Tuesday, 27 February 2018

বিধায়ক সহ বামপন্হী কর্মিদের উপর তৃণমূলের নৃশংস হামলার বিরুদ্ধে ইস্পাতনগরীতে প্রতিবাদ মিছিল ।




দুর্গাপুর,২৭শে ফেব্রুঃ : গত ২৪শে ফেব্রুঃ ডিপিএল এর প্রশাসনিক ভবনের গেটে বিদ্যুৎ এর চড়া মাসুল বৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক সিকিউরিটি ডিপোজিট জমার নির্দেশের বিরুদ্ধে ১৩টি গন সংগঠনের ডাকে শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ চলার সময় একদল সশস্ত্র তৃণমূলী দুষ্কৃতি নৃশংস হামলায় । এই হামলায় দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় সহ বেশ কয়েকজন যুব কর্মী গুরুতর আহত হন । তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । এর প্রতিবাদে আজ ইস্পাতনগরীতে পার্টির দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ ও ৩ নং এরিয়া কমিটির যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল আশিষ-জব্বার ভবন বেড়িয়ে থেকে চন্ডিদাস বাজারে শেষ হয় । মিছিলের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি , নির্মল ভট্টাচার্য , সুবীর সেনগুপ্ত , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী প্রমূখ ।





Monday, 26 February 2018

ভারতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলি ভেঙ্গে ফেলার গভীর ষরযন্ত্র চলছে : ডঃ অসীম দাসগুপ্ত




দুর্গাপুর,২৬শে ফেব্রুঃ : আজ সন্ধ্যায় , ইস্পাতনগরীর নেতাজী ভবনে পার্টির দুর্গাপুর ইস্পাত ১নং এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাজেটে এবং প্রস্তাবিত এফআরডিআই বিলের উপর আলোচনা  করতে গিয়ে একথা বলেন ডঃ অসীম দাসগুপ্ত । তিনি বলেন সাম্প্রতিক নীরব মোদি সহ অন্যান্য ব্যাঙ্ক কেলেকাংরী এবং ব্যাঙ্কের  প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋন ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কিং ব্যবস্হা কে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা না নিয়ে , এফআরডিআই বিল এনে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র আমানতকারিদের সর্বস্বান্ত করার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে । এই ভয়ংকর সর্বনাশ ঠেকাতে তিনি প্রতিরোধের আহ্বান জানান ।
এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাজেটের বিশ্লেষন করে কিভাবে উভয় বাজেট রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা – শ্রমিক-সাধারন মানুষের স্বার্থ বিরোধী নীতি নিয়েছে , তা তুলে ধরেন । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জি । সভাপতিত্ব করেন রথীন করেন ।








অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলন কে দূর্বল করতে চাইছে তৃণমূল – সূজন চক্রবর্তী




দুর্গাপুর , ২৬শে ফেব্রুঃ : অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলন কে দূর্বল করতে চাইছে তৃণমূল । আজ দুর্গাপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই অভিযোগ করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা ডঃ সূজন চক্রবর্তী । তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে এই লক্ষ্যেই অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় এর উপর হামলা চালানো হয়েছে । গত দুই বছর ধরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এর ‘কৌশলগত’ বিলগ্নীকরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যৌথ মঞ্চ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে । কিন্তু তৃণমূল সেই আন্দোলনের থেকে দূরে থেকেছে । ক্ষমতায় আসার আগে  তৃণমূল ৭৩ বার বনধ ডেকেছিল । ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূল নেত্রী বলছেন বনধ-অবরোধ করা যাবে না !  আজ আবার তৃণমূল একক ভাবে দুর্গাপুরে রেল অবরোধ করেছে । আসলে এই দ্বিচারিতা অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলন কে সুপরিকল্পিত ভাবে দূর্বল করার জন্য করা হয়েছে ।বাংলার গর্বের শিল্পনগরী দুর্গাপুর বাঁচাতে কি করতে চান সে বিষয়ে রাজ্য সরকার পরিষ্কার করে কিছুই বলছে না । রাজ্য সরকার দুর্গাপুর কেমিক্যালস ১০০% বিলগ্নীকরন করছে । ডিপিএল এর সর্বনাশ করছে । এর আগে মমতা ব্যানার্জী এনডিএ সরকারের মন্ত্রী থাকার সময় অটলবিহারী বাজপেয়ী-র ‘ফ্যাক্স’ এর গল্প শুনিয়ে দুর্গাপুর ও রাজ্যের মানুষ কে প্রতারনা করেছিলেন । বন্ধ হয়ে যায় এম.এ.এম.সি । বামফ্রন্ট সরকার এম.এ.এম.সি খোলার উদ্যোগ নিয়ে অনেক দুর এগিয়ে ছিল । বর্তমান সরকার সে সব জলাঞ্জলি দিয়েছে ।  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের সাথে সালেম ও ভদ্রাবতি  স্টিল প্ল্যান্টের কৌশলগতবিলগ্নীকরনের প্রস্তাব থাকলেও , সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার গুলির বিরোধীতায় মোদি সরকার পেছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে । অথচ পঃ বঙ্গ সরকার নিশ্চুপ । কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ এখনও জানায় নি । অথচ ইস্কো-বাঁচাও ঐতিহাসিক আন্দোলনের পাশে পুরোপুরি দাঁড়িয়েছিল তৎকালিন বামফ্রন্ট সরকার ।  বর্তমান সরকারের সেই ভূমিকা কোথায় ? তৃণমূলের নেতৃত্ব আক্রান্ত বিধায়ক কে দেখতে এসেছেন , দুঃখ প্রকাশ করে অপরাধীদের গ্রেফ্তারের কথা বললেও ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পার হলেও একজন অপরাধীও গ্রেফ্তার হয় নি । আসলে নবান্নের অনুমতি ছাড়া আজকে পুলিশ অপরাধিদের  গ্রেফ্তার করতে পারে না । উল্টে সমাজবরোধী ও পুলিশ প্রশাসন কে ব্যবহার করা হচ্ছে গনতান্ত্রিক আন্দোলন ভাঙ্গার কাজে । ডিপিএল এর বিদ্যুৎের অমানবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ  গন-আন্দোলনের উপর পুলিশের উপস্হিতে  তৃণমূলের  ভয়ংকর আক্রমন আরও একবার প্রমান করছে রাজ্যের আইনের শাসন মানে পুলিশ-সমাজবিরোধিদের শাসন ।জনগনের প্রতিরোধে ভগবানপুরে তৃণমূলের নান্টু প্রধান নামে জনৈক তোলাবাজের দুঃখজনক মৃ্ত্যুর  পর পুলিশ ৭২জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে,৭ জন কে গ্রে্ফতার করেছে । অথচ বিধায়ক আক্রান্ত হলেও পুলিশ কাউকে  গ্রে্ফতার করে নি । তাই আক্রান্ত বিধায়ক কে দেখতে আসার নাম করে তৃণমূল নাটক করার চেষ্টা করলে মানুষ যোগ্য জবাব দেবে ।যদি তৃণমূল প্রকৃত অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলন করতে চায় তবে তাদের উচিৎ বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় এর নেতৃত্বে যে যৌথ মঞ্চ আন্দোলন চলছে তার সাথে যুক্ত হওয়া । ইস্কো-বাঁচাও ঐতিহাসিক আন্দোলনে প্রমান করেছিল বামপন্হিরা সবাই কে সম মর্যাদা দিয়ে একসাথে চলতে পারে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলন সেই ধারা অনুসরন করছে । তৃণমূল যদি এই আন্দোলন কে কোন ভাবে দূর্বল করার চেষ্টা করে , দুর্গাপুরের মানুষ সেই বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেবে না । যদি পুলিশ-সমাজবিরোধি লেলিয়ে আন্দোলন ভাঙ্গার চেষ্টা হয় , তার পরিনাম ভয়ংকর হবে । মানুষ কে নিয়ে বামফ্রন্ট সর্বোচ্চ প্রতিরোধ করবে ।
এর আগে বাম পরিষদীয় দলনেতা ডঃ সূজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বাম বিধায়ক দল মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও যুব কর্মী জয় সিং কে দেখতে যান ও চিকিৎসর বিষয়ে খোঁজখবর করেন । সাথে ছিলেন বি.পি.এম.ও-র রাজ্য আহ্বায়ক শ্যামল চক্রবর্তী ও পশ্চিম বর্ধমান  জেলার সিপিআইএম ও সিআইটিইউ নেতৃবৃ্ন্দ । হাসপাতাল সুপার পার্থ পাল জনিয়েছেন সন্তোষ দেবরায় ও জয় সিং এর অবস্হা স্হিতিশিল ।















Thursday, 22 February 2018

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের আহ্বান : প্রতিবাদে দুর্গাপুরে ইস্পাত শ্রমিকদের প্রবল বিক্ষোভ চলছে ।




দুর্গাপুর,২২শে ফেব্রুঃ –  সংবাদপত্রে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) খবর প্রকাশিত হতেই দুর্গাপুরে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে । বিগত দেড় বছরে বেশী সময় ধরে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির ( স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট ) চেষ্টার বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চ লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে । পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়। প্রসংগত বিক্রির তালিকায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী সালেম ( তামিলনাড়ু ) ও ভদ্রাবতী ( কর্নাটক ) স্টিল প্ল্যান্ট । কিন্তু প্রবল শ্রমিক আন্দোলনের চাপে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার গুলি বেসরকারীকরনের তীব্র বিরোধিতা করতে বাধ্য হয় । বেগতিক দেখে মোদি সরকার পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় । কেবল মাত্র অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) আহ্বান করা হয়েছে । এখানেই প্রশ্ন উঠছে পঃ বঙ্গ সরকারের ভূমিকা নিয়ে । ইতিমধ্যে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও রাজ্যে বাম পরিষদীয় দলনেতা সূজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানালেও কোন ফল হয় নি । ফলে দুর্গাপুরের মানুষের মনে কেন্দ্রের ভূমিকার সাথে সাথে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে । যদিও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের তৃণমূল পরিচালিত শ্রমিক সংগঠনের একাংশ যৌথ আন্দোলনে সাম্প্রতিক কালে অংশ নিচ্ছেন ।
 টেণ্ডারের খবর প্রকাশিত হতেই যৌথ মোর্চার পক্ষে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের মেইন গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন এর ডাক দেওয়া হয় । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন । সাথে যোগ দেন দুর্গাপুর  ইস্পাতে শ্রমিকরা । এর ফলে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের প্রবেশের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায় । অবরুদ্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ন শহীদ সূর্য সেন সরনী । আটকে পড়েন ইস্পাত আধিকারিকরা । যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষ হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি রুখতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবী জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয় । অবিলম্বে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী ও ইস্পাত সচিব এবং সেইল এর চেয়ারম্যানের কাছেও যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয় ।
এদিকে অবিলম্বে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) প্রত্যাহার , বিক্রি রুখতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ এবং অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর  ইস্পাত কারখানার আধুনিকিরন-সম্প্রসারনের জন্য সেইল কে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে যৌথ মঞ্চের ডাকে গত তিন দিন ধরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন । একই দাবিতে সি.আই.টি.ইউ-এ.আই.টি.ইউ.সি-এ.ই.ইউ.টি.ইউ.সি এর যৌথ আহ্বানে আজ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় শ্রমিকারাও দুর্গাপুর  ইস্পাত কারখানার অভ্যন্তরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ।





Wednesday, 21 February 2018

দুর্গাপুরে পালিত হল অমর একুশ ।




দুর্গাপুর,২১শে ফেব্রুঃ : আজ দুর্গাপুরে মর্যাদার সাথে পালিত হল মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি । সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ইস্পাতনগরীর  বি-জোনে ভাষা শহীদ স্মারক উদ্যানে শহীদ স্মারকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন ও গান-নাচ-স্বরচিত কবিতা পাঠ-আবৃতি-ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কে স্মরন করা হয় । এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগদান করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি ও লেখিকা জাহ্নবি জাইমা । এছাড়াও উপস্হিত ছিলেন দুর্গাপুরের বহু বিশিষ্ট শিল্পী ও সাহিত্যিক এবং  বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃ্ন্দ । সভাপতিত্ব করেন দীপক দেব ।
অপর একটি অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে দুর্গাপুর সাব ডিভিশন্যাল ব্লাড ডোনার্স ফোরামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে ৭ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন । রক্তদাতাদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবি আয়ুব আনসারি ও তার স্ত্রী । আজ তাদের বিবাহ বার্ষিকি ছিল ।













Thursday, 15 February 2018

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতাল সহ চিকিৎসা পরিষেবার দুরাবস্হার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সি.আই.টি.ইউ এর বিক্ষোভ ।




দুর্গাপুর,১৫ই ফেব্রুঃ : আজ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার ক্রমাবনতির বিরুদ্ধে এইচ.এস.ই.ইউ(সি.আই.টি.ইউ) ও অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠনের এর পক্ষ থেকে যৌথভাবে দুর্গাপুর ইস্পাতের মেইন হাসপাতালে গণ অবস্হান-বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয় । এইচ.এস.ই.ইউ(সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষ অভিযোগ যে ১৯৯১ সালে নয়া অর্থনৈতিক নীতি গ্রহনের পর থেকেই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার ক্রমাবনতি হয়েছে এবং বর্তমানে ভয়াবহ আকার নিয়েছে । ৬০০ বেডের মেইন হাসপাতালে প্রতি বছরে বর্হিবিভাগে প্রায় ১০ লক্ষ চিকিৎসা করান এবং প্রায় ৩০ হাজার রোগী ভর্তি হয় । অথচ এই বিপুল পরিমানে রোগীদের চিকিৎসার জন্য মেইন হাসপাতাল সহ ৩ টি হেলথ সেন্টার ও প্ল্যান্ট মেডিক্যালের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য নার্সিং স্টাফ,ফার্মাসিষ্ট, ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অপ্রতুল । অন্যান্য মেডিক্যাল ও টেকনিক্যাল স্টাফের সংখ্যা তথৈবচ । অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ট্রমা সেন্টার হয় নি । চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অপ্রতুল এবং  যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন হচ্ছে না । নিম্ন মানের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে । হাসপাতালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত ,তাদের পরিবারবর্গদের সাথে দুর্গাপুরে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্হা এবং মেডিক্লেমের রোগীদের চিকিৎসা হয় । বহিরাগত ও মেডিক্লেমের রোগীদের চিকিৎসা-বাবদ বছরে হাসপাতালের আয় প্রায় ৪-৫ কোটি টাকা । এইচ.এস.ই.ইউ(সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষ লাগাতার আন্দোলনের চাপে মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রকৃতপক্ষে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও সেইল কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির জন্য কোন ব্যবস্হা নেয় নি বলে এইচ.এস.ই.ইউ(সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী অভিযোগ করেন । এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ইস্পাত মন্ত্রকের চাপ আছে বলে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও সেইল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে চাইছে বলেও তিনি অভিযোগ জানান । সি.আই.টি.ইউ এর সর্বভারতীয় সম্পাদক ও রাজ্যসভার সাংসদ তপন সেন এ বিষয়ে সেইল কর্তৃপক্ষ কে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের দাবী জানালে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস মিললেও কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি বলে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী অভিযোগ করেন । সেই কারনেই আজকের অবস্হান বিক্ষোভ । দাবী না মিটলে ভবিষ্যৎে লাগাতার আন্দোলনের দিকে এইচ.এস.ই.ইউ(সি.আই.টি.ইউ) যাবে বলে তিনি জানান । আজকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  কবিরঞ্জন দাসগুপ্ত ,কাজল মজুমদার ,মলয় ভট্টাচার্য,অশোক চক্রবর্তী,প্রকাশতরু চক্রবর্তী ও স্বপন মজুমদার । সমাবেশে চলাকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় । বর্হিবিভাগে অবসরপ্রাপ্তদের দু-বেলা দেখানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিলেছে ।

Wednesday, 14 February 2018

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের আহ্বান : প্রতিবাদে দুর্গাপুরে প্রবল বিক্ষোভ ।




দুর্গাপুর,১৪ই ফেব্রুঃ – গতকাল সংবাদপত্রে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) খবর প্রকাশিত হতেই দুর্গাপুরে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে । বিগত দেড় বছরে বেশী সময় ধরে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির ( স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট ) চেষ্টার বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চ লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে । পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়। প্রসংগত বিক্রির তালিকায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী সালেম ( তামিলনাড়ু ) ও ভদ্রাবতী ( কর্নাটক ) স্টিল প্ল্যান্ট । কিন্তু প্রবল শ্রমিক আন্দোলনের চাপে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার গুলি বেসরকারীকরনের তীব্র বিরোধিতা করতে বাধ্য হয় । বেগতিক দেখে মোদি সরকার পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় । কেবল মাত্র অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) আহ্বান করা হয়েছে । এখানেই প্রশ্ন উঠছে পঃ বঙ্গ সরকারের ভূমিকা নিয়ে । ইতিমধ্যে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও রাজ্যে বাম পরিষদীয় দলনেতা সূজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানালেও কোন ফল হয় নি । এমন কি দূর্গাপুরের তৃণমূলের সাংসদ – বিধায়ক – মেয়র নিশ্চুপ । ফলে দুর্গাপুরের মানুষের মনে কেন্দ্রের ভূমিকার সাথে সাথে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে । যদিও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের তৃণমূল পরিচালিত শ্রমিক সংগঠনের একাংশ যৌথ আন্দোলনে সাম্প্রতিক কালে অংশ নিচ্ছেন ।
গতকাল টেণ্ডারের খবর প্রকাশিত হতেই যৌথ মোর্চার পক্ষে আজ অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের মেইন গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন এর ডাক দেওয়া হয় । আজ সকালে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে ইস্পাত শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন । সাথে যোগ দেন দুর্গাপুর  ইস্পাতে শ্রমিকরা । এর ফলে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের প্রবেশের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায় । অবরুদ্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ন শহীদ সূর্য সেন সরনী । আটকে পড়েন ইস্পাত আধিকারিকরা । যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষ হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় । বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সি.ই.টি.ইউ – আই.এন.টি.ইউ.সি – এ.আই.টি.ইউ.সি - আই.এন.টি.টি.ইউ.সি –টি.ইউ.সি.সি. ও এ.আই. টি.ইউ.সি.সি এর নেতৃবৃন্দ , যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ও বিকাশ ঘটক এবং দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । বক্তারা অবিলম্বে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) প্রত্যাহার , বিক্রি রুখতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ এবং অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর  ইস্পাত কারখানার আধুনিকিরন-সম্প্রসারনের জন্য সেইল কে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান । পরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি রুখতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবী জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয় । অবিলম্বে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী ও ইস্পাত সচিব এবং সেইল এর চেয়ারম্যানের কাছেও যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয় । একই দাবীতে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে আগামী কাল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে মিছিল ও  বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে ও দুর্গাপুর  ইস্পাত কারখানার ইডি ( ওয়ার্কর্স ) এ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে ।