Saturday, 16 February 2019

নিহত জওয়ানদের স্মরনে ইস্পাতনগরীর মৌন মিছিলের আহ্বান – ধ্বংস হোক সন্ত্রাসবাদ,নিপাত যাক যুদ্ধ জিগির ।




দুর্গাপুর,১৬ই ফেব্রু : কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদীদের নৃশংস ও কাপুরুষোচিত হামলায় নিহত সি.আর.পি.এফ জওয়ানদের স্মরনে গোটা দেশের সাথে শোকাচ্ছন ইস্পাতনগরীও । ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ ও ৩ এরিয়া কমিটির ডাকে আজ বিকালে নিউটন রোডের সংলগ্ন অঞ্চল থেকে নিহত সি.আর.পি.এফ জওয়ানদের প্রতিটি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এবং সন্ত্রাসবাদ ধ্বংস হোক,যুদ্ধের জিগির বন্ধ হোক এই দাবিতে মৌন মিছিল শুরু হয় ।  মিছিল যত এগিয়েছে , মিছিলের দৈর্ঘ ততই দীর্ঘতর হয়েছে । অন্ধকার নামতেই জ্বলে ওঠে মোমবাতির সারি । মিছিলে অংশগ্রহনকারী  সাধারন গৃহবধু থেকে শ্রমিক ,ছাত্র-যুব থেকে ছোট দোকানদার কিংবা দুর্গাপুর(পূর্ব)-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়,ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব সুবীর সেনগুপ্ত ,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সহ  দল-মত-নির্বিশেষ সাধারন মানুষের শরীরে ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছিল শোকবিহ্বলতার মধ্যেও মহান দেশের নাগরিক কর্তব্যে অবিচল দুর্গাপুর । সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। সেই দিনগুলিতেও আজকের দিনের মতই সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ছিল অবিচল ও ঐক্যবদ্ধ ইস্পাতনগরী।  মিছিল চন্ডিদাস বাজার মোড়ে নিহত সি.আর.পি.এফ জওয়ানদের স্মৃতির উদ্দ্যেশে যখন নিরবতা পালন করছিল,তখন পথচলতি মানুষ,ক্রেতা-বিক্রেতারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিরবতা পালন করেন । রক্তাত কাশ্মীর- রক্তাত দেশ-রক্তাত সভ্যতা তবুও মহান ভারততবর্ষের নাগরিকরা যুদ্ধের জিগির ছাড়াই সমস্ত ধরনের সন্ত্রাসবাদ কে গোড়া থেকে নির্মূল করার জন্য আত্মপ্রত্যয়ী, নিহত সি.আর.পি.এফ জওয়ানদের পরিবারদের জন্য দেশের প্রত্যেক পরিবার সমব্যাথি – আজকের মৌন মিছিল এই সুরে বাঙ্ময় উঠল ।








Thursday, 14 February 2019

ইনপ্ল্যান্ট অফিস গুলিকে সংকুচিত করার প্রতিবাদে দুর্গাপুর ইস্পাতে শ্রমিক বিক্ষোভ ।




দুর্গাপুর,১৪ই ফেব্রু: : আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ইডি ( ওয়ার্কস ) এর দফ্তরে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর ডাকে ইস্পাত শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশে সামিল হয়েছিলেন । কারখানার ভিতরে বিভিন্ন অফিসের ( ইনপ্ল্যান্ট অফিস ) মাধ্যমে ইস্পাত শ্রমিকরা তাদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন ধরনের কাজ গুলি সম্পন্ন করেন ।পারসোন্যানল, ছুটি,পিএফ,বিভিন্ন ধরনের লোন,মেডিক্যাল কার্ড সংক্রান্ত কাজ সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ ইনপ্ল্যান্ট  অফিসে হয় । বিশাল অংশ জুড়ে ইন্টিগ্রেটেড ইস্পাত কারখানার বিভিন্ন বিভাগের সাথে কারখানার প্রশাসনিক দফ্তরের দুরত্ব,শিফটিং ডিউটি,গেট পাসের অযথা কড়াকড়ি,কর্মি স্বল্পতার মধ্যে উৎপাদনের চাপ – এই সব মিলিয়ে যখন সর্বাধিক প্রয়োজন,ঠিক তখনই কর্তৃপক্ষ অন্যান্য বিভিন্ন বিভাগের সাথে ইনপ্ল্যান্ট অফিসের ‘ডাউনসাইজিং’ এর নামে সমস্ত অফিস-সংক্রান্ত কাজ কে সাত তলা বিল্ডিং এই পোষাকি নামে পরিচিত কারখানার প্রশাসনিক দফ্তরে কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে । এই বিষয়ে নির্বাচিত ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে কোন  আলোচনা ছাড়াই  কর্তৃপক্ষ এককভাবে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে । সাম্প্রতিককালে মেডিক্যাল কার্ড সংক্রান্ত কাজ ইনপ্ল্যান্ট অফিসের থেকে বন্ধ করার ফলে শ্রমিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গেছে । অবিলম্বে  ইনপ্ল্যান্ট অফিসের সংকোচন বন্ধ ও ইউনিয়নের সাথে আলোচনার দাবি জানিয়ে আজকের বিক্ষোভ-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,প্রদ্যুৎ মুখার্জী,রনজিত গুহ ঠাকুর ও সীমন্ত চ্যাটার্জী । সমাবেশ চলাকালিন কর্তৃপক্ষের কাছে ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেয় ।

Monday, 11 February 2019

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মরত নার্সের : উত্তেজিত জনতা কাটল স্পিড ব্রেকার ।




দুর্গাপুর,১১ই ফেব্রুঃ : রবিবার রাতে নাইট শিফটে কাজে যোগ দিতে আসার সময়ে হাসপাতালের রাস্তায় হটাৎ গজিয়ে ওঠা অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে সাথে ধাক্কায় স্কুটি থেকে পড়ে মৃত্যু হল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতালে কর্মরত নার্স ক্ষমা মল্লিকের। তিনি হাসাপাতালের এমারজেন্সি বিভাগের সিস্টার ইনচার্জ ছিলেন । দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষর নির্দেশে ইস্পাতনগরীর জে এম সেনগুপ্ত রোড ও এডিসন রোডের সংযোগকারী হাসপাতালের মধ্যের রাস্তার উপরে আচমকা তিনটি স্পিড ব্রেকার তৈরি  হয় । রাস্তায় অপ্রতুল আলো ও আচমকা অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারের তৈরির জন্য ৭ জন দূর্ঘটনার কবলে পড়েছেন ।
এদিকে ক্ষমা মল্লিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে উত্তেজিত জনতা তিনটি স্পিড ব্রেকারই কেটে দেয় । হাসপাতালের জনৈক আধিকারিক নিগৃহিত হন । ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্হলে পৌঁছে পরিস্হিতি সামাল দেয় ।
আজ হাসপাতালের ডাইরেক্টরের সাথে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর এক প্রতিনিধি দল আলোচনা করতে যায় । ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ভাবে এই ঘটনার জন্য সরাসরি কর্তৃপক্ষ কে দায়ি করে এই ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন,মৃতের পোষ্যের চাকুরী ও উপযুক্ত ক্ষতিপুরন,আহতদের ও জখম আধিকারিকের যথাযথ চিকিৎসা,হাসপাতালের স্বাস্হ্য সহ সমস্ত পরিকাঠামোর আমূল সংস্কার,উপযুক্ত সংখ্যক স্হায়ী চিকিৎসক-নার্স-ফার্মাসিস্ট-টেকনিশিয়ান-স্বাস্হ্য কর্মির নিযুক্তি, হাসপাতালের উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্হা  সহ অন্যান্য দাবি জানানো হয় । ইউনিয়নদের বাদ দিয়ে কর্তৃপক্ষ একক ভাবে চলার ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা একের পর এক ঘটছে বলে অভিযোগ তোলেন  প্রতিনিধি দল । পরে প্রতিনিধি দলের পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী জানিয়েছেন যে এই সমস্ত বিষয়ে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত না করায় প্রানহানির মত দুর্ঘটনা ঘটল । এখনই কর্তৃপক্ষ দাবি গুলি না মানলে,ভবিষ্যৎে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে । তিনি, সেই পরিনতি ঠেকাতে, ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ।

Friday, 8 February 2019

আবারও দুর্ঘটনায় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শিল্প নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে।




দুর্গাপুর,৮ই ফেব্রু : আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ব্লাষ্ট ফার্ণেস ও র’ মেটেরিয়ালস্ হ্যাণ্ডেলিং বিভাগে বিএফ গ্যাস লিক করার ফলে চার জন শ্রমিক অসুস্হ হয়ে পড়েন । তার মধ্যে দু-জন শ্রমিক কে পরে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্হা স্হিতিশীল । খবরে প্রকাশ গ্যাস পাইপ লাইনের ওয়াটার-সিল ঠিকমত কাজ না করার ফলে এই বিপত্তি । বিএফ (ব্লাষ্ট ফার্ণেস ) গ্যাসে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমান ২২-২৮ শতাংশ থাকার ফলে মানুষের শরীরে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া ঘটিয়ে মৃত্যু ডেকে আনতে পারে । এ দিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়াতেই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় । ছুটে আসেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) সহ অন্যান্য ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ । র’ মেটেরিয়ালস্ হ্যাণ্ডেলিং বিভাগের জিএম এর কাছে শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হলে সামাল দিতে ছুটে আসেন কারখানার জিএম ( সেফটি ) । ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ কারখানার এক এর পর এক ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন । তারা কারখানার নিরাপত্তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে সক্রিয় ভুমিকা পালনের জোড়ালো দাবি জানান ।   হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী জানিয়েছেন যে কর্তৃপক্ষ গ্যাস পাইপ লাইনের রক্ষনাবেক্ষন ও নজরদারি বিভাগ কে ধারাবাহিকভাবে অবহেলা করে চলছে । ফলে ভবিষ্যৎে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থেকেই যাচ্ছে । অন্যদিকে কারখানার নিরাপত্তা বৃ্দ্ধি করতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বমূলক বিভিন্ন স্তরের সেফটি কমিটি গুলি কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় করে রাখার ফলে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে । হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষ থেকে বারংবার সেফটি কমিটি গুলি চালু করা ও পূর্ণ নিরাপত্তার স্বার্থে রক্ষনাবেক্ষন ও নজরদারির জন্য উপযুক্ত ব্যয়বরাদ্দের দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি । আজকের দুর্ঘটনা আবারও ইউনিয়নের সতর্ক বার্তা গ্রাহ্য করা জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছে ।


Tuesday, 5 February 2019

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে শ্রমিক বিক্ষোভ ।




দুর্গাপুর,৫ই ফেব্রুঃ : আজ সকালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের জি.এম. ওয়ার্কস ( আই.সি) এর দফ্তরে ১৩-দফা দাবিতে স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিকরা যৌথভাবে বিক্ষোভ দেখান । হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) ও এ.এস.পি কন্ট্রাক্টারএমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর আহ্বানে এই বিক্ষোভ সমাবেশে দলে দলে স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিকরা যোগ দান করেন । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের কৌশলগত বিলগ্নীকরনের বাতিল-আধুনিকীকরন-সম্প্রসারনের সাথে সাথে অবিলম্বে সেইলের বেতন-চুক্তি, ঠিকা শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া ভি.ডি.এ-চুক্তি মোতাবেক বেতন-পি.এফ-ই.এস.আই-পেনশন,জমি-কোয়ার্টার লিজিং-লাইসেন্সিং,কারখানার শান্তি-শৃংখলা ও ভয়-ভীতিহীন পরিবেশের দাবি সহ অন্যান্য দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গুরুপ্রসাদ ব্যানার্জী,নবেন্দু সরকার ও বিজয় সাহা । সমাবেশ চলাকালীন কর্তৃপক্ষের কাছে যৌথ প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দিয়ে জানিয়েছেন যে দাবি না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ।






চোর ধরো,জেল ভরো,গরীবের টাকা ওয়াপাস করো – দাবিতে ইস্পাতনগরীতে বিশাল মিছিল ।




দুর্গাপুর,৫ই ফেব্রুঃ : আজ বিকালে, চিটফান্ড দূর্ণীতিতে যুক্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফ্তার ও উপযুক্ত শাস্তি এবং অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্হদের সুদ সমেত সমস্ত টাকা ফেরতের দাবিতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ ও ৩ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে যৌথ ভাবে বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। বি.টি. রণদিভে ভবন থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে আবার বি.টি. রণদিভে ভবনে শেষ হয় । মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,কাজল চ্যাটার্জী,স্বপন ব্যানার্জী,দিপক ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । 






Saturday, 2 February 2019

মোদির সফরের মাঝেই ইস্পাত শ্রমিকরা প্রতিবাদের পথে ।




দুর্গাপুর,২রা ফেব্রুঃ : আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অর্জুন মূর্তির সামনে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর ডাকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশে সামিল হন । গত দুবছর ধরে ইস্পাত শ্রমিকদের বেতন-চুক্তি বকেয়া হয়েছে অথচ এন.জে.সি.এস আলোচনা শুরুর নামগন্ধও নেই । এমন কি বিগত বেতন-চুক্তির বহু বিষয় এখনও বকেয়া পরে আছে । নাগরিক পরিষেবা,হাসপাতাল পরিষেবা,জমি-কোয়ার্টার লিজিং-লাইসেন্সিং এর মত বিভিন্ন স্পর্ষকাতর বিষয় সমাধানের বদলে কর্তৃপক্ষ অযথা টালবাহানা করছে । অন্যদিকে এই ইস্পাতনগরী,অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা সহ গোটা দুর্গাপুর মোদির নীতির ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ছে । আন্তর্জাতিক মানের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট কে বিক্রি করতে চেয়েছে মোদি সরকার । বিনিয়োগ না করার ফলে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা সেইলের মধ্যে ছোট প্ল্যান্টে পরিনত হয়ে সংকটে পড়তে চলেছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিলগ্নীকরনের সিদ্ধান্ত বাতিল ,অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনকিকরন-সম্প্রসারনের ও সি.আই.টি.ইউ করার অপরাধে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার উচ্ছেদ হওয়া ৩৫০০ ঠিকা শ্রমিক কে অবিলম্বে কাজে বহাল করার দাবীতে গত তিন বছর ধরে ইস্পাত শ্রমিক সহ দুর্গাপুরের মানুষ তীব্র লড়াই চালাচ্ছেন । ট্রেনি-শ্রমিকরা  রীতিমত নিপীড়নের মুখে পড়েছেন ।   
এই অবস্হায় ঐতিহ্যমন্ডিত নেহেরু স্টেডিয়াম কে মোদি-বিজেপির জনসভার জন্য ব্যবহারের অনুমতি ইস্পাত শ্রমিক সহ দুর্গাপুরের মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । যে স্টেডিয়াম থেকে দুর্গাপুরের একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়ার তৈরি হয়েছে এবং নবীন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা ব্যবহার করছেন ,সেই স্টেডিয়াম কে রাজনৈতিক সভার কাজে ব্যবহার জন্য খোঁড়াখুড়ি করতে দেখে ইস্পাত শ্রমিক সহ ইস্পাতনগরীর নাগরিক ও ক্রীড়াবিদরা, আতংকিত ও ক্ষুব্দ । এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যেই হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর পক্ষ থেকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ চিঠি দেওয়া হয়েছে ।
আজ এই সব বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ও অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানিয়ে ইস্পাত শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান । হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী জানিয়েছেন মোদি সরকারের শ্রমিক-বিরোধী নীতি ও স্টেডিয়াম ধ্বংসের বিরোধীতা করার জন্য ইস্পাত শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখানোর রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন ।