Thursday, 18 April 2019

দূর্ণীতিগ্রস্হ তৃণমূল-বিজেপির জনবিরোধী সর্বনাশা নীতি পাল্টাতে আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করুন : ডঃ সুজন চক্রবর্তী ।




দুর্গাপুর,১৮ই এপ্রিল : আজ ইস্পাতনগরীর চন্ডিদাস রোডে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় দুর্গাপুর-বর্ধমান লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনিত সিপিআই(এম) প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী কে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান সিপিআই(এম) এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও বাম পরিষদীয় দলনেতা ডঃ সুজন চক্রবর্তী ।
   তিনি বলেন যে সংগ্রামী দুর্গাপুর গন সংগ্রামের ইতিহাসের এক মাইল ফলক । ২০১১ সালের পরে বারে বারে রক্তাত হয়েও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট – দুর্গাপুর ইস্পাত-দুর্গাপুর রক্ষা করো আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপি-তৃণমূলের শিল্প বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলেছেন দুর্গাপুরের মানুষ । দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল যখন সংকটাপন্ন,কারখানা বন্ধ হচ্ছে ,কেন্দ্রিয় সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করতে চাইছে,কিন্তু রাজ্য সরকার নিরব । বিধানসভায় বামপন্হি বিধায়করা,দুর্গাপুরের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়, যখন বারে বারে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দাবি করেন ,তখনও মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চুপ ! অন্যদিকে রাজ্য সরকার যখন ডিসিএল বিক্রি করতে চাইছে,ডিপিএল টুকরো টুকরো করছে, ডিপিএল এর কোকওভেন বন্ধ করছে,তখন বিধানসভায় বামপন্হি বিধায়করা,দুর্গাপুরের বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়,সরব হলেও বিজেপি-র বিধায়করা নিশ্চুপ থাকে । তাই মোদি-মমতার ‘সেটিং’ দুর্গাপুরের মানুষ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় বুঝেছেন । দুর্গাপুরের মানুষ তাই গত বিধনসভা নির্বাচনে বিজেপি-তৃণমূল কে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন । আবারও প্রত্যাখ্যাত হবে এই কথা বুঝে ,পৌর নির্বাচনে তৃণমূল প্রায় পনের হাজারের গুন্ডা বাহিনী নামিয়ে দুর্গাপুরের মানুষের ভোট-লুঠ করে পৌরসভা দখল করেছে ।
দুর্ণীতিগ্রস্হ বিজেপির রাফাল কেলেংকারী নিয়ে নিরব তৃণমূল । অন্যদিকে গত পাঁচ বছরেও সারদা-নারদা কেলেংকারীতে কেউ শাস্তি পেল না । লালু প্রসাদ দূর্ণীতির দায়ে জেলে থাকলে,মমতা ব্যানার্জী কার বদান্যতায় এখনও জেলের বাইরে ? সোনা পাচার করেও কার ইশারায় এয়ারপোর্টের কাস্টমসের হেপাজত  থেকে ছাড়া পান রুজিরা নারুলা ওরফে রুজিরা ব্যানার্জী ? এই সব থেকে জনমনের চিন্তা ঘুড়িয়ে দিতে বিজেপি-তৃণমূল এই রাজ্যে সাম্প্রদায়কতার বিষবাষ্প ছড়াতে প্রতিযোগিতামুলক সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দিয়েছে । বিজেপি দেশের সংবিধান পাল্টে দিয়ে ভারত কে ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাইছে । উভয় দলই গনতন্ত্রের বিরোধী । তাই গনতন্ত্র ও ধর্মনরপেক্ষতা রক্ষা করতে,দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বাঁচানোর লড়াই জোরদার করতে,সাধারন মানুষের কথা সংসদে জোড়ালো ভাবে উপসহাপনার জন্য আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার আহ্বান জানান ডঃ সুজন চক্রবর্তী । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আল্পনা চৌধুরী ও সন্তোষ দেবরায় । গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের ইস্পাত শাখার পক্ষ থেকে আজকের সভায় নির্বাচন বিষয়ে কবিতার ফোল্ডার প্রকাশ করা হয়।

















Wednesday, 17 April 2019

পানীয় জল ও মেডিক্লেমের বিষয়ে দুর্গাপুর ইস্পাতে শ্রমিক বিক্ষোভ ।





দুর্গাপুর,১৭ই এপ্রিল: আজ সকালে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর ডাকে  দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রশাসনিক ভবনে ইডি(পি এ্যান্ড এ)-এর দফ্তরের সামনে শ্রমিকরা পানীয় জল ও মেডিক্লেমের বিষয়ে বিক্ষোভ দেখান । বিগত বেশ কিছু দিন ধরে ইস্পাতনগরীতে জল সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে । দু বেলা জল সরবরাহ হচ্ছে না । গরম পড়ার সাথে সাথে পানীয় জল সংকটে নাজেহাল ইস্পাতগরীর বাসিন্দারা । ইস্পাতনগরীতে জল সরবরাহের একমাত্র উৎস দামোদর নদের উপরে তৈরি দুর্গাপুর ব্যারেজের চ্যানেলে পলি পড়ে অনেকটাই নাব্যতা হারিয়েছে । এই বিষয়ে বার বার ইউনিয়নের তরফে কর্তৃপক্ষ কে জানিয়ে কোন ফল হয় নি বলে আজকের সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেছেন । অন্যদিকে ইস্পাতনগরীতে কিছু টিউবওয়েল বসালেও,নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে বেশিরভাগ কাজ করে না । পানীয় জলের পাইপ ৬০ বছরের বেশী সময় ধরে থাকার ফলে জীর্ণ হয়ে পড়েছে । এছাড়াও রয়েছে অবৈধ ভাবে জলের ব্যবহার । এরফলে ইস্পাতনগরীতে মাঝে মধ্যেই তীব্র পানীয় জল সংকট তৈরি হচ্ছে । এই অবস্হার আশু প্রতিকার না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন বক্তারা । অন্যদিকে মেডিক্লেম নিয়ে সেইল কর্তৃপক্ষের টালবাহানার তীব্র নিন্দা করে বক্তারা মেডিক্লেম কে এন.জে.সি.এস এর আলোচনায় অন্তর্ভূক্তির দাবি জানিয়েছেন । বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালিন এক প্রতিনিধিদল ইডি ( পি এ্যান্ড এ)-এর কাছে দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেয় । বক্তব্য রেখেছেন প্রকাশতরু চক্রবর্তী,প্রদ্যুৎ মুখার্জী,কাজল মজুমদার,পি কে দাস ও সন্তোষ দেবরায় ।

Tuesday, 16 April 2019

পঃ বঙ্গে সর্বনাশের আগুন জ্বালিয়েছে তৃণমূল, ইন্ধন জোগাচ্ছে বিজেপি – বিকল্প এক মাত্র বামপন্হীরা : অমল হালদার ।




দুর্গাপুর,১৬ই এপ্রিল : পার্টি নেতা অমল হালদার অভিযোগ করেন যে রাজ্যে কৃষি ও শিল্প কে সর্বনাশের কিনারায় নিয়ে গেছে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন সরকার । সিঙ্গুর কারখানা ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরে কোন শিল্প আসে নি । চাষীরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না । দেনার দায়ে আত্মহত্যা করছেন । তৃণমূলের লুঠ আর বিজেপির লুঠ রাজ্য ও দেশে কে নিঃস্ব করছে । মোদি সরকারের বদান্যতায় কোটি কোটি টাকা লুঠ করে বিদেশে পালিয়েছে ৩৬ জন অথবা ব্যাঙ্কের লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে অনাদায়ি রেখে অনেকে বহাল তবিয়তে আছেন । ঠিক যেমন মোদি-মমতার তলে তলে সমঝোতার ফলে সারদা-নারদার কেলেংকারীর নায়করা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । এরমধ্যেই নতুন বিপদ ঘনিয়েছে । বিজেপি-র সভাপতি অমিত শাহ পঃবঙ্গে এনআরসি করার হুমকি কে ঘিরে বাংলার বুকে নতুন অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে । ইতিমধ্যে আসামে ৫০ লক্ষ বাসিন্দা নাগরিকত্ব হারিয়েছেন । এর মধ্যে ৪ লক্ষ বাসিন্দা মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রয়োজনীয় তথ্য না পাঠানোর জন্য নাগরিকত্ব হারিয়েছেন । তাই তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি অথবা বিজেপির বিকল্প তৃণমূল একথা যারা ভাবছেন তারা উভয় দলের ভয়ংকর চরিত্র কে খাটো করে দেখছেন । এই দুই ভয়ংকর শক্তির একমাত্র বিকল্প বামপন্হীরা যারা জনগনের স্বার্থে লড়াই করছেন । এই লড়াই সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার জন্য আহ্বান জানান ।
এর আগে যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী গতকাল কুলটি-বরাকর অঞ্চলে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বিজেপি ও তৃণমূলের ধর্ম কে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করার নীতি কে দায়ী করে প্রশাসনের গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেন । তিনি বলেন যে দক্ষিনপন্হী বিজেপি ও তৃণমূল তাদের লুঠের রাজত্ব বজায় রাখতে মানুষের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে । এই লক্ষ্যে আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৮ সালের দাঙ্গার দিনগুলি ফিরিয়ে আনতে চাইছে । মানুষ এই চেষ্টা ব্যর্থ করবেন ।  ঠিক একই ভাবে তিনি  তৃণমূলের ভোট-লুটের চেষ্টা আটকে দিয়ে আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার জন্য আহ্বান জানান ।
  দুর্গাপুর(পূর্ব) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় বিভেদকামী শক্তি কে পরাস্ত করতে ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বাঁচানোর লড়াই সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার জন্য আহ্বান জানান ।
আজ ইস্পাতনগরীর অশোক এভিন্যুর খোলা মার্কেট ও সেইল আবাসন অঞ্চলে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরীর সমর্থনে দুটি পৃথক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন অমল হালদার, মীনাক্ষী মুখার্জী ও সন্তোষ দেবরায় ।










