Tuesday, 21 March 2017

বিশ্ব কবিতা দিবসে শিল্প-রক্ষার লড়াই এর পাশে দাঁড়ালেন শিল্পীরা ।




দুর্গাপুর , ২১শে মার্চ – বিপন্ন শিল্প-শহর দুর্গাপুর ,বিপন্ন রুটি-রুজি , বিপন্ন শহরের শিল্প-সংস্কৃতি , শ্রমের বলয় ঘিরে গড়ে ওঠা শ্রমিক সংস্কৃতি । মড়ক এসেছে – এক অন্য মড়ক । শিল্পনগরীতে বন্ধ হয়েছে একে একে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা সহ ২০ টি বেসরকারী কারখানা । হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন , তাদের পরিবার নিয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে । বেকার যুবক-যুবতীরা কাজের খোঁজে দুর্গাপুর ছাড়ছেন । এক গাল দাড়িও ছিল / ডিউটির জন্য ছিল প্যান্ট ,জামা/পায়ে সেফটি বুট ,মাথায় টুপি,হাতে গ্লাবস … ( কবি কেষ্ট চট্টোপাধ্যায়,শ্রমশ্রী মুখের বলয় ) – এই চেনা চিত্র ক্রমশঃ বিলীন হচ্ছে । নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারী হয়েছে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,দুর্গাপুর কেমিক্যালস , ফেরো-স্ক্র্যাপ নিগম,ডিপিএল এর কোক-ওভেনের মত রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানার । দিন গুনছে দুর্গাপুর ইস্পাত ,ডিটিপিএস । পলি পরে বুঁজে আসছে দুর্গাপুর ব্যারেজ । একদা শাল-মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা যে কুমারী মাটির ঘুম ভেঙ্গেছিল কলের চাকার ঘরঘরানিতে , সেখানে এক একে কারখানার দেউটি নিভেছে যা সুস্হ শিল্প-সংস্কৃতির ধাত্রী গৃহ দুর্গাপুরে সংস্কৃতি-চর্চার ভিত্তিমূলে আঘাত করেছে । শিল্পনগরী রক্ষার জন্য দুর্গাপুরের শিল্পীরা জোট বেঁধেছেন , তৈরী করেছেন ‘সাংস্কৃতিক সমন্বয়’ । বিশ্ব কবিতা দিবস উপলক্ষ্যে ,আজ সন্ধ্যায়   সাংস্কৃতিক সমন্বয় এর পক্ষে  ইস্পাতনগরীর আশীষ মার্কেটে খোলা আকাশের নীচে –  “ শিল্পের জন্য - শিল্পীরা”   অনুষ্ঠানে “ ফিরিয়ে দাও আমার শহর,শ্রমিক সংস্কৃতি” এই  দাবীতে এক অভিনব  কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করে । ৩০ জন শিল্পী আবৃতি করে শোনান । উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মাইক ছিল না । কিন্তু খালি গলাতেও শিল্পীরা উপস্হিত অগুন্তি শ্রোতা-দর্শকদের উদ্বেলিত করে তোলে।প্রতিজ্ঞা-শপথে শিল্পী ও দর্শক কূল শিল্পনগরীর বাঁচানোর লড়াই শক্তিশালী করার বার্তা দিল।










Monday, 20 March 2017

অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বাঁচাতে ধর্মঘটের পথে ইস্পাত শ্রমিকরা ।



দুর্গাপুর , ২০শে মার্চ – অবিলম্বে  মোদি সরকারের অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবী  জানিয়ে , অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্টের শ্রমিক ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে আজ কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্মঘটের নোটিশ জমা দেওয়া হয় ।উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট , সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্হা নিয়েছে । এর বিরুদ্ধে সেইলের ইস্পাত শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন । সালেম ও ভদ্রাবতীর  ইস্পাত শ্রমিকরা ধর্মঘটের নোটিশ জমা দিয়েছেন । চেষ্টা হচ্ছে অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট , সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টে একই দিনে ধর্মঘট করার ।
এদিকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বাঁচাতে , সংবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের পাশে জোড়ালো সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছেন  দুর্গাপুর এবং বর্ধমান জেলার সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ সহ সমাজের সব অংশের মানুষ । মোদির মনভোলানো স্লোগান – ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ ‘  এর আড়ালে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী  অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্টর “ বিনাশ “ এর চক্রান্ত, মানুষের রুটি-রুজি বন্ধের চক্রান্ত - তা দুর্গাপুরের মানুষ কে বলে দিতে হচ্ছে না । তাই আজ সকালে  ধর্মঘটের নোটিশ জমা দেওয়া কে কেন্দ্র করে , প্ল্যান্টের মেইন গেটে শ্রমিক সমাবেশের পাশে এসে দাঁড়ালো প্রাক্তন শ্রমিক-কর্মচারী সহ মেহেনতী মানুষ-যুব-মহিলা । এক বিশাল মিছিল কারখানার মেইন গেটে কে ঘিরে পরিক্রমা করে । মিছিল-সমবেশে অবরুদ্ধ হয়ে আটকে পড়েন কারখানার আধিকারিকরা ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেব রায় তীব্র ভাষায় কেন্দ্রের মোদি সরকারে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা  ‘বিনাশ’ এর নীতি কে আক্রমন করে বলেন যে মোদি সরকারে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের মূল লক্ষ্য হল মেহেনতী মানুষের রুটি-রুজির ‘বিনাশ- যার প্রত্যক্ষ প্রমান হল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বেঁচার চেষ্টা । ‘সেটে’-র প্রস্তাব অনুসারে  মাত্র ১১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে লাভজনক সংস্হায় পরিনত করা যায় । তা করার পরিবর্তে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে ।তাই  মোদি সরকারই বাধ্য করেছে  অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বাঁচাতে ইস্পাত শ্রমিকদের ধর্মঘটের পথে যেতে।  একই পরিনতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কে । অন্যদিকে মোদি সরকার মালয়শিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাণিজ্য-চুক্তি করে দেশে ফেরো-ইস্পাত আমদানির যে রাস্তা খুলে দিয়েছে , তা দুর্গাপুরের সহ রাজ্যের  বেসরকারী ফেরো-ইস্পাত কারখানা গুলি কে  বন্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে , তিনি সাবধান করে দেন । প্রসংগত তিনি উল্ল্যেখ করেন যে দেশের ৩৫% ফেরো-ইস্পাত উৎপাদিত হয় এই রাজ্যে । অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল ও আধুনিকীকরনের জন্য সেটের প্রস্তাব অনুসারে বিনিয়োগ, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কে ১০ মিলিয়ন টনের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানা পরিনত  করার জন্য  বিনিয়োগ ও উচ্ছেদ হওয়া ৪০০০ ঠিকা শ্রমিকের কাজ ফেরৎ এর দাবী জানিয়ে , তিনি অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট - রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা  - শিল্প বাঁচাও , রক্ষা কর দুর্গাপুর - আন্দোলন কে আরও ঐক্যবদ্ধ ও  প্রসারিত করার আহ্বান জানান ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আই.এন.টি.ইউ.সি-র বর্ধমান জেলার সভাপতি বিকাশ ঘটক বলেন যে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তই অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্টের শ্রমিকদের ধর্মঘটের রাস্তায় ঠেলে দিয়েছে । এ ছাড়াও বক্তব্য রেখেছেন বিজয় সাহা ( এইচ.এস.ই.ইউ,সি.আই.টি.ইউ) ও সাধন সিনহা । 











Saturday, 18 March 2017

স্টীল টাউন ওন ইয়োর ওন হাউস ওনার্স এ্যাসোশিয়েশনের পঞ্চম সম্মেলন ( সপ্তদশ বর্ষ ) অনুষ্ঠিত হল ।

                                                                           

দুর্গাপুর , ১৮ই মার্চ – আজ ইস্পাতনগরীর বিধান ভবনে ইস্পাতনগরীর লিজ প্রাপ্ত কোয়ার্টারের অধিবাসীদের সংগঠন স্টীল টাউন ওন ইয়োর ওন হাউস ওনার্স এ্যাসোশিয়েশনের পঞ্চম সম্মেলন ( সপ্তদশ বর্ষ ) অনুষ্ঠিত হল । ইস্পাতনগরীর ডি.এস.পি ও এ.এস.পি কারখানার ৬০০০ লিজ কোয়ার্টারে ৩৫০০০ হাজার অধিবাসী বসবাস করেন । লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীরা বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়ে এই সংগঠন গড়ে তোলেন ।  ডি.এস.পি ও এ.এস.পি কারখানার কর্তৃপক্ষের একতরফা বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীরা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছেন বলে দাবী করে, সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন  আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা পেলেও, কর্তৃপক্ষের একগুঁয়েমি মনোভাবের জন্য ফলে লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীদের সমস্যা বেড়েই চলেছে । ইস্পাতনগরীরর নাগরিক পরিষেবায় কর্তৃপক্ষের অবহেলা,আইন-শৃংখলার অবনতি, দুর্গাপুরে একের পর এক কারখানা  বন্ধ হয়ে যাওয়া – এই সবই লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীদের জীবন দুর্বিষহ করছে বলে , আজকের সম্মেলনে আলোচনার সময়ে উঠে আসে। মহিলাদের উপস্হিতি ও আলোচনায় অংশগ্রহন বিশেষ উল্ল্যেখনীয় ছিল ।
এর আগে ,প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দুর্গাপুর বর্তমানে যে ভয়াবহ আর্থ-সামাজিক পরিস্হিতির মুখোমুখি হয়েছে তা তুলে ধরেন । একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । বিলগ্নীকরনের নামে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,ডিপিএল,ডিসিএল তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে । দুর্গাপুর ইস্পাত ও ডি.টি.পি.এস সংকটে ভুগছে। নতুন শিল্প আসছে না । পানীয় জল সহ শিল্পের জলের উৎস দুর্গাপুর ব্যারেজ পলি পড়ে বুজে আসছে । এই পরিস্হিতি তিনি দল-মত নির্বিশেষ সকলের কাছে দুর্গাপুর বাঁচানোর আন্দোলন কে শক্তিশালী করে তোলার আবেদন জানান । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর ( পশ্চিম ) এর বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল , বিকাশ ঘটক প্রমূখ । ১২টি সংগঠন এর পক্ষে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখা হয় । ৩৫ জন মহিলা সহ ১১০ জনের ওয়ার্কিং কমিটি নির্বাচিত হয় । সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মনোজ হাজরা ।














Sunday, 5 March 2017

রক্ষা কর দুর্গাপুর – এই আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়াবিদরা অংশ নিলেন ঐতিহাসিক রিলে দৌড়ে ।




দুর্গাপুর , ৫ই মার্চ – আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাতনগরীর স্টেডিয়াম চত্বর , যেখানে রয়েছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার নেহেরু স্টেডিয়াম ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্টেডিয়াম , সেখানে দলে দলে বিভিন্ন খেলার সাথে যুক্ত ক্রীড়াবিদরা জড়ো হতে শুরু করেন । তারা জড়ো হলেন এক ঐতিহাসিক দৌড়ে অংশ নিতে । শহর দুর্গাপুর অনেক দৌড়ের সাক্ষী । এই শহর দেখেছে কিংবদন্তী দৌড়বিদ এমিল ও ডানা জাটোপেকের দৌড় । সাক্ষী রয়েছেন অসংখ্য  ভারত-বিখ্যাত ক্রীড়াবিদের ক্রীড়া নৈপুন্যের । কিন্তু আজ সকালে এক নয়া দৌড় শুরু করলেন দুর্গাপুরের খেলোয়াররা – নিজের শহরের কারখানা বাঁচাতে, রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা বাঁচাতে । সারা বিশ্বে এমন নজির মেলা ভার , যে খানে একটি শহর বাঁচাতে , শিল্প বাঁচাতে শহরের খ্যাত-অখ্যাত সমস্ত খেলোয়াররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দৌড়ের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বার্তা পৌঁছে দিলেন শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত । কিসের টানে খেলোয়াররা একত্রিত হলেন ? এমন কি দুর্গাপুরের বাইরে চলে গেছেন , এ রকম খেলোয়াররা যোগ দিলেন আজকের দৌড়ে অংশ নিতে ? দুর্গাপুর শহরের জন্মই হয়েছে কল-কারখানার জঠরে । গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে ২য় পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা চলাকালীন সময়ে শিল্পনগরী দুর্গাপুর শহরের জন্ম হয় দামোদর নদের পাশে ৬৪ টি জঙ্গল ঘেরা গ্রামের জমি অধিগ্রহন করে আর এই শিল্প শহরের প্রান ভোমরা হল রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা । রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হাগুলির পরিকল্পিত টাউনশিপের অসংখ্য বড় বড় খেলার মাঠ ,স্টেডিয়াম,জিম,সুইমিংপুল ,অসংখ্য ক্লাব ,অগুনিত ক্রীড়ামোদি মানুষ এবং একদল নিবেদিত ক্রীড়া সংগঠক দুর্গাপুরকে শিল্পের সাথে সাথে জেলা ও রাজ্যে স্তরের ,এমন কি  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়ারদের  তৈরি করছে । আবার বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা গুলি  কৃতি খেলোয়ারদের চাকুরী দেওয়ার সুবাদে , বিভিন্ন জায়গা থেকে খেলোয়াররা দুর্গাপুরে এসেছেন , দুর্গাপুরের ক্রীড়া-জগৎ কে সমৃদ্ধ করেছেন । কিন্তু শহর আজ বিপন্ন । বন্ধ হয়ে গিয়েছে ২০ বেসরকারী কারখানা সহ ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব । লক্ষাধিক মানুষ কাজ হারিয়েছেন । কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ব ইস্পাত উৎপাদক ‘নবরত্ন’ সংস্হা সেইলের সালেম ,ভদ্রাবতী সহ দুর্গাপুরের বিশ্ব বিখ্যাত অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বেসরকারি হাতে বিক্রি করে দেবে । রাজ্যের তৃণমূল সরকার একই ভাবে দুর্গাপুর কেমিক্যালস কে বেসরকারি হাতে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার , উভয়েরই রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা বিরোধী মনোভাবের জন্য ধুঁকছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা,ডিপিএল ও ডিটিপিএস । বিপন্ন গোটা দুর্গাপুর শহরের অস্তিত্ব । জীবন-জীবিকার টানে জোট বাঁধছেন শ্রমিকরা সহ শহরের সর্বস্তরের মানুষ ।

শহরের ক্রীড়া জগৎ সহ জীবন-জীবিকা বাঁচানোর টানেই , আজ দুর্গাপুরের খেলোয়াররা , দুর্গাপুর স্পোর্টস লাভার্স  অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে দৌড়ে অংশ নিলেন ।এমন কি যোগ দিলেন শিল্প সুরক্ষা বাহিনীর খেলোয়াররা । সকালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্টেডিয়াম থেকে দৌড় শুর হয় । দৌড় শুরুর আগে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ সুবীর সরকার,স্বপন গুহ,গোলাম মুস্তাফা খান,এম.গঙ্গাধরন,তপন মাল,সন্ত কুমার মন্ডল,মেঘনাদ আঢ্য,গৌতম দে,সুবীর সিনহা,সলিল গাঙ্গুলী,জি.সোনার,সফদর খান ও নাজির খান কে সংবর্ধনা দেওয়া হয় । তাদের হাতে পুষ্প স্তবক তুলে দেন দুর্গাপুর ( পুর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেব রায় । দৌড়ের সূচনায় উপস্হিত ছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চক্রবর্তী,বিকাশ ঘটক,পি.কে.দাস , ডঃএন.এন.কুলশ্রেষ্ঠ,সুখময় বোস সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ । দৌড় শুরু হয়ে ইস্পাতনগরীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে যায় সিটি সেন্টার সহ দুর্গাপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং ২৫ কিমি পথ অতিক্রম করে শেষ হয় ইস্পাতনগরীর নেহেরু স্টেডিয়ামে । দৌড়ের পিছনে ক্রীড়া প্রেমিকদের বিশাল বাইক মিছিল ছিল চোখে পড়ার মত । জায়গায় জায়গায় মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসে খেলোয়ারদের ফুল ছিঠিয়ে অভ্যর্থনা জানান,তাদের হাতে জলের বোতল তুলে দেন । দৌড় শেষে নেহেরু স্টেডিয়ামে খেলোয়ারদের দুর্গাপুর স্পোর্টস লাভার্স  অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং ১৯৮৫ সালে সাফ গেমস জয়ী ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সদস্য সুবীর সরকারের হাতে স্মারক তুলে দেন স্বপন গুহ ।




































Friday, 3 March 2017

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়াবিদরা দৌড় এ অংশ নেবেন ।



দুর্গাপুর , ৩রা মার্চ – রাজ্য ও দেশের সাথে  আন্তর্জাতিক স্তরেও  দুর্গাপুরের ক্রীড়াবিদরারা যোগ্যতা প্রদর্শন করেছেন ।দেশের হয়ে অংশ নিয়েছেন , পদক জিতেছন  এশিয়াড ,কমনওয়েলথ গেমস ,সাফ গেমস সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় ।এই ক্রীড়াবিদরা অনেকে দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানার কাজ করেছেন অথবা করছেন । আবার জন্মসূত্রে অনেক ক্রীড়াবিদ  দুর্গাপুরে তাদের ক্রীড়া জীবনের সূচনা ও বিকাশ ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়ে অন্যত্র চলে গেলেও দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানাগুলির টাউনশিপের  উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো ও ক্রীড়ামোদী মানুষ , ক্রীড়া সংগঠক/ক্লাবের সাথে নাড়ির টান অনুভব করেন । আজ সেই দুর্গাপুরের অস্তিত্বের সংকট । ৬ টি রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে । কেন্দ্রের মোদি সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও রাজ্যে তৃণমূল সরকার দুর্গাপুর কেমিক্যালস বিক্রীর সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেছে । বিপন্ন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা, ডিপিএল ও ডিটিপিএস । বিপন্ন ভারতের ‘রূঢ়’ নামে খ্যাত দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল , বিপন্ন মানুষের জীবন-জীবিকা , বিপন্ন ক্রীড়া জগৎ ও ক্রীড়াবিদরা । তাই অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা রক্ষায় ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকরা জোট বেঁধেছেন । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে আগামী ৫ই মার্চ ( রবিবার ) ‘ শিল্প-কর্ম সংস্হান ও ক্রীড়ার ‘ জন্য ২৫ কি.মি ব্যাপি রিলে দৌড়ের আয়োজন করেছে দুর্গাপুর স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশন । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে ইস্পাতনগরী ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গা পরিক্রমা করে শেষ হবে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার নেহেরু স্টেডিয়ামে । বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের সাথে এই দৌড়ে অংশ নেবেন স্হানীয়  নবীন ক্রীড়াবিদরা । আজ অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্টেডিয়ামের গ্যাল্যারিতে দুর্গাপুর স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনর পক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানানো হয় । ঐ অনুষ্ঠানে উপস্হিত থাকবেন সুবীর সরকার , অশোকলাল চক্রবর্তী,গোলাম কিব্রিয়া সহ বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদরা ।








Thursday, 2 March 2017

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন চেয়ে দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু : বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ইস্পাত শ্রমিকরা ।



দুর্গাপুর ,২রা মার্চ : এ এক বিস্ময়কর সাদৃশ্যতা ! সারা বিশ্ব জেনে গেছে কারগিল যুদ্ধের শহীদ এর কন্যা গুরুমেহের কাউর কিভাবে সংঘ পরিবারের আক্রমনের শিকার হয়েছেন । ঠিক সেই সময়ে , কেন্দ্রের মোদি পরিচালিত এনডিএ-বিজেপি সরকার , কারগিল যুদ্ধের আরেক নায়ক অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে , যার উৎপাদিত বিশেষ ইস্পাত বোফর্স কামানের গোলার খোল তৈরি কাজে ব্যবহার করা হয় , তা কে বেসরকারী হাতে বেঁচে দেওয়ার জন্য আইনী পরামর্শদাতা ও  হস্তান্তর বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং বিক্রীর জন্য টেন্ডার  প্রক্রিয়া শুরু করে দিল । গত ২৭ ফেব্রুঃ , সেলের ওয়েবসাইটে  দরপত্র ও আনুষাঙ্গিক প্রক্রিয়া চেয়ে  বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের সাথে সাথে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক ও ‘নবরত্ন’ সংস্হা স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ( সেইল ) এর অপর দুই বিশেষ ইস্পাত এর কারখানা সালেম ও ভদ্রাবতির প্ল্যান্টের নামও এই টেন্ডার  প্রক্রিয়াতে আছে । প্রসঙ্গতঃ , আন্তর্জাতিক খ্যাত সম্পন্ন বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ৫০০ ধরনের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদিত হয় যার চাহিদা দেশ-বিদেশের পরমানু গবেষনা থেকে মহাকাশ গবেষনা সহ প্রায় প্রতিটি শিল্পে । মাত্র ১১০০ কোটি টাকা খরচ করলে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত  গুরু্বপূর্ন  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের আধুনিকীকরন করা যায় । অথচ তার পরিবর্তে বেসরকারী হাতে বেঁচে দিয়ে , কোন ‘জাতীয়তাবাদ’ এর পরিচয় দিচ্ছে মোদি সরকার , সেই প্রশ্ন এখন দুর্গাপুরবাসীর মুখে মুখে ঘুরছে । গত বছরের ফেব্রুঃ মাস থেকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন এর চক্রান্তের আঁচ পেয়ে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) লাগাতার আন্দোলন শুরু করে এবং নভেঃ মাস থেকে অন্যান্য ইউনিয়ন যোগ দেয় ও যৌথ মঞ্চ তৈরি হলে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় । ইতিমধ্য গত পরশু , দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু নজরে আসতেই শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন । অবিলম্বে বেসরকারীকরনের প্রক্রিয়া বাতিলের দাবীতে, গতকাল সকালে যৌথ মঞ্চের ডাকে  কারখানার গেটে শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান । আজ সকাল পাঁচ টায় মর্নিং শিফটের শুরুর আগে থেকেই কারখানার গেটে গেটে বিক্ষোভ-অবরোধ শুরু হয়ে যায় ।অভূতপূর্ব শ্রমিক ঐক্যের নজীর তৈরী হয় । এই প্রথম আই.এন.টি.টি.ইউ.সির নেতৃত্ব ও শ্রমিক সদস্যরা যৌথ মঞ্চের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধে যোগ দেন ।       আধিকারিকরাও ভেতরে ঢুকতে পারেন নি । উৎপাদন কার্যতঃ বন্ধ হয়ে যায় । কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ,  যৌথ মঞ্চ বেলা ১১টার সময় অবরোধ তুলে নিলে , উৎপাদন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের মেইন গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সি.আই.টি.ইউ এর বর্ধমান জেলার সভাপতি বিনয়কৃষ্ণ চক্রবর্তী , আই.এন.টি.ইউ.সির বর্ধমান জেলার সভাপতি বিকাশ ঘটক ,  এস.ডব্লু এফ.আই এর সাধারন সম্পাদক পি.কে.দাস ,মলয় ভট্টাচার্য ও বিজয় সাহা (হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন , সি.আই.টি.ইউ ),মনিলাল সিনহা (আই.এন.টি.ইউ.সি) ও সাধন সিনহা (আই.এন.টি.টি.ইউ.সি) । উপস্হিত ছিলেন রথীন রায়,সুবীর সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ।
পাশে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে । ই.ডি.( ওয়ার্কর্স ) এর দফ্তরে শয়ে শয়ে শ্রমিক  বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,কবিরঞ্জন দাসগুপ্ত,ললিত মিশ্র ((হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন , সি.আই.টি.ইউ ),রানা সরকার (আই.এন.টি.ইউ.সি) ও শম্ভু প্রামানিক (এ.আই.টি.ইউ.সি)।
 এ দিকে, আজ বিধান সভার অধিবেশনে যোগ দিয়ে,সন্ধ্যায় দুর্গাপুরে ফিরে আসেন  দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । তিনি বর্তমান পরিস্হিতির কথা বিবেচনা করে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য যৌথ আন্দোলন আরও প্রসারিত ও মজবুত করার আবেদন জানিয়েছেন ।