Saturday, 20 June 2020

কয়লা শিল্পে ৩-দিনের ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানালেন ইস্পাত শ্রমিকরা ।




দুর্গাপুর,২০শে জুন : মুখে আত্মনির্ভরতার কথা বলে লকডাউনের মাঝে দেশের ৪১টি কয়লা খাদান বিক্রি জন্য নিলাম ও বাণিজ্য-ভিত্তিক কয়লা খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রিয় সরকার।
   এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়লা শিল্পের সমস্ত ট্রেড ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ আগামী ২রা থেকে ৪ঠা জুলাই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যলয় স্টিল প্ল্যান্টের সিআইটিইউ-ভুক্ত ইউনিয়ন গুলির পক্ষে আজ সকালে ডি এস পি মেন গেটের সামনে একটি সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন মলয় ভট্টাচার্য , প্রকাশতরু চক্রবর্তি, সীমান্ত তরফদার,আশিসতরু চক্রবর্তি । 






Monday, 8 June 2020

বর্ণবৈষম্যবাদ ও কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন ইস্পাত শ্রমিকরা ।




দুর্গাপুর,৮ই জুন : ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না নিগ্রো ভাই আমার পল রবসন, ….. হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কথা ও সুরের সেই অসাধারন গান মূর্ত হয়ে উঠল গত ২৫শে মে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিনোসেটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে বিভীষিকাময় পরিনতিতে । কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড কে আক্ষরিক অর্থে ঘাড় মটকে মেরে ফেলল একদল শ্বেতাঙ্গ পুলিশের । বাঁচবার চেষ্টায় যন্ত্রনায় কাতর জর্জ ফ্লয়েডের আর্তনাদ ,” আই কান্ট ব্রিদ “ এখন হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বের মেহেনতি মানুষের দীর্ঘশ্বাস ।আজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নিজের ঘরে লেগেছে আগুন । মার্কিনি-গনতন্ত্রের ধ্বজার আড়ালে জমে থাকা বর্ণবৈষম্যবাদের বিষাক্ত গরল আবারও সারা পৃথিবীর কাছে প্রতীয়মান হয়ে উঠেছে । আসলে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের ভয়াবহ শোষন-লুন্ঠন আড়াল করতে ব্যর্থ সংসদীয় গনতন্ত্রের শোভন মুখোশ খসে পড়লেই ,উগ্র-দক্ষিনপন্হীরা তাদের প্রভুদের রক্ষা করতে দেশকাল বুঝে বর্ণবৈষম্যবাদ-সাম্প্রদায়িকতাবাদ-মৌলবাদের পতাকা ঝুলিয়ে নেমে পড়ে বাজার গরম করতে ,মেহেনতি মানুষের ঐক্য বিনষ্ট করতে । করোনা মহামারি ও চরম আর্থিক সংকটের সাথে যুঝে চলছে মার্কিনি মেহেনতি মানুষ । ঠিক সেই সময়ে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকান্ড গোটা দেশ কে নাড়িয়ে দিয়েছে । জনতার মহা সুনামিতে ভেসে যাচ্ছে গোটা আমেরিকা । “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস” এই শ্লোগানের নিনাদে কেঁপে উঠেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হেড কোয়ার্টার । অযুত-লক্ষ শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ-হিস্পানি-এশিয়ান  বর্ণনির্বিশেষ মেহেনতি আমেরিকান এর কুচকাওয়াজে হোয়াটহাউসের কর্ণধার “ট্রাম্প” যে চার্লি চ্যাপলিনের “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” এর “ট্রাম্প ডিক্টেটর” এর মত গোটা বিশ্ব কে নিজের ঘরে গ্লোব ভেবে খেলাচ্ছলে যুদ্ধের পরোয়ানা জারী করতেন,ভয়ে বাঙ্কারে সিঁধিয়ে পড়েন । অবশ্য আসন্ন বিশ্ব জোড়া উথালপাথালের আশংকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক “মিত্রোঁ” আজকাল “সুরঙ্গ” বানাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন । শুধু  জর্জ ফ্লয়েড বা আমেরিকার মানুষ নয়,দমবন্ধকর পরিস্হিতির মুখোমুখি সারা বিশ্বের পুঁজিবাদি দুনিয়ার মানুষ । মোদি সরকারের আকস্মিক লকডাউন ঘোষনার পরে সরকারের চূড়ান্ত অবহেলায়  ভারতবর্ষে পরিযায়ী শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গের শয়ে শয়ে মাইল অতিক্রম করে ঘরে ফেরার “লঙ মার্চ” এ পথশ্রান্ত,ক্লান্ত মানুষ-শিশুদের কন্ঠে অস্ফুট স্বরের দ্যোতনা যেন হয়ে উঠেছে  ” আই কান্ট ব্রিদ “ ।দেশের সরকারি খাদ্যভাণ্ডারে মজুত সারে সাত কোটি টন যখন খাদ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করার বদলে ৬৫টি লক্ষ টন খাদ্যশস্য নষ্ট করে ফেলে দেয় তখন লকডাউনে কর্মহীন-অর্থহীন ক্ষুদার জ্বালায় কাতর কোটি কোটি দেশের মানুষের অবস্হা হয়ে ওঠে সঙ্গীন। যখন রাজ্যের মানুষ করোনা মহামারি-লকডাউন-আমফানের ত্রিফলায় বিদ্ধ মানুষ কে উপযুক্ত ত্রান-সহায়তা দেওয়ার বদলে বিনামূল্যের কেন্দ্র-রাজ্য “তরজা” শোনানো হয় । সঙ্কটাপন্ন দেশের অর্থনীতি কে চাঙ্গা করার বদলে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা কে বিক্রি করে দেশ বেচার নীতি নিয়ে শ্রমিকের ভাত কেড়ে নেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে । তাই মেহেনতি মানুষ, ইস্পাত শ্রমিকদের এগিয়ে এসে সমস্বরে বলতে  হচ্ছে - ” আই কান্ট ব্রিদ “ । এই অবস্হার পরিবর্তনের  এই আহ্বান জানালেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর নেতৃবৃন্দ । বর্ণবৈষম্যবাদ ও কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বাম গন সংগঠনগুলি যে প্রতিবাদ কর্মসূচী নিয়েছে,সেই অনুসারে আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের সিআইটিইউ-ভুক্ত ইউনিয়নগুলি অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের মেইন গেটে প্রতিবাদে কর্মসূচী পালন করে । মেইন গেটে ঘিরে প্রতিবাদী পোষ্টার-প্ল্যাকার্ডে সুসজ্জ্বিত ইস্পাত শ্রমিকরা  মানব-প্রাচীর গড়ে তোলেন। বক্তব্য রেখেছেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জি , ললিত মিশ্র,নন্দদুলাল দাস ও গুরুপ্রসাদ ব্যানার্জি । উপস্হিত ছিলেন দুর্গাপুর(পূর্ব)-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়,সুবীর সেনগুপ্ত,মলয় ভট্টাচার্য,দিপক ঘোষ সহ বহু সংখ্যক সিআইটিইউ কর্মি ও নেতৃবৃন্দ ।










Sunday, 7 June 2020

করোনা মহামারি রুখতে স্যানিটাইজ করা হল সগরভাঙ্গা গ্রাম : প্রতিবন্ধীদের সহায়তা চলছে ।




দুর্গাপুর,৭ই জুন : করোনা মহামারি রোধ করার জন্য আজ সকালে সিপিআই(এম)-এর দুর্গাপুর পূ্র্ব ২ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আজ সকালে সগরভাঙ্গা গ্রাম কে স্যানিটাইজ করা হয় । স্হানীয় পার্টি কর্মিরা গ্রাম কে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে সকাল থেকে এলাকার মানুষ কে সাথে নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন । সাথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পঙ্কজ রায় সরকার,মনোরঞ্জন যশ প্রমুখ । সগরভাঙ্গার দেশবন্ধু নগরে সিপিআই(এম)-এর দুর্গাপুর পূ্র্ব ২ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আজ সকালে ২৫৩ টি প্রান্তিক পরিবারের হাতে পরিবার পিছু ২৫০ টাকার খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হয় । উপস্হিত ছিলেন সিদ্ধার্থ বসু,নিত্যহরি দত্ত,বিদ্যুৎ সাহা রায় ,মিনা রজক প্রমুখ ।
এ দিকে আজ সকালে পঃ বঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর দুর্গাপুর কমিটির পক্ষ থেকে প্রান্তিক দুঃস্হ প্রতিবন্ধীদের হাতে লাগাতার ভাবে খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হচ্ছে । আজ সকালে আরও ২০ জনের হাতে খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হয় । উপস্হিত ছিলেন নিমাই ঘোষ,দিপক ঘোষ,কালি সান্যাল,গৌতম ঘোষ,ধুর্জুটি ঘোষ প্রমুখ ।দুর্গাপুর কমিটির পক্ষ থেকে এ যাবত মোট  ৮০ জন প্রান্তিক দুঃস্হ প্রতিবন্ধীদের হাতে খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দুর্গাপুর কমিটির পক্ষ থেকে নিমাই ঘোষ জানিয়েছেন । 











Friday, 5 June 2020

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপন,করোনা সচেতনতা বৃদ্ধি ও ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তা জোগালো দুর্গাপুর ইস্পাত বিজ্ঞান কেন্দ্র ।





দুর্গাপুর,৫ই জুন : আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস । এই উপলক্ষ্যে আজ সকালে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের শাখা দুর্গাপুর ইস্পাত বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞান কর্মীরা ও শিশু-শিক্ষা কেন্দ্রের অভিভাবকরা ইস্পাতনগরী সংলগ্ন বিজু পাড়া শিশু-শিক্ষা কেন্দ্রের প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন করেন । একই সাথে বিজ্ঞান কর্মীরা করোনা রোগ প্রতিরোধে করনীয় কর্তব্যের বিষয় সমূহ অভিভাবকদের কাছে তুলে ধরেন। পরে ৭০ জন অভিভাবকের হাতে বিজ্ঞান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মাস্ক-স্যানিটাইজার-খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হয় । উপস্হিত ছিলেন রাম প্রনয় গাঙ্গুলি,দিপক  ঘোষ,অরুন্ধতী ভাদুরী,স্বপন সরকার,রাজলক্ষী দে প্রমুখ । 











অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের কাজ হারা ঠিকা শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে ।