সেইলের অবসরপ্রাপ্তরা মেডিক্লেম নিয়ে বিপাকে : প্রতিবাদ-বিক্ষোভ




দুর্গাপুর,১৬ই এপ্রিল : সেইলের প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী-আধিকারিক ও তাদের স্ত্রী-বিধবারা যারা মেডিক্লেম বিমার মারফত চিকিৎসার সুযোগ পান তারা সেইলের সাম্প্রতিক ঘোষনায় বিপাকে পড়েছেন । ২০১৯-২০ সালের মেডিক্লেম বিমার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১০ই এপ্রিল । সেইলের ওয়েব সাইটে নতুন মেডিক্লেম বিমার প্রিমিয়াম একতরফা ভাবে ৪০% বৃদ্ধির ঘোষনা হতেই বিক্ষোভ ছড়ায় । তখন সেইলের পক্ষ থেকে তড়িঘরি এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশে পুরানো প্রিমিয়ামে আরও তিন মাসের জন্য ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স এর  মেডিক্লেম বিমার মেয়াদ বাড়ানো হয় । তবে এই তিন মাসের প্রিমিয়াম নতুন করে জমা দিলেই বিমার সুযোগ মিলবে । এখানেই আশংকা তৈরি হয়েছে । অবসরপ্রাপ্তরা ও কর্মরতারা মনে করছে মোদি সরকার জিতে ফিরলে মেডিক্লেম বিমা তুলে দেওয়া হবে । কারন ইতিমধ্যে সেইল বোর্ডে বেসরকারী সদস্যরা এই বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করছে । এই বিষয়ে বিরোধীতা করে সেইল রিটায়ার্ড ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে আজ সেইলের সর্বত্র বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয় । টি.এ.বিল্ডিং এ দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের যৌথ বিক্ষোভ হয় । বক্তব্য রেখেছেন সত্যরঞ্জন দাস,অশোক চক্রবর্তী,ব্রজমানিক চক্রবর্তী,আর.পি.গাঙ্গুলী ( এক্স এমপ্লঃ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোঃ),কাজল মজুমদার ( হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন,সি.আই.টি.ইউ),স্বপন মজুমদার (সেইল রিটায়ার্ড ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া ) এবং পি.কে.দাস ( স্টিল ওয়র্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, সি.আই.টি.ইউ) । হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে মেডিক্লেম বিমা সংক্রান্ত বিষয় এন.জে.সি.এস আলোচনায় অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে । সেইল রিটায়ার্ড ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া এর পক্ষ থেকে ভারতের সেরা হাসপাতাল গুলির সাথে সেইলের সরসরি চুক্তির ভিত্তিতে চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত করার দাবি জানানো হয়েছে । সমাবেশ চলাকালিন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেয় যৌথ প্রতিনিধিদল ।



Monday, 15 April 2019

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট-দুর্গাপুর ইস্পাত-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বাঁচানোর লড়াই মাঠে-ময়দান থেকে সংসদ পর্যন্ত জোড়ালো করার আহ্বান ।




দুর্গাপুর,১৫ই এপ্রিল : আজ সকালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বিখ্যাত সংযোগ স্হলে ইস্পাত শ্রমিকদের সাথে মিলিত হয়ে পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করার ফাঁকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্গাপুর-বর্ধমান লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত তরুন সিপিআই(এম) প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী স্বভাবসিদ্ধ ঋজু কন্ঠে জানালেন – আমি আপনাদের কাছে শুধু ভোট চাইতে আসি নি । আমি আপনাদের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট-দুর্গাপুর ইস্পাত-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বাঁচানোর লড়াই কে কুর্ণিশ জানাই ।  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টর বাহাদুর শ্রমিকরা বিগত চার বছর ধরে ইস্পাত শ্রমিক সহ দুর্গাপুরের মানুষ কে সাথে নিয়ে মোদি সরকারে বিলগ্নিকরনের চক্রান্ত রুখছেন । অথচ রাজ্য সরকার কে একবারও এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে দেখা যায় নি । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিলগ্নিকরনের চক্রান্ত নিয়ে বর্তমান তৃণমূলের সাংসদের ভূমিকা নিয়েও  তিনি তীক্ষ্ন প্রশ্ন তোলেন । অন্যদিকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর জন্য বিজেপি প্রার্থীর ‘প্রতিশ্রুতি’ কে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিলগ্নিকরনের জন্য মোদি সরকার যখন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে,তখন বিজেপি প্রার্থীর এই ‘প্রতিশ্রুতিপ্রতারনার নামান্তর । ‘গোর্খাল্যান্ড’ গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে - তিনি দার্জিলিং এর মানুষের সাথে একই ধরনের প্রতারনা করে এখন দুর্গাপুরে এসেছেন । রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা ধ্বংসের জন্য বিজেপি-র সাথে তৃণমূলের কোন মৌলিক ফারাক নেই । এই দুর্গাপুর দেখেছে যখন মোদি সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিলগ্নিকরনের জন্য ব্যস্ত,তখন মমতা ব্যানার্জীর সরকার দুর্গাপুর কেমিক্যালসের ১০০%  বিলগ্নিকরন করার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ডিপিএল কে টুকরো টুকরো করছে। ডিপিএল এর কোক ওভেন বন্ধ করে দিয়েছে ।
নতুন করে কল-কারখানা হচ্ছে না । এফ.সি.ই সার কারখানা অথবা এম.এ.এম.সি কারখানা কনোসোর্টিয়াম এর মাধ্যমে খোলার সুযোগ নষ্ট করছে তৃণমূল সরকার । আন্তর্জাতিক মানের এ.এস.পি কারখানার উৎপাদিত বিশেষ ইস্পাত যা অতি সম্প্রতি সেনাবাহিনীর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ধনুস’ কামান বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, মোদি সরকার তা বিক্রি করতে চাইছে । কৃষিতে সংকটজনক অবস্হার ফলে কৃষক আত্মহ্যা বেড়েই চলেছে । এ সবের ফলে গত ৪৫ বছরের মধ্যে বর্তমান বছরে বেকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ হয়েছে ।
আভাস রায়চৌধুরী বলেন যে লাল ঝান্ডা প্রথম থেকেই নীতিগত ভাবে রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা ধ্বংসের বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট-দুর্গাপুর ইস্পাত-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বাঁচানোর লড়াই যৌথ আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব লাল ঝাণ্ডা । তাই মাঠে-ময়দানে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-মহিলাদের ন্যায্য দাবির লড়াই এর কথা সংসদে পৌঁছাতে,দেশে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তৈরি করার স্বার্থে বামফ্রন্ট কে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর ( পূর্ব)-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ।












Sunday, 14 April 2019

বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার আহ্বান জানালেন চলচিত্র পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পীরা ।



দুর্গাপুর,১৪ই এপ্রিল : বাংলা বছরের শেষ দিনে ইস্পাতনগরী অন্য ধরনের নির্বাচনী প্রচারের স্বাদ পেল ।সৌজন্যে প্রগতিশীল সংস্কৃতি মঞ্চ । সাম্প্রদায়িক ও গনতন্ত্র বিনষ্টকারি শক্তি কে পরাভূত করতে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার আহ্বান জানালেন বিখ্যাত চলচিত্র পরিচালক তরুন মজুমদার,পুরবী মুখার্জী,বিমল চক্রবর্তী,দেবজিত ঘোষ,শুভপ্রসাদ নন্দীমজুমদার,শমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়,সঞ্জয় বিশ্বাস,উৎপল ঘোষ,অরিজিত গাঙ্গুলীর মত একগুচ্ছ তারকা শিল্পী। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইস্পাতনগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত প্রচার করলেন শিল্পীরা । বিকালে রবীন্দ্র ভবন থেকে সংক্ষিপ্ত পথ পরিক্রমার পরে আশিষ মার্কেটে এক জনাকীর্ণ সভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পীরা । এখানে শিল্পীদের সংবর্ধনা জানানো হয় । সম্বোর্ধিত করেন দুর্গাপুর( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়,প্রাক্তন মহানাগরিক রথিন রায় , বিশিষ্ট নাট্য-নির্দেশক দিপক দেব সহ সংগঠকরা । তারপরে শিল্পীরা পথ পরিক্রমা করে যান চন্ডিদাস বাজারে । সেখানেও এক বিশাল সভায় আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার আহ্বান জানালেন শিল্পীরা । আজকের অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যায় যোগদান করেন স্হানীয় শিল্পী সহ সাধারন মানুষ ,উৎসুক শ্রোতা ও সংস্কৃতি-মনস্ক ব্যক্তিরা।
ইস্পাতনগরী সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতির জগতে গত ৮ বছর ধরে চলছে এক পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রন কায়েম করার স্বৈরতান্ত্রিক অপচেষ্টা । ভবন গুলিতে গণনাট্য সংঘের প্রদর্শন ‘নিষিদ্ধ’ করেছে । কিন্তু শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মীরা এরই মধ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন সুস্হ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস সংগ্রাম । এই সংগ্রামই আজকের বিশাল সভা-জমায়েতের অনুপ্ররণার কাজ করেছে ।
    চলচিত্র পরিচালক তরুন মজুমদার ‘গেরুয়া’ ও ‘নীল-সাদা’ রং-রাজনীতির আড়ালে সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও গনতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য দূর্ণীতিগ্রস্হ  বিজেপি ও তৃণমূল উভয় কে তীব্র আক্রমন করে মেহেনতী মানুষের স্বার্থে বামফ্রন্ট বামফ্রন্ট প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার আহ্বান জানান । বক্তব্য রাখেন অন্যান্য শিল্পীরাও । অভিনেতা বিমল চক্রবর্তী বলেন যে ‘উন্নয়ন’-এর জয়গান না গাইলে শিল্পীদেরও  চোখ রাঙ্গাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল । এই প্রসঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎের ভূত ছায়াছবির প্রদর্শনী বন্ধের কথা উল্ল্যেখ করেন । অভিনেতা দেবজিত ঘোষ দূর্ণীতিগ্রস্হ সরকারের প্রধানের ‘সততার প্রতীক’ বিসর্জনের কথা উল্ল্যেখ করেন । গান পরিবেশন করেন পুরবী মুখার্জী ও শুভপ্রসাদ নন্দীমজুমদার । কবি শংখ ঘোষের কবিতা আবৃতি করেন বাচিক শিল্পী শমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নাটক পরিবেশন করেন অভিনেতা সঞ্জয় বিশ্বাস ও অরিজিত গাঙ্গুলী । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কৌতুক অভিনেতা উৎপল ঘোষ ও দুর্গাপুর( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চন্ডিদাস বাজারে অনুষ্ঠান চলছে । আশিষ মার্কেটে ও চন্ডিদাস বাজার – উভয় জায়গায় অনুষ্ঠানের সূচনায় বাবাসাহেব আম্বেদকারে জন্মদিবসে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয় । পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন দুর্গাপুর( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ।
এদিকে আজ সকালে বামফ্রন্ট প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী কে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে জে.সি.বোস ঝুপড়ি থেকে একটি বিশাল মিছিল ভাবা রোড পুকুরঘাট পর্যন্ত যায় । মিছিলের নেতৃত্ব দেন সন্তোষ দেবরায়,সুবীর সেনগুপ্ত,স্বপন ব্যানার্জী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ।