজনদের ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র বর্ধমান জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানানো হয়েছে । ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির পক্ষেও অনুরূপ শোকজ্ঞাপন করা হয়েছে ।


সংক্ষিপ্ত জীবনী : ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহন করেন প্রয়াত কমরেড এস.কে.এন চৌধুরী । কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল ও পরে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন থেকে বিদ্যালয় শিক্ষা সমাপ্ত করেন ও ১৯৬১ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক হন ।
১৯৬২ সালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে সিনিয়ার অপারেটিভ ট্রেনী হিসেবে যোগদান করেন ও রিসার্চ এ্যান্ড কন্ট্রোল ল্যাব ইন্সপেক্টার হিসাবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন । এক্সিকিউটিভ হওয়ার প্রমোশন প্রত্যাখ্যান করেন ।
তাঁর পরিবার বামপন্হী আন্দোলন তথা পার্টির সাথে যুক্ত ছিল । তাঁর দাদা সুকোমল কান্তি চৌধুরী ছিলেন রেল শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রনী নেতা ।
১৯৬৫ সালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রতক্ষ্য করেন ও ঐ বৎসরে কারখানার কনজিউমার কো-অপঃ এর প্রথম নির্বাচনেই ডাইরেক্টর নির্বাচিত হন ।
১৯৬৬ সালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর এ.এস.পি শাখার প্রতিষ্ঠার অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি । ২০০২ সালে কর্মজীবন থেকে অবসরগ্রহনের সময় তিনি হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর কার্যকরী সভাপতি ছিলেন । সি.ই.টি.ইউ এর বর্ধমান জেলার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন ।
১৯৬৮ সালে তিনি পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন । পার্টির প্রাক্তন জোনাল কমিটির সদস্য ও আমৃত্যু আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিলেন ।
১৯৬৯ সালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের ২য় ওয়ার্কর্স কমিটির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সম্পাদকের দায়িত্ব বহন করেন ।
১৯৭০ সালে , সি.ই.টি.ইউ এর প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯৮২ সালে স্টিল ওয়ার্কর্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠা সম্মেলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন । সম্মেলনে প্রকাশিত ‘ হুইদার স্টিল ইন্ডাষ্ট্রী ‘নামক সংকলনটি প্রয়াত কমরেড মৃণাল ব্যানার্জীর সাথে যৌথ সম্পাদনা করেন ।
দেশের ইস্পাত শিল্পের এন.জে.সি.এস ও স্ট্যান্ডর্ডাইজেসন কমিটিতে বিকল্প সদস্য ছিলেন ।
১৯৯০ সাল থেকে সাক্ষরতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত থেকে রাজ্য কাউন্সিলের সদস্য হয়েছিলেন এবং মৃত্যুকালে ‘ বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতি’-র বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন ।
বিগত দু-দশক ধরে বিজ্ঞান আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন ।
২০১৩ সালে , তাঁর রচিত  ,” এ.এস.পি-র হত্যাকান্ড : তদন্তে ঐ শিল্পের এক মজুর “ বইটি অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে তিলে তিলে ধ্বংস করার চক্রান্ত কে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাবে উন্মোচিত করে ।
অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর লড়াই এ তাঁর অবদান অপরিসীম । ২০০২ সালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে জিন্দালদের বেঁচে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে ঐতিহাসিক গেট-ধর্ণায় তাঁর অসামান্য ভূমিকা , আজকে যখন পুনরায় অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর যে লড়াই তীব্রতর হচ্ছে , তাকে অবশ্যই প্রেরণা যোগাবে ।


































Monday, 12 December 2016

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর দাবী জানাতে দিল্লি যাচ্ছে যৌথ প্রতিনিধি দল ।



দুর্গাপুর,১২ই ডিসেঃ –  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানো সাথে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট এর সম্প্রসারন-আধুনিকীকরনের দাবী জানাতে, আগামী ১৪ই ডিসেঃ দিল্লিতে ইস্পাত মন্ত্রীর সাথে দেখা করবে এক যৌথ প্রতিনিধি দল ।
এই প্রতিনিধিদলে থাকবেন সি.আই.টি.ইউ এর সর্বভারতীয় সম্পাদক ও স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া ( এস.ডব্লু.এফ.আই ) এর সভাপতি  তপন সেন , এস.ডব্লু.এফ.আই এর সম্পাদক পি.কে.দাস, দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় , দুর্গাপুর এর প্রাক্তন   সি.পি.আই.(এম) সাংসদ সুনীল খান, কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য ও বি.কে.হরিপ্রসাদ,ডি.এম.কে সাংসদ ত্রিচি শিবা,  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ( এ.এস.পি ) ও দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট ( ডি.এস.পি) কারখানার হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর পক্ষে বিজয় সাহা ও বিশ্বরূপ ব্যানার্জী এবং আই.এন.টি.ইউ.সি এর পক্ষে বিকাশ ঘটক ও বিশ্বজিৎ বিশ্বাস । এছাড়াও এ.আই.টি.ইউ.সি ও এইচ.এম.এস এই যৌথ প্রতিনিধি দলে যোগ দিতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ধরনের ইস্পাত উৎপাদক কারখানা – দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট , সালেম ও ভদ্রাবতী এর ,” স্ট্যাট্রজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট “ করার উদ্দেশ্যে  নিলাম করার  জন্য ন্যাশানাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও মুম্বাই  স্টক এক্সচেঞ্জ কে চিঠি দিয়েছে সেইল কর্তপক্ষ । ইতিমধ্যে  গত ফেব্রুঃ মাস থেকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বাঁচাও এবং সম্প্রসারন-আধুনিকীকরনের দাবীতে সি.আই.টি.ইউ ও অন্যান বাম গন সংগঠন গুলি ইস্পাতনগরীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে এবং যৌথ আন্দোলনের আবেদন জানায় । দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট , সালেম ও ভদ্রাবতী এর ,” স্ট্যাট্রজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট “ করার উদ্দেশ্যে  নিলাম করার  জন্য ন্যাশানাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও মুম্বাই  স্টক এক্সচেঞ্জ কে সেইল কর্তপক্ষ এর  দেওয়া চিঠি ফাঁস হতেই , আই.এন.টি.ইউ.সি যৌথ আন্দোলনে যোগ দেয় । এছাড়াও দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাতে , মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ইতিমধ্যে তিনটি চিঠি দিয়েছেন ।

এই প্রতিনিধি দলে যোগ দিতে আজ সন্ধ্যায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় , দুর্গাপুর এর প্রাক্তন সি.পি.আই.(এম) সাংসদ সুনীল খান , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর পক্ষে বিজয় সাহা ও বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ।

Sunday, 11 December 2016

ইস্পাতনগরী দুর্গাপুরে নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ।



দুর্গাপুর,১০ই ডিসেঃ – আজ সন্ধ্যায় ,ইস্পাতনগরীর আশীষ-জব্বর ভবনে,ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির উদ্যোগে নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে ,’ নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ ও বর্তমান সময় ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হল । আলোচক ছিলেন ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র পঃ বঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য ও গণশক্তি পত্রিকার বার্তা সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী । আলোচনা প্রসংগে তিনি বলেন শোষন থেকে মুক্তির লক্ষ্যে মানব সমাজে বিপ্লব-বিদ্রোহের ইতিহাস প্রাচীন । কিন্তু নভেম্বর বিপ্লবের আগে ফ্রান্সের ৭২ দিনের প্যারী-কমিউন ছাড়া শোষিত মানুষের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের কোন উদাহরন ছিল না । প্যারী-কমিউন  ইতিহাসের অন্যন্য সাধারন বীরত্ব ও আত্মত্যাগের অধ্যায় যা নভেম্বর বিপ্লব কে সফল করতে সাহায্য করেছিল । শ্রমিক শ্রেনীর পার্টি ও শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর অনুপস্হিতিতে প্যারী-কমিউন ব্যর্থতার থেকে শিক্ষা নিয়ে , জার-শাসিত রাশিয়ায় কমরেড লেনিনের সুযোগ্য নেতৃত্বাধীন বলশেভিক পার্টি ও রাশিয়ার জনগন নভেম্বর বিপ্লব সফল করার জন্য দীর্ঘ মতাদর্শগত ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নিয়েছিল । নভেম্বর বিপ্লবত্তোর সোভিয়েত ইউনিয়নের কালজয়ী কার্যকলাপ বিশ্বের শোষন-মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম পাথেয় এবং শোষন-মুক্তির লড়াই এর প্রেরনা । বিশ্বের পুঁজিবাদী দুনিয়া সমাজতন্ত্রের প্রভাব রোধ করার জন্য তথাকথিত ‘সোশ্যাল-ওয়েলফেয়ার’ নীতি নিলেও , সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও সমাজতান্ত্রিক শিবিরের দূর্বলতার সুযোগে ,’নয়া উদার অর্থনীতি ‘-র নামে সরাসরি অবাধ লুন্ঠনের ব্যবস্হায় ফিরে গেছে । অপর দিকে,বিশ্ব কমিউনিষ্ট আন্দোলনের দূর্বলতায়,পুঁজিবাদের এই অবাধ লুন্ঠন-শোষনের যাঁতাকলে পিষ্ট মেহেনতী মানুষের ক্ষোভ কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশে দক্ষিনপন্হী-জাতিবিদ্বেষী  অথবা ফ্যাশিষ্ট শক্তির উথ্থান হচ্ছে , যা গোটা মানবজাতি কে ভয়ংকর বিপদ ও রক্তাত ভবিষ্যৎের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভারত , আমেরিকা সহ ইউরোপের সাম্প্রতিক নির্বাচন তার প্রমান । এই অবস্হা একমাত্র বদলাতে পারে নভেম্বর বিপ্লব এর শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রমিক শ্রেনীর পার্টি।

আলোচনা সভার শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন পার্টির বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য এবং দেবাশীষ চক্রবর্তীর হাতে শহীদ আশীষ-জব্বরের আত্মদান ও দু্র্গাপুরের ঐতিহাসিক আগষ্ট আন্দোলনের ৫০-তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্মারক-গ্রন্হ ,’অগ্নিশপথ ‘ তুলে দেন দুর্গাপুর ( পূর্ব) এর বিধায়ক ও ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির সম্পাদক সন্তোষ দেবরায় । এছাড়াও, সভায় উপস্হিত ছিলেন পার্টির বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য সুবীর সেনগুপ্ত , রথীন রায় , বিভূতি দাস মন্ডল , নিমাই ঘোষ, সলিল দাসগুপ্ত,কাজল চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । সভাপতিত্ব করেন নির্মল ভট্টাচার্য ।






Saturday, 10 December 2016

হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর উদ্যোগে নভেম্বর বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ।



দুর্গাপুর,১০ই ডিসেঃ – আজ সন্ধ্যায় , ইস্পাতনগরীর বি.টি.রণদিভে ভবনে , দুর্গাপুরের শ্রমিক আন্দোলন ও গন আন্দোলনের দিশারী এবং রাষ্ট্রায়ত্ব দুর্গাপুর ইস্পাত ও মিশ্র ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদের ( স্হায়ী ) একান্ত আপন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর উদ্যোগে নভেম্বর বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ,” আজকের প্রেক্ষিতে শ্রমিক আন্দোলনের সামনে সম্ভাবনা ও দায়িত্ব “ - শীর্ষক  এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হল । আলোচক ছিলেন অধ্যাপক দেবাশীষ সরকার । তিনি বলেন যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলেও নভেম্বর বিপ্লবের মহান বার্তা আজ ও আগামীদিনে সমান প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকবে এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দিশা হয়ে থাকবে । আজকর বিশ্বে বিরুদ্ধ দুই দর্শনের লড়াই চলছে । একদিকে  আজকের নয়া উদার অর্থনীতিবাদের যুগে শাসকশ্রনী রাষ্ট্রের ভূমিকাই লুপ্ত করে,সব কিছু বাজারের হাতে তুলে দিতে চাইছে । অন্যদিকে রাষ্ট্রের ভূমিকা বিলুপ্ত করার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে বিশ্ব জুড়ে শ্রমিক আন্দোলন লড়াই গড়ে তুলেছে । অবশ্য শেষ বিচারে , রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তন ছাড়া এই লড়াই পূর্ণতা পেতে পারে না । শ্রমিক আন্দোলন  সেই দিশায় পরিচালিত করার দায়িত্ব নিতে হবে ।

সভার শুরুতে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষে থেকে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী জানান আগামী এক বছর ধরে ইউনিয়নর পক্ষ থেকে  নভেম্বর বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে । সভায় গণসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী গৌতম গুপ্ত । অধ্যাপক দেবাশীষ সরকার ও শিল্পী গৌতম গুপ্ত কে ইউনিয়নর পক্ষ থেকে  সংবর্ধনা জানানো হয় এবং তাদের হাতে স্মারক তুলে দেন যথাক্রমে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর সভাপতি রথীন রায় ও দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । কানায় কানায় পূর্ন বি.টি.রণদিভে ভবনে উপস্হিত ছিলেন প্রফুল্ল মন্ডল , বিজয় সাহা, অরুন চৌধুরী সহ ইউনিয়ন সদস্যবৃন্দ , অন্যান্য গন আন্দোলনের নেতৃত্ব সহ বহু সাধারন মানুষ ।








Sunday, 4 December 2016

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও ইস্পাতনগরীর বেসরকারীকরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ইস্পাতনগরীতে বিশাল পদযাত্রা ।



দুর্গাপুর , ৪ঠা ডিসেঃ – শিল্পনগরী দুর্গাপুর বিপন্ন । ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা এবং ১৬টি বেসরকারী কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । রাজ্য সরকার দুর্গাপুর কেমিক্যালস বিক্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা  সেইল ( স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড ) এর বিশ্বখ্যাত অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টকে বিক্রী করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে । বিক্রী না হলে বন্ধ করার দিকে যেতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার ।  সংবাদ মাধ্যমে ও সেইলের ওয়েবসাইটের  প্রকাশিত তথ্য অনুসারে দুর্গাপুর ইস্পাতনগরী সহ সেইলের সমস্ত টাউনশীপ বেসরকারীকরন করা হবে । রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ-উৎপাদক সংস্হা ডিপিএল ধুঁকছে । সম্পূর্ন বৈমাত্রিসূলভ আচরন করে সেইল তার ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট গুলির মধ্যে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট ( ডি.এস.পি ) এ কম বিনিয়োগ করেছে । অথচ উৎপাদন ও মুনাফা করার দিক থেকে  দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট ২য় স্হানে পৌঁছায় । অন্য দিকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রী বা বন্ধ হলে , দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট ( ডি.এস.পি ) এর একই পরিনতি হওয়ার আশংকায় দিন গুনছে দুর্গাপুর । ইতিমধ্যে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী কে তিন টি চিঠি দিয়েছেন ।
২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে , সি.আই.টি.ইউ করার অপরাধে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট থেকে ৫০০ জন মহিলা শ্রমিক সহ ৩৫০০ এর বেশী ঠিকা শ্রমিক উচ্ছেদ করেছে ক্ষমতাশীন দল। অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে এই সব শ্রমিক পরিবার গুলি , অনেক শ্রমিক মারা গেছেন । পার্টি ও বিভিন্ন গন-সংগঠন ধারাবাহিকভাবে শাসকদলের সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে ।  সারা রাজ্য জুড়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির উথ্থানের বিরুদ্ধে ইস্পাতনগরীতে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচার চলছে ।
শিল্প বাঁচাও,রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প বাঁচাও, অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও ইস্পাতনগরীর বেসরকারীকরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলো , সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সমস্ত মানুষ এক হও , আমাদের প্রিয় শহর দুর্গাপুর বাঁচাও – এই দাবীতে দুর্গাপুর ইস্পাত ট্রেড ইউনিয়ন সমম্বয় কমিটি ( সি.আই.টি.ইউ ) ও অন্যান্য  গনসংগঠন লাগাতার ভাবে যৌথ আন্দোলন করছে । গত ২০শে নভেঃ এই দাবীতে ইস্পাতনগরীর এ-জোন ও সংলগ্ন গ্রামঞ্চলে আরেকটি সুবিশাল পদযাত্রা কমলপুর থেকে ট্রাঙ্ক রোড দীর্ঘ ১১ কিমি পথ অতিক্রম করে । এই দাবী গুলির সমর্থনে দুর্গাপুর ইস্পাত ট্রেড ইউনিয়ন সমম্বয় কমিটি ( সি.আই.টি.ইউ ) ও অন্যান্য  গনসংগঠন  যৌথ আহ্বানে আজ সকাল ৮ টা সময় সেইল আবাসন অঞ্চল থেকে সি-জোন ও সেপকো টাউনশীপ হয়ে ইস্পাতনগরীর বি-জোনের তিলক ময়দান পর্যন্ত ১৪ কিমি ব্যাপী এক ঐতিহাসিক বিশাল বর্ণাঢ্য পদযাত্রায় আবার উদ্বেলিত হল দুর্গাপুরের ইস্পাতনগরী ।
মিছিলে উপস্হিত ছিলেন সি.আই.টি.ইউ এর বর্ধমান জেলার সভাপতি বিনয়েন্দ্রকিশোর চক্রবর্তী , দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়,নির্মল ভট্টাচার্য , সুবীর সেনগুপ্ত , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,মলয় ভট্টাচার্য , বিজয় সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।
এই দাবী গুলির সমর্থনে দুর্গাপুর ইস্পাত ট্রেড ইউনিয়ন সমম্বয় কমিটি ( সি.আই.টি.ইউ ) ও অন্যান্য  গনসংগঠন  যৌথ আহ্বানে আগামী ৭ই ডিসেঃ দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে-অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের সি.ই.ও এর কাছে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের গেটে বিশাল জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে । আই.এন.টি.ইউ.সি ও এই জমায়েতে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে ।



































Thursday, 1 December 2016

বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে উত্তাল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট : শ্রমিক ঐক্যের অভূতপূর্ব নিদর্শন গড়ল ইস্পাত শ্রমিকরা ।



দুর্গাপুর , ১লা ডিসেঃ – লড়াই কা ময়দান মে,মজদুর-মজদুর ভাই – সত্যি আজ দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এর স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিক নির্বিশেষ তা আবারও প্রমান করলেন । গত ১৫ই ফেব্রুঃ ,’মার্জার’ ঘোষনার সাথে সাথে ইস্পাত শ্রমিক সংগঠন এইচ.এস.ই.ইউ ( সি.ই.টি.ইউ ) এ.এস.পি.-র বেসরকারীকরনের আশংকা করে লাগাতার আন্দোলন চালানোর সাথে সাথে বারংবার  যৌথ আন্দোলনের আহ্বান জানায় । সংবাদপত্রে এ.এস.পি.-র বেসরকারীকরনের খবর এলেও ,অনেকে বিশ্বাস করতে চায় নি ,শ্রমিক ঐক্য দূর্বল করার জন্য  বিভিন্ন অপপ্রচার চলে ।
কিন্তু গতকাল এ.এস.পি.-র বেসরকারীকরনের জন্য সেবি কে লেখা সেইল এর গোপন চিঠি ফাঁস হতেই দুর্গাপুরে প্রবল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে । এইচ.এস.ই.ইউ এর পক্ষ থেকে আজ সকাল থেকে বিক্ষোভ-কর্মসূচী পালন করার ডাক দেওয়া হয়ে । আজ সকালে কারখানার গেটে বিক্ষোভ শুরু হলে , আই.এন.টি.ইউ.সি এর নেতৃত্ব বিক্ষোভে যোগ দিলে , বিক্ষোভ কার্যতঃ জনসমুদ্রের রূপ নেয় এবং কারখানার গেট  অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে । এর পরে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ চলতে থাকে । বেলা ৩ টার সময়ে কারখানার ভিতর থেকে দলে দলে শ্রমিক বিশাল  মিছিল করে  কারখানার গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে , গেটে বাধা পায় । কার্যতঃ ফুৎকারে বাধা অতিক্রম করে মিছিল বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয় । সংহতি জানিয়ে, সমাবেশে বিপুল সংখ্যায় দুর্গাপুর ইস্পাত ( ডি.এস.পি ) এর স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিকরা  যোগদান করেন । 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এইচ.এস.ই.ইউ ( সি.ই.টি.ইউ ) এর পক্ষে  বিজয় সাহা,রামপঙ্কজ গাঙ্গুলী ও অরুন চৌধুরী ( ডি.এস.পি ইউনিট ) এবং আই.এন.টিউ.সি এর পক্ষে শিবপ্রসাদ দাস ও চন্দন ঘোষ । বক্তারা এ.এস.পি.-র বেসরকারীকরনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার যৌথ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান হয় । সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গুরুপ্রসাদ ব্যানার্জী ।

এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই(এম) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । তিনি এ.এস.পি.-র বেসরকারীকরনের সি্ধান্তের জন্য মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে এর ফলে দুর্গাপুর সহ গোটা রাজ্যের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। বেসরকারীকরনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী করে  এর আগে দুটি চিঠি  দিয়েছেন । আজ আরও একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে,তিনি সমাবেশে জানান ।একই সাথে এখনও যারা যৌথ আন্দোলনে যোগ দেয় নি , এ.এস.পি বাঁচানোর জন্য,তাদের যৌথ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আবেদন জানান ।
সমাবেশ চলাকালীন মলয় ভট্টচার্য  (এইচ.এস.ই.ইউ , সি.ই.টি.ইউ ) ও আই.এন.টিউ.সি এর পক্ষে শিবপ্রসাদ দাস এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এক যৌথ প্রতিনিধিদল এ.এস.পি কর্তপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে শ্রমিকদের মনোভাব জানিয়ে আসেন।














Wednesday, 30 November 2016

আশংকা আগেই ছিল , আনুষ্ঠানিকভাবে সেইলের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর মিশ্র ইস্পাত কারখানার বিক্রীর সিদ্ধান্তে শিলমোহর পড়ল ।



দুর্গাপুর,৩০শে নভেঃ – এই বছরের  ১৫ই ফেব্রু : রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উদ্যোগ সেইলের  দুর্গাপুর মিশ্র ইস্পাত কারখানার সাথে  দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ,’মার্জার’ এর সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই , দুর্গাপুর মিশ্র ইস্পাত কারখানার , সংক্ষেপে এ.এস.পি ( অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ) এর ভবিষ্যত সম্পর্কে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( এইচ.এস.ই.ইউ ) সহ অন্যান্য সি.ই.টি.ইউ ভূক্ত ট্রেড ইউনিয়ন এবং বাম গনসংগঠনের এর পক্ষ থেকে আশংকা প্রকাশ করে ,’নবরত্ন’ রাষ্ট্রায়ত্ব সেইলের  অন্যতম সেরা  ইউনিট ও দেশে-বিদেশর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম-মহাকাশ ও পরমানু গবেষনা ও যন্ত্র উৎপাদনে মত গুরুত্বপূর্ণ  কাজে ব্যবহার্য  আন্তর্জাতিক  মানের বিশেষ স্টিল উৎপাদক  সংস্হা  এ.এস.পি বাঁচানোর জন্য যৌথ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় ও লাগাতারভাবে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী নেওয়া হয় যা এখনও চলছে । যদিও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষি মহল থেকে শ্রমিক ও জনসাধারনের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে ।
দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক  সন্তোষ দেবরায় ইতিমধ্যে দুই বার মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে  এ.এস.পি বাঁচানোর জন্য রাজ্য সরকারের  হস্তক্ষেপের  দাবী জানিয়েছেন ।
কিন্তু আজ দুপুরে সেইলের ওয়েবসাইটে  , সেইলের এর  থেকে শেয়ার সংসহার নিয়ামক  সেবি-র কাছে কে্ন্দ্রীয়  মন্ত্রীসভার ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত  অনুসারে ইস্পাত মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এ.এস.পি সহ ভদ্রাবতী ও সালেম কারখানার বিলগ্নীকরন
 ও নিলামে চড়িয়ে বেচার আর্জি জানিয়ে চিঠি ফাঁস হতেই , সমগ্র দুর্গাপুর জুড়ে প্রবল ক্ষোভ সৃ্ষ্টি হয় ।
হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( এইচ.এস.ই.ইউ ) এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জাননো হয় এবং প্রত্যাহার না হওায়া পর্যন্ত সর্বাত্মক আন্দোলন  চালিয়ে  যাওয়া হবে বলে  জানানো  হয়েছে । এই বিষয়ে যৌথ আন্দোলন গড়ে তোলার  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে  বলে এইচ.এস.ই.ইউ জানিয়েছে ও আগামীকাল সকাল থেকে এ.এস.পি কারখানায় লাগাতার শ্রমিক বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনের  ডাক দিয়েছে ।
দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক  সন্তোষ দেবরায় ,’ এ.এস.পি বাঁচাও , শিল্প বাঁচাও, দুর্গাপুর বাঁচাও ‘ আন্দোলনে  দলমত-নির্বিশেষ সকলকে সামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ।