দুর্গাপুর,২৩ এপ্রিল
: অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাতে আরও বৃহত্তর লড়াই এর প্রস্তুতি শুরু করে দিল ট্রেড
ইউনিয়ন সহ অন্যান্য গন-সংগঠন সমূহের যৌথ মঞ্চ । আজ অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্টেডিয়ামের
প্যাভেলিয়নে এক যৌথ সভায় , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে ট্রেড
ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চ এর ডাকে গত ১১ই এপ্রিল,অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ধর্মঘট সর্বাত্বক
করার জন্য অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গ কে নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানান । একই সাথে , নিরঙ্কুস
জনমত উপেক্ষা করে এখনও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের
বেসরকারীকরনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য
মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয় । এ দিনের সভায় আগামী কর্মসূচী স্হির হয়েছে । ঠিক
হয়েছে , আগামী দিনে দুর্গাপুরের সমস্ত কারাখানার প্রতিনিধিদের নিয়ে কারখানা বন্ধ ও
বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে এক বিশাল যৌথ কনভেনশনের
আয়োজন করা হবে । এছাড়া,আগামী ২৬শে এপ্রিল অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্টের মেইন গেটে যৌথ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে । আজকের সভায় উপস্হিত ছিলেন বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী, বিকাশ ঘটক,অনীত মল্লিক,বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী,রবি ঠাকুর,বাদল
চক্রবর্তী,মহাব্রত কুন্ডু,সুবীর সেনগুপ্ত প্রমূখ নেতৃবৃন্দ । সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর
( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ।
Sunday, 23 April 2017
প্রয়াত হলেন পার্টি-দরদী নিমাই ঘোষ ।
দুর্গাপুর,২৩শে এপ্রিল
: গতকাল ভোরে,সেপকো টাউনশীপে নিজের বাসভবনে প্রয়াত হলেন
পার্টি-দরদী নিমাই ঘোষ ।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স
হয়ছিল ৭৫ ।
মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা ও নাতি কে রেখে গেছেন । বাসভবনে
গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান পার্টির ইস্পাত জোনালের সম্পাদক সন্তোষ দেবরায় সহ অন্যান্য
নেতৃবৃন্দ । এর পরে, তাঁর মরদেহ বি.টি.রণদিভে
ভবনে নিয়ে আসা হলে ,শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন হিন্দুস্হান
স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । তার মৃত্যুতে
পার্টির ইস্পাত জোনালের সম্পাদক সন্তোষ দেবরায় গভীর শোকপ্রকাশ করে পরিবারের প্রতি শোক
জ্ঞাপন করেছেন ।
সংক্ষিপ্ত জীবনী
: দেশভাগের পরে অধুনা বাংলাদেশের যশোর থেকে বার্ণপুরে এসে বসবাস শুরু করেন । বামপন্হী
পরিারের সদস্য কলা বিভাগে স্নাতক প্রয়াত নিমাই ঘোষ ১৯৬০ সালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় শ্রমিক হিসাবে
কাজে যোগ দেন এবং হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের জন্মলগ্ন থেকে যুক্ত ইউনিয়নের
সাথে যুক্ত ছিলেন । ইউনিয়নের সহকারী-সম্পাদক
ও সহ-সম্পাদকের পদে দায়িত্ব বহন করেছেন । ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষের পদের দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সাথে সামলেছেন । ১৯৭০ সালে
পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন । পার্টির আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিলেন । বিগত শতাব্দীর ৭০-র দশকের কালো দিন গুলিতে,তিনি ও তাঁর পরিবারের
সদস্যরা বারে বারে সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন । সেক্টর গন-সংগঠনেও তাঁর উল্ল্যেখযোগ্য
ভূমিকা ছিল ।তিনি অত্যন্ত দক্ষ
শ্রমিক ছিলেন । ২০০২ সালে কাজের থেকে অবসর গ্রহন করেন । পরবর্তীকালে সমবায় আন্দোলন সাথে
যুক্ত ছিলেন ।
Saturday, 22 April 2017
ইস্পাতনগরীতে কমরেড লেনিনের ১৪৮-তম জন্মবার্ষিকী পালিত হল ।
দুর্গাপুর,২২শে এপ্রিল
: আজ , ইস্পাতনগরীর আশীষ-জব্বর ভবনে , ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র ইস্পাত
জোনাল কমিটির পক্ষ থেকে কমরেড লেনিনের ১৪৮-তম জন্মবার্ষিকী পালিত হল । এই উপলক্ষ্যে
কমরেড লেনিনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন জোনাল সম্পাদক ও পার্টির বর্ধমান জেলা কমিটির
সদস্য সন্তোষ দেবরায় ,নির্মল ভট্টাচার্য ,সুবীর সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।
Tuesday, 18 April 2017
বাম পরিচালিত দুর্গাপুর মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক রাজ্য সরকারের সমবায়শ্রী পুরস্কার পেয়ে নজীর গড়ল ।
দুর্গাপুর,১৮ ই এপ্রিল
: সারা রাজ্যের ৪৩টি আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মধ্যে উৎকর্ষতা বিচারে ৩য় সেরা ব্যাঙ্ক
এর মর্যাদা পেয়ে রাজ্য সরকারের সমবায়শ্রী পুরষ্কারে ভূষিত হল বাম পরিচালিত দুর্গাপুর মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক । গত ১১ই এপ্রিল কোলকাতার
নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সমবায় মেলায় ,
ব্যাঙ্ক এর চেয়ারম্যান বাণী চক্রবর্তীর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী
ফিরহাদ হাকিম । উপস্হিত ছিলেন রাজ্যের সমবায় দফ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
মাত্র সাড়ে বারো লক্ষ
টাকা মূলধন কে সম্বল করে ১৯৯৯ সাল থেকে পথচলা শুরু করে প্রথম থেকে বাম পরিচালিত দুর্গাপুর মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক । ব্যাঙ্কের সদস্য থেকে
পরিচালন সমিতি সবাই মহিলা । একজন পুরুষ কর্মী ছাড়া ব্যাঙ্কের অন্য পাঁচ কর্মী ও অ্যাকাউন্টস
অফিসারও মহিলা । ব্যাঙ্কের গ্রাহক হওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের বাধা নেই ।
ব্যাঙ্কের
অ্যাকাউন্টস অফিসার রূপা ব্যানার্জী জানান যে বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অডিটে এ-গ্রেড
প্রাপ্ত ও বর্তমানে কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে পরিচালিত দুর্গাপুর মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এর কার্যকরী মূলধন ২০১৫-১৬
আর্থিক বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি টাকা ।
বর্তমান বছরে তা আরও বাড়বে । ব্যাঙ্কের বর্তমান গ্রাহক ১২০০০ এবং সদস্য সংখ্যা ৭০০০
হাজার ছাড়িয়েছে ।
সম্পূর্ন ভাবে মহিলাদের দ্বারা
পরিচালিত ব্যাঙ্কের একমাত্র শাখা সিটি সেন্টারের দফ্তরটি পুরোপুরি কম্পুটারাইজড ও শীততাপ
নিয়ন্ত্রিত । বর্ধিত গ্রাহক সংখ্যার দিকে নজর দিয়ে, পরিচালন সমিতি খুব শীঘ্রই ব্যাঙ্কের
অন্য একটি শাখা খুলতে চলেছে বলে জানালেন ব্যাঙ্ক চেয়ারম্যান বাণী চক্রবর্তী । তিনি
জানালেন যে দুর্গাপুর সহ অন্ডাল থেকে বুদবুদ পর্যন্ত অঞ্চলে নারীদের জীবন-জীবিকা উন্নয়নে
ব্যাঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে চলেছে এবং এই ভূমিকা আরও প্রসারিত করার
জন্য পরিচালন সমিতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ । এ যাবৎ কাল ব্যাঙ্ক ব্যবসা- বানিজ্য ও পরিষেবা ক্ষেত্রে
মহিলা উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য সাড়ে চার হাজারের
বেশী মহিলা কে ঋন দিয়েছে । ব্যাঙ্কের নিজস্ব স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়েছে
। একই সাথে ঋন পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে ব্যাঙ্ক ।
প্রসঙ্গতঃ,ব্যাঙ্কের
পরিচালন সমিতির বিগত নির্বাচনের সময় তৃণমূল ভয়াবহ আক্রমন চালায় । কিন্তু মহিলার অতুলনীয়
প্রতিরোধ করে সব কটি আসনেই বাম প্রার্থীদের জয়ী করেন । এই নির্বাচন কে ঘিরে তৃণমূলী
দুষ্কৃতিরা শহীদ বিমল দাসগুপ্ত ভবনে হামলা চালায় ও বিপ্রেন্দু
চক্রবর্তী সহ কয়েক জন পার্টি নেতা কে মিথ্যা মামলায় জড়ায় ।
কিন্তু আজ সেই বাম
পরিচালিত দুর্গাপুর মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক
উৎকর্ষতায় রাজ্য সরকারের স্বীকৃতি আদায় করে নজীর গড়ল ।
Sunday, 16 April 2017
ভয় নয়,ভীতি নয়, আমাদের এগোতেই হবে – অঞ্জু কর
দুর্গাপুর,১৬ই এপ্রিল
– আজ দুর্গাপুরের বেনাচিতির আনন্দধারা ভবনে প্রয়াত পার্টি নেত্রী গীতা চ্যাটার্জীর
স্মরনসভা এ কথা বলেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা অঞ্জু কর । গত ৩রা এপ্রিল পার্টির
সর্বক্ষনের কর্মী ও পার্টির দুর্গাপুর ২ পশ্চিম জোনাল কমিটির প্রাক্তন সদস্যা গীতা
চ্যাটার্জীর জীবনাবসান হয় । বিগত শতাব্দীর ৬০’ দশকে স্বামীর কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে
আসেন এবং ইস্পাতনগরীর ৬০-৭০ এর দশকে উত্তাল দিনগুলিতে প্রথমে স্বামীর সাথে গণসংগীত
শিল্পী হিসেবে গন-আন্দোলনের সাথে যুক্ত হলেও পরে দুর্গাপুর তথা বর্ধমান জেলার অন্যতম
মহিলা সংগঠকে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন । শিশু শিক্ষা প্রসার ও মহিলা সমবায় ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠায়
তাঁর অন্যন্য অবদান ছিল । ১৯৭৩ সালে সন্ত্রাসের কালো দিনে তিনি পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন
। সেই কথা স্মরন করিয়ে দিয়ে অঞ্জু কর বলেন
সংসারের অসম্ভব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও প্রয়াত গীতা চ্যাটার্জী পার্টির জন্য কঠিনতম দিনে
অসম্ভব সাহস ও আত্মপ্রত্যয়ের সাথে পার্টি কে এগিয়ে নিয়ে গেছেন । এই শিক্ষা পার্টি কর্মীদের
আত্মস্হ করে আজকের জটিল পরিসহিতির মধ্যে জনগনের মাঝে গিয়ে পার্টির কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে
হবে । আজ পঃ বঙ্গে কৃষকেরা ফসলের দাম থেকে বঞ্চিত হয়ে আত্মহত্যা করছে,শ্রমিকরা কাজ
হারিয়ে পথে বসছেন,রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প তুলে দেওয়া হচ্ছে,নতুন শিল্প আসছে না,বেকার যুবকদের
কাজে সুযোগ নেই ।গনান্ত্রিক অধিকার,শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে । রেশনিং ব্যবস্হা
তুলে দেওয়া হচ্ছে । ভয়াবহ আক্রমন শানিত হচ্ছে মহিলাদের উপর । মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর আমলে
নারী ও শিশু পাচারে এক নম্বর পঃ বঙ্গ । অ্যাসিড হামলার শিকার মহিলারা সুপ্রীম কোর্ট নির্দশিত ক্ষতিপূরন পর্যন্ত রাজ্য
সরকারের কাছে পায় নি । তৃণমূল সরকারের প্রত্যক্ষ্য মদতে জমি-লুঠ চলছে । মানুষ রুখে
দাঁড়াচ্ছেন । ভাঙ্গর,ভাবা দিঘি ও আউসগ্রাম প্রতিরোধের পথ দেখাচ্ছে । অন্যদিকে তৃণমূলের
দোসর বিজেপি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন,শ্রেনী-ঐক্য ভাঙ্গতে ধর্মের নামে বিভাজনের কৌশল
নিয়েছে । সংবিধান এর বিরু্ধচারন করে রাষ্ট্র-সরকার কে ধর্মীয় রূপ দিতে চাইছে । তৃণমূল
ও বিজেপি-র এই যুগপৎ ভয়ংকর আক্রমনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে । পার্টির
উপরেও ভয়াবহ সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে । কিন্তু কমিউনিষ্টরা অন্য ধাতুতে গড়া । শত বাঁধা
অতিক্রম করে পার্টি এগিয়েছে , জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠায়। আজও এগোবেই । সেই পথই দেখিয়েছেন
প্রয়াত গীতা চ্যাটার্জীর মত সহজ-সরল জীবন ধারায় বিশ্বাসী ,কিন্তু লক্ষ্য প্রতিষ্ঠায়
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হাজার হাজার পার্টি কর্মী । তাদের মত লক্ষ্যে অবিচল হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান
জানান ।
এছড়াও ,আজকের সভায় বক্তব্য রাখেন মহাদেব পাল,বিপ্রেন্দু
চক্রবর্তী,বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ,মহিলা নেত্রী সাধনা মল্লিক ও রথীন রায় ।
Tuesday, 11 April 2017
ধর্মঘট লিখেছে নয়া ইতিহাস ……
বেসরকরীকরনের করার
সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট-সালেম –ভদ্রাবতী ইস্পাত কারখানায়
ধর্মঘট সর্বাত্বক : সমর্থনে সেইল জুড়ে ২ ঘন্টার বিক্ষোভ-কর্মবিরতি ।
দুর্গাপুর,১১ই এপ্রিল
– মোদি সরকারের গালভরা নাম
‘স্ট্র্যাটেজিক সেলে’-র আড়ালে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নবরত্ন’ মর্যাদাপ্রাপ্ত ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড
( সেইল) এর বিশেষ ইস্পাত প্রস্তুতকারি সংস্হা দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,
তামিলনাড়ুর সালেম ও কর্নাটকের ভদ্রাবতী ইস্পাত কারখানা কে বেসরকরীকরনের করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের
দাবীতে , আজ অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট-সালেম –ভদ্রাবতী ইস্পাত কারখানায় সর্বাত্বক ধর্মঘট
হয় । ধর্মঘটের সমর্থনে সেইলের ইন্টিগ্রেডড বৃহৎ কারখানা দুর্গাপুর ইস্পাত সহ বার্ণপুরে
ইস্কো, ভিলাই,বোকারো ,বোলানি-কিরিবুরু-মেঘতাবুরু মতন প্রত্যন্ত অঞ্চলে খনিগুলি সহ বিভিন্ন
দফ্তরে ২ ঘন্টার বিক্ষোভ-কর্মবিরতি পালিত হয়েছে
। বিএমএস বাদে সি.আই.টি.ইউ সহ সব কটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন
ও তৃণমূল কংগ্রেসের মত স্হানীয় ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্য সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন এর সেইলের
শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চ আজকের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ-কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল । ধর্মঘট ও বিক্ষোভ-কর্মবিরতি
সফল করার জন্য স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া ( সি.আই.টি.ইউ ) এর পক্ষে পি.কে.দাস
ইস্পাত শ্রমিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে বেসরকরীকরনের করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার
না হওয়া পর্যন্ত লড়াই জারী থাকবে । অভিনন্দন জানিয়েছেন সি.আই.টি.ইউ এর সর্ব ভারতীয় সম্পাদক তপন সেন ।
এদিকে আজ দুর্গাপুরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে সব রকমের ভয়-ভীতি-হুমকি কে উপেক্ষা করে ৯১ শতাংশ শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন । মর্নিং শিফট থেকে কারখানার গেটে দলে দলে ধর্মঘটকারী শ্রমিকরা বিপুল সংখ্যায় বিক্ষোভ প্র্রদর্শন করতে থাকেন । শ্রমিকদের কারখানায় নিয়ে আসার বাসগুলি যাত্রী-শূন্য অবস্হায় ফেরৎ আসে । তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক শাখার পক্ষ থেকে কয়েক জন ধর্মঘটের বিরুদ্ধে, মা-মাটি-মানুষের-র সরকারের আমলে ধর্মঘট করা যাবে না - বলে শ্লোগান দেয়। বেলা গড়াতেই তারা চলে যান । কারখানার ভেতরে উৎপাদন প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় । বিকাল পর্যন্ত কোন ইনগট উৎপাদনের খবর নেই । বহু ধর্মঘটের সাক্ষী দুর্গাপুর । কিন্তু আজকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের ধর্মঘট শ্রমিকদের চেতনা-ঐক্য-ব্যপকতার নতুন ইতিহাস রচনা করল । বহু তৃণমূল সমর্থকও ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন ।
গত এক বছর ধরে অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও,দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বাঁচাও,শিল্প বাঁচাও,রাষ্ট্রায়ত্ব
শিল্প বাঁচাও, রক্ষা কর দুর্গাপুর – এই দাবীতে ইস্পাতনগরী ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে প্রায়
শতাধিক গন-আন্দোলনের কর্মসূচীতে হাজার হাজার শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-মহিলা সহ সমাজের
প্রায় সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন । এই আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন জাতীয়
ও আন্তর্জাতিক স্তরের সফল ক্রীড়াবিদ সহ অন্যান্য ক্রীড়াবিদরা । নেমেছেন সাংস্কৃতিক
কর্মীরা । আজকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের ঐতিহাসিক সফল ধর্মঘটের পেছনে ইস্পাত শ্রমিকদের
সাথে সাথে দুর্গাপুরের বৃহত্তর নাগরিক সমাজের অবদান কে কুর্ণিশ জানিয়ে , দুর্গাপুর
( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় বেসরকরীকরনের করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া
পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও প্রসারিত করার আবেদন
জানিয়েছেন । ইস্পাত শ্রমিকদের সাথে সাথে দুর্গাপুরের বৃহত্তর নাগরিক সমাজ কে অভিনন্দন
জানিয়েছেন ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক যথাক্রমে সি.আই.টি.ইউ এর বর্ধমান
জেলার সভাপতি বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ও আই.এন.টি.ইউ.সি এর বর্ধমান জেলার সভাপতি বিকাশ
ঘটক । অভিনন্দন জানিয়েছেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর সভাপতি
রথীন রায় ।
অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের ঐতিহাসিক
সফল ধর্মঘটের জন্য ইস্পাত শ্রমিকদের অভিনন্দন
জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন রাজ্য সি.আই.টি.ইউ
এর পক্ষে শ্যামল চক্রবর্তী ও দীপক দাসগুপ্ত ।
Sunday, 9 April 2017
বেজে উঠল দ্রোহ কালের দুন্দুভি ….
বেসরকারীকরনের
বিরুদ্ধে ১১ই এপ্রিল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ধর্মঘট ।
দুর্গাপুর,৯ই এপ্রিল
: ভারতের শ্রমিকশ্রেনীর বিরুদ্ধে প্রকারন্তরে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে মোদি সরকার । একদিকে
শ্রম আইন সংস্কার ,অন্য দিকে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা নির্বিচারে বিলগ্নীকরন-বেসরকারীকরন
সহ দেশীয় শিল্প বিকাশের বিরোধী নীতি নিয়ে চলছে মোদি সরকার । এই নীতির শিকার অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট । কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সব বিষয়ে কথা বললেও , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্হার নির্বিচারে
বিলগ্নীকরন-বেসরকারীকরন সহ বন্ধ করে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের অপচেষ্টর বিরুদ্ধে নীরব-নিশ্চুপ
কেন ? আজ সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ইস্পাতনগরীর আনন্দ-লাবণ্য ভবনে ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের অ্যালয় স্টিল
প্ল্যান্ট বাঁচাও যৌথ মঞ্চের আয়োজিত এক বিশাল সভায় এই প্রশ্ন তোলেন সি.আই.টি.ইউ এর
রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী । তিনি বলেন মোদি সরকারের ঘৃণ্য শ্রম আইন সংস্কারে শ্রমিক
এর ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব সি.আই.টি.ইউ সহ অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন
পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করেছেন । কিন্তু এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি ভাবে প্রশাসন
ও দলের লোকেদের লেলিয়ে দিয়ে শ্রমিক এর ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ।
পঃ বঙ্গের শ্রমিকরা এটা কখনই মানে নি ,মানবে না । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর
লড়াই এর পাশে সারা রাজ্যের শ্রমিকরা সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়াবেন ।
আই.এন.টি.ইউ.সি’র
সর্বভারতীয় সভাপতি জি.সঞ্জীব রেড্ডী পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট
সহ সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর
জন্য কেবল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট, সালেম
ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টের ধর্মঘট শেষ
নয়,প্রয়োজনে সমগ্র সেইল সহ সারা ভারতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে । কেন্দ্রে শ্রমিক-বিরোধী
মোদি সরকারের ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন সর্বস্তরে প্রসারিত করতে হবে । রাষ্ট্রায়ত্ব
সংস্হায় কেন্দ্র সরকারের লগ্নী করা অর্থ রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা গুলি সূদেমুলে ফেরৎ দিয়েছে
। রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা এখন দেশের সম্পত্তি । তাই রাষ্ট্রায়ত্ব
সংস্হা বিলগ্নীকরন-বেসরকারীকরন সহ বন্ধ করে দেওয়ার কোন অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের নেই
।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন বিধায়ক সন্তোষ দেব রায়,বিনয়েন্দ্রকৃষ্ণ চক্রবর্তী,রথীন
রায়,রমেন পান্ডে,বিকাশ ঘটক,অসীম সাহা,বাবলা ভ্টাচার্য ও রবি ঠাকুর । বক্তারা সকলেই
বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে ১১ই এপ্রিল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের ধর্মঘটকে সফল করার আবেদন
জানান । ঐ দিন সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক কারখানা অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট, সালেম ও
ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টের ‘ স্ট্র্যাটেজিক
ডিসইনভেষ্টমেন্ট’ এর জন্য মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে অ্যালয় স্টিল
প্ল্যান্ট, সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টে ধর্মঘট এবং সেইলের অন্যত্র ২ ঘন্টার
কর্মবিরতি পালনের ডাক দিয়েছে সেইলের সি.ই.টি.ইউ
সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ট্রেড ইনিয়নের যৌথ মঞ্চ ।
সভা শুরুর আগে অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট এর স্টেডিয়াম থেকে এক বিশাল মিছিল সভাস্হলে আসে । পুলিশি অনুমতি না
মেলায় সভা মাঠের বদলে সভাগৃহে হয় । স্হান সংকুলান না হওয়ায়,ভীড় উপচে পাশের রাস্তায়
চলে যায় । বহু পথ চলিত মানুষও দীর্ঘক্ষন ধৈর্য ধরে বক্তব্য শুনতে দেখা যায় ।
Subscribe to:
Posts (Atom)




