Monday, 6 August 2018

আবার এলো রে ফিরে রক্তস্নাত ৬ই আগস্ট ।




দুর্গাপুর , ৬ই আগস্ট : ৬ই আগষ্ঠ - দুর্গাপুরের প্রথম শহীদ যুগল - আব্দুল জব্বার ও  আশীষ দাসগুপ্ত এর শহীদ দিবস । ১৯৬৬ - গনআন্দোলনে উত্তাল বাংলা উত্তাল দুর্গাপুর । ৫ই আগষ্ট , ১৯৬৬ - পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে  কাপুরুষের  মতো আক্রমন চালানো হয়েছিল  শান্তিপূর্ন  ভাবে আন্দোলনরত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদের উপরে । পুলিশের লাঠির ঘায়ে মাথা চৌঁচির হয়ে যায় তরুন কমরেড আব্দুল জব্বারের । পরের দিন ,৬ই আগষ্ট । ধর্মঘট আর মিছিলের মধ্য দিয়ে ,শাসকশ্রেনীর বর্বরতার জবাব দিয়েছিল দুর্গাপুরের ইস্পাত শ্রমিক,মেহেনতী জনগন, গনতন্ত্রপ্রিয় মানুষ । ক্ষিপ্ত শাসকশ্রেনীর পুলিশ, সে দিন  ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল  আশিস দাসগুপ্তকে । তিনি ছিলেন দুর্গাপুরের ইস্পাত শ্রমিকদের আপন সংগঠন ,হিন্দুস্হান স্টিল  এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের  সহ-সম্পাদক ও দুর্গাপুরের ইস্পাত কারখানার ওয়ার্কস কমিটিতে নির্বাচিত  অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্বাচিত শ্রমিক  প্রতিনিধি । সারা বাংলা গর্জে উঠেছিল এই বর্বরোচিত হত্যালীলার বিরুদ্ধে । দুর্গাপুর নেমে এসেছিল রাস্তায় । স্বাধীন  ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের নয়া রাস্তার নাম হোল, আশিস -জব্বারের রক্তে ভেজা দুর্গাপুর। না । এই আত্মবলিদানের শেষ এখানেই শেষ নয় । ভারতের শাসকশ্রেনীর হিংস্র আক্রমনের মুখোমুখি ব্যারিকেডের লড়াই এ    দুর্গাপুরের রক্তস্নাত ট্রেঞ্চে প্রান দিয়েছেন ৩৬ জন কমিউনিষ্ট ও বামপন্হী । আজ আবার আক্রান্ত পঃ বঙ্গের গনতন্ত্র , মেহেনতি মানুষের অধিকার,ধর্মনিরপেক্ষতা । আক্রান্ত  দুর্গাপুর। আজ আবার ৬ই আগষ্ট । ডাক দিচ্ছে উত্তরাধিকারীদের দুর্গাপুরের ব্যারিকেড অক্ষুন্ন রাখার ।
আজ সকালে প্রথম অনুষ্ঠানটি হয় ইস্পাতনগরীর বিজোনে ১নং বিদ্যাগর এভিন্যুর বি টি রণদিভে ভবনে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি রথিন রায় স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ্ ইন্ডিয়ার পক্ষে অরুণ চৌধুরী । এরপরে ইস্পাত শ্রমিকরা বাইক মিছিল করে   মূল অনুষ্ঠানস্হল   ইস্পাতনগরীর  আশিস মার্কেট পৌঁছান রক্তপতাকা উত্তোলন করেন রথিন রায় শহিদবেদিতে মাল্যদান করেন রথিন রায়,সন্তোষ দেবরায় ,সুবীর সেনগুপ্ত,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,অর্ধেন্দু দাক্ষি,রাম পঙ্কজ গাঙ্গুলী, মলয় ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য পার্টি-নেতৃবৃন্দ ,বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন গণ-আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ । জব্বারবাগেও শহীদবেদীতে মাল্যদান করেন নেতৃবৃন্দ ।
সকালে আরেকটি  অনুষ্ঠানের হয়  আশিস-জব্বার ভবনে এখানে  রক্তপতাকা উত্তোলন করেন সন্তোষ দেবরায় শহীদবেদীতে মাল্যদান করেন নেতৃবৃন্দ
বিকালে ইউনাইটেড কন্ট্রাকটার্স ওয়ার্কাস ইউনিয়নের ( UCWU) আয়োজিত শহীদ নিমাই অধিকারী  ও পরিতোষ ভট্টাচার্য  স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের  ফাইন্যাল খেলায় ট্রাইব্রেকারে  ৫-৩ গোলে তানসেন অ্যাথালেটিক ক্লাব কে হারিয়ে জয়ী হয় ভারতী ভলিবল ক্লাব।নির্ধারিত সময়ে খেলার ফলাফল ছিল ১-১ । বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন যথাক্রমে বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত সিনহা।  মহঃ রফি ফেয়ার প্লে ট্রফি জয়ী আই.এন দিশারীর হাতে ট্রফি তুলে দেন তাপস সরকার। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন ভারতী ভলিবল ক্লাবের সুনীল মূর্মূ । উপস্হিত ছিলেন বিনয়েন্দ্রকিশোর চক্রবর্তী, রথিন রায়,মহাব্রত কুন্ডু,পঙ্কজ রায় সরকার, নিমাই ঘোষ,আশিষ মিশ্র  প্রমূখ ।
সন্ধ্যাবেলায়  বি টি রণদিভে ভবনে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আয়োজিত কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন সন্তোষ দেবরায় ও অর্ধেন্দু দাক্ষি    সভাপতিত্ব করেন রথিন রায় । কনভেনশনের শুরুতে শিশু শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন এবং শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য আয়োজিত অংকন প্রতিযোগিতায় ও অভিভাবকদের জন্য আয়োজিত তাৎক্ষনিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ।





























Sunday, 5 August 2018

সারা জাগিয়ে শেষ হল শহিদ আশিষ-জব্বার স্মৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতা ।





দুর্গাপুর,৫ই আগস্ট : আশিষ-জব্বার সহ দুর্গাপুরের ৩৬ শহীদ কে স্মরন করে ৬ই আগষ্ট দুর্গাপুরের প্রথম শহীদদ্বয় আশিষ-জব্বারের শহীদ দিবস দুর্গাপুরে শহীদ দিবস রূপে পালিত হয় । শহীদ দিবসের প্রাক্কালে আজ ইস্পাতনগরীর ঐতিহ্যমন্ডিত লাল ময়দানে শেষ হল আশিষ-জব্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট। আজ ফাইন্যালে তানসেন অ্যাথালেটিক ক্লাব ৩-০ গোলে আমরা ক’জন বয়েজ ক্লাব কে পরাজিত করে । ম্যাচের ও টুর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে উদিত ছেত্রী ও মহঃ সালাউদ্দিন।দুজনেই তানসেন অ্যাথালেটিক ক্লাবের ফুটবলার। ১৯৭০ এর দশক থেকে এই টুর্ণামেন্ট শুরু হয় এবং বাংলার ফুটবল জগৎে বিশিষ্ট স্হান অধিকার করে । ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে নানা কারনে বন্ধ হয়ে যায় । ক্রীড়া সহ মুমুর্ষু শিল্প শহর দুর্গাপুরের পুনরুজ্জীবন এবং র্তমানের অশান্ত সময় ও সাম্প্রদায়িক শক্তির দাপাদাপি সমাজের মধ্যে যে অনৈক্য তৈরি করছে তা রুখে দিয়ে দুর্গাপুরে শান্তি-সৌহার্দ্য – সম্প্রীতির বাতাবরন ফিরিয়ে আনতে দুর্গাপুরের ক্রীড়ামোদি মহল পুনরায় শহিদ আশিষ-জব্বার স্মৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতা চালু করার সিদ্ধান্ত নিলে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন সহ দলমত নির্বিশেষে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ।গত ৮ই জুলাই জননায়ক জ্যোতি বসুর ১০৫ তম জন্মদিবসে প্রতিযোগিতা শুরু হয় । দুর্গাপুরের প্রথম সারির ৮ টি দল এই টুর্ণামেন্টে অংশ নিয়েছে । শুরুতেই এই প্রতিযোগিতা দুর্গাপুরের ক্রীড়ামোদি সহ ক্রীড়া জগৎ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে যথেষ্ঠ সারা ফেলেছে ।ইস্পাতনগরীর লাল ময়দানে এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি খেলায় সারা জাগানো দর্শক সমাগম ও প্রাক্তন খেলোয়ারদের নক্ষত্র সমাবেশ – দুর্গাপুরের অতীত দিনের খেলা ঘিরে উন্মাদনার দিন গুলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে । আজকের ফাইন্যাল খেলার আগে এক প্রদর্শনী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যালয় স্টিল কারখানার প্রাক্তন ফুটবলাররা । টুর্ণামেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সম্বর্ধিত করা হয় ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক  ভাস্কর গাঙ্গুলী ও জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন ফুটবলার সুবীর সরকার কে । এছাড়াও সম্বোর্ধিত হয়েছেন তিন জাতীয় স্তরের ফুটবলার বিশ্বজিত দাস , অমিতাভ ঘোষ ও গৌতম দে । উপস্হিত ছিলেন বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় , দুর্গাপুরের প্রাক্তন মেয়র রথিন রায় ,বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী,  প্রফুল্ল মন্ডল,অজয় ব্যানার্জী,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,পঙ্কজ রায় সরকার,সুবীর সেনগুপ্ত সহ  সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দুর্গাপুরের ক্রীড়া জগতের একাধিক আন্তর্জাতিক –জাতীয়-রাজ্য স্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রীড়াবিদ এবং অসংখ্য ক্রীড়ামোদী মানুষ ।
এর আগে দুর্গাপুর হাউসে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে ভাস্কর গাঙ্গুলী ও সুবীর সরকার কে সম্বোর্ধনা দেওয়া হয়।
এ দিকে আজ সকালে কিশোর বাহিনীর রাজ্য বার্ষিক প্রতিযোগিতার অঙ্গ হিসাবে দুর্গাপুর কিশোর বাহিনী ইস্পাত অঞ্চল সমিতি উদ্যোগে  ইস্পাতনগরীর সুরেনচন্দ্র মডার্ণ স্কুলে আয়োজিত মনোতোষ চন্দ্র দত্ত স্মৃতি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রায় পাঁচশতাধিক প্রতিযোগি অংশ নিয়েছেন । এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্হানাধিকারিরা আগামী ১৯শে আগষ্ট আসানসোলে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ।
সকালে অপর অনুষ্ঠানে শহিদ আশিষ-জব্বার ভবনে কাকাবাবুর ( মুজফ্ফ্র আহমেদ) ১৩০তম জন্মদিবসে ,তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যধান করে শ্রদ্ধা জানান সন্তোষ দেবরায় , সুবীর সেনগুপ্ত প্রমূখ । 

























Thursday, 2 August 2018

শহিদ আশিষ-জব্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট দুর্গাপুরের ক্রীড়া জগৎ কে অনুপ্রেরনা জোগাচ্ছে ।




দুর্গাপুর,২রা আগষ্ট : মাঝে বেশ কিছু বছর ধরে বন্ধ থাকার পরে গত ৮ই জুলাই পুনরায় শুরু হয়েছে দুর্গাপুরের ঐতিহ্যমন্ডিত শহিদ আশিষ-জব্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট । শুরুতেই এই প্রতিযোগিতা দুর্গাপুরের ক্রীড়ামোদি সহ ক্রীড়া জগৎ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে যথেষ্ঠ সারা ফেলেছে ।ইস্পাতনগরীর লাল ময়দানে এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি খেলায় সারা জাগানো দর্শক সমাগম ও প্রাক্তন খেলোয়ারদের নক্ষত্র সমাবেশ – দুর্গাপুরের অতীত দিনের খেলা ঘিরে উন্মাদনার দিন গুলির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে । দুর্গাপুরের প্রথম সারির ৮ টি দল এই টুর্ণামেন্টে অংশ নিয়েছে । আগামী ৫ই আগষ্ট ফাইন্যাল খেলা হবে তানসেন অ্যাথালেটিক ক্লাব বনাম আমরা ক’জন বয়েজ ক্লাব এর মধ্যে । আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে টুর্ণামেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ফাইন্যাল খেলার দিন সম্বর্ধিত করা হবে ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ‘ অর্জুন ’ ভাস্কর গাঙ্গুলী ও জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন ফুটবলার সুবীর সরকার কে । এছাড়াও সম্বোর্ধিত হবেন তিন জাতীয় স্তরের ফুটবলার বিশ্বজিত দাস , অমিতাভ ঘোষ ও গৌতম দে । ফাইন্যাল খেলার আগে এক প্রদর্শনী ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যালয় স্টিল কারখানার প্রাক্তন ফুটবলাররা । আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্হিত ছিলেন সুখময় বোস, সুব্রত সিনহা , অজয় ব্যানার্জী , প্রফুল্ল মন্ডল ,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ও সীমন্ত চ্যাটার্জী ।

৯-ই আগষ্টের আইন অমান্য ও জেল ভরো কর্মসূচি, -১৪ই আগষ্ট রাত জাগো- ৫ই সেপ্টেঃ দিল্লি চলো কর্মসূচি ঘিরে ইস্পাতনগরীতে প্রস্তুতি চূড়ান্ত : সমর্থনে আজ হল বিশাল বাইক মিছিলে ।




দুর্গাপুর,২রা আগষ্ট :  আগামী ৯-ই আগষ্ট দেশব্যাপী আইন-অমান্য কর্মসূচি ও জেল ভরো কর্মসূচি, ১৪ই আগষ্ট বি.টি.রণদিভে ভবনে রাত জাগো কর্মসূচি ও ৫ই সেপ্টেঃ দিল্লি চলো কর্মসূচি  ঘিরে ইস্পাতনগরীতে জোর প্রস্তুতি চলছে ।  গ্রুপ সভা-বৈঠকি সভার পাশাপাশি চলছে বাড়ী বাড়ী প্রচার । আজ বিকালে সি.আই.টি.ইউ এর ডাকে এই সব কর্মসূচির সমর্থনে আশিষ মার্কেট থেকে বিশাল বাইক মিছিল বেরিয়ে ইস্পাতনগরীর বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে বি.টি.রণদিভে ভবনে শেষ হয় । মিছিলের নেতৃত্ব দেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ,সুবীর সেনগুপ্ত ,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী প্রমূখ ।