Saturday, 16 November 2019

ইস্পাতনগরীতে অনুষ্ঠিত হল কিশোর বাহিনী-র বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব ।




দুর্গাপুর,১৬ই নভেঃ : আজ সন্ধ্যায় ইস্পাতনগরীর রবীন্দ্র ভবনে দুর্গাপুর কিশোর বাহিনী ইস্পাত অঞ্চল সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব । কিশোর বাহিনীর ৭৫-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি ও বিদ্যাসাগরের ২০০-তম জন্মবার্ষিকি উপলক্ষ্যে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ,সংগঠনের ইতিহাস এবং ভারতের আধুনিক শিক্ষা ও শিশু-কিশোর পাঠ্য বইয়ের প্রণেতা চিরস্মরণীয় বিদ্যাসগরের ভূমিকার কথা । ইস্পাতনগরী ও সংলগ্ন অঞ্চলের শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা পরিবেশন করেন গান-নাচ-আবৃতি-নাটক-শ্রুতি নাটক । অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন কিশোর বাহিনী-র রাজ্য মুখ্য সংঘটক পীযুষ ধর,পশ্চিম বর্ধমানের মুখ্য সংগঠক প্রবোধ মন্ডল,নিরঞ্জন পাল,কালি শংকর ব্যানার্জী,দুর্গাপুর ( পূর্ব)-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় প্রমুখ ।






Friday, 15 November 2019

শহিদ বিমল দাসগুপ্তের স্মরণ সভা ।




দুর্গাপুর,১৫ই নভেঃ : আজ দুর্গাপুর কলেজের সামনে  এস.এফ.আই-ডি.ওয়াই.এফ.আই এর দুর্গাপুর পূর্ব ৩ আঞ্চলিক কমিটির পক্ষ থেকে  শহিদ বিমল দাসগুপ্তের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হোল। ১৫ই নভেঃ,১৯৭১ সালে সন্ত্রাসের কালো দিনে অন্ধকারের জীবেরা,বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক বিমল দাসগুপ্ত কে পেট্রোল ঢেলে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেয় । তৃণমূলের আমলে সেই অন্ধকারের জীবেরা আবার জেগে উঠেছে । ২০১৭ সালে ‘উন্নয়ন’-এর নামে দুর্গাপুর কলেজ মোড়ে ১৯৮০-র দশকে তৈরি শহিদ বিমল দাসগুপ্তের শহিদ বেদি এডিডিএ এর থেকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় । কিন্তু শহিদ বিমল দাসগুপ্তের স্মৃতি কে ভুলিয়ে দিতে পারে নি তৃণমূল । কলেজের সামনে এস.এফ.আই-ডি.ওয়াই.এফ.আই এর পক্ষ থেকে শহিদ বিমল দাসগুপ্তের স্মরণ সভা তার জ্বলন্ত প্রমান। আজ স্মরণ সভার শুরুতে শহিদ বিমল দাসগুপ্তের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন ডি.ওয়াই.এফ.আই এর পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভানেত্রী অনামিকা সরকার, এস.এফ.আই-র পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভানেত্রী অন্তরা ঘোষ ,সৌমেন কিস্কু,প্রাক্তন যুবনেতা ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার প্রমূখ । সভায় বক্তব্য রাখেন অনামিকা সরকার, অন্তরা ঘোষ ও সৌমেন কিস্কু । বক্তারা ৭০’ এর দশকে শিক্ষা ক্ষেত্রে কালো দিন গুলির সাথে বর্তমান সময়ের তুলনা টেনে বলেন যে বর্তমান সময়ে শিক্ষার উপরে আক্রমন আর ভয়ংকর ও সর্বগ্রাসী । রাজ্যে তৃণমূল সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে ভয়ংকর নৈরাজ্য ডেকে এনেছে । অন্যদিকে কেন্দ্রের মোদি সরকার গেরুয়াকরন করছে । উভয় সরকার সাধারন মানুষের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিতে শিক্ষার চূড়ান্ত বাণিজ্যিকরন করছে । এর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে ছাত্র-যুব সমাজ কে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।



Thursday, 14 November 2019

উপ ডাকঘর বন্ধ করে দেওয়ার খবরে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে : প্রতিবাদে গ্রাহক-উপভোক্তাদের বিক্ষোভ ।




দুর্গাপুর,১৪ই নভেঃ : দুর্গাপুরে উপ ডাকঘর বন্ধ করে দেওয়ার খবরে গ্রাহক-উপভোক্তা,বিশেষতঃ বয়স্ক,অবসরপ্রাপ্ত,মহিলা ও অসুস্হদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে । গত সপ্তাহে বিশ্বকর্ম্মা নগর(এম.এ.এম.সি) উপ-ডাকঘর বন্ধ করে দেওয়ার খবর ছড়ালে গ্রাহক- উপভোক্তারা বিক্ষোভ দেখান ।
   আজ শ্যামপুর সংলগ্ন রবীন্দ্রপল্লী উপ ডাকঘরে গ্রাহক- উপভোক্তারা বিক্ষোভ দেখান । উপ ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে গ্রাহক- উপভোক্তারা। তাদের পক্ষে সুধাংসু মজুমদার ও কৃষ্ণপদ হালদার অভিযোগ করেছেন যে এই ডাকঘরে বছরে ১ কোটি টাকার বেশী লেনদেন হয় । কিন্তু এই ডাকঘর কে দুর্গাপুর মুখ্য ডাকঘরের সাথে সংযুক্তকরন করা হলে তিন শতাধিক গ্রাহক-উপভোক্তা বিপদে পড়বেন । কার এদের বড় অংশ বয়স্ক,অবসরপ্রাপ্ত,মহিলা ও অসুস্হ । যদি উপ ডাকঘরের স্হানান্তর হয়,তাহলে এম.আই.এস এর সুদ ও পেনশনের টাকা তুলতে বহু দুরে গ্যামন ব্রিজের কাছে দুর্গাপুর মুখ্য ডাকঘরে যেতে হবে ।
      ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি )-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার  উপ-ডাকঘর বন্ধ করার জন্য এই ধরনের প্রয়াস কে মোদি সরকারে সরকারী ক্ষেত্র কে সংকুচিত করার চক্রান্তের অংশ বলে বর্ণনা করে এই প্রয়াসের তীব্র নিন্দা করেছেন । একই সাথে তিনি জানিয়েছেন যে  গ্রাহক-উপভোক্তাদের এই রকম হয়রানি বন্ধ ও  দুর্গাপুরের ১৭টি উপ-ডাকঘরই চালু রাখার দাবিতে পার্টির পক্ষ থেকে  দুর্গাপুর মুখ্য ডাকঘর বিক্ষোভ সংগঠিত করা হবে ।





Wednesday, 13 November 2019

ভারতীয় সমাজজীবনে এন.আর.সি প্রয়োগ যুক্তিসঙ্গত নয় : প্রকাশ্য বিতর্ক সভায় উঠে এল অভিমত




দুর্গাপুর,১৩ই নভেঃ : আজ ইস্পাতনগরীর ব্যস্ততম আশিস মার্কেটে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র দুর্গপুর ইস্পাত ৩ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রকাশ্য বিতর্ক সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই অভিমতের সাথে একমত হয়ে পরিস্কার জানিয়ে দিলেন,” নো এন.আর.সি” - বাংলায় কোন ভাবেই এন.আর.সি চালু করা যাবে । সভার মতের বিরুদ্ধের বক্তারা যখন বিতর্কের ধূম্রজাল তৈরি করে বোঝাবার চেষ্টা করেন যে তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’-দের চিহ্নিত করার জন্য এন.আর.সি চালু করা যথাযথ পদক্ষেপ তখন সভায় পক্ষের বক্তারা শানিত যুক্তি দিয়ে বিরোধী বক্তব্য কে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে প্রশ্ন তোলেন যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ মোদি সরকার সাধারন নাগরিকদের উপর নাগরিকত্ব প্রমানের দায়িত্ব কেন চাপিয়ে দিতে চাইছে ? যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমান হাজির করতে পারছেন না,রাফায়েল বিমান খরিদের কাগজপত্র সরকারের হেফাজতের থেকে ‘নিঁখোজ’ হয়ে যায়,তখন কোটি কোটি সাধারন মানুষ কি ভাবে পূর্বপুরুষের জন্মের কাগজপত্র দেখাতে পারবেন ? এই ধরনের কাগজ-সর্বস্ব নাগরিকত্ব ধারনা ভারতীয় সংবিধানের  পরিপন্হি । আসামের নাগরিকপঞ্জীর কাজ শুরুর পেছনে আসাম-চুক্তির ভূমিকা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সহ অবশিষ্ট ভারতে এর প্রয়োগের কোন সাংবিধানিক সারবত্তা নেই । আসলে দেশের গোল্লায় যাওয়া অর্থনীতিতে ভয়ংকরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত সাধারন মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে মোদি সরকার সুকৌশলে ধর্মীয় ভাবাবেগ ব্যবহার করার লক্ষ্যে এনআরসি কে নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে । বিচারক মন্ডলীর পক্ষ থেকে বলতে গিয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদি)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি বলেন যে আরএসএস এনআরসি কে কেন্দ্র করে জাতিগত বিভেদও তৈরি করতে চাইছে  আর বিজেপি সুকৌশলে এই নীতির প্রয়োগের জন্য আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ কে বেছে নিয়েছে । এক্ষেত্রে রাজ্যের তৃণমূল সরকারও দোসরের ভূমিকা পালন করছে । আসামের নাগরিকপঞ্জীর কাজ শুরু হলে ,প্রামান্য নথিপত্রের জন্য প্রায় লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়ে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাত্র আট হাজার জনের নথি পাঠিয়ে প্রমান করেছে যে সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোন সদিচ্ছা নেই । লাল ঝাণ্ডার নেতৃত্বে এনআরসি চক্রান্ত রুখতে মানুষ কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান এছাড়াও বিচারক মন্ডলীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সন্তোষ দেবরায় ও পঙ্কজ রায় সরকার । সঞ্চালনা করেন নির্মল ভট্টাচার্য । 








Thursday, 7 November 2019

ইস্পাতনগরীতে পালিত হল মহান নভেম্বর বিপ্লব বার্ষিকি ।




দুর্গাপুর,৭ই নভেঃ : আজ সকাল থেকে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইস্পাতনগরীতে পালিত হল মহান নভেম্বর বিপ্লবের ১০২-তম বার্ষিকি । এই উপলক্ষ্যে পার্টি দফ্তর ও ইউনিয়ন অফিসগুলি সেজে উঠেছে রক্তপতাকায়। সকালে রক্তপতাকা উত্তোলিত হয় বি.টি.রণদিভে ভবন,চিত্তব্রত মজুমদার ভবন,তিলক রোডে ইউনিয়ন দফ্তর সহ অন্যান্য দফ্তর ও শহীদ বেদীতে। মূল অনুষ্ঠান হয় আশিস-জব্বার ভবনে । রক্তপতাকা উত্তোলন করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদি)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য সন্তোষ দেবরায় । উপস্হিত ছিলেন নির্মল ভট্টাচার্য,বিশ্বরূপ ব্যানার্জি,কাজল চ্যাটার্জি,দিপক ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।











মোদি সরকারের ভ্রান্ত নীতি দেশের অর্থনৈতিক সংকট কে আরও সঙ্গীন করছে : অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক ।




দুর্গাপুর,২রা নভেঃ : আজ দুর্গাপুরে ইস্পাতনগরীর বিধান ভবনে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর উদ্যোগে আয়োজিত,”অর্থনৈতিক সংকট ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্হিতি “- শীর্ষক গন-কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে একথা বলেন অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক। তিনি বলেন যে গোটা বিশ্ব জুড়ে নয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্হা সংকটে পড়েছে । এই সংকটের মোকাবিলায় মোদি সরকার যে রাস্তা নিয়েছে তার ফলে দেশে এই সংকট আরও বাড়ছে ।ফলে,শিল্প, কৃষি  ও বাণিজ্য-পরিষেবায় সংকট বেড়েই চলেছে । কর্মহীনতা ভয়ংকর স্তরে পৌঁছেছে । শ্রমিকদের প্রকৃত আয় কমেই চলেছে । ফলে বাজারে চাহিদা তৈরি ক্ষেত্রে প্রবল ঘাটতি দেখা দিয়েছে । যা সংকট কে আরও ত্বরান্বিত করছে । এই অবস্হায় মোদি সরকার সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রের সম্প্রসারনের বদলে কর্পোরেটদের ভর্তুকি দিয়ে এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্র কে দূর্বল করে,বেসরকারিকরন,করে গোটা অর্থনীতি কে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে । এই সংকটগ্রস্হ নয়া অর্থনীতি ব্যবস্হা ,যা বিশ্বের সাথে ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্হা কে সংকটে ফেলেছে তাকে ছুড়ে ফেলে বিকল্প অর্থনীতির দাবিতে বিশ্ব জুড়ে আওয়াজ উঠেছে । এই বিকল্প নীতির মূল ভাবনা হোল কাজ-শিক্ষা-স্বাস্হ্য-শিক্ষার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা । বিশ্বায়নের খপ্পর থেকে ভারত কে বেরিয়ে আসতে হবে । কিন্তু এই নীতির প্রয়োগ কর্পোরেট ও বিশ্ব ফিনান্স পুঁজির স্বার্থরক্ষাকারি মোদি সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয় । তাই নীতির প্রয়োগের জন্য সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ-বাম-গনতান্ত্রিক শক্তির বৃহত্তম মঞ্চ গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে সংবাদিক সম্মেলনে জিএসটি কে ত্রুটিপূর্ন কর-ব্যবস্হা বলে চিহ্নিত করেন এবং কর্পোরেট ও সম্পত্তি কর বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করেন ।

এর আগে শ্রী পট্টনায়ক হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর উদ্যোগে আয়োজিত,”বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্হান : হোক জনআন্দোলন” শীর্ষক কর্মশালায় প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন ।অর্থনীতির বিশিষ্ট অধ্যাপক ডঃ পার্থ প্রতিম সেনগুপ্তের উপস্হাপিত প্রস্তাবের উপরে পাঁচ টি বিষয়ের উপরে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব-মহিলা সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের থেকে আগত প্রতিনিধি সহ দেড়শো জন প্রতিনিধি মতবিনিময় করেন ও প্রস্তাব দেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ  উজ্জ্বল প্রতিম দত্ত,মাধবেন্দ্র সিনহা,অনিতা নন্দী বর্মন ,কৃষ্ণে্দু হাজরা ও লিপকা কাঙ্কারিয়া এই কর্মশালা পরিচালনা করেন ।
গন-কনভেনশনের শুরুতে অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়ক, অধ্যাপক ডঃ পার্থ প্রতিম সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের হাতে ফুল ও স্মারক তুলে দেন রথীন রায়,বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী,সন্তোষ দেবরায়,অর্ধেন্দু দাক্ষি,বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ,মলয় ভট্টাচার্য ও আর.পি.গাঙ্গুলী । 















Friday, 1 November 2019

বায়োমেট্রিক হাজিরা ঘিরে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন-জট আপাতত কাটল : আন্দোলন জারি রাখার ডাক সি.আই.টি.ইউ-র ।




দুর্গাপুর,১লা নভেঃ : গত ১লা জুন থেকে দুর্গাপুর ইস্পাতে কর্তৃপক্ষ একতরফা ভাবে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক হাজিরার কথা ঘোষনা করলেও বর্তমান সাইবার ক্রাইমের যুগে বায়োমেট্রিক তথ্যের সুরক্ষা-সংক্রান্ত নায্য প্রশ্ন তুলে অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারীরা বায়োমেট্রিক হাজিরা দেন নি । বায়োমেট্রিক হাজিরা না দেওয়ার জন্য, চলতি মাসে নন-ওয়ার্কসের ৩১২ জন শ্রমিক-কর্মচারির বেতন বন্ধ ও পে-স্লিপ না ছাপানোর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০শে অক্টোবর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ) এর নেতৃত্বে শ্রমিক-কর্মচারিরা জোরদার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আলোচনা চলাকালিন এ হেন অমানবিক কাজের থেকে বিরত না থাকলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় । সারা মাস ধরে কাজ করিয়ে শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন না দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের  অন্যায় আচরনের বিরুদ্ধে অন্যান্য ইউনিয়নরাও সরব হয় । চাপের মুখে ইউনিয়নদের সাথে গতকাল কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে  ৩১২ জন শ্রমিক-কর্মচারির বেতন ও পে-স্লিপ নির্ধারিত সময় দেওয়ার কথা মেনে নেয় । একই সাথে সি.আই.টি.ইউ সহ অন্যান্য ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ কে সাফ জানিয়ে দেয় যে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে আলোচনার মাঝখানে কোন ভাবে শ্রমিক-কর্মচারির বেতন নিয়ে টালবাহানা করা যাবে না ।
এ দিকে আজ নন-ওয়ার্কসের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ) এর নেতৃবৃন্দ সভা করেন । নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষ ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠির পক্ষ থেকে জোর-জবরদস্তি,ব্যক্তিগত প্রলোভন সহ বিভিন্ন কায়দায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বিরোধী আন্দোলন ভাঙ্গার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে আন্দোলন কে আরও ঐক্যবদ্ধ ও প্রসারিত করার আহ্বান জানান । ইউনিয়ন এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জি সাম্প্রতিক কালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকদের আন্দোলনের চাপে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাতিল , রৌরকেল্লা ইস্পাত কারখানায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বিরোধী আন্দোলন সহ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বাতিলের উদাহরন টেনে বলেন যে কর্তৃপক্ষ কারখানার বর্ধিত উৎপাদন ধরে রাখা ও বৃদ্ধি করা, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সম্প্রসারন ও আধুনিকিকরন,টাউনশীপ ও হসপাতাল পরিষেবার আধুনিকিকরন,জমি-কোয়র্টার লিজিং-লাইসেন্সিং সহ শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া নায্য দাবি মেটানোর পরিবর্তে ইউনিয়ন কে বাদ দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব দেখানোর বিপজ্জনক পদ্ধতি নিয়েছে । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিরা এই পন্হা কোন ভাবেই মেনে নেবেন না । বায়োমেট্রিক হাজিরা বিরোধী আন্দোলন তার প্রমান । এই আন্দোলন শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া নায্য দাবিগুলি নিয়েও কর্তৃপক্ষ কে একগুঁয়ে মনোভাব থেকে সরতে বাধ্য করছে ।