Saturday, 17 November 2018

নভেম্বর বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদের বিপদ সম্পর্কে আলোচনা সভা ।




দুর্গাপুর,১৭ই নভেঃ : মহান নভেম্বর বিপ্লব বার্ষিকির শেষ দিনে আজ সন্ধ্যায় ইস্পাতনগরীর বি.টি.রণদিভে ভবনে অনুষ্ঠিত হল আলোচনা সভা । পশ্চিমবঙ্গ গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলার ১০-ম সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত “ নভেম্বর বিপ্লবের আলোকে ফ্যাসিবাদের বিপদ : অতীত ও বর্তমান “ – শীর্ষক আলোচনা সভায় একমাত্র আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সুস্নাত দাস । অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমের সহায়তায় আলোচনা সহজবোধ্য করে শ্রোতাদের কাছে  তুলে ধরেন শ্রী দাস । তিনি তুলে ধরনে শ্রমিক-কৃষক মৈত্রির ভিত্তিতে কি ভাবে কমরেড লেনিনের সুদক্ষ নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি  চরম প্রতিক্রিয়াশীল পুঁজিবাদি-সাম্রাজ্যবাদি শক্তি কে পরাভূত করে ,কঠোর হাতে গৃহযুদ্ধ কে দমন করে পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কে টিঁকিয়ে রাখতে পেরেছিল । প্যারি কমিউন যা সম্ভব করতে পারে নি,সোভিয়েত তা করে দেখিয়েছিল । পরবর্তীতে কমরেড স্তালিনের নেতৃত্বে সেই সমাজতন্ত্র-সোভিয়েত-কমিউনিস্ট পার্টি সারা বিশ্বে ফ্যাসি-বিরোধী মানুষের বৃহত্তম মঞ্চ গড়ে তুলে বিশ্ব কে হিটলার-মুসোলিনি-তোজোর নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদের চরম বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন ।
আজ সারা বিশ্ব জুড়ে আন্তর্জাতিক ফিনান্স পুঁজির চরমতম মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে জন্মলগ্ন থেকে ফ্যাসিবাদের ধারক-বাহক আর.এস.এস আজ মোদি সরকারের মাধ্যমে দেশে হিংস্রতম কর্পোরেট লুঠ সংগঠিত করা লক্ষ্যে ভারত কে যে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের রূপ দিতে চাইছে তা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র ফ্যাসিবাদ হল পুঁজিবাদের হিংস্রতম বহিঃপ্রকাশ যা শেষ পর্যন্ত বুর্জোয়া গনতন্ত্র কেও ধংস্ব করে জনগন কে সরাসরি গোলামে পরিনত করতে চায় এর বিরুদ্ধে জনগনের ব্যপক থেকে ব্যপকতম ঐক্য গড়ে তোলার সংগ্রামই আজ ভারতে এই ফ্যাসিস্ত-সুলভ শক্তির উথ্থান কে রুখতে পারে ; যার পথ নির্দেশ আজও করে যায় মহান নভেম্বর বিপ্লবের শিক্ষা
আলোচনা শুরু হওয়ার আগে সুস্নাত দাস কে সম্বর্ধনা জানান রথিন রায়,সন্তোষ দেবরায়,অনুপ মিত্র ও বিশ্বরূপ ব্যানার্জী । সঞ্চালনা করেন সৌরভ দত্ত ।







Friday, 16 November 2018

দুর্গাপুরে শিল্পের অমানিশা কাটাতে জোরদার লড়াই এর ডাক দিল ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ ।




দুর্গাপুর,১৬ই নভেঃ : উৎসবের দিন কাটতেই ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ “ সেভ এএসপি – সেভ ডিএসপি – সেভ দুর্গাপুর “ এর পক্ষ থেকে দুর্গাপুরে কল-কারখানার ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে জোরদার লড়াই এর ডাক দিল । বিগত ২ বছর ধরে যৌথ মঞ্চ কেন্দ্রিয় সরকারের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বিক্রি করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লড়াই গড়ে তুলেছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিলগ্নিকরন বাতিল, অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের দাবিতে এই লড়াই দুর্গাপুরের অন্যান্য কল-কারখানার শ্রমিকদের উজ্জ্বীবিত করেছে । এর ফলশ্রুতি তে সমগ্র দুর্গাপুরের শ্রমিক ও কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলি কনভেনশনের মধ্য দিয়ে  সমস্ত কল-কারখানার বাঁচানো লড়াই কে এক ছাতার তলায় এনে যৌথ মঞ্চের ঐক্যবদ্ধ লড়াই কে সারা দুর্গাপুরে ছড়িয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।
  কেন্দ্রিয় ও রাজ্য সরকারের নীতির ফলে গোটা দুর্গাপুর জুড়ে চলছে শিল্পের মড়ক চলছে । বর্তমানে নতুন কোন শিল্প আসে নি কর্মসংস্হানের কোন সুযোগ না থাকার ফলে শিল্পনগরীর ছেলে-মেয়েরা ভিন রাজ্যে বা বিদেশে কাজের আশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে
আজ দুর্গাপুর ‘দুর্দশাপুর’-এ পরিনত হতে চলেছে বিশ্বায়নের হাত ধরে কেন্দ্র রাজ্য সরকারের নীতিগত অবস্হানের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এম..এম.সি/এইচ.এফ.সি/ বি..জি.এল/রিফ্যাকট্রি সহ ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব এবং ২৪টি বেসরকারি কারখানা সেই সাথে বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন অনুসারী শিল্পের কারখানা ,পরিষেবা সংস্হা ও কয়লা খনি। ফলে কর্মচ্যূত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমিক এম..এম.সি কারখানার পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকায় একটি কনসোর্টিয়াম ( কোল ইন্ডিয়া,ডিভিসি,ভারত আর্থ মুভার্স কে নিয়ে তৈরি ) ক্রয় করা সত্বেও ,আজ পর্যন্ত সেই কারখানা খোলার কোন উদ্যোগ বর্তমান রাজ্য সরকার দেখায় নি ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে গেছে ভারত অপথ্যালমিক (বি..জি.এল ) এই কারখানার কর্মচ্যূত শ্রমিক-কর্মচারিরা আজও তাদের প্রাপ্য পি.এফ.-গ্র্যাচ্যুইটির টাকা পান নি রাজ্য সরকার নির্লিপ্ত কেন্দ্রিয় সরকার ৬টি বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ব সার কারখানার খোলার উদ্যোগ নিলেও সেই তালিকায় নেই দুর্গাপুরের ফার্টিলাইজার কারখানা (এইচ.এফ.সি ) খোলার দাবিতে রাজ্যের বাম পরিষদিয় দল নেতা, দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক  মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে এবং সি.আই.টি.ইউ এর সাধারন সম্পাদক  কেন্দ্রিয় সরকারের কাছে দাবি জানালেও,  উভয়  সরকারই নিশ্চুপ থাকে ! ভ্যালুয়েশন অনুসারে কারখানাটির মূল্য ২০১২ সালের  ছিল ৭০৬.২৭ কোটি টাকা অথচ বর্তমানে তা মাত্র ৭০ কোটি টাকায়  বিক্রি করে দেওয়া হল
দুর্গাপুর কেমিক্যালসের ১০০% বিলগ্নিকরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার । দুর্গাপুর প্রোজেক্টস লিমিটেড ( ডি.পি.এল ) এর কোক ওভেন প্ল্যান্টের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার । ।ডিটিপিএস এর নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি না হলে ডিটিপিএস এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেবে । দুর্গাপুর ব্যারেজ শিল্পনগরীর একমাত্র জলের উৎস । জন্মলগ্ন থেকে ব্যারেজের ড্রেজিং অবহেলিত । ফলে ব্যারেজের নাব্যতা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় শিল্প সহ পানীয় জলের সরবরাহের সংকটের আশংকা বাড়ছে ।
এই সব সমস্যার অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানিয়ে আজ যৌথ মঞ্চের ডাকে গান্ধী মোড় থেকে শ্রমিকদের এক বিশাল মিছিল সিটি সেন্টারে এসডিও দফ্তরে যায় ও যৌথ মঞ্চের এক প্রতিনিধিদল দশ-দফা দাবি সম্বলিত এক দাবি-পত্র পেশ করেন । সমাবেশ চলাকালিন বক্তব্য রাখেন যৌথ মঞ্চের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ও বিকাশ ঘটক সহ সি.আই.টি.ইউ-আই.এন.টি.ইউ.সি-এ.আই.টি.ইউ.সি-টি.ইউ.সি.সি- এ.আই.ইউ.টি.ইউ.সি এর নেতৃবৃন্দ ।













Thursday, 15 November 2018

কমরেড অর্চনা ভট্টাচার্যের জীবনাবসান ।




দুর্গাপুর,১৫ই নভেঃ : গতকাল রাত্রি ৯-৩০ মিঃ আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইস্পাতনগরীর রাণা প্রতাপ রোডে নিজের বাস ভবনেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র প্রাক্তন বিধায়িকা ( দুর্গাপুর ১ ) ও প্রাক্তন অঞ্চল সম্পাদিকা কমরেড অর্চনা ভট্টাচার্য ।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ । তাঁর তিন কন্যা,জামাতা,নাতি-নাতনি বর্তমান । তাঁর স্বামী পার্টি নেতা ফণী ভট্টাচার্য আগেই প্রয়াত হয়েছেন ।
আজ সকালে তাঁর মরদেহ বাড়ী থেকে রাণা প্রতাপ সেক্টর অফিস হয়ে নিয়ে আসা হয় আশিস-জব্বার ভবনে । সেখানে তাঁর মরদেহে রক্তপতাকায় আচ্ছাদিত করে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী, পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী,সন্তোষ দেবরায় ও বংশগোপাল চৌধুরী । এছাড়াও পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাহানারা খান,বিরেশ্বর মন্ডল,অলোক ভট্টাচার্য,পার্থ মুখার্জী সহ পার্টি ও বিভিন্ন গন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ  অসংখ্য সাধারন মানুষ । এরপরে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় যথাক্রমে ১নং বিদ্যাগর এভিন্যু-এ হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের অফিস ও সিটি সেন্টারে  শহীদ বিমল দাসগুপ্ত ভবনে । অঙ্গীকার অনুযায়ী তাঁর চক্ষুদান করা গেলেও স্হানীয় মেডিক্যাল কলেজ অক্ষমতা জানালে মরণত্তোর দেহদান করা যায় নি । তবে তাঁর দেহে প্রতিস্হাপিত পেস মেকার দান করা গেছে । পরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বীরভানপুর শ্মশানে । ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র পঃ বঙ্গ  রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এক ট্যুইট বার্তায় তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ।
১৯৪৫ সালে অধুনা বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে জন্ম হয় অর্চনা ভট্টাচার্যের । বাল্যকাল ও শৈশব কেটেছে বহরমপুর ও আরামবাগের ডিহি বাগনান গ্রামে । বিবাহসূত্রে ১৯৬০ সালে দাঁইহাটে এবং ১৯৬৩ সালে চাকুরীসূত্রে ইস্পাতনগরীর বিদ্যাপতি রোডে বসবাস শুরু করেন । ১৯৬০ এর দশকে দুর্গাপুরে উত্তাল শ্রমিক আন্দোলনের হাত ধরে পার্টির সংশ্পর্ষে আসেন ও মহিলা সমিতি গড়ে তোলার জন্য দুর্গাপুর সহ অবিভক্ত বর্ধমান জেলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সমবায় আন্দোলনের । ৭০-এর দশকে বার বার সন্ত্রাসের শিকার হয়েও তিনি ও তাঁর পরিবার অবিচল ছিলেন । ১৯৭১ সালে পার্টি সভ্যপদ পান । মতাদর্শের প্রতি অবিচল আস্হা রেখে পার্টি ও গন ফ্রন্টের পরিচালনা,অনারম্বর জীবন-যাপন,সাধারন মানুষ বিশেষ করে মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা শুনলে বিপদ-বাঁধা ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়া তাঁর স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল।সাধারন মানুষ তাকে আপনজন বলে ভাবতেন । তিনি বামফ্রন্টের পক্ষে পার্টির প্রার্থী হয় ২০১০ সালে দুর্গাপুর-১ বিধানসভা থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হন ।






Wednesday, 14 November 2018

৮-৯ই জানুয়ারি ধর্মঘটের প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানালেন নেতৃবৃন্দ ।




দুর্গাপুর,১৪ই নভেঃ : আজ সন্ধ্যায় ইস্পাতনগরীর দেশবন্ধু ভবনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি ) –র দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ ও ৩ এরিয়া কমিটির যৌথ সভায় আগামী ২০১৯ সালের  ৮-৯ই জানুয়ারি  ধর্মঘট সর্বাত্মক করে তোলার জন্য আহ্বান জানালেন নেতৃবৃন্দ । পার্টি কর্মি ও ঘনিষ্ঠ দরদিদের নিয়ে এই সভায় “ দেশব্যাপি ধর্মঘট : প্রেক্ষাপট ও আমাদের কর্তব্য “ – বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী পুঁজিবাদের অবসম্ভ্যাবী সংকটের পরিপ্রক্ষিতে ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের সমাপতনের কথা তুলে ধরেন । তিনি বলেন যে এই সংকট কাটবে এই রঙীন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৯৯১ সালে উদার অর্থনীতির নামে ফিনান্স পুঁজির বিশ্বায়নের চাকায় ভারত কে জুড়ে দেওয়া হয় । পরবর্তি সময়ে বাজপেয়ির নেতৃত্বে এন.ডি.এ সরকারের সময়ে এই অর্থনৈতিক নীতি কে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা গুলি কে বিক্রি ও বন্ধ করে দেওয়া শুরু হয় । এই বিষয়ে এক পৃথক দফ্তর চালু করা হয় । লোক মুখে সেই দফ্তরে নাম দাঁড়ায় ‘কেনারাম-বেচারামে’-র দফ্তর । অর্থনৈতিক প্রশ্নে কংগ্রেস ও বিজেপির প্রায় পার্থক্য নেই । কিন্তু জনবিরোধী  বিশ্বায়িত উদার অর্থনীতির বিরুদ্ধে আমাদের পার্টি সহ অন্যান্য বামপন্হি দল গুলি প্রথম থেকেই বিরোধিতা করছে । সি.আই.টি.ইউ-কৃষক-সভা-ক্ষেত মজদুর ইউনিয়ন সহ অন্যান্য বামপন্হি ট্রেড ইউনিয়ন ও গন সংগঠন গুলি এই নীতির বিরুদ্ধে ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় বছর ধর্মঘট পালন করেছে । বর্তমানে এই আন্দোলনের সালে অ-বাম সংগঠন গুলি যুক্ত হওয়া ফলে আন্দোলন-লড়াই-ধর্মঘটের পরিধি বৃহত্তর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে । ইতিমধ্যে মোদির নেতৃত্বে এন-ডি-এ সরকারে আমলে এই অর্থনৈতিক নীতি ধান্দার পুঁজিবাদের রূপ নিয়েছে । এর ফলে কর্পোরেট জগৎ সরাসরি সরকারি মদতে জনগনের সম্পদ লুঠ করছে । রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা জলের দরে কিনছে,ব্যাঙ্কের গচ্ছিত আমানত ফাঁকা করছে । ফলে ভয়াবহ বেকারিত্ব,পেট্রোল-ডিজেল সহ নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিষের প্রতি দিন চড়া হারে দাম বাড়ছে । এই কুশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের জ্বলন্ত ক্ষোভ চাপা দিতে বিজেপি সাম্প্রদায়িক-জাতপাত-ভাষার ভিত্তিতে বিভেদ উসকে দিতে চাইছে  । রাজ্যে এই নীতির আরেক বাহক তৃণমূল বিজেপির সাথে ‘প্রতিযোগিতামূলক’ বিভেদের খেলায় মেতেছে মানুষ কে ভুল বোঝনোর জন্য ।গত দুমাসে রাজ্য সরকারের সংস্হায় ৩৪ দিন ছুটি দিয়ে ‘কর্মসংস্কৃতি’র-র দোহাই দিয়ে ধর্মঘটের বিরোধিতা করে সন্ত্রাস তৈরি করার রাস্তায় গেলে ধর্মঘট সফল করতে সেই সন্ত্রাস কে পরাস্ত করতে হবে । আগামী ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ দাবি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাবে । আমাদের পার্টি যে বাম ও গনতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তুলছে,ধর্মঘটের প্রস্তুতি ও সফল ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে তা আরও শক্তিশালি হবে ।
এছাড়াও বক্তব্য রেখেছেন সন্তোষ দেবরায় । উপস্হিত ছিলেন পার্টির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী,নির্মল ভট্টাচার্য,পঙ্কজ রায়সরকার,সুবীর সেনগুপ্ত প্রমূখ ।












Sunday, 11 November 2018

দুর্গাপুরে পালিত হল সাগুন সহরাই ।




দুর্গাপুর,১১ই নভেঃ : আজ দুর্গাপুরের ডিপিএল কলোনির নতুনপল্লিতে মঢ়েটলা জাহের কমিটির উদ্যোগে পালিত সাঁওতাল সম্প্রদায়ের উৎসব সাগুন সহরাই ।  পাঁচ শতাধিক মানুষ এই উৎসবে যোগদান করেন । অনুষ্ঠানে চলে সাঁওতালি গান,নৃত্য ও সম্মিলিত খাওয়াদাওয়া। খালি আদিবাসী মানুষজন নন, যাঁরাই এই উৎসব দেখতে গেছেন তাঁদেরকেও সসম্মানে অভ্যর্থনা জানিয়ে‌ পাত পেরে খাইয়েছেন,সহরাই উৎসবের কাহিনী শুনিয়েছেন। উপস্হিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসি ও লোক শিল্পী সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক মনু সরেন, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসি অধিকার রক্ষা কমিটির পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সভাপতি সিবান কিস্কু , শিবশংকর মুর্মু , নারায়নচন্দ্র হেমব্রম,ডালিম কিস্কু,পঙ্কজ রায়সরকার প্রমূখ ।