দুর্গাপুর,৫ই জুন : গতকাল থেকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের ১৪৭ জন কাজ হারা ঠিকা শ্রমিকের কাজ ফেরানোর দাবিতে শুরু হয়ছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।চলছে কারখানার মেইন গেটে বিক্ষোভ-ধর্ণা প্রদর্শন । কাজ হারা ঠিকা শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর দাবিতে গড়ে উঠেছে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের ঠিকা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ যৌথ মঞ্চ “ সেভ স্ল্যাগ ব্যাঙ্ক কন্ট্রাক্টার্স ওয়ার্কার্স কমিটি “। কমিটির পক্ষে নিসার আহমেদ  জানিয়েছেন যে দুর্গাপুর ইস্পাতের কর্তৃপক্ষ গত ২৪/০৩/২০২০ তারিখ থেকে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের কর্মরত বি-লিস্ট ভুক্ত ১৪৭ জন কর্মরত ঠিকা শ্রমিক কে ছাঁটাই করে দিয়েছে । ডিএসপির বি-লিস্ট ভুক্ত ঠিকা শ্রমিকরা কারখানার ২২টি নোটিফায়েড এলাকায় ছিলেন। এই নোটিফায়েড এলাকা গুলিতে ঠিকা শ্রমিকরা স্হায়ি কাজ ( পেরেনিয়াল জব ) এর সাথে যুক্ত ছিলেন। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী  ২১টি নোটিফায়েড এলাকার বি-লিস্ট ভুক্ত  ঠিকা শ্রমিকদের স্হায়ীকরন করা হলেও বাকি থাকে স্ল্যাগ ব্যাঙ্ক । দীর্ঘ টালবাহানার পরে যৌথ আন্দোলনের চাপে  ডিএসপি কর্তৃপক্ষ ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে স্ল্যাগ ব্যাঙ্ক কে নোটিফায়েড এলাকা বলে মেনে নেয় ও ২০১০ সালে ৬০ জন ঠিকা শ্রমিকের স্হায়ীকরন করে । কিন্তু বাকিদের স্হায়ীকরন নিয়ে আজও ডিএসপি কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করেই চলেছে । ইতিমধ্যে তিন বার মেডিক্যাল,ভিআরএস ও মৃত্যজনিত কারনে চুক্তি অনুসারে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের স্হায়ী চাকরির হকদার বি-লিস্ট ভুক্ত ঠিকা শ্রমিকের সংখ্যা কমে বর্তমানে কমে হয়েছে ১৪৭ জন । এরই মাঝে কর্তৃপক্ষ এক দিকে যন্ত্রপাতি বসিয়ে অন্যদিকে এফএসএনএল এর মাধ্যমে আউটসোর্সিং করিয়ে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের কাজের পরিধি সঙ্কুচিত করেছে এবং বর্তমান কাজ নেই এই অজুহাতে লকডাউন ঘোষনার প্রাক্কালে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের ১৪৭ জন ঠিকা শ্রমিক কে ছাঁটাই করেছে । যে ঠিকাদারের কাছে ছাঁটাই ঠিকা শ্রমিকরা কাজ করতেন,সেই সংস্হা শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা-গণ্ডা মিটিয়ে দেয় নি । এর ফলে ছাঁটাই শ্রমিক ও তাদের পরিবার দুঃসহ অবস্হায় দিন কাটাচ্ছেন ।
কমিটির পক্ষে নিসার আহমেদ আরও বলেছেন ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী কারখানার নোটিফায়েড এলাকায় স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের বি-লিস্ট ভুক্ত ১৪৭ জন ঠিকা শ্রমিক কে কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করতে পারে না । তাই ছাঁটাই শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে ও বকেয়া পাওনা-গণ্ডা আদায়ের জন্য যৌথ মঞ্চ শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাতে বদ্ধপরিকর । গত কাল থেকে লাগাতার সাত দিন ধরে যৌথ মঞ্চ কারখানার মেইন গেটে ধর্ণা প্রদর্শন শুরু হয়ছে । যৌথ মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়েছে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) সহ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সব কটি স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়ন ।  প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের এই ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে যৌথ মঞ্চ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে কমিটির পক্ষে নিসার আহমেদ  হুঁশিয়ারি দিয়েছেন । 






Thursday, 4 June 2020

ইস্পাতনগরীতে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ালো এসএফআই ।




দুর্গাপুর,৪ঠা জুন : লকডাউনের মাঝে বিপদে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা । স্কুল-কলেজ বন্ধ । উন্নত প্রযুক্তি-ভিত্তিক ‘অনলাইন-ক্লাস’ থেকে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত । চিন্তায় পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা । লকডাউনের ফলে বিশাল সংখ্যক মানুষ কাজ হারিয়েছেন । প্রান্তিক পরিবারের  অভিভাবকেরা ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রাথমিক জিনিষপত্র জোগান দিতে হিমসিম খাচ্ছেন । এই অবস্হায় ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের চিন্তা মুক্ত করতে এগিয়ে এল ভারতের ছাত্র ফেডারেশন । আজ সকালে ইস্পাতনগরীর এসএফআই এর পক্ষ থেকে ইস্পাতনগরীর বি-জোনে নাগার্জুন রোডে মিলন চক্রের মাঠে ১০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হল খাতা-পেনসিল-মাস্ক-বিস্কুট । উপস্হিত ছিলেন ছাত্র নেতা রোশন শর্ম্মা,অর্কপ্রভ গন,ঋষভ দে,মানবপুত্র সহ গন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সুবীর সেনগুপ্ত,স্বপন ব্যানার্জি,স্বপন সরকার প্রমুখ । 







কাজের দাবিতে দুর্গাপুর ইস্পাতের স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের কাজ হারা ঠিকা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু ।




দুর্গাপুর,৪ঠা জুন : আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন গেটে ডিএসপি কারখানার স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের ১৪৭ জন কাজ হারা ঠিকা শ্রমিকের কাজ ফেরানোর দাবিতে শুরু হল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন । কাজ হারা ঠিকা শ্রমিকদের   কাজে ফেরানোর দাবিতে গড়ে উঠেছে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের ঠিকা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ যৌথ মঞ্চ “ সেভ স্ল্যাগ ব্যাঙ্ক কন্ট্রাক্টার্স ওয়ার্কার্স কমিটি “ । কমিটির পক্ষে নিসার আহমেদ  জানিয়েছেন যে গত ২৪/০৩/২০২০ তারিখ থেকে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের কর্মরত বি-লিস্ট ভুক্ত ১৪৭ জন কর্মরত ঠিকা শ্রমিক কে ছাঁটাই করে দিয়েছে । ডিএসপির বি-লিস্ট ভুক্ত ঠিকা শ্রমিকরা কারখানার ২২টি নোটিফায়েড এলাকায় কর্মরত আছেন । এই নোটিফায়েড এলাকা গুলিতে ঠিকা শ্রমিকরা স্হায়ি কাজ ( পেরেনিয়াল জব ) এর সাথে যুক্ত আছেন ।নোটিফায়েড এলাকার অন্যতম হল স্ল্যাগ ব্যাঙ্ক । দীর্ঘ টালবাহানার পরে যৌথ আন্দোলনের চাপে  ডিএসপি কর্তৃপক্ষ ১৯৯৬ সালে স্ল্যাগ ব্যাঙ্ক কে নোটিফায়েড এলাকা বলে মেনে নেয় ও ২০১০ সালে ৬০ জন ঠিকা শ্রমিকের স্হায়ীকরন করলেও বাকিদের স্হায়ীকরন নিয়ে টালবাহানা করেই চলেছে । ইতিমধ্যে তিন বার মেডিক্যাল,ভিআরএস ও মৃত্যজনিত কারনে চুক্তি অনুসারে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের স্হায়ী চাকরির হকদার বি-লিস্ট ভুক্ত ঠিকা শ্রমিকের সংখ্যা কমে বর্তমানে কমে হয়েছে ১৪৭ জন । এরই মাঝে কর্তৃপক্ষ এক দিকে যন্ত্রপাতি বসিয়ে অন্যদিকে এফএসএনএল এর মাধ্যমে আউটসোর্সিং করিয়ে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের কাজের পরিধি সঙ্কুচিত করেছে এবং বর্তমান কাজ নেই এই অজুহাতে স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের ১৪৭ জন ঠিকা শ্রমিক কে ছাঁটাই করেছে । যে ঠিকাদারের কাছে ছাঁটাই ঠিকা শ্রমিকরা কাজ করতেন,সেই সংস্হা শ্রমিকদের পাওনা-গণ্ডা মিটিয়ে দেয় নি । কমিটির পক্ষে নিসার আহমেদ আরও বলেছেন চুক্তি অনুযায়ী কারখানার নোটিফায়েড এলাকায় স্ল্যাগ ব্যাঙ্কের বি-লিস্ট ভুক্ত ১৪৭ জন ঠিকা শ্রমিক কে কাজে ফেরাতে ও বকেয়া পাওনা-গণ্ডা আদায়ের জন্য যৌথ মঞ্চ শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাতে বদ্ধপরিকর । আজ থেকে লাগাতার সাত দিন ধরে যৌথ মঞ্চ কারখানার মেইন গেটে ধর্ণা প্রদর্শন করবে । প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।