Saturday, 25 March 2017

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও-শিল্প বাঁচাও আন্দোলন কে বানচাল করতে ও নারদ-কান্ডে দোষীদের আড়াল করতে তৃণমূলের নৃশংস আক্রমন ।



দুর্গাপুর,২৫শে মার্চ – ইস্পাতনগরীর বিভিন্ন জায়গায় গত ২২শে মার্চ থেকে সিপিআইএম-সিআইটিইউ সহ বিভিন্ন বামপন্হী সংগঠনের উপর তৃণমূলের লাগাতার আক্রমন-সন্ত্রাস চলছে । এর ফলে ১৫ জন আহত হয়েছেন ।আহতদের মধ্যে ৪ জনের আঘাত বেশ গুরুতর ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২২শে মার্চ । ঐ দিন ,ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির ডাকে নারদ-কান্ডে অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তি,সরকারী টাকায় রাজ্য সরকার নারদ-কান্ডে অভিযুক্তদের পক্ষে দাঁড়ানোর সমালোচনায় ও জেল হেফাজতে এস.এফ.আই নেত্রীদের প্রতি বর্বর আচরনের প্রতিবাদে মিছিল হলে,তৃণমূলীরা মিছিলে দুবার হামলা চালায় । এই হামলায় দেবব্রত দাস,মুস্তাফা বারোভুইঁয়া,প্রদীপ বিশ্বাস,চিত্ত ব্যানার্জী ও সন্তোষ আকুরি আহত হন ।

পরের দিন (২৩শে মার্চ) সন্ধ্যায় ভয়াবহ আক্রমন হয় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার দফ্তরে । জনা পনেরো সশস্ত্র তৃণমূলী  দুস্কৃতি হামলা চালায় । সেই সময়ে দফ্তরের ভিতরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও আন্দোলন সম্পর্কিত সভা চলছিল । অতর্কিতে হামলায় গুরুতর জখম হন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির সদস্য বিজয় সাহা,বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক সীমান্ত তরফদার ও কল্যান ভট্টাচার্য  ।তাদের ডিএসপি মেইন হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধা দেয় তৃণমূল। বাধ্য হয়ে তাদের বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় । অবশ্য পরের দিন (২৪শে মার্চ ) সকালে তাদের ডিএসপি মেইন হাসপাতালে স্হানান্তরিত করা সম্ভব হয় । ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক, প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্পাদক অমল হালদার ,গৌরাঙ্গ চ্যাট্যার্জী,আভাষ রায়চৌধুরী,পঙ্কজ রায় সরকার,নির্মল ভট্টাচার্য ও বিধায়ক ( দুর্গাপুর পূর্ব ) সন্তোষ দেবরায় সহ একটি দল হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সাথে দেখা করে আসেন । কিন্তু এরমধ্যেও তৃণমূলের হামলা চলতে থাকে । আক্রান্ত হয় ডি.এস-২ আঞ্চলিক কমিটির দফ্তর ( ১৩/১৭ মার্কনী রোড ) ও এডিসন সেক্টর । এই আক্রমন-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে পার্টির পক্ষে আজ দুর্গাপুর থানা ঘেরাও এর কর্মসূচী নেওয়া হয় । বিকাল ৫টার সময় , এক বিশাল মিছিল আশীষ-জব্বার ভবন থেকে শুরু হয়ে থানা অভিমূখে রওনা দিলে,নেতাজী ভবনের কাছে অরবিন্দ-কনিষ্ক মোড়ে,পুলিশ মিছিলের গতি রোধ করে । বাধা পেয়ে ,মিছিলের লোকজন রাস্তায় অবস্হান-বিক্ষোভে বসে পড়েন । অবশেষে পুলিশের উচ্চপদস্হ অফিসারদের অনুরোধে , সন্তোষ দেবরায় এর নেতৃত্বে পার্টির এক প্রতিনিধি দল দুর্গাপুর-আসানসোল কমিসারিয়েটের এডিপিসির কাছে যান এবং স্মারকলিপি জমা দিয়ে অবিলম্বে আক্রমন-সন্ত্রাস বন্ধ ও হামলায় জড়িত  তৃণমূলী  দুস্কৃতিদের গ্র্রেফ্তারের দাবী জানান হয় । এডিপিসির পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্হা গ্রহনের আশ্বাস দেওয়া হয় । ফিরে এসে অবস্হান-বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন সন্তোষ দেবরায় । এরপরে অবস্হান-বিক্ষোভ উঠে যায় । এছাড়াও অবস্হান-বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন  দুর্গাপুর ( পশ্চিম ) এর জাতীয় কংগ্রেসের বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল,পার্টির বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য ও পঙ্কজ রায় সরকার এবং হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে ললিত মিশ্র ।




















































Thursday, 23 March 2017

গতকাল মিছিলে তৃণমূলের হামলার প্রতিবাদে আবার মিছিল ।



দুর্গাপুর , ২৩শে মার্চ – ২৪ ঘন্টা কাটেনি ! তার মধ্যেই গতকাল ইস্পাতনগরীতে মিছিলের উপর হামলার প্রতিবাদে, নারদ-কান্ডে দোষীদের শাস্তির দাবীতে,ঘুষখোরদের পাশে দাঁড়িয়ে জনগনের পয়সায়  রাজ্য সরকারের মামলা করার বিরুদ্ধে ও জেল হেফাজতের এস.এফ.আই নেত্রীদের প্রতি বর্বর আচরনের প্রতিবাদে লাল ঝান্ডা নিয়ে রাস্তায় নামল । গতকাল ইস্পাতনগরীতে একই দাবীতে ২ টি মিছিল হয় । কিন্তু এ-জোনের মিছিলে তৃণমূলীরা হামলা চালায় । ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে ,নারদ-কান্ড নিয়ে কিছু বলা যাবে না,’দিদি-র’ নির্দেশ আছে – এই হুংকার ছেড়ে পরিচিত তৃণমূলী দুষ্কৃতি হামলা চালালে,প্রতিরোধ করেই মিছিল এগোতে থাকে । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ,সারা দুর্গাপুরের কুখ্যাত দুষ্কৃতিদের জুটিয়ে এনে আবার হামলা চালায় । কিন্তু এবারও প্রতিরোধ হয়,বিশেষ করে মহিলারা বীরত্বপূর্ন প্রতিরোধ করেন । আসলে , তৃণমূলীরা ভয়াবহ আক্রমন চালিয়েও ‘লালনগরী’ দুর্গাপুরকে দমতা পারছে না । ২০১১ সালের পরে ২ জন পার্টি কর্মী খুন হয়েছেন, শতাধিক গুরুতর আহত হয়েছেন, শতাধিক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে । জোর করে দখল করেছে ব্যাঙ্ক ও সমবায় গুলিকে । সি.আই.টি.ইউ করার অপরাধে কেবলমাত্র দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা থেকে ৩৫০০ ঠিকা-শ্রমিক কে উচ্ছেদ করা হয়েছে । আক্রান্ত হয়েছে আশীষ-জব্বর ভবন,বি.টি.রনদিভে ভবন । ভাঙ্গচুর ও পোড়ানো হয়েছে অথবা দখল করা হয়েছে পার্টি ও বিভিন্ন গন-সংগঠনের দফ্তর । কিন্তু দুর্গাপুরের সংগ্রামী মানুষ ও লাল ঝান্ডা কে দমানো যায় নি । মানুষ সুযোগ পেয়ে তৃণমূল কে পরাস্ত করেছেন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কারখানার শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে এবং দুর্গাপুরের ২ টি বিধানসভা কেন্দ্রেই । আজ যখন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকার কারখানা বন্ধ করে দুর্গাপুর কে ভাতে মারতে চাইছে,জেলা ভাগ করে দুর্গাপুর কে গুরুত্বহীন করতে চাইছে , ধর্মের নামে মানুষ কে ভাগ চাইছে – তখন তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ গন আন্দোলনের অন্যতম চালিকা-শক্তি লাল ঝান্ডা । স্বাভাবিকভাবেই  দুর্গাপুরে নারদ-কান্ডে দোষীদের শাস্তির দাবীতে ও গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন আরও জোরদার হতে যাচ্ছে আঁচ করেই গতকালের পরিকল্পিত আক্রমন ।কিন্তু লাল ঝান্ডা যে দমে যাবে না , আজ বিকালে সেইল সমবায় অঞ্চলে , পার্টির ইস্পাত জোনালের ডাকে - গতকাল ইস্পাতনগরীতে মিছিলের উপর হামলার প্রতিবাদে, নারদ-কান্ডে দোষীদের শাস্তির দাবীতে,ঘুষখোরদের পাশে দাঁড়িয়ে জনগনের পয়সায়  রাজ্য সরকারের মামলা করার বিরুদ্ধে ও জেল হেফাজতের এস.এফ.আই নেত্রীদের প্রতি বর্বর আচরনের প্রতিবাদে এক মিছিল সেইল সমবায় অঞ্চলে পরিক্রমা করে , সেই কথা আবার বুঝিয়ে দিল । মিছিলে উপস্হিত ছিলেন পার্টির বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য ও সুবীর সেনগুপ্ত ।



Wednesday, 22 March 2017

ইস্পাতনগরীতে সি.পি.আই.(এম) এর মিছিলে হামলা ।




                         [ এই শান্তিপূর্ন মিছিলে হামলা চালায় তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা । ]


                       [ প্রথম হামলা প্রতিরোধ করে মিছিল এগিয়ে চলেছে ।]

দুর্গাপুর , ২২শে মার্চ – আজ পড়ন্ত বিকালে, ইস্পাতনগরীতে সি.পি.আই.(এম) এর মিছিলে অতর্কিতে হামলা চালালো তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা। ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির ডাকে , ইস্পাতনগরীর এ-জোন ও বি-জোন অঞ্চলে , নারদা-কান্ডে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবীতে,সরকারী টাকায় নারদা-কান্ডে মামলা লড়ার বিরুদ্ধে ও জেল হেফাজতে এস.এফ.আই নেত্রীদের উপর বর্বোরিচিত আচরনের প্রতিবাদে দুটি মিছিল যথাক্রমে আশীষ মার্কেট ও বি.টি.রণদিভে ভবন থেকে শুরু হয় । বি-জোনের মিছিল নির্বিঘ্নে চন্ডিদাস বাজারে শেষ হয় । কিন্তু এ-জোনের মিছিল রবীন্দ্র ভবনের কাছে ডিভিসি মোড়ে পৌঁছালে ,তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা হামলা চালায় । হামলায় এক জন আহত হয় । কিন্তু পার্টি কর্মীরা বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ করেন এবং মিছিল চলতে শুরু করে । এত ক্ষিপ্ত হয়ে , তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা আবার হামলা চালায় ।প্রতিরোধও তৈরি হয় । বিশেষ করে মহিলা পার্টি কর্মীরা বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ করেন । দ্বিতীয়বারের হামলায় আরও চার জন আহত হয় । পুলিশ কে জানানো হলে ,দেরীতে এসে পৌঁছায় । ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে , অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফ্তারের দাবী জানানো হয়েছে।



[ বি-জোনের মিছিল । ]

Tuesday, 21 March 2017

বিশ্ব কবিতা দিবসে শিল্প-রক্ষার লড়াই এর পাশে দাঁড়ালেন শিল্পীরা ।




দুর্গাপুর , ২১শে মার্চ – বিপন্ন শিল্প-শহর দুর্গাপুর ,বিপন্ন রুটি-রুজি , বিপন্ন শহরের শিল্প-সংস্কৃতি , শ্রমের বলয় ঘিরে গড়ে ওঠা শ্রমিক সংস্কৃতি । মড়ক এসেছে – এক অন্য মড়ক । শিল্পনগরীতে বন্ধ হয়েছে একে একে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা সহ ২০ টি বেসরকারী কারখানা । হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন , তাদের পরিবার নিয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে । বেকার যুবক-যুবতীরা কাজের খোঁজে দুর্গাপুর ছাড়ছেন । এক গাল দাড়িও ছিল / ডিউটির জন্য ছিল প্যান্ট ,জামা/পায়ে সেফটি বুট ,মাথায় টুপি,হাতে গ্লাবস … ( কবি কেষ্ট চট্টোপাধ্যায়,শ্রমশ্রী মুখের বলয় ) – এই চেনা চিত্র ক্রমশঃ বিলীন হচ্ছে । নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারী হয়েছে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,দুর্গাপুর কেমিক্যালস , ফেরো-স্ক্র্যাপ নিগম,ডিপিএল এর কোক-ওভেনের মত রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানার । দিন গুনছে দুর্গাপুর ইস্পাত ,ডিটিপিএস । পলি পরে বুঁজে আসছে দুর্গাপুর ব্যারেজ । একদা শাল-মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা যে কুমারী মাটির ঘুম ভেঙ্গেছিল কলের চাকার ঘরঘরানিতে , সেখানে এক একে কারখানার দেউটি নিভেছে যা সুস্হ শিল্প-সংস্কৃতির ধাত্রী গৃহ দুর্গাপুরে সংস্কৃতি-চর্চার ভিত্তিমূলে আঘাত করেছে । শিল্পনগরী রক্ষার জন্য দুর্গাপুরের শিল্পীরা জোট বেঁধেছেন , তৈরী করেছেন ‘সাংস্কৃতিক সমন্বয়’ । বিশ্ব কবিতা দিবস উপলক্ষ্যে ,আজ সন্ধ্যায়   সাংস্কৃতিক সমন্বয় এর পক্ষে  ইস্পাতনগরীর আশীষ মার্কেটে খোলা আকাশের নীচে –  “ শিল্পের জন্য - শিল্পীরা”   অনুষ্ঠানে “ ফিরিয়ে দাও আমার শহর,শ্রমিক সংস্কৃতি” এই  দাবীতে এক অভিনব  কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করে । ৩০ জন শিল্পী আবৃতি করে শোনান । উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মাইক ছিল না । কিন্তু খালি গলাতেও শিল্পীরা উপস্হিত অগুন্তি শ্রোতা-দর্শকদের উদ্বেলিত করে তোলে।প্রতিজ্ঞা-শপথে শিল্পী ও দর্শক কূল শিল্পনগরীর বাঁচানোর লড়াই শক্তিশালী করার বার্তা দিল।










Monday, 20 March 2017

অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বাঁচাতে ধর্মঘটের পথে ইস্পাত শ্রমিকরা ।



দুর্গাপুর , ২০শে মার্চ – অবিলম্বে  মোদি সরকারের অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবী  জানিয়ে , অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্টের শ্রমিক ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে আজ কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্মঘটের নোটিশ জমা দেওয়া হয় ।উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট , সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্হা নিয়েছে । এর বিরুদ্ধে সেইলের ইস্পাত শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছেন । সালেম ও ভদ্রাবতীর  ইস্পাত শ্রমিকরা ধর্মঘটের নোটিশ জমা দিয়েছেন । চেষ্টা হচ্ছে অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট , সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টে একই দিনে ধর্মঘট করার ।
এদিকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বাঁচাতে , সংবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের পাশে জোড়ালো সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছেন  দুর্গাপুর এবং বর্ধমান জেলার সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ সহ সমাজের সব অংশের মানুষ । মোদির মনভোলানো স্লোগান – ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ ‘  এর আড়ালে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী  অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্টর “ বিনাশ “ এর চক্রান্ত, মানুষের রুটি-রুজি বন্ধের চক্রান্ত - তা দুর্গাপুরের মানুষ কে বলে দিতে হচ্ছে না । তাই আজ সকালে  ধর্মঘটের নোটিশ জমা দেওয়া কে কেন্দ্র করে , প্ল্যান্টের মেইন গেটে শ্রমিক সমাবেশের পাশে এসে দাঁড়ালো প্রাক্তন শ্রমিক-কর্মচারী সহ মেহেনতী মানুষ-যুব-মহিলা । এক বিশাল মিছিল কারখানার মেইন গেটে কে ঘিরে পরিক্রমা করে । মিছিল-সমবেশে অবরুদ্ধ হয়ে আটকে পড়েন কারখানার আধিকারিকরা ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেব রায় তীব্র ভাষায় কেন্দ্রের মোদি সরকারে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা  ‘বিনাশ’ এর নীতি কে আক্রমন করে বলেন যে মোদি সরকারে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের মূল লক্ষ্য হল মেহেনতী মানুষের রুটি-রুজির ‘বিনাশ- যার প্রত্যক্ষ প্রমান হল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বেঁচার চেষ্টা । ‘সেটে’-র প্রস্তাব অনুসারে  মাত্র ১১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে লাভজনক সংস্হায় পরিনত করা যায় । তা করার পরিবর্তে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে ।তাই  মোদি সরকারই বাধ্য করেছে  অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বাঁচাতে ইস্পাত শ্রমিকদের ধর্মঘটের পথে যেতে।  একই পরিনতির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কে । অন্যদিকে মোদি সরকার মালয়শিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাণিজ্য-চুক্তি করে দেশে ফেরো-ইস্পাত আমদানির যে রাস্তা খুলে দিয়েছে , তা দুর্গাপুরের সহ রাজ্যের  বেসরকারী ফেরো-ইস্পাত কারখানা গুলি কে  বন্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে , তিনি সাবধান করে দেন । প্রসংগত তিনি উল্ল্যেখ করেন যে দেশের ৩৫% ফেরো-ইস্পাত উৎপাদিত হয় এই রাজ্যে । অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল ও আধুনিকীকরনের জন্য সেটের প্রস্তাব অনুসারে বিনিয়োগ, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কে ১০ মিলিয়ন টনের উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানা পরিনত  করার জন্য  বিনিয়োগ ও উচ্ছেদ হওয়া ৪০০০ ঠিকা শ্রমিকের কাজ ফেরৎ এর দাবী জানিয়ে , তিনি অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্ট - রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা  - শিল্প বাঁচাও , রক্ষা কর দুর্গাপুর - আন্দোলন কে আরও ঐক্যবদ্ধ ও  প্রসারিত করার আহ্বান জানান ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আই.এন.টি.ইউ.সি-র বর্ধমান জেলার সভাপতি বিকাশ ঘটক বলেন যে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তই অ্যালয় স্টীল প্ল্যান্টের শ্রমিকদের ধর্মঘটের রাস্তায় ঠেলে দিয়েছে । এ ছাড়াও বক্তব্য রেখেছেন বিজয় সাহা ( এইচ.এস.ই.ইউ,সি.আই.টি.ইউ) ও সাধন সিনহা । 











Saturday, 18 March 2017

স্টীল টাউন ওন ইয়োর ওন হাউস ওনার্স এ্যাসোশিয়েশনের পঞ্চম সম্মেলন ( সপ্তদশ বর্ষ ) অনুষ্ঠিত হল ।

                                                                           

দুর্গাপুর , ১৮ই মার্চ – আজ ইস্পাতনগরীর বিধান ভবনে ইস্পাতনগরীর লিজ প্রাপ্ত কোয়ার্টারের অধিবাসীদের সংগঠন স্টীল টাউন ওন ইয়োর ওন হাউস ওনার্স এ্যাসোশিয়েশনের পঞ্চম সম্মেলন ( সপ্তদশ বর্ষ ) অনুষ্ঠিত হল । ইস্পাতনগরীর ডি.এস.পি ও এ.এস.পি কারখানার ৬০০০ লিজ কোয়ার্টারে ৩৫০০০ হাজার অধিবাসী বসবাস করেন । লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীরা বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়ে এই সংগঠন গড়ে তোলেন ।  ডি.এস.পি ও এ.এস.পি কারখানার কর্তৃপক্ষের একতরফা বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীরা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছেন বলে দাবী করে, সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন  আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা পেলেও, কর্তৃপক্ষের একগুঁয়েমি মনোভাবের জন্য ফলে লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীদের সমস্যা বেড়েই চলেছে । ইস্পাতনগরীরর নাগরিক পরিষেবায় কর্তৃপক্ষের অবহেলা,আইন-শৃংখলার অবনতি, দুর্গাপুরে একের পর এক কারখানা  বন্ধ হয়ে যাওয়া – এই সবই লিজ কোয়ার্টারের অধিবাসীদের জীবন দুর্বিষহ করছে বলে , আজকের সম্মেলনে আলোচনার সময়ে উঠে আসে। মহিলাদের উপস্হিতি ও আলোচনায় অংশগ্রহন বিশেষ উল্ল্যেখনীয় ছিল ।
এর আগে ,প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দুর্গাপুর বর্তমানে যে ভয়াবহ আর্থ-সামাজিক পরিস্হিতির মুখোমুখি হয়েছে তা তুলে ধরেন । একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । বিলগ্নীকরনের নামে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,ডিপিএল,ডিসিএল তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে । দুর্গাপুর ইস্পাত ও ডি.টি.পি.এস সংকটে ভুগছে। নতুন শিল্প আসছে না । পানীয় জল সহ শিল্পের জলের উৎস দুর্গাপুর ব্যারেজ পলি পড়ে বুজে আসছে । এই পরিস্হিতি তিনি দল-মত নির্বিশেষ সকলের কাছে দুর্গাপুর বাঁচানোর আন্দোলন কে শক্তিশালী করে তোলার আবেদন জানান । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর ( পশ্চিম ) এর বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল , বিকাশ ঘটক প্রমূখ । ১২টি সংগঠন এর পক্ষে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখা হয় । ৩৫ জন মহিলা সহ ১১০ জনের ওয়ার্কিং কমিটি নির্বাচিত হয় । সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মনোজ হাজরা ।