Thursday, 7 November 2019

ইস্পাতনগরীতে পালিত হল মহান নভেম্বর বিপ্লব বার্ষিকি ।




দুর্গাপুর,৭ই নভেঃ : আজ সকাল থেকে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইস্পাতনগরীতে পালিত হল মহান নভেম্বর বিপ্লবের ১০২-তম বার্ষিকি । এই উপলক্ষ্যে পার্টি দফ্তর ও ইউনিয়ন অফিসগুলি সেজে উঠেছে রক্তপতাকায়। সকালে রক্তপতাকা উত্তোলিত হয় বি.টি.রণদিভে ভবন,চিত্তব্রত মজুমদার ভবন,তিলক রোডে ইউনিয়ন দফ্তর সহ অন্যান্য দফ্তর ও শহীদ বেদীতে। মূল অনুষ্ঠান হয় আশিস-জব্বার ভবনে । রক্তপতাকা উত্তোলন করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদি)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য সন্তোষ দেবরায় । উপস্হিত ছিলেন নির্মল ভট্টাচার্য,বিশ্বরূপ ব্যানার্জি,কাজল চ্যাটার্জি,দিপক ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।











মোদি সরকারের ভ্রান্ত নীতি দেশের অর্থনৈতিক সংকট কে আরও সঙ্গীন করছে : অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক ।




দুর্গাপুর,২রা নভেঃ : আজ দুর্গাপুরে ইস্পাতনগরীর বিধান ভবনে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর উদ্যোগে আয়োজিত,”অর্থনৈতিক সংকট ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্হিতি “- শীর্ষক গন-কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে একথা বলেন অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক। তিনি বলেন যে গোটা বিশ্ব জুড়ে নয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্হা সংকটে পড়েছে । এই সংকটের মোকাবিলায় মোদি সরকার যে রাস্তা নিয়েছে তার ফলে দেশে এই সংকট আরও বাড়ছে ।ফলে,শিল্প, কৃষি  ও বাণিজ্য-পরিষেবায় সংকট বেড়েই চলেছে । কর্মহীনতা ভয়ংকর স্তরে পৌঁছেছে । শ্রমিকদের প্রকৃত আয় কমেই চলেছে । ফলে বাজারে চাহিদা তৈরি ক্ষেত্রে প্রবল ঘাটতি দেখা দিয়েছে । যা সংকট কে আরও ত্বরান্বিত করছে । এই অবস্হায় মোদি সরকার সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রের সম্প্রসারনের বদলে কর্পোরেটদের ভর্তুকি দিয়ে এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্র কে দূর্বল করে,বেসরকারিকরন,করে গোটা অর্থনীতি কে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে । এই সংকটগ্রস্হ নয়া অর্থনীতি ব্যবস্হা ,যা বিশ্বের সাথে ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্হা কে সংকটে ফেলেছে তাকে ছুড়ে ফেলে বিকল্প অর্থনীতির দাবিতে বিশ্ব জুড়ে আওয়াজ উঠেছে । এই বিকল্প নীতির মূল ভাবনা হোল কাজ-শিক্ষা-স্বাস্হ্য-শিক্ষার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা । বিশ্বায়নের খপ্পর থেকে ভারত কে বেরিয়ে আসতে হবে । কিন্তু এই নীতির প্রয়োগ কর্পোরেট ও বিশ্ব ফিনান্স পুঁজির স্বার্থরক্ষাকারি মোদি সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয় । তাই নীতির প্রয়োগের জন্য সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ-বাম-গনতান্ত্রিক শক্তির বৃহত্তম মঞ্চ গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে সংবাদিক সম্মেলনে জিএসটি কে ত্রুটিপূর্ন কর-ব্যবস্হা বলে চিহ্নিত করেন এবং কর্পোরেট ও সম্পত্তি কর বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করেন ।

এর আগে শ্রী পট্টনায়ক হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর উদ্যোগে আয়োজিত,”বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্হান : হোক জনআন্দোলন” শীর্ষক কর্মশালায় প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন ।অর্থনীতির বিশিষ্ট অধ্যাপক ডঃ পার্থ প্রতিম সেনগুপ্তের উপস্হাপিত প্রস্তাবের উপরে পাঁচ টি বিষয়ের উপরে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-মহিলা সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের থেকে আগত প্রতিনিধি সহ দেড়শো জন প্রতিনিধি মতবিনিময় করেন ও প্রস্তাব দেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ  উজ্জ্বল প্রতিম দত্ত,মাধবেন্দ্র সিনহা,অনিতা নন্দী বর্মন ,কৃষ্ণে্দু হাজরা ও লিপকা কাঙ্কারিয়া এই কর্মশালা পরিচালনা করেন ।
গন-কনভেনশনের শুরুতে অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়ক, অধ্যাপক ডঃ পার্থ প্রতিম সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের হাতে ফুল ও স্মারক তুলে দেন রথীন রায়,বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী,সন্তোষ দেবরায়,অর্ধেন্দু দাক্ষি,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ,মলয় ভট্টাচার্য ও আর.পি.গাঙ্গুলী । 















Friday, 1 November 2019

বায়োমেট্রিক হাজিরা ঘিরে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন-জট আপাতত কাটল : আন্দোলন জারি রাখার ডাক সি.আই.টি.ইউ-র ।




দুর্গাপুর,১লা নভেঃ : গত ১লা জুন থেকে দুর্গাপুর ইস্পাতে কর্তৃপক্ষ একতরফা ভাবে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক হাজিরার কথা ঘোষনা করলেও বর্তমান সাইবার ক্রাইমের যুগে বায়োমেট্রিক তথ্যের সুরক্ষা-সংক্রান্ত নায্য প্রশ্ন তুলে অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারীরা বায়োমেট্রিক হাজিরা দেন নি । বায়োমেট্রিক হাজিরা না দেওয়ার জন্য, চলতি মাসে নন-ওয়ার্কসের ৩১২ জন শ্রমিক-কর্মচারির বেতন বন্ধ ও পে-স্লিপ না ছাপানোর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০শে অক্টোবর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ) এর নেতৃত্বে শ্রমিক-কর্মচারিরা জোরদার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আলোচনা চলাকালিন এ হেন অমানবিক কাজের থেকে বিরত না থাকলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় । সারা মাস ধরে কাজ করিয়ে শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন না দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের  অন্যায় আচরনের বিরুদ্ধে অন্যান্য ইউনিয়নরাও সরব হয় । চাপের মুখে ইউনিয়নদের সাথে গতকাল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে  ৩১২ জন শ্রমিক-কর্মচারির বেতন ও পে-স্লিপ নির্ধারিত সময় দেওয়ার কথা মেনে নেয় । একই সাথে সি.আই.টি.ইউ সহ অন্যান্য ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ কে সাফ জানিয়ে দেয় যে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে আলোচনার মাঝখানে কোন ভাবে শ্রমিক-কর্মচারির বেতন নিয়ে টালবাহানা করা যাবে না ।
এ দিকে আজ নন-ওয়ার্কসের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ) এর নেতৃবৃন্দ সভা করেন । নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠির পক্ষ থেকে জোর-জবরদস্তি,ব্যক্তিগত প্রলোভন সহ বিভিন্ন কায়দায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বিরোধী আন্দোলন ভাঙ্গার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে আন্দোলন কে আরও ঐক্যবদ্ধ ও প্রসারিত করার আহ্বান জানান । ইউনিয়ন এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জি সাম্প্রতিক কালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকদের আন্দোলনের চাপে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাতিল , রৌরকেল্লা ইস্পাত কারখানায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বিরোধী আন্দোলন সহ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বাতিলের উদাহরন টেনে বলেন যে কর্তৃপক্ষ কারখানার বর্ধিত উৎপাদন ধরে রাখা ও বৃদ্ধি করা, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সম্প্রসারন ও আধুনিকিকরন,টাউনশীপ ও হসপাতাল পরিষেবার আধুনিকিকরন,জমি-কোয়র্টার লিজিং-লাইসেন্সিং সহ শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া নায্য দাবি মেটানোর পরিবর্তে ইউনিয়ন কে বাদ দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব দেখানোর বিপজ্জনক পদ্ধতি নিয়েছে । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিরা এই পন্হা কোন ভাবেই মেনে নেবেন না । বায়োমেট্রিক হাজিরা বিরোধী আন্দোলন তার প্রমান । এই আন্দোলন শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া নায্য দাবিগুলি নিয়েও কর্তৃপক্ষ কে একগুঁয়ে মনোভাব থেকে সরতে বাধ্য করছে ।











Wednesday, 30 October 2019

বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষের বেপরোয়া মনোভাবের বিরুদ্ধে শ্রমিক বিক্ষোভ চরমে : বৃহত্তর আন্দোদলনের হুঁশিয়ারি ।




দুর্গাপুর,৩০শে অক্টো: : বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়নদের মধ্যে আলোচনার মাঝেই বায়োমেট্রিক হাজিরা না দেওয়ার অভিযোগ এনে দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষ কারখানার নন-ওয়ার্কর্স অঞ্চলের বিভিন্ন বিভাগে ৩১২ জন শ্রমিক-কর্মচারীর নভেম্বর মাসের বেতন না দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর ডাকে আজ দলে দলে শ্রমিক-কর্মচারীর দফায় দফায় দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষের তীব্র বিক্ষোভ প্রর্দর্শন করেছেন ও ডেপুটেশন দিয়েছেন । অন্যান্য ইউনিয়ন গুলির এ বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা কে স্বাগত জানিয়েছেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ) এর নেতৃবৃন্দ। সকালে ইডি(ওয়ার্কস),টি.এ.বিল্ডিং ও মেইন হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার পর দুপুরে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রশাসনিক ভবনে ইডি( পি অ্যান্ড এ ) দফ্তরে দলে দলে শ্রমিক-কর্মচারী জড়ো হয়ে প্রবল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । বিক্ষোভকারীদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা কর্তৃপক্ষ কে শিল্পে অশান্তি ডেকে আনার জন্য কাঠগড়ায় তুলে বৃহত্তর ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান । বক্তারা প্রশ্ন তোলেন যে ইউনিয়নদের সাথে আলোচনা চলাকালিন কর্তৃপক্ষ কিভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজ করিয়ে বেতন না দেওয়ার মত চরম স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে? তারা আরও বলেন যে আলোচনা চলাকালিন সময়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে ইউনিয়নের তোলা যৌক্তিত প্রশ্নগুলির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোন সদুত্তর দিতে পারে নি । অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি শ্রমিক-কর্মচারীদের সাইবার ও অন্যান্য নিরাপত্তার বিষয়ে সাথে যুক্ত। বক্তব্য রাখেন ললিত মিশ্র,সৌরভ দত্ত,উজ্জ্বল গণ ও প্রদ্যুৎ মুখার্জি । বিক্ষোভ চলাকালিন ইউনিয়ন এর এক প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষ কে সারা মাস ধরে কাজ করানোর পরে বেতন না দেওয়ার মত চরম অমানবিক ও অনৈতিক কাজের থেকে বিরত থাকার জন্য হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে ইউনিয়ন এর পক্ষে থেকে স্বপন মজুমদার জানিয়েছেন । নচেৎ শ্রমিক-কর্মচারীরা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন একথাও কর্তৃপক্ষ কে পরিস্কার জানানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত ১লা জুন থেকে দুর্গাপুর ইস্পাতে কর্তৃপক্ষ একতরফা ভাবে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক হাজিরার কথা ঘোষনা করলেও বর্তমান সাইবার ক্রাইমের যুগে বায়োমেট্রিক তথ্যের সুরক্ষা-সংক্রান্ত নায্য প্রশ্ন তুলে অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারীরা বায়োমেট্রিক হাজিরা দেন নি ।







Sunday, 27 October 2019

দীপাবলিতেও ইস্পাতনগরীতে প্রগতিশীল সাহিত্যের বুকস্টল ঘিরে ভালো সারা মিলল ।




দুর্গাপুর,২৭শে অক্টোঃ : শারদোৎসবের মতই দীপাবলিতে ইস্পাতনগরীতে প্রগতিশীল সাহিত্যের বুকস্টল ঘিরে মানুষের মধ্যে ভালো সারা পড়েছে। আজ সন্ধায়, এডিশন রোডে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদি)-র দুর্গাপুর ইস্পাত ১ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে তৈরি বুকস্টল থেকে আনুষ্ঠানিক বিক্রির আগেই বই বিক্রি শুরু হয়ে যায় । বুকস্টলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদি)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী বলেন যে এই বছরে শারদোৎসবের সময়ে পার্টির উদ্যোগে জেলায় ৫২টি বুকস্টল হয়েছে ।শারদ সংখ্যা বিক্রি বাদ দিয়েও  দুই লক্ষাধিক টাকার বই বিক্রি হয়েছে । দ্রুত পরিবর্তনশীল অবস্হায় পার্টির ক্রমবর্ধমান ভুমিকা বৃদ্ধির সাথে সাথে মার্কসীয় ও প্রগতিশীল সাহিত্যের বইএর চাহিদা কেবল মাত্র পার্টি সভ্য-সমর্থক নয়,জনগনের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে । এই অবস্হায় বুকস্টল গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । উপস্হিত ছিলেন সন্তোষ দেবরায়,বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তি,নির্মল ভট্টাচার্য,সুবীর সেনগুপ্ত ,দিপক ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । সঞ্চালনা করেন স্বপন মজুমদার । অন্যদিকে ,সেইল সমবায় আবাসন অঞ্চলে কবিগুরু মোড়ে (২য় স্টপেজে ) অপর একটি বুকস্টলের উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর(পূর্ব)-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । উপস্হিত ছিলেন স্বপন ব্যানার্জী,আল্পনা চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।














Monday, 21 October 2019

শ্রমিকদের বাধার মুখে পালালো বহুজাতিক উপদেষ্টা সংস্হার প্রতিনিধিরা : এন.এস.পি.সি.এলের বেসরকারিকরনের চেষ্টা ঘিরে ডিএসপি-তে উত্তেজনা ।





দুর্গাপুর,২১শে অক্টোঃ : মোদি সরকারে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা গুলি কে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার নীতির করালগ্রাসে কি পড়তে চলছে সেইলের অন্তর্গত দুর্গাপুর ইস্পাত,রৌরকেল্লা ও ভিলাই কারখানার কারখানার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্হা এন.এস.পি.সি.এল ? গত ১৭-১০-২০১৯ তারিখে এন.এস.পি.সি.এল কর্তৃপক্ষের থেকে সংস্হার ‘সাংগঠনিক ব্যবস্হা রূপান্তরের উদ্যোগ’- শীর্ষক একতরফা জারি করা নোটিশে ( ০১/এইচআর-ইবি/০১/১০০ ) এর মধ্যে এমনি ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করেছেন শ্রমিক ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ । নোটিশে উপদেষ্টা হিসাবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক বিমা উপদেষ্টা ও ব্রোকারেজ সংস্হা উইলিস টাওয়ার্স ওয়াটসন পিএলসি কে নিয়োগ করায় এই সন্দেহ আরও গাঢ় হয় ।
    তাই আজ সকালে  দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্হা এন.এস.পি.সি.এল-এ উইলিস টাওয়ার্স ওয়াটসন পিএলসি-র প্রতিনিধিরা পরিদর্শনে এলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে । দলমত নির্বিশেষে এন.এস.পি.সি.এল ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার স্হায়ি ও ঠিকা শ্রমিকরা জড়ো হয়ে ঐ বহুজাতিক সংস্হার প্রতিনিধিদের ঘিরে ধরেন।শ্লোগান দিতে থাকেন ,” গো ব্যাক ওয়াটসন “ ।  ছুটে আসেন এন.এস.পি.সি.এল.ই.ইউ(সি.আই.টি.ইউ) ও হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ) সহ অন্যান্য ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ । শ্রমিকদের প্রবল বিক্ষোভ ও  চাপের মুখে উইলিস টাওয়ার্স ওয়াটসন পিএলসি-র প্রতিনিধিরা কারখানার চত্বর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় এন.এস.পি.সি.এল ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে একদিকে যেমন বেসরকারিকরনের আতংক ছড়িয়েছে,অন্যদিকে সদা জাগ্রত থাকার মানসিকতা মজবুত হয়েছে বলে ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ মনে করছেন । এক্ষেত্রে গত তিন বছর ধরে চলা সংলগ্ন অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারিকরন-বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রেরণা জোগাচ্ছে ।
এ যেন অনেকটা ২০০০ সালের ঘটনার পুনুরাবৃত্তি ঘটল ! সেবার শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে, বহুজাতিক উপদেষ্টা সংস্হা  ম্যাকেঞ্জির সুপারিশে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট কিনতে চেয়ে আসা বহুজাতিক সংস্হা এনরনের প্রতিনিধিদল কে “ গো ব্যাক এনরন” শ্লোগান দিতে দিতে কারখানার চত্বরে ঢুকতেই দেয় নি সি.আই.টি.ইউ এর নেতৃত্বে দুর্গাপুর ইস্পাতের শ্রমিকরা । সেই সময়ে কেন্দ্রের ক্ষমতায় ছিল বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ-বিজেপি সরকার । বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার অন্যতম মন্ত্রি ছিলেন বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রি মমতা ব্যানার্জী । পরে দেউলিয়া হয়ে যায় এনরন কোম্পানি । শেষমেশ ২০০১ সালে সরকারি সংস্হা এন.টি.পি.সি ও সেইল যৌথভাবে তৈরি করে এন.এস.পি.সি.এল।
    হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ) এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী জানিয়েছেন যে এন.এস.পি.সি.এল একটি লাভজনক সংস্হা । বিগত তিন বছরে সংস্হার মুনাফার পরিমান ছিল যথাক্রমে  ৩৮০ কোটি,৩৩১ কোটি ও ৩৬১ কোটি টাকা । চলতি বছরেও সেপ্টেঃ মাস পর্যন্ত মুনাফা করছে বলে খবর আছে । তাই কোনো অবস্হায় এন.এস.পি.সি.এল এর বেসরকারিকরনের জন্য পেছনের দরজা দিয়ে বহুজাতিক সংস্হা কে উপদেষ্টা হিসাবে ডেকে নিয়ে আসার চক্রান্ত বিরুদ্ধে এন.এস.পি.সি.এল এর শ্রমিকদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবেন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিকরা ।
   এদিকে সি.আই.টি.ইউ এর সর্বভারতীয় সম্পাদক তপন সেন এন.এস.পি.সি.এল ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদের আজকে ঐক্যবদ্ধ  ওয়াটসন-বিরোধী আন্দোলন কে অভিনন্দন জানিয়েছেন । 






Sunday, 20 October 2019

কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে ইস্পাতনগরী জুড়ে প্রচারসভা-অবস্হান ।




দুর্গাপুর,২০শে অক্টোবর : ‘রুজি রোজগার বাঁচাও,জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রন করো,এনআরসি’র আতঙ্ক হটাও’- এই দাবিতে বামফ্রন্টের ডাকে সারা রাজ্যের সাথে সোচ্চার হয়েছেন ইস্পাতনগরীর মানুষ । ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদি)-র দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ ও ৩ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে ১৯-২০ অক্টোঃ ইস্পাতনগরী ও সংলগ্ন অঞ্চলে চন্ডিদাস বাজার,সেইল আবাসন অঞ্চল,আশিস মার্কেট ও রঘুনাথপুরে চারটি পৃথক প্রচারসভা-অবস্হান অনুষ্ঠিত হয়েছে । কেন্দ্রের বিজেপি ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের একের পর এক জনবিরোধী নীতির ফলে দেশের,রাজ্যের মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে । বিপন্ন দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল । বিপন্ন ইস্পাত শিল্প । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করতে চাইছে মোদি সরকার । অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি,ব্যাঙ্কের গচ্ছিত টাকা নিয়ে ছিনিমিনি,রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রকে ধ্বংস করার জন্য খোলাখুলি পদক্ষেপ,অর্থনীতিতে নজীরবিহিন মন্দা, বেকারিত্ব,কর্মহীনতা,বেলাগাম দূর্ণীতি,এনআরসি কে ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক,হয়রানি এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ প্রভৃতি বিষয় ঘিরে পার্টির বক্তব্য তুলে ধরে বক্তারা জোড়ালো আন্দোলনে সামিল হওয়ার আবেদন জানান ।