Thursday, 7 June 2018

প্রয়াত পার্টি সদস্য কালিপদ ব্যানার্জী।




দুর্গাপুর , ৭ই জুন : আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন পার্টি সদস্য কালিপদ ব্যানার্জী। মৃত্যুর সময় তার বয়েস হয়েছিল ৭৯। তিনি পার্টির দুর্গাপুর ইস্পাত ২ এরিয়া কমিটির অন্তর্গত ডেভিড-মার্কনী শাখার পার্টি সভ্য ছিলেন ।
প্রয়াত পার্টি সদস্য কালিপদ ব্যানার্জী-র মরদেহ ৫/৫ কৃত্তিবাস রোডে পার্টির দুর্গাপুর ইস্পাত ২ এরিয়া কমিটির দফ্তরে  নিয়ে আসা হলে ,রক্তপতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করেন সুবীর সেনগুপ্ত ও স্বপন ব্যানার্জী । মরদেহ মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান সুবীর সেনগুপ্ত , স্বপন ব্যানার্জী  সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । এর পরে মরদেহ নিয়ে আসা হয় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার তিলক রোডের দফ্তরে । সেখানে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ  মরদেহ মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান । এরপরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ফরিদপুরের মনু পাল ভবনে । সেখানে রক্তপতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করেন বিপ্রেন্দু  চক্রবর্তি । মরদেহ মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান বিপ্রেন্দু  চক্রবর্তি ,শ্যামা ঘোষ,প্রভাস সাঁই এবং তাঁর ছেলে ও এরিয়া কমিটির সদস্য মিলন ব্যানার্জী সহ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারন মানুষ । এরপরে ফরিদপুরের বিবেকানন্দ সংঘ হয়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিরভানপুর শ্মশানে । সেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ।
   প্রয়াত পার্টি সদস্য কালিপদ ব্যানার্জী ১৯৭২ সালে দুর্গাপুর মিশ্র ইস্পাত কারখানার ট্র্যাফিক বিভাগে স্হায়ি শ্রমিক হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহন করেন । কর্মরত অবস্হায় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভ্যপদ গ্রহন করেন । অন্যদিকে তিনি ফরিদপুরে তাঁর বাসস্হান অঞ্চলে কৃষকসভা ও যুব সংগঠনের সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । ১৯৮২ সালে পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন ।পরবর্তিকালে তিনি ইস্পাতনগরীতে বসবাস করার সময়ে ডেভিড হেয়ার অঞ্চলেও সক্রিয় ভাবে পার্টি ও গনসংগঠনের কাজকর্মের সাথে যুক্ত ছিলেন ।

Wednesday, 6 June 2018

অ্যালয় স্টিল ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের দাবিতে যৌথ মঞ্চের সাথে কেন্দ্রিয় ইস্পাত মন্ত্রির সদর্থক আলোচনা ।





দুর্গাপুর , ৬ই জুন : আজ নয়াদিল্লির উদ্যোগ ভবনে কেন্দ্রিয় ইস্পাতমন্ত্রি চৌধুরী বিরেন্দ্র সিং এর সাথে আলোচনায় বসে কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির ( সি.আই.টি.ইউ-আই.এন.টি.ইউ.সি-এ.আই.টি.ইউ.সি-বি.এম.এস-এ.আই.ইউ.টি.ইউ.সি-টি.ইউ.সি.সি ) যৌথ মঞ্চ – “ অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বাঁচাও , দুর্গাপুর বাঁচাও “ কমিটির এক প্রতিনিধি দল । প্রতিনিধি দলে ছিলেন যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তি ও বিকাশ ঘটক , দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় সহ অ্যালয় স্টিল ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ । এছাড়াও উপস্হিত ছিলেন কেন্দ্রিয় ভারি শিল্প দফ্তরের প্রতিমন্ত্রি বাবুল সুপ্রিয় ও ইস্পাত সচিব অরুনা শর্মা । প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে  অ্যালয় স্টিল কারখানার বিলগ্নিকরনের জন্য কেন্দ্রিয় সরকারের উদ্যোগ বাতিল ও ভবিষ্যৎে এই উদ্দ্যেশ্যে কোন ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ‘ আহ্বান করার থেকে কেন্দ্রিয় সরকার কে বিরত থাকার জন্য আবেদন জানানো হয় ।
প্রসংগত , গত ১৪ই ফেব্রুঃ কেন্দ্রিয় সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করার জন্য ক্রেতার খোঁজে ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ‘( ই.ও.আই ) এর পোষাকি নামের আড়ালে দরপত্র ( টেন্ডার ) আহ্বান করলে উত্তেজনা চরমে ওঠে । যৌথ মঞ্চের আহ্বানে ইস্পাত শ্রমিকরা জানিয়ে দেন – প্রান দেব তবু অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি হতে দেব না । কোন বেসরকারি সংস্হার প্রতিনিধি  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ঢুকতে না পারে তার জন্য শ্রমিকরা লাগাতার নজরদারি শুরু করেন । যৌথ মঞ্চের আহ্বানে প্রায় প্রতি দিন শ্রমিকরা অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের অভ্যন্তরে মিছিল করেন । এই অবস্হায় ১১ই এপ্রিল ই.ও.আই জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিক্রান্ত হলেও , প্রবল আন্দোলনের মুখে কোন বেসরকারি সংস্হা ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ দেখানোর সাহস করে নি । কিন্তু কেন্দ্রিয় সরকার তা সত্বেও ই .ও.আই জমা দেওয়ার মেয়াদ দু-দফায় বৃদ্ধি করে । কিন্তু ফলাফল একই থাকে । গত ১১ই মে ই.ও.আই জমা দেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । এর পরে কেন্দ্রিয় সরকার আর নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি করে নি ।
একই সাথে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মুলধনের জোগান অব্যাহত রাখার জন্য দাবি জাননো হয়েছে । এই মূহুর্তে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের হাতে প্রচুর অর্ডার আছে । এই বিষয়ে প্রতিনিধি দল দেশের প্রতিরক্ষা-আনবিক-পরিবহন শিল্পের জন্য বিশেষ ধরনের ইস্পাত উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রিয় সরকারের ঘোষিত নীতির সাথে সাযূজ্য রেখে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের দাবি জানান । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের উৎপাদিত সামগ্রি বিক্রির জন্য বিশেষ মার্কেটিং ব্যবস্হা গড়ে তোলার আবেদন জানায়  প্রতিনিধি দল ।
পাশাপাশি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের দাবি জানিয়েছে প্রতিনিধি দল।
 দেশের ইস্পাত শিল্পে দুই কারখানার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা স্মরন করিয়ে দিয়ে প্রতিনিধি দল , আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের জন্য কেন্দ্রিয় ইস্পাতমন্ত্রি  ও ইস্পাত সচিব সহ একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম কে এই দুই কারখানা ঘুরে দেখার জন্য অনুরোধ জানায়। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্রিয় ইস্পাতমন্ত্রি  ও ইস্পাত সচিব এর পক্ষ থেকে দুই কারখানার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেওয়া হয়েছে এবং দাবি সম্বলিত স্মারক লিপি জমা দেওয়া হয়েছে ।

প্রয়াত পার্টি সদস্য শান্তিনাথ হাজরা।




দুর্গাপুর , ৬ই জুন : গত ৪ঠা জুন চিকিৎসাধীন অবস্হায় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন পার্টি সদস্য শান্তিনাথ হাজরা। মৃত্যুর সময় তার বয়েস হয়েছিল ৮০। তিনি পার্টির দুর্গাপুর ইস্পাত ৩ এরিয়া কমিটির অন্তর্গত রাণা প্রতাপ ( পশ্চিম ) শাখার পার্টি সভ্য ছিলেন ।
প্রয়াত পার্টি সদস্য শান্তিনাথ হাজরা-র মরদেহ আশিষ-জব্বার ভবনে নিয়ে আসা হলে , রক্তপতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করেন নির্মল ভট্টাচার্য । মাল্যদান করেন নির্মল ভট্টাচার্য , কাজল চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।
    দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্মরত স্হায়ি শ্রমিক হিসাবে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভ্যপদ গ্রহন করেন । পরবর্তি সময়ে ইউনিয়নের কাউন্সিল সদস্য হয়েছিলেন।১৯৭৮ সালে পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন । অবসরগ্রহনের পরে দীর্ঘদিন ধরে রাণা প্রতাপ ( পশ্চিম ) শাখার সম্পাদকের দায়িত্ব যোগ্যতার সাথে পালন করেছেন ।

Monday, 28 May 2018

তুতিকোরিন হত্যালীলার প্রতিবাদে ও পেট্রো-পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে ইস্পাতনগরীর বুকে বিশাল মিছিল ।




দুর্গাপুর,২৮শে মে : আজ বিকালে , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন( সি.আই.টি.ইউ ) ও ইউনাইটেড কন্ট্রাক্টার্স ওয়ার্কার্স ( সি.আই.টি.ইউ ) এর যৌথ  আহ্বানে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে বেদান্ত-স্টারলাইট গোষ্ঠির তামার কারখানার প্রাণঘাতী দূষনের বিরুদ্ধে পরিবেশ রক্ষার দাবীতে আন্দোলনরত মানুষের উপরে পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষন ও সংগঠিত হত্যালীলার বিচার এবং পেট্রো-পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে একটি বিশাল মিছিল ইস্পাতনগরীর নেতাজী ভবন  থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে বেনাচিতি সংলগ্ন পাঁচ মাথা  মোড় পর্যন্ত যায় ।মিছিলে নেতৃত্ব দেন  সন্তোষ দেবরায় , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,মলয় ভট্টাচার্য, নিমাই ঘোষ,কাজল চ্যাটার্জী,দীপক ঘোষ প্রমূখ । মিছিলের শেষে বক্তব্য রাখেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ।









Sunday, 27 May 2018

তুতিকোরিন হত্যালীলার বিচার চেয়ে পঃ বঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির ডাকে প্রতিবাদ মিছিল-সভা ।




দুর্গাপুর,২৭শে মে : আজ বিকালে , শিল্পনগরী দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে  পঃ বঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির আহ্বানে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে বেদান্ত-স্টারলাইট গোষ্ঠির তামার কারখানার প্রাণঘাতী দূষনের বিরুদ্ধে পরিবেশ রক্ষার দাবীতে আন্দোলনরত মানুষের উপরে পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষন ও সংগঠিত হত্যালীলার বিচার এবং সারা দেশে সরকারি মদতে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষনের প্রতিকার চেয়ে একটি মিছিল বিগ বাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে জাংসান মল পর্যন্ত যায় । সেখানে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় । মিছিলে নেতৃত্ব দেন শ্রীকান্ত চ্যাটার্জী,কল্লোল ঘোষ,অরুন কিরন চ্যাটার্জী , রামপ্রনয় গাঙ্গুলি  প্রমূখ ।
এ দিন সকালে ইস্পাতনগরীর আশিষ মার্কেটে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর ডাকে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় পেট্রো-পণ্যের লাগাম ছাড়া ও অযৌক্তিক দর বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রিয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন মলয় ভট্টাচার্য ও প্রকাশতরু চক্রবর্তি ।








Friday, 25 May 2018

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির চেষ্টা ব্যর্থ করে আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের এর দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে ইস্পাত শ্রমিকরা ।




দুর্গাপুর , ২৫শে মে : রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইল ( স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড ) অন্তর্গত অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির চেষ্টা রুখতে  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গ যৌথ ভাবে বিগত প্রায় ৩০ মাস ধরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই চালাচ্ছেন । তাদের লড়াই এর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দুর্গাপুরের সর্বস্তরের মানুষ।গড়ে উঠেছে কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির ( সি.আই.টি.ইউ-আই.এন.টি.ইউ.সি-এ.আই.টি.ইউ.সি-এ.আই.ইউ.টি.ইউ.সি-টি.ইউ.সি.সি ) যৌথ মঞ্চ – “ অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বাঁচাও , দুর্গাপুর বাঁচাও “ কমিটি । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট বাতিল , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন ও সম্প্রসারন – এই তিন দফা দাবিতে  প্রায় ২০০ টি ছোট-বড় কর্মসূচি নিয়েছে যৌথ মঞ্চ । হাজার হাজার ইস্পাত শ্রমিক ( স্হায়ী ও ঠিকা উভয়ে ),অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত শ্রমিক সহ দুর্গাপুরের সর্বস্তরের মানুষ এই সংগ্রামে সামিল হয়েছেন । এই দাবিতে যৌথ মঞ্চের ডাকে  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে এক দিনের ধর্মঘটে প্রায় ৯২% শ্রমিক অংশ নেন । অন্য দিকে যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি দল কেন্দ্রিয় ইস্পাত মন্ত্রির সাথে দেখা করে দাবি সমূহের যৌক্তিকতা বুঝিয়ে বলেন । সাথে ছিলেন রাজ্য থেকে নির্বাচিত বাম ও কং সাংসদারা । দুর্গাপুর ছাড়িয়ে কোলকাতা ও দিল্লির বুকে জমায়েত হয়েছে । লড়াই এর পাশে প্রত্যক্ষ ভাবে দাঁড়িয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রিয় সি.আই.টি.ইউ । সংসদে তপন সেন সহ অন্যান্য বিভিন্ন দলের সাংসদরা অ্যালয় স্টিলের বিক্রি বন্ধের বিরোধিতা করেছেন । কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে রাজ্য সরকার নিরবতা পালন করে ! মোদি সরকারের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্টের তালিকায় সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সালেম ও ভদ্রাবতী থাকলেও যথাক্রমে তমিলনাড়ু ও কর্নাটক সরকারের প্রকাশ্যে তীব্র আপত্তি থাকায় কোন সংস্হা ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেষ্ট ‘ দেখানোর সাহস পায় নি । কেন একই অবস্হান গ্রহন করে পঃ বঙ্গ সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে নি ? - এই প্রশ্ন এখন দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের মুখে মুখে ঘুরছে । দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও রাজ্যের বাম পরিষদীয় দলনেতা সূজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানালেও কোন ফল হয় নি ।
এই অবস্হায় গত ১৪ই ফেব্রুঃ কেন্দ্রিয় সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করার জন্য ক্রেতার খোঁজে ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ‘( ই.ও.আই ) এর পোষাকি নামের আড়ালে দরপত্র ( টেন্ডার ) আহ্বান করলে উত্তেজনা চরমে ওঠে । যৌথ মঞ্চের আহ্বানে ইস্পাত শ্রমিকরা জানিয়ে দেন – প্রান দেব তবু অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি হতে দেব না । কোন বেসরকারি সংস্হার প্রতিনিধি  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ঢুকতে না পারে তার জন্য শ্রমিকরা লাগাতার নজরদারি শুরু করেন । যৌথ মঞ্চের আহ্বানে প্রায় প্রতি দিন শ্রমিকরা অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের অভ্যন্তরে মিছিল করেন । এই অবস্হায় ১১ই এপ্রিল ই.ও.আই জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিক্রান্ত হলেও , প্রবল আন্দোলনের মুখে কোন বেসরকারি সংস্হা ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ দেখানোর সাহস করে নি । কিন্তু কেন্দ্রিয় সরকার তা সত্বেও ই .ও.আই জমা দেওয়ার মেয়াদ দু-দফায় বৃদ্ধি করে । কিন্তু ফলাফল একই থাকে । গত ১১ই মে ই.ও.আই জমা দেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । এর পরে কেন্দ্রিয় সরকার আর নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি করে নি ।
কিন্তু লড়াই এখানেই শেষ হয় নি । যতক্ষন না পর্যন্ত কেন্দ্রিয় সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন ও সম্প্রসারন এর দাবি মেনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করবে না , ততক্ষন পর্যন্ত বেসরকারিকরন অথবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খাঁড়া ঝুলবে । আজ বিকালে,যৌথ মঞ্চের পক্ষে আয়োজিত অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের মেন গেটে ইস্পাত শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই বিষয়ে সতর্ক করে দাবি আদায়ের জন্য আরও বৃহত্তর , প্রসারিত আন্দোলনের আহ্বান জানালেন । তারা জানিয়েছেন যে আগামি ৬ই জুন কেন্দ্রিয় ইস্পাত মন্ত্রির সাথে নির্ধারিত সভায় অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন ও সম্প্রসারনের বিষয়ে আবারও সবিস্তারে জানিয়ে যৌথ মঞ্চের পক্ষে অবলম্বে কেন্দ্রিয় বিনিয়োগ এর দাবি পুনরায় করা হবে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকরা একটি বিশাল মিছিল করে কারখানার থেকে সমাবেশে এসে যোগ দেন । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিকরাও সমাবেশে যোগ দেন । সমাবেশের শুরুতে পুলিশের গুলিতে নিহত তুতিকোরিনের শহিদদের স্মরনে নিরবতা পালন করা হয় । বক্তব্য রেখেছেন যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তি ও বিকাশ ঘটক , দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় , বিশ্বরূপ ব্যানার্জি ,অনিত মল্লিক,বিজয় সাহা,রানা সরকার ,শত্রুঘ্ন দেওঘরিয়া ও চন্দন ঘোষ ।









Monday, 21 May 2018

পেট্রো-পণ্যের লাগামছাড়া অযৌক্তিক দর-বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ইস্পাত শ্রমিকদের প্রতিবাদ ।




দুর্গাপুর,২১শে মে : মোদি সরকারে ভ্রান্ত ও অনায্য কর নীতির মাসুল গুনছে সাধারন মানুষ । পেট্রোল-ডিজেলের ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধির ফলে জিনিষ-পত্রের দাম অগ্নিমূল্য । আজ সকালে , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর আহ্বানে , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন গেট অভিমূখি ফ্লাই ওভারে , কারখানার শ্রমিকরা  পেট্রো-পণ্যের লাগামছাড়া অযৌক্তিক দর-বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র  প্রতিবাদ জানালেন। উপস্হিত ছিলেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ।