Sunday, 20 September 2020

শিক্ষা-কর্মসংস্হান থেকে সরকার কে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত চলছে : যুব সমাবেশ থেকে আহ্বান - জেগে থাকুন,জাগিয়ে রাখুন ।

 


দুর্গাপুর,২০শে সেপ্টেঃ : ইস্পাতনগরীর চন্ডিদাস বাজারের বি-জোন হেলথ সেন্টার রোটারীতে ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের বি-জোন আঞ্চলিক কমিটির ডাকে আজ সকালে এক যুব সমাবেশ থেকে বক্তারা শিক্ষা-কর্মসংস্হান-কৃষি-চিকিৎসার মত মানুষের মৌলিক বিষয়ে  কেন্দ্রিয় ও রাজ্য উভয় সরকার ক্রমান্বয়ে সরকারের পরিসর কে সঙ্কুচিত করে কর্পোরেট ও  বহুজাতিক সংস্হার হাতে তুলে দিয়ে দেশ কে পুঁজির মৃগয়া ক্ষেত্রে পরিনত করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন । ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের পঃ বঙ্গ রাজ্য কমিটির সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন যে যখন করোনা অতিমারী ও লকডাউনের ফলে সারা দেশে ২০ কোটি লোক নতুন করে কাজ হারিয়েছেন,তখন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই কর্মসংস্হানের গুরুত্বপূর্ন  ক্ষেত্র সরকারী ও রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা কে বিক্রী বা বন্ধ করতে চলেছে । একই ভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রের ঢালাও বেসরকারীকরন করার জন্য চলেছে নয়া শিক্ষা নীতি – ২০২০ প্রয়োগের প্রস্তুতি । আসলে কেন্দ্রের পূর্বতন বাজপেয়ী সরকার সরাসরি যে বেসরকারীকরনের কথা ঘোষনা করেছিলেন সেই সরকারের অন্যতম মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও প্রয়াত অটল বিহারী বাজপেয়ী-এর রাজনৈতিক উত্তরসূরী বর্তমানে কেন্দ্রের মোদি সরকার সেই পথে হেঁটে সরকারের কাজ খালি সরকার পরিচালনা,বাকী সব কিছুর ভার বেসরকারী হাতে তুলে দিয়ে জনগনের সর্বনাশ করতে চাইছে । এই নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য যুব সমাজ কে দেশ ও রাজ্যের সকল মেহেনতী মানুষ কে নিয়ে  গন আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনে লড়াই চালিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যয়ী ঘোষনা করেন । অন্য দিকে,এই গন আন্দোলনের বিকাশ কে রুখতে কিভাবে বিজেপি ও তৃণমূল উভয় দল সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তাস খেলছে,তার ব্যাখ্যাও তিনি করে জনগনের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য ডিওয়াইএফআই অবিচল থাকবে বলে তিনি জানিয়ে দেন ।  ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের জেলা সম্পাদিকা অনামিকা সরকার দেশ ও রাজ্যের যুব সমাজ সহ মেহেনতী মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরে কেন্দ্রিয় ও রাজ্য উভয় সরকারের তীব্র আক্রমনের সামনে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পন নয়,তীব্র গন আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ডিওয়াইএফআই লক্ষ্যে অবিচল থেকে জেগে থাকা,জাগিয়ের রাখার বার্তা পৌঁছনোর জন্য অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করে যাবে বলে জানিয়ে দেন । দুর্গাপুর ( পূর্ব )-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় সমাবেশে বক্তব্য রেখে বলেন যে মোদি সরকারে ভয়ংকর জনবিরোধী নীতির ফলে কেবল সরকারী বা রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হা আক্রান্ত তাই নয় ,কৃষি বিলে-২০২০ আসর ফলে আক্রান্ত হতে চলেছে দেশের অন্যতম কর্মসংস্হান ক্ষেত্র কৃষি ব্যবস্হা । তাই প্রতিরোধ হতে হবে সর্বাত্মক । এক্ষেত্রে তিনি দুর্গাপুরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন বিরোধী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি বৃদ্ধি মকুবের দাবিতে গড়ে ওঠা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সাফল্য তুলে ধরেন। একই সাথে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরনের নয়া চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুনরায় শুরু হওয়া ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কে আরও প্রসারিত করার জন্য আহ্বান জানান । বৃষ্টির মধ্যেও যুবক-যুবতী সহ সাধারন মানুষজন দীর্ঘক্ষন ধরে চলা সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শোনেন । সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন চঞ্চল মুখার্জি । উপস্হিত ছিলেন শৈলেন্দ্র ঝাঁ,নির্মল ভট্টাচার্য,স্বপন সরকার সহ যুব ও গন আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।

















 

Friday, 18 September 2020

প্রয়াত পার্টি কর্মীর স্মরণে রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হল ।

 


দুর্গাপুর,১৮ই সেপ্টেঃ : আজ ইস্পাতনগরীর শহীদ আশিস-জব্বার ভবনে প্রয়াত পার্টি সদস্য ও ডিভিসি-র সিআইটিইউ নেতা স্মরণ সরকারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হল । সিপিআই-এম এর দুর্গাপুর ইস্পাত ৩ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন দুর্গাপুর ( পূর্ব )-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় । উপস্হিত ছিলেন পঙ্কজ রায় সরকার,নির্মল ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং প্রয়াত স্মরণ সরকারের স্ত্রী ও ছেলে। দুর্গাপুর মহকুমার ব্লাড ডোনার্স অ্যাসোঃ এর সহযোগীতায় আজ অনুষ্ঠিত এই রক্তদান শিবিরে ১১ জন মহিলা সহ ৩৫ জন রক্তদান করেন । গত ২৯শে মার্চ প্রয়াত হয়েছিলেন স্মরণ সরকার ।
















Saturday, 12 September 2020

দুর্গাপুর ইস্পাতে গ্যাস পাইপ লাইনে আগুন,দূর্ঘটনা : কর্তৃপক্ষের দিকে আঙ্গুল তুললেন বিধায়ক,সিআইটিইউ ।

 



দুর্গাপুর,১২ই সেপ্টেঃ : গত কাল রাতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে হটাৎ করে আগুন লেগে যায় । দূর্ঘটনাস্হলের কাছেই ছিল প্ল্যান্টের নিজস্ব পেট্রোল পাম্প সহ প্ল্যান্ট মেডিক্যাল,সিন্ট্যার প্ল্যান্ট,র’মেটেরিয়ালস হ্যান্ডেলিং প্ল্যান্ট সহ বিবিধ গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন বিভাগ । দমকলের দুটি গাড়ি সহ শ্রমিক ও আধিকারিকদের আপ্রান চেষ্টায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয় । না হলে বড়সড় দূর্ঘটনা ও জীবনহানি-সম্পত্তিহানির আশংকা ছিল । এদিকে এই দূর্ঘটনা ঘিরে কারখানা ও ইস্পাতনগরীতে যুগপৎ আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । দুর্গাপুর ( পূর্ব )-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত দমকল কর্মী,শ্রমিক,আধিকারিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন । পাশাপাশি তীব্র সমালোচনা করে এই দূর্ঘটনার জন্য তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক গাফিলতি কে দায়ী করেছেন । তিনি বলেন যে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে কারখানার যন্ত্রপাতি-গ্যাস পাইপ লাইন সহ অন্যান্য বিষয়ে রক্ষণাবেক্ষন ও উপযুক্ত নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানানো হয়েছে,আন্দোলন হলেও কর্তৃপক্ষ না শোনার ভান করছে । ফলে কারখানায় দূর্ঘটনা বেড়েই চলছে । বাড়ছে মৃত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে।শ্রমিক-আধিকারিকদের নিরন্তর চেষ্টায় করোনা পরিস্হিতির মধ্যেও কারখানার উৎপাদন অব্যাহত আছে।যখন উৎপাদন বজায় রাখার জন্য শ্রমিক-আধিকারিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন,তখন কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষন ও উপযুক্ত নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের গাফিলতি শ্রমিক-আধিকারিকদের মনের উপরে চাপ সৃষ্টি করবে । ফলে উৎপাদনের ওপরে এর প্রভাব পড়তে পারে । গত কালের দূর্ঘটনা ভয়াবহ আকার নিলে কেবল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ক্ষতি হত না,গোটা দুর্গাপুরের বিপদ ডেকে আনতে পারত । তাই কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কারখানার রক্ষণাবেক্ষন ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়-বরাদ্দ বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংগঠনের সাথে আলোচনায় বসতে হবে।একই সাথে বিধায়ক কারখানায় করোনা সংক্রমন বেড়ে চলায় চলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংক্রমন প্রতিরোধে ,সু-চিকিৎসা ও রোগী পরিচর্যার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন । করোনায় মৃ্ত্যু হলে মৃত শ্রমিক-আধিকারিকের পোষ্যের চাকরী সহ উপযুক্ত ক্ষতিপূরনের দাবি জানয়েছেন ।

হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর পক্ষ থেকে বিশ্বরূপ ব্যানার্জি বলেছেন যে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কে এই দূর্ঘটনার ফলে অনেক বড় মাশুল দিতে হত ।যদি কর্তৃপক্ষ এখনই সতর্ক না হয়,তাহলে এ যাত্রায় বেঁচে গেলেও,আগামীদিনে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় আরও বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কে ‘রক্তপাত-শূন্য’ ইস্পাত কারখানায় পরিনত করতে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর পক্ষ বারে বারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে,আন্দোলন করা হয়েছে । কিন্তু কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করে নি । সেফটি কমিটি ও বিভাগীয় সেফটি কমিটির সাথে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে । পুরনো নক্সায় তৈরি কারখানায় ঘিঞ্জি অবস্হা তৈরি হয়েছে । সম্প্রসারন করা হলে এই সমস্যা মিটত । কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা করে নি । দক্ষ স্হায়ী শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে না । পাঁচ থেকে সারে পাঁচ হাজার ঠিকা শ্রমিক কারখানায় কাজ করেন । অথচ দূর্ণীতি-কাটমানি-অবাধ শোষনের জন্য ২৭-২৮ হাজার ঠিকা শ্রমিকের সেফটি ক্লীয়ারেন্স করিয়ে রাখা হয়েছে । ফলে ঠিকা শ্রমিকদের স্হায়ীত্বের অভাবে অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে । ফলে দূর্ঘটনা-আহত-নিহতের সংখ্যা বাড়ছে । এ দিকে চুক্তি অনুসারে কর্মরত অবস্হায় মৃত তিন শ্রমিক ও এক আধিকারিকের পোষ্য এর চাকরি দেওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও টালবাহানা করছে । কর্তৃপক্ষ একদিকে কারখানার রক্ষণাবেক্ষন ও সুরক্ষা-নিরাপত্তা,অন্যদিকে শ্রমিক- আধিকারিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে । অবিলম্বে ইউনিয়নের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে ইউনিয়নদের সাথে আলোচনা শুরু ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ) এর পক্ষ থেকে অন্যান্য ইউনিয়নদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিশ্বরূপ ব্যানার্জি জানিয়েছেন ।

Wednesday, 9 September 2020

প্রয়াত শ্রমিক ও পার্টি নেতা প্রভাত চট্টোপাধ্যায় স্মরণসভা ।

 


দুর্গাপুর,৯ই সেপ্টেঃ : আজ সন্ধ্যায় ইস্পাতনগরীর চিত্তব্রত মজুমদার ভবনে সিপিআই-এম এর দুর্গাপুর ইস্পাত ১,২ ও ৩ এরিয়া কমিটির যৌথ উদ্যোগে প্রয়াত শ্রমিক নেতা ও ইস্পাত শিল্পের শ্রমিকদের সর্বভারতীয় আন্দোলনের পুরোধা সংগঠক প্রভাত চট্টোপাধ্যায় স্মরণসভায় তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ,সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষমতা ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিকের কথা উঠে আসে । গত  ২৮শে আগস্ট তিনি প্রয়াত হন । স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন রথিন রায়,বিপ্রেন্দু চক্রবর্তি,পঙ্কজ রায় সরকার,বিশ্বরূপ ব্যানার্জি ও সন্তোষ দেবরায়।সভা পরিচালনা করেন নির্মল ভট্টাচার্য ।

স্মৃতিচারন করে বক্তারা দুর্গাপুরের শ্রমিক আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে  প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের অসামান্য ভুমিকার কথা তুলে ধরে বলেন যে শ্রমিক, সাংস্কৃতিক ও গনআন্দোলন প্রসার,পার্টি গঠন ,সমবায় ও পৌরসভা পরিচালনায় তিনি যে বহুমুখী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা আজকের জটিল পরিস্হিতি মোকাবিলায় সমান শিক্ষনীয় । মানুষের স্বার্থে,শ্রমিক শ্রেনীর জন্য ও শ্রমিক-কৃষক মৈত্রির বাস্তব প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তাঁর আজীবনের লড়াই বাম আন্দোলনের আলোকবর্তীকা হয়ে কাজ করে যাবে । বর্তমান সময়ে যখন শ্রমজীবি মানুষের ওপরে ভয়াবহ আক্রমন নেমে এসেছে,তখন তার বিরুদ্ধে জোড়ালো গনআন্দোলন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে কমরেড প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে ।
















Tuesday, 8 September 2020

দুর্গাপুর জুড়ে অবাধে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানার জমি-সম্পত্তির লুঠ : ইস্পাত মন্ত্রী কে চিঠি সিপিআই-এম বিধায়কের ।

 


দুর্গাপুর,৮ই সেপ্টেঃ : স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পের মানচিত্রে দুর্গাপুর খুব গুরুত্বপূর্ণ স্হান গ্রহন করেছে । পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে ভারতের ‘রূঢ়’ অঞ্চল বলে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্প ও খনি অঞ্চলের অসামান্য অবদান সর্জনবিদিত । এ হেন দুর্গাপুরে তৎকালীন কেন্দ্রে বাজপায়ী নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার(যে মন্ত্রীসভার অন্যতম মন্ত্রী ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি)এর আমলে দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা বন্ধ ও ধংস্ব করার কাজ শুরু হয়ে যায় । সেই সময় একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা এমএএমসি,ফার্টিলাইজর ও ভারত অপথ্যালমিক । ২০১১ সালে রাজ্যে তৃনমূল ও ২০১৪ সালে কেন্দ্রে মোদি সরকার আসার পরে নতুন করে দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা গুলিতে বিপদ ঘনিয়ে এসেছে । ইতিমধ্যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি করার জন্য মোদি সরকার ও দুর্গাপুর কেমিক্যালস বিক্রি করার উদ্যোগ এবং রাজ্য সরকার পরিচালনাধীন ডিপিএল এর কোক ওভেন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । তার মাঝে নতুন এক বিপদের উদয় হয়েছে । বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা এমএএমসি,ফার্টিলাইজর ও ভারত অপথ্যালমিক কারখানার যন্ত্রপাতি সহ মায় ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে চলছে অবাধে লুঠপাঠ । এই লুঠপাঠের করাল গ্রাসে পড়েছে দুর্গাপুরের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা । এই বিষয়ে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(সিআইটিইউ) এর পক্ষ থেকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে জানিয়েও কোন লাভ হয় নি । গত ৫ই সেপ্টেঃ দুর্গাপুর ( পূর্ব )-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী এই বিষয়ে একটি চিঠিতে সবিস্তারে জানিয়ে কিভাবে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের জমির এবং ইস্পাতনগরীর কোয়ার্টার-জমির  অবৈধ দখল-হস্তান্তর চলছে তা তুলে ধরে হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন । তিনি দেখিয়েছেন যে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা তৈরি হওয়ার সময়ে অধীগৃহীত ১৫৮৭২ একর জমি দুর্গাপুর ইস্পাত কে হস্তান্তরিত করা হয়। এই জমির মধ্যে ২৯৮৪ একর জমি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট তৈরি,১৮৮৭ একর জমি ইস্পাতনগরী ও ৫০০ একর জমি শ্রমিক-আধিকারিকদের বিভিন্ন সমবায় আবাসনের জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে । বাকি অব্যবহৃত জমির এক বড় অংশ বেআইনী দখলদারদের হাতে চলে গেছে ও সেই জমি বিক্রী করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি ব্যবসা করছেন । অথচ এই অব্যবহৃত জমি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের আধুনিকীকরন-সম্প্রসারনের কাজে ব্যবহার করা যায় । অন্যদিকে ইস্পাতনগরীতে মোট কোয়ার্টারের সংখ্যা ১৯১৪১ । বর্তমানে দুই কারখানায় কর্মরতের সংখ্যা ৯০০০ এর কাছাকাছি । ৮৬৫১ টি কোয়ার্টার লিজ/লাইসেন্সের মাধ্যমে  কর্মরত/অবসরপ্রাপ্তদের দেওয়া হয়েছে । ১৩৩৭টি কোয়ার্টার বিভিন্ন সরকারী সংস্হা,পুলিশ কে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে । কর্মরত/অবসরপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত কোয়ার্টার ও জমির লিজ/লাইসেন্সিং এর দাবি জানালেও দুর্গাপুর ইস্পাতের কর্তৃপক্ষ সেইলের গাইড লাইন থাকা সত্বেও কোন এক অজানা কারনে লিজ/লাইসেন্সিং শুরু করছে না বলে বিধায়ক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । তিনি অভিযোগ করেছেন যে খালি-অব্যবহৃত কোয়ার্টার ও স্কুল বিল্ডিং গুলি সমাজবিরোধী কার্যকলাপের আখড়া হয়ে উঠেছে । অন্যদিকে সুপ্রীম কোর্টের রায় থাকা সত্বেও কোয়ার্টারে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচ্যুইটি আটকে রাখার জন্য দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে ইস্পাত মন্ত্রী কে অবিলম্বে এই সব অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া গ্র্যাচ্যুইটি তৎপরতর সাথে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন । পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা এমএএমসি,ফার্টিলাইজর ও ভারত অপথ্যালমিক এর জমি-সম্পত্তি রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানিয়েছেন ।

এ দিকে এক সাম্প্রতিক আরটিআই এর মাধ্যমে জনা তথ্যে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বেসরকারীকরনের তালিকাভুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্গাপুর ( পূর্ব )-এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় জনিয়েছেন যে যদি এই সংবাদ সত্য হয় তা হলে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন-বিরোধী আন্দোলনের মতই এ ক্ষেত্রে তীব্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে । অন্যদিকে আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেইন গেটে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(সিআইটিইউ) এর পক্ষ থেকে আয়োজিত সংহতি সভায় বিপিসিএল এ দু-দিন ব্যাপি বেসরকারীকরন-বিরোধী ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানানো হয় ।





Friday, 4 September 2020

বেতন-চুক্তি সহ অন্যান্য দাবিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় দু-দিন ব্যাপি শ্রমিকদের অবস্হান শেষ হল : বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দিয়ে রাখল সিআইটিইউ ।

 


দুর্গাপুর,৪ঠা সেপ্টেঃ : অবিলম্বে এনজেসিএস এর বৈঠক ডেকে বেতন-চুক্তি ও অন্যান্য দাবীতে আজ দ্বিতীয় দিনেও শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল হোল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা। হিন্দুস্থান স্টিল এমপ্লিইজ ইউনিয়ন( সিআইটিইউ) এর ডাকে  শ্রমিকরা গত কাল থেকে দু-দিন ব্যাপি ইডি(ওয়ার্কস) অবস্হানে যোগদান করেন । আজ সকালে অবস্হানে যোগ দেওয়ার আগে কারখানার অর্জুন মূর্তির সামনে থেকে মোটর বাইক মিছিল বেরিয়ে কোক ওভেন ঘুরে ইডি(ওয়ার্কস) এ যায় । বিকালে অবস্হানের শেষে একটি বিশাল মিছিল বেরিয়ে ইডি(ওয়ার্কস) সহ অন্যান্য যায়গায় ঘুরে দাবি আদায়ে সোচ্চার হয় । অবস্হান চলাকালীন  ইউনিয়ন এর এক প্রতিনিধি দল ১০-দফা দাবি সম্বলিত স্মারক লিপি ইডি(ওয়ার্কস) বি.পি. সিং এর কাছে জমা দিয়ে অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানায়।আজকের অবস্হান চলার সময়ে সময়ে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জি,কালি সান্যাল,স্বপন মজুমদার,দিপক ঘোষ,সৌরভ দত্ত,প্রদ্যুৎ মুখার্জি প্রমুখ । বক্তারা অবিলম্বে বেতন-চুক্তি ও বকেয়া প্রদানের সাথে সাথে কর্মী নিয়োগের জন্য আগের এস-১,এস-৩ ও এস-৬ কাঠামো ফিরিয়ে আনা,২০১৪ ও পরবর্তি সময়ে নিযুক্ত কর্মীদের ৯% হারে পেনশন প্রদান,ওপেন-এন্ডেড স্কেল,১-১-২০১৭ থেকে এরিয়র,চুক্তি অনুসারে দুর্ঘটনায় মৃত কারখানার তিন শ্রমিক ও এক আধিকরিকের পরিবারের এক জন পোষ্যের চাকরী,করোনায় মৃত শ্রমিকের পরিবারের এক জন পোষ্যের চাকরী,অবিলম্বে ভিলাইতে কেন্দ্রীয় হাজিরা বাতিল করে আগের ব্যবস্হা ফিরিয়ে আনা,পুরনো (২০০৭ ) ইনসেন্টিভ স্কীম এর রিভিয়্যু সহ বিভিন্ন দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানান । একই সাথে দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের আধুনিকিকরন-সম্প্রসারন, দুর্গাপুর ইস্পাতে ৪৫০০ টনের নতুন ব্লাষ্ট ফার্নেস,স্ট্যাম্প চার্জ ব্যাটারী, নতুন সিন্টার প্ল্যান্ট ও বার অ্যান্ড রড মিলের দাবী জানান বক্তারা । দু-দিন ব্যাপি অবস্হানের মাঝে বিভিন্ন শ্রমিক-শিল্পীরা গান-নাটক-আবৃতি পরিবেশন করেন ।


















Thursday, 3 September 2020

অবিলম্বে এনজেসিএস চুক্তি সহ বকেয়া পূরনের দাবিতে সিআইটিইউ এর ডাকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় শ্রমিকদের দু-দিন ব্যাপি অবস্হান-বিক্ষোভ চলছে।

 


দুর্গাপুর,৩রা সেপ্টেঃ : গত ১লা জানুয়ারী, ২০১৭ থেকে সেইল কর্মচারীদের বেতনচুক্তি বকেয়া হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে নীরব। দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তপক্ষের কাছে ধারাবাহিক বিক্ষোভ জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ধারাবাহিক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হিন্দুস্থান স্টিল এমপ্লিইজ ইউনিয়ন( সিআইটিইউ) । ইউনিয়নের ডাকে আজ থেকে দুর্গাপুর ইস্পাতের ইডি ( ওয়ার্কস ) এর দফ্তরে দু-দিন ব্যাপি অবস্হান-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে । আজ দুপুরে কারখানার অর্জুন মূর্তির সামনে থেকে ইস্পাত শ্রমিকরা এক বিশাল বাইক শুরু করে ইডি ( ওয়ার্কস ) এর দফ্তরে এসে অবস্হান-বিক্ষোভ শুরু করেন । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবস্হান-বিক্ষোভ চলছে । এ পর্যন্ত বক্তব্য রেখেছেন অরুন চৌধুরী,ললিত মিশ্র,দেবাশীস পাল,বাবুরাম শর্ম্মা ও প্রকাশতরু চক্রবর্তি । বক্তারা অবিলম্বে এনজেসিএস এর আলোচনা শুরু করে বেতন চুক্তির ফয়সালা,ঠিকা শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর চুক্তি, বেতন চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর বজায় রাখার দাবি জানানোর পাশাপাশি  মোদি সরকারের সরকারী ও রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্হার বেসরকারীকরন-বিলগ্নিকরন নীতি অবিলম্বে বাতিল, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বাঁচাতে অবিলম্বে আধুনিকিকরন-সম্প্রসারন,বেতন-চুক্তি কে উপেক্ষা করে একতরফা চালু করা পেনশনের বদল করে চুক্তি অনুযায়ী পেনশন চালু,বিগত বেতন চুক্তির বকেয়া অবিলম্বে প্রদান, উচ্ছেদ ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পূনর্বহাল, চুক্তি অনুসারে বি-লিস্ট ভুক্তদের স্হায়িকরন,শূন্যপদে লোক নিয়োগ,জমি-কোয়ার্টার লিজ-লাইসেন্সিং,কারখানা ও ইস্পাতনগরীতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গের পূর্ন নিরাপত্তার জন্য সেফটি-জল-বিদ্যুৎ-রাস্তা-হাসপাতাল সহ সামগ্রিক পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো সহ অন্যান্য বিষয়ে দাবি জানান । এর আগে এই দাবি কে সামনে রেখে প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে হিন্দুস্থান স্টিল এমপ্লিইজ ইউনিয়ন( সিআইটিইউ) এর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ জানানো হয় । আগমীকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অবস্হান-বিক্ষোভ চলবে।