Sunday, 8 July 2018

জ্যোতি বসুর ১০৫-তম দিবসে সি.আই.টি.ইউ-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির বিশেষ তহবিলে অর্থ সংগ্রহে হাত বাড়ালো ইস্পাতনগরী ।




দুর্গাপুর , ৮ই জুলাই – আজ জ্যোতি বসুর ১০৫-তম দিবস উপলক্ষ্যে ইস্পাতনগরীরতে সি.আই.টি.ইউ-র পক্ষ থেকে সি.আই.টি.ইউ-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির বিশেষ তহবিলের জন্য  অর্থ সংগ্রহ করা হল ব্যস্ততম আশিষ মার্কেট । দলমত-নির্বিশেষ সাধারন মানুষ সহ দোকানদার-ব্যবসায়ীরা  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন । নেতৃত্ব সহ এক বিশাল কর্মিবাহিনী অর্থসংগ্রহের  কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেন । উপস্হিত ছিলেন সন্তোষ দেবরায় , নির্মল ভট্টাচার্য , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।








Saturday, 7 July 2018

পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের উদ্যোগে আলোচনা সভা ।




দুর্গাপুর,৭ই জুলাই : আজ সন্ধ্যায় সেইল আবাসন অঞ্চলে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের দুর্গাপুর ইস্পাত ১ ও ২ আঞ্চলিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে – রবীন্দ্রনাথের ‘সভ্যতার সংকট’ এবং বর্তমান সময় শীর্ষক আলোচনা সভায় একমাত্র আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট কবি জিয়াদ আলি । তিনি , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে মানসলোকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাহ্ন থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের যে বিভীষিকাময় চিত্র ধরা পড়েছিল , তা কিভাবে তাঁর লেখনি কে প্রভাবিত করেছে , তা বর্ণনা করেন । কিন্তু  জিঘাংসা – সমর হুংকার – উৎকট জাতিবাদের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ খুঁজে পেয়েছিলেন আশার আলো । রাশিয়ার ‘ তীর্থদর্শন’ রবীন্দ্রনাথ কে সভ্যতার পীলসুজ জ্বালিয়ে রাখে যারা সেই জনতার অমর সংগ্রাম নতুন আশার পথ দেখিয়েছিল । আজ যখন সভ্যতা আবারও গভীর সংকটে , তখন রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি  নতুন সূর্যের মত দেদ্দিপ্যমান হয়ে বিশ্ব কে পথ দেখিয়ে চলছে ।
আলোচনা সভার শুরুতে কবি জিয়াদ আলি কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে  সম্বর্ধনা জানান মৃণাল বন্দোপাধ্যায় । সংগীত পরিবেশন করেন সোমনাথ বন্দোপাধ্যায় । উপস্হিত ছিলেন অনুপ মিত্র , কার্তিক দাস , দীপক দেব সহ দুর্গাপুরের বিশিষ্ট শিল্পী-সাহিত্যিক-গুনীজন ।







Friday, 6 July 2018

দেশ ও রাজ্য জুড়ে মহিলাদের উপরে ক্রমবর্ধমান আক্রমনের প্রতিবাদে আন্দোলনরত মহিলারা আক্রান্ত হল কেন ? – ইস্পাতনগরী জবাব চাইলো




দুর্গাপুর,৭ই জুলাই : দেশ ও  রাজ্য জুড়ে মহিলাদের উপরে আক্রমন ক্রমবর্ধমান । সাম্প্রতিককালে পঞ্চায়েত নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বিশেষ করে মহিলারা শাসক তৃণমূলের কুৎসিত,হাড় হিম করা আক্রমনের শিকার হয়েছেন । এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সারা ভারত মহিলা সমিতির শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ সমাবেশে ( ৪ঠা জুলাই কোলকাতায় ) মমতা ব্যানর্জীর পুলিশ পরিকল্পিত হামলা চালালে বহু মহিলা আহত হন । এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি )-র দুর্গাপুর  ইস্পাত ১,২ ও ৩ এরিয়া কমিটির ডাকে আজ বিকালে ইস্পাতনগরীর এ-জোন ও বি-জোনে দুটি পৃথক মিছিলে বহু মানুষ হাঁটলেন । এ-জোনের মিছিল আকবর রোড সেক্টর অফিস থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে আবার আকবর রোড সেক্টর অফিসে শেষ হয়। বি-জোনের মিছিল বি.টি.রণদিভে ভবন থেকে শুরু হয়ে চন্ডিদাস বাজারে শেষ হয়।
এ-জোনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন কাজল চ্যাটার্জী,দিপক ঘোষ,রাজলক্ষী দে প্রমূখ।বি-জোনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন সুবীর সেনগুপ্ত ,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ,স্বপন ব্যানার্জী প্রমূখ।



Thursday, 5 July 2018

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার হাল ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভ ।



দুর্গাপুর,৫ই জুলাই : হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ )-র ডাকে আজ বিকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতালের সামনে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার হাল ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয় । অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারিরাও এই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন । মেইন হাসপাতাল – হেলথ সেন্টার – প্ল্যান্ট মেডিক্যাল – পাবলিক হেলথ নিয়ে সুগঠিত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার স্বাস্হ্য পরিষেবা ৯০’ দশকে দেশে নয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্হা চালু হওয়ার সাথে ক্রমান্বয়ে অবনতি হয়েছে । অথচ আদর্শ চিকিৎসা পরিষেবার মডেল হিসাবে এক সময়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার স্বাস্হ্য পরিষেবা পরিচিতি লাভ করেছিল । কিন্তু ক্রমান্বয়ে ব্যয়-বরাদ্দ কমানো  এবং ডাক্তার-নার্স-স্বাস্হ্য কর্মিদের নিয়োগ অস্বাভবিক কমানোর ফলে স্বাস্হ্য পরিষেবা অবনতি হয়েছে ।কিছু হেলথ সেন্টার বন্ধ হয়েছে । বাকি গুলি আগের মতো পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে । ফলে মেইন হাসপাতালের উপর চাপ বাড়ছে । ৬০০ বেডের মেইন হাসপাতালে মোট ২২টি ওয়ার্ড আছে  । বছরে প্রায় ১০ লক্ষ রোগীর চিকিৎসা ( ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে ) হয় মেইন হাসপাতালে ।মাত্র ৭০ জন ডাক্তার , ১০০ জন নার্স ও অপর্যাপ্ত স্বাস্হ কর্মি - ড্রেসার – ফার্মাসিস্ট – টেকনিশিয়ান নিয়ে অপ্রতুল স্বাস্হ্য পরিষেবায় বিপাকে পড়ছেন শুধু দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক-অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গ তাই নয় , বিপাকে পড়ছেন অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ দুর্গাপুরের অন্যান্য কারখানার সাথে যুক্ত মানুষজন সহ দুর্গাপুরের সাধারন মানুষ । হাসপাতালের শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত  মর্গ ও ভেন্টিলেশন  বিকল হচ্ছে হামেশাই । বিকল্প জল ও বিদ্যুৎ এর ব্যবস্হা না থাকায় সমস্যা বাড়ছে । বেসরকারি হাতে যাওয়ার রোগীর খাবারের মান তলানিতে ঠেকেছে । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার হাল ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দাবি-সমূহ  বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন । বক্তব্য রাখেন অশোক চক্রবর্তী , প্রদ্যুৎ মুখার্জি , প্রকাশতরু চক্রবর্তী , নন্দদুলাল দাস    ও বিশ্বরূপ ব্যানার্জী । সমাবেশ চলাকালীন ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেডিক্যাল ও হেলথ সার্ভিস এর ডাইরেক্টর ডঃ সমীর পালের কাছে সি.ই.ও-র উদ্দেশ্যে দাবি-সম্বলিত স্মারক লিপি জমা দেওয়া হয় । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার চিকিৎসা পরিষেবার হাল ফেরানোর দাবিতে ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে লাগাতার আন্দোলন চালানোর সাথে সেইলের কর্পোরেট অফিসে সমস্যার আশু সমাধানে এস.ডব্লু.এফ.আই ( সি.আই.টি.ইউ ) ও সি.আই.টি.ইউ এর পক্ষে কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব লাগাতার ভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন ।

কোলকাতায় মহিলাদের শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ সমাবেশের উপরে বর্বোরোচিত আক্রমনের প্রতিবাদে সেইল আবাসন অঞ্চলে বিশাল মিছিল ।




দুর্গাপুর,৫ই জুলাই :ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র দুর্গাপুর ইস্পাত ২ এরিয়া কমিটির আহ্বানে আজ বিকালে সেইল আবাসন অঞ্চলে গতকাল কোলকাতায় মহিলাদের শান্তিপূর্ন বিক্ষোভ সমাবেশের উপরে বর্বোরোচিত পুলিশি আক্রমনের প্রতিবাদে একটি বিশাল মিছিল বেরোয় । মিছিলের নেতৃত্ব ছিলেন সুবীর সেনগুপ্ত , স্বপন ব্যানার্জি, আল্পনা চৌধুরী প্রমূখ ।



Wednesday, 4 July 2018

৭-দফা দাবিতে ডিএসপি ও এএসপি কারখানার ঠিকা শ্রমিকদের বিক্ষোভ ।



দুর্গাপুর,৪ঠা জুলাই : আজ বিকালে সি.আই.টি.ইউ ভূক্ত ইউনাইটেড কনট্রাক্টর ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন , এ.এস.পি কনট্রাক্টর্স এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও টাউনশিপ  কনট্রাক্টর্স এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর যৌথ আহ্বানে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সি.ই.ও দফ্তরের সামনে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের ঠিকা শ্রমিকরা ৭-দফা দাবিতে বিক্ষোভ দেখান । কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইল ও আর.আই.এন.এল এর শ্রমশক্তির ৫০% এখন ঠিকা শ্রমিক এবং উৎপাদনে সর্বক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করলেও চরম বঞ্চনা-শোষনের শিকার হচ্ছেন ।  স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ( সি.আই.টি.ইউ ) নেতৃত্বে সেইল ও আর.আই.এন.এল এর সি.আই.টি.ইউ -ভূক্ত ইউনিয়ন গুলির  লাগাতার লড়াই এর ফলশ্রুতিতে সেইল ও আর.আই.এন.এল এর  শ্রমিক-কর্মচারিদের গত বেতন-চুক্তির আলোচনায় ( এন.জে.সি.এস) ঠিকা শ্রমিকদের বেতনের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত হয় । চুক্তি মোতাবেক সেইল ও আর.আই.এন.এল এর ঠিকা শ্রমিকদের বেতন  ৭৫০ থেকে ১৫০০ টাকা বৃদ্ধির  কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের বদান্যতায় ঠিকাদার সংস্হা গুলি সেই চুক্তি ভঙ্গ করছে । এর ফলে কোথাও কোথাও ঠিকা শ্রমিকরা বেতন বাবদ মাত্র  দৈনিক ১৫০-২০০ টাকা পাচ্ছেন ।এমনকি পিএফ – ইএসআই-ইডিএল-আই এর মতো আইনগত অধিকার থেকেও সব ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছেন না । খনি ও কারখানার নূন্যতম সুরক্ষা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইস্পাত ঠিকা শ্রমিকরা । ফলে ঠিকা শ্রমিকদের মৃত্যু বেড়েই চলেছে । গত মে মাসের ৮,৯ ও ১০ তারিখে ভিলাই কারখানায় পর পর তিন দিন পৃথক দুর্ঘটনায় তিন জন ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয় । একই অবস্হা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের । গত ১ বছরে এই দুই কারখানায় বেশ কয়েক জন ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ।
ইতিমধ্যে সারা দেশের মানুষ জেনেছেন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও ইস্পাতনগরীর ঠিকা শ্রমিকদের ভয়াবহ অবস্হার কথা । ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার গঠিত হওয়ার পরে ইস্পাত ঠিকা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার উপর ভয়াবহ আক্রমন নেমে আসে । সি.আই.টি.ইউ করার অপরাধে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও ইস্পাতনগরীর চার হাজার ইস্পাত ঠিকা শ্রমিক কে কাজের জায়গা থেকে উৎখাত করা হয় । নৃশংস দৈহিক আক্রমনের শিকার হন অনেকে । প্রশাসনের মদতে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় ইউনিয়ন নেতৃত্ব কে । শ্রমিক আন্দোলনের পীঠস্হান দুর্গাপুরে এই আক্রমনের আসল উদ্দেশ্য ছিল ঠিকা শ্রমিকদের চরম বঞ্চনা-শোষনের দিকে ঠেলে দেওয়া । তৃণমূল-ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের একাংশের গড়ে ওঠা অশুভ আঁতাত ঠিকা শ্রমিকদের এক দমবন্ধ করা পরিবেশের দিকে ঠেলে দিয়েছে । এই অবস্হায় ঠিকা শ্রমিকরা লড়াই এর 
রাস্তা বেছে নিয়েছেন । ২০১৭ এর ১লা জানুঃ থেকে নূ্ন্যতম বেতন ২১,০০০ টাকা ,নতুন করে শ্রমিক উচ্ছেদ না করে উচ্ছেদ শ্রমিকদের কাজে বহাল , যথাযথ সুরক্ষা,জীবন বীমার মাধ্যমে গ্র্যাচুইটি ,সর্ব ভারতীয় ক্রেতা সূচক বৃদ্ধির জন্য সূচক পিছু ২টাকা হারে বৃ্দ্ধি প্রভৃতি ৭ দফা দাবিতে আজকের বিক্ষোভ জমায়েতে ঠিকা শ্রমিকরা  যোগ দেন । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিমাই ঘোষ , শত্রুঘ্ন দেওঘরিয়া , আশিষতরু চক্রবর্তি , ললিত মিশ্র , সুমনব্রত দাস , বিভূতি দাস মন্ডল ও  স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ( সি.আই.টি.ইউ )-র সম্পাদক পি.কে.দাস । উপস্হিত ছিলেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী প্রমূখ ।  সমাবেশ চলাকালিন সুবীর সেনগুপ্তর নেতৃত্বে দশ-সদস্যের এক প্রতিনিধি দল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি-সম্বলিত স্মারক লিপি জমা দিয়ে অবিলম্বে ফয়সালার দাবি জানিয়েছেন ।




Tuesday, 3 July 2018

প্রয়াত পার্টি সদস্যা বীরাঙ্গনা মুন্দ্রা পাত্রর স্মরন সভা ।


C:\Users\Dipanjana\Downloads\IMG_20180628_192234.jpg

দুর্গাপুর , ৩রা জুলাই : গত ১৩ই এপ্রিল ওড়িষ্যার ময়ুরভঞ্জ জেলায় নিজ গ্রামে দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হয়েছেন ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদি )-র দুর্গাপুর ইস্পাত ১ এরিয়া কমিটির শ্রমজীবি মহিলা শাখার সদস্য মুন্দ্রা পাত্র । মৃত্যুকালে তাঁর বয়েস হয়েছিল ৫৭ । নিঃসন্তান মুন্দ্রা পাত্রর  স্বামী আগেই প্রয়াত হয়েছেন । সত্তরের দশকের শেষ ভাগে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় যোগ দেন ও ঠিকা শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটেড কন্ট্রাক্টার ওয়ার্কার্স  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) সংশ্পর্ষে আসেন । মহিলা ঠিকা শ্রমিকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অসাধারন দক্ষতা দেখানোর সাথে অন্যান্য গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন । সাক্ষরতা আন্দোলন সংগঠিত করার সাথে সাথে নিরক্ষর মুন্দ্রা পাত্র নিজেকে নব সাক্ষরে পরিনত করেন । ১৯৮৫ সালে পার্টি সদস্যপদ অর্জন করেন এবং পরবর্তি সময়ে দুর্গাপুর ইস্পাত ৩ আঞ্চলিক কমিটির সদস্য হন । এছাড়াও ইউনাইটেড কন্ট্রাক্টার ওয়ার্কার্স  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর কার্যকরী সমিতির সদস্যে উন্নীত হয়েছিলেন ।
২০১১ সালে তৃণমূল সরকার আসার পর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় ইউনাইটেড কন্ট্রাক্টার ওয়ার্কার্স  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর সদস্য হওয়ার কারনে রাজনৈতিক ‘বদলা ‘ নেওয়ার জন্য মুন্দ্রা পাত্র সহ ৩৫০০ ঠিকা শ্রমিক কে কাজের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হয় । মুন্দ্রা পাত্র জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটিয়েছেন । কিন্তু বীরাঙ্গনা মুন্দ্রা পাত্র সহ আরও অনেক উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিক আত্মসমর্পন করেন নি ।
গতকাল ইস্পাতনগরীর আনন্দম সভা গৃহে দুর্গাপুর ইস্পাত ১ এরিয়া কমিটির পক্ষে আয়োজিত বীরাঙ্গনা মুন্দ্রা পাত্রের স্মরন সভায় তাঁর সংগ্রামি জীবনের স্মৃতিচারন করে বক্তব্য রাখেন সন্তোষ দেবরায় , নির্মল ভট্টাচার্য , সুবীর সেনগুপ্ত ,দিপক ঘোষ , নিমাই ঘোষ , আশিষ মিশ্র , বিভূতি দাস মন্ডল প্রমূখ । অন্যান্যদের সাথে উপস্হিত ছিলেন মুন্দ্রা পাত্রের আত্মীয়-পরিজনেরা ।