Sunday, 18 November 2018

দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হল পশ্চিমবঙ্গ গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দশম সম্মেলন ।




দুর্গাপুর,১৮ই নভেঃ : আজ ইস্পাতনগরীর লালা লাজপত রায় রোডের চিত্তব্রত মজুমদার ভবনে ,” ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় নগর,সুধীর রায় মঞ্চ” – এ অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলার দশম সম্মেলন । সকালে সংগঠনের পতাকা উত্তোলন ও শহীদ বেদীতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কাজ শুরু হয় । পতাকা উত্তোলন সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি আশিস ভট্টাচার্য । সম্মেলনের উদ্বোধন করতে গিয়ে সংগঠনের রাজ্য যুগ্ম সাধরন সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরন করিয়ে দেন কিভাবে ১৯৭০-এর দশকে সংকটজনক সময়ে সংগঠনের জন্ম হয় এবং  বিকাশ ঘটে । তিনি বলেন যে আজকের সময়ে সংকট আরও ভয়ংকর , সর্বগ্রাসী ও সর্বব্যাপি । আজ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন শুধু শারীরিক ভাবে নয় , আক্রান্ত হচ্ছেন মননে,চেতনায় । এই প্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদারের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন । তিনি বলেন ইতিহাস মুছে ফেলার চক্রান্ত চলছে । প্রখ্যাত সমাজতত্ববিদ জিগমুন্ড বাউম্যানের বই রেট্রোপিয়ায় বর্ণিত ‘ কাল্পনিক অতীত ‘ প্রতিস্হাপিত করার চেষ্টা চলছে । চলছে সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া কে ব্যবহার করে ‘পোস্ট ট্রুথ ‘ বা মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত করার চক্রান্ত । বহুত্ববাদি সমাজ ছাড়া ভারতের মহান শিল্প ও সাহিত্য সৃষ্টির চেষ্টা অবাস্তব ।  যখন প্রতিক্রিয়ার শক্তি এত সুসংগঠিত তখন মানবতার,সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ শিল্পী-সাহিত্যিকদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই । সংগঠন কে শক্তিশালী করতে হবে । এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে নতুন দিশায় । সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়াতে হবে । তিনি স্মরন করিয়ে দেন সংগঠনের মূলমন্ত্র – জীবন আছে / আমরা আছি / সৃষ্টি এবং সংগ্রামে ।
অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় সম্মেলনে আগত প্রতনিধিদের স্বাগত জানিয়ে দুর্গাপুরের শ্রমিক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের দীর্ঘ মেলবন্ধনের কথা উল্ল্যেখ করে এই বন্ধন আরও মজবুত করার আহ্বান জানান ।
সম্মেলনে ১৬৫ জন প্রতিনিধি যোগদান করছিলেন । সম্মেলন ৩৬ জনের নতুন জেলা কমিটি নির্বাচিত করেছে । সভাপতি নির্বাচিত হয়ছেন আশিস ভট্টাচার্য । যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অনুপ মিত্র ও সীমান্ত তরফদার ।























Saturday, 17 November 2018

নভেম্বর বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদের বিপদ সম্পর্কে আলোচনা সভা ।




দুর্গাপুর,১৭ই নভেঃ : মহান নভেম্বর বিপ্লব বার্ষিকির শেষ দিনে আজ সন্ধ্যায় ইস্পাতনগরীর বি.টি.রণদিভে ভবনে অনুষ্ঠিত হল আলোচনা সভা । পশ্চিমবঙ্গ গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলার ১০-ম সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত “ নভেম্বর বিপ্লবের আলোকে ফ্যাসিবাদের বিপদ : অতীত ও বর্তমান “ – শীর্ষক আলোচনা সভায় একমাত্র আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সুস্নাত দাস । অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমের সহায়তায় আলোচনা সহজবোধ্য করে শ্রোতাদের কাছে  তুলে ধরেন শ্রী দাস । তিনি তুলে ধরনে শ্রমিক-কৃষক মৈত্রির ভিত্তিতে কি ভাবে কমরেড লেনিনের সুদক্ষ নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি  চরম প্রতিক্রিয়াশীল পুঁজিবাদি-সাম্রাজ্যবাদি শক্তি কে পরাভূত করে ,কঠোর হাতে গৃহযুদ্ধ কে দমন করে পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কে টিঁকিয়ে রাখতে পেরেছিল । প্যারি কমিউন যা সম্ভব করতে পারে নি,সোভিয়েত তা করে দেখিয়েছিল । পরবর্তীতে কমরেড স্তালিনের নেতৃত্বে সেই সমাজতন্ত্র-সোভিয়েত-কমিউনিস্ট পার্টি সারা বিশ্বে ফ্যাসি-বিরোধী মানুষের বৃহত্তম মঞ্চ গড়ে তুলে বিশ্ব কে হিটলার-মুসোলিনি-তোজোর নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদের চরম বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন ।
আজ সারা বিশ্ব জুড়ে আন্তর্জাতিক ফিনান্স পুঁজির চরমতম মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে জন্মলগ্ন থেকে ফ্যাসিবাদের ধারক-বাহক আর.এস.এস আজ মোদি সরকারের মাধ্যমে দেশে হিংস্রতম কর্পোরেট লুঠ সংগঠিত করা লক্ষ্যে ভারত কে যে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের রূপ দিতে চাইছে তা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র ফ্যাসিবাদ হল পুঁজিবাদের হিংস্রতম বহিঃপ্রকাশ যা শেষ পর্যন্ত বুর্জোয়া গনতন্ত্র কেও ধংস্ব করে জনগন কে সরাসরি গোলামে পরিনত করতে চায় এর বিরুদ্ধে জনগনের ব্যপক থেকে ব্যপকতম ঐক্য গড়ে তোলার সংগ্রামই আজ ভারতে এই ফ্যাসিস্ত-সুলভ শক্তির উথ্থান কে রুখতে পারে ; যার পথ নির্দেশ আজও করে যায় মহান নভেম্বর বিপ্লবের শিক্ষা
আলোচনা শুরু হওয়ার আগে সুস্নাত দাস কে সম্বর্ধনা জানান রথিন রায়,সন্তোষ দেবরায়,অনুপ মিত্র ও বিশ্বরূপ ব্যানার্জী । সঞ্চালনা করেন সৌরভ দত্ত ।







Friday, 16 November 2018

দুর্গাপুরে শিল্পের অমানিশা কাটাতে জোরদার লড়াই এর ডাক দিল ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ ।




দুর্গাপুর,১৬ই নভেঃ : উৎসবের দিন কাটতেই ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ “ সেভ এএসপি – সেভ ডিএসপি – সেভ দুর্গাপুর “ এর পক্ষ থেকে দুর্গাপুরে কল-কারখানার ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে জোরদার লড়াই এর ডাক দিল । বিগত ২ বছর ধরে যৌথ মঞ্চ কেন্দ্রিয় সরকারের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বিক্রি করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লড়াই গড়ে তুলেছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিলগ্নিকরন বাতিল, অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন-সম্প্রসারনের দাবিতে এই লড়াই দুর্গাপুরের অন্যান্য কল-কারখানার শ্রমিকদের উজ্জ্বীবিত করেছে । এর ফলশ্রুতি তে সমগ্র দুর্গাপুরের শ্রমিক ও কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলি কনভেনশনের মধ্য দিয়ে  সমস্ত কল-কারখানার বাঁচানো লড়াই কে এক ছাতার তলায় এনে যৌথ মঞ্চের ঐক্যবদ্ধ লড়াই কে সারা দুর্গাপুরে ছড়িয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।
  কেন্দ্রিয় ও রাজ্য সরকারের নীতির ফলে গোটা দুর্গাপুর জুড়ে চলছে শিল্পের মড়ক চলছে । বর্তমানে নতুন কোন শিল্প আসে নি কর্মসংস্হানের কোন সুযোগ না থাকার ফলে শিল্পনগরীর ছেলে-মেয়েরা ভিন রাজ্যে বা বিদেশে কাজের আশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে
আজ দুর্গাপুর ‘দুর্দশাপুর’-এ পরিনত হতে চলেছে বিশ্বায়নের হাত ধরে কেন্দ্র রাজ্য সরকারের নীতিগত অবস্হানের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এম..এম.সি/এইচ.এফ.সি/ বি..জি.এল/রিফ্যাকট্রি সহ ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব এবং ২৪টি বেসরকারি কারখানা সেই সাথে বন্ধ হয়েছে বিভিন্ন অনুসারী শিল্পের কারখানা ,পরিষেবা সংস্হা ও কয়লা খনি। ফলে কর্মচ্যূত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ শ্রমিক এম..এম.সি কারখানার পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকায় একটি কনসোর্টিয়াম ( কোল ইন্ডিয়া,ডিভিসি,ভারত আর্থ মুভার্স কে নিয়ে তৈরি ) ক্রয় করা সত্বেও ,আজ পর্যন্ত সেই কারখানা খোলার কোন উদ্যোগ বর্তমান রাজ্য সরকার দেখায় নি ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে গেছে ভারত অপথ্যালমিক (বি..জি.এল ) এই কারখানার কর্মচ্যূত শ্রমিক-কর্মচারিরা আজও তাদের প্রাপ্য পি.এফ.-গ্র্যাচ্যুইটির টাকা পান নি রাজ্য সরকার নির্লিপ্ত কেন্দ্রিয় সরকার ৬টি বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ব সার কারখানার খোলার উদ্যোগ নিলেও সেই তালিকায় নেই দুর্গাপুরের ফার্টিলাইজার কারখানা (এইচ.এফ.সি ) খোলার দাবিতে রাজ্যের বাম পরিষদিয় দল নেতা, দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক  মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে এবং সি.আই.টি.ইউ এর সাধারন সম্পাদক  কেন্দ্রিয় সরকারের কাছে দাবি জানালেও,  উভয়  সরকারই নিশ্চুপ থাকে ! ভ্যালুয়েশন অনুসারে কারখানাটির মূল্য ২০১২ সালের  ছিল ৭০৬.২৭ কোটি টাকা অথচ বর্তমানে তা মাত্র ৭০ কোটি টাকায়  বিক্রি করে দেওয়া হল
দুর্গাপুর কেমিক্যালসের ১০০% বিলগ্নিকরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার । দুর্গাপুর প্রোজেক্টস লিমিটেড ( ডি.পি.এল ) এর কোক ওভেন প্ল্যান্টের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার । ।ডিটিপিএস এর নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি না হলে ডিটিপিএস এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেবে । দুর্গাপুর ব্যারেজ শিল্পনগরীর একমাত্র জলের উৎস । জন্মলগ্ন থেকে ব্যারেজের ড্রেজিং অবহেলিত । ফলে ব্যারেজের নাব্যতা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় শিল্প সহ পানীয় জলের সরবরাহের সংকটের আশংকা বাড়ছে ।
এই সব সমস্যার অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানিয়ে আজ যৌথ মঞ্চের ডাকে গান্ধী মোড় থেকে শ্রমিকদের এক বিশাল মিছিল সিটি সেন্টারে এসডিও দফ্তরে যায় ও যৌথ মঞ্চের এক প্রতিনিধিদল দশ-দফা দাবি সম্বলিত এক দাবি-পত্র পেশ করেন । সমাবেশ চলাকালিন বক্তব্য রাখেন যৌথ মঞ্চের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ও বিকাশ ঘটক সহ সি.আই.টি.ইউ-আই.এন.টি.ইউ.সি-এ.আই.টি.ইউ.সি-টি.ইউ.সি.সি- এ.আই.ইউ.টি.ইউ.সি এর নেতৃবৃন্দ ।