Thursday, 9 June 2022

প্রয়াত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য।

 


দুর্গাপুর,৯ই জুন : গতকাল রাতে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্হায় প্রয়াত হলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য ও পার্টির সর্বক্ষনের কর্মী নির্মল ভট্টাচার্য।তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫।রেখে গেলেন স্ত্রী তথা মহিলানেত্রী মিতা ভট্টাচার্য,কন্যা-জামাতা-নাতি-পুত্র সহ আত্মীয়-স্বজন সহ সহকর্মী-সমর্থকদের।

আজ সকালে তাঁর মরদেহ দুর্গাপুর ইস্পাতনগরীর শহীদ আশিস-জব্বার ভবনে নিয়ে আসা হলে অপেক্ষমান অজস্র মানুষের ভীড়ে অনেকেই কান্নায়  ভেঙ্গে পড়েন। তাঁর মরদেহ কে রক্তপতাকায় আচ্ছাদিত করে সম্মান জানান পার্টির পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী,রথিন রায়,সন্তোষ দেবরায় ও অজিত মন্ডল। মরদেহে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী,রথিন রায়,সন্তোষ দেবরায় ও অজিত মন্ডল স হউপস্হিত পার্টির অন্যান্য জেলা কমিটির সদস্য,পার্টি  ও গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ-কর্মী-সমর্থক সহ বহু সাধারন মানুষ।সিপিআই এর পক্ষ থেকে মরদেহে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। পার্টি নেতা মদন ঘোষ ও অমল হালদারের পক্ষ থেকেও মরদেহে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।শ্রদ্ধা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে জেলা কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী বলেন যে পার্টি নেতা নির্মল ভট্টাচার্য পার্টি ও গণআন্দোলনে নেতৃত্বদান ও তত্ত্বের প্রয়োগে ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভুমিকা নিষ্ঠা ভরে পালন করেছেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সমবায় আন্দোলন বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। প্রয়াত নেতার অসমাপ্ত কাজ কে সমাপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়াত নেতার পরিবারের প্রতি জেলা কমিটির পক্ষ থেকেও গভীর শোকপ্রকাশ করেন।এর পরে তার মরদেহ তাঁর বাসস্হান,ন্যাশানাল বুক এজেন্সি ও শহীদ বিমল দাসগুপ্ত ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয় এবং শহীদ বিমল দাসগুপ্ত ভবন থেকে ডিএমসি মোড় পর্যন্ত শোক মিছিল করা হয়। পরিশেষে তাঁর ও পরিবারের ইচ্ছানুসারে চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষনার মরোণোত্তর দেহদান করা হয়। স্হানীয় আই কিইউ সিটি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে মরদেহ তুলে দেন তাঁর স্ত্রী-কন্যা-পুত্র।উপস্হিত ছিলেন পার্টি নেতৃবৃন্দ।

সংক্ষিপ্ত জীবনী : ১২ই জানুঃ,১৯৫৭ সালে মধ্যমগ্রামে জন্মগ্রহন করেন নির্মল ভট্টাচার্য। ১৯৬০ এর দশকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় কর্মরত মামার বাড়ীতে আসেন ও ইস্পাতনগরীর এ’জোন বয়েস মাল্টিপারপাস স্কুলে পড়াশোনা করেন। এই সময়ে ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে বিপিএসএফ যোগদান করেন ও ১৯৭৪ সালে পার্টি সভ্যপদ লাভ করেন । ১৯৭২-৭৭ সালের সন্ত্রাসের দিনগুলিতে পার্টির নির্দেশে আত্মগোপন করে ছাত্র-যুব সংগঠন বিস্তারে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যান । ১৯৮০ সালে দুর্গাপুরে ন্যাশানাল বুক এজেন্সির কাজে যোগদান করেন । ১৯৮৮ সালে পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে দুর্গাপুর ইস্পাতের সাংগঠনিক অঞ্চলে কাজ শুরু করেন। শাখা সম্পাদক,আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক,জোনাল সদস্য ও ২০১২ সালে পার্টির অবিভক্ত বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে আমৃত্যু পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য হিসাবে মতাদর্শ ও সাংগঠনিক দক্ষতার সংমিশ্রনে দায়িত্ব পালন করে গেছেন প্রয়াত পার্টি নেতা নির্মল ভট্টাচার্য।



























































Tuesday, 7 June 2022

বেতন-চুক্তি নিয়ে টালবাহানার মাঝে পিএফ-পেনশনে প্রভূত ক্ষতির মুখে ইস্পাতশ্রমিকরা : দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় বিক্ষোভ ।

 


দুর্গাপুর,৭ই জুন : রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদনকারী সংস্হা সেইল-আরআইএনএল এর বেতন-চুক্তি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় ইস্পাত শ্রমিকদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে । ইস্পাত শ্রমিকদের ২০১৭ সাল থেকে বেতন-চুক্তি বকেয়া রয়েছে । সিআইটিইউ এর নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াই এর পরে ২০১৯ সাল থেকে বেতন-চুক্তির আলোচনা শুরু হলেও কেন্দ্রের ইস্পাত মন্ত্রকের অধীনস্ত সেইল-আরআইএনএল এর বেতন-চুক্তি এখন অসমাপ্ত। ইতিমধ্যে ২০২১ সালে সাক্ষরিত ১০-বছর মেয়াদী অনায্য বেতন-চুক্তি সংক্রান্ত শ্রমিক-বিরোধী কালা “মউ-চুক্তি”-র বিরুদ্ধে সিআইটিইউ এর নেতৃত্বে শ্রমিকরা দল-মত নির্বিশেষ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। এই মউ-চু্ক্তি স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিকদের কেবল চরম বঞ্চনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে শুধু তাই নয়,এই চুক্তি শ্রমিকদের প্রতি চরম অবজ্ঞা,অমর্যাদা ও অমানবিকতর নিদর্শন । এই চুক্তিতে তরুন স্হায়ী শ্রমিকদেরও চরম বঞ্চনা করা হয়েছে । অথচ কোভিড অতিমারীর মধ্যে স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিকরা একযোগে কাজ করে সেইলের উৎপাদন সুউচ্চ পর্যায় পৌঁছে দিয়ে রেকর্ড পরিমানে সর্বকালীন সেরা মুনাফা অর্জন করতে সহয়তা করেছেন।অন্য দিকে প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের সুদ হার কমানোর ফলে  ইস্পাত শ্রমিকরাও নিদারুন ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছেন । একই অবস্হা হতে চলেছে ন্যাশানাল পেনশন স্কীমে যে শ্রমিকরা যোগ দিয়েছেন,তারাও প্রভূত ক্ষতির মুখে পড়েছেন । সিআইটিইউ এর পক্ষ থেকে আগেই সেইলের পেনশন স্কীমের বদলে শেয়ার-বাজার নির্ভর ন্যাশানাল পেনশন স্কীমে যোগ না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয় । যে সব শ্রমিকরা ইতিমধ্যে ন্যাশানাল পেনশন স্কীমে যোগ দিয়েছেন,তারা শেয়ার-বাজারে সাম্প্রতিক ধসের ফলে প্রভূত ক্ষতির মুখে পড়েছেন । আজ সকালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ইডি ( ওয়ার্কস) দফতরের সামনে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ )-এর ডাকে দলে দলে ইস্পাত শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান । সমাবেশে বক্তারা বলেন যে অবিলম্বে কালা মউ-চুক্তির বাতিল করে ন্যায্য ও সম্মানজনক পাঁচ বছর মেয়াদি পুর্নাঙ্গ বেতন-চুক্তি করে প্রাপ্য সম্পূর্ন এরিয়ার মেটাতে হবে,এনপিএস চাপানো যাবে না, ঠিকা শ্রমিকদের বেতন-চুক্তিতে অন্তর্ভূক্তিকরন,স্হায়ীকরন,ভিডিএ,পিএফ-ইএসআই এর বাধ্যতমূলক অন্তর্ভূক্তি সহ পিএফ এর সুদ বৃদ্ধি, সমস্ত ধরনের বেসরকারীকরনের প্রয়াস বাতিল সহ অন্যান্য দাবিতে সোচ্চার হয়ে বৃহত্তর শ্রমিক ঐক্য গড়ে তুলে জোরদার আন্দোলনের আহ্বান জানান। সমাবেশ চলাকালীন ইউনিয়নের এক প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ইডি( ওয়ার্কস ) এর কাছে এই বিষয়ে দাবি-সম্বলিত স্মারক-লিপি জমা দেওয়া হয় । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সন্দীপ পাল,সৌরভ দত্ত,নিমাই ঘোষ,প্রকাশতরু চক্রবর্তি,সীমান্ত চ্যাটার্জি ও বিশ্বরূপ ব্যানার্জি ।










Sunday, 5 June 2022

ইস্পাতনগরীতে পালিত হোল বিশ্ব পরিবেশ দিবস : পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন কে জোরদার করার আহ্বান জানালো সিআইটিইউ ।

 


দুর্গাপুর,৫ই জুন : আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস । এই উপলক্ষে,হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিআইটিইউ) এর পক্ষ আজ বিকালে ইস্পাতনগরীর বি.টি.রণদিভে ভবনে বৃক্ষরোপন করা হয় । ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে সম্পাদকমণ্ডলীর আহ্বায়ক সীমান্ত চ্যাটার্জী জানিয়েছেন যে ইস্পাতনগরী সহ সমগ্র দুর্গাপুর এবং দুর্গাপুর ইস্পাত ও মিশ্র ইস্পাত কারখানায় পরিবেশ রক্ষার জন্য ইউনিয়ন এর পক্ষ ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়ছে । আগমীদিনে এই আন্দোলন আরোও জোরদার করা হবে । ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত ১ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে দিপক ঘোষ পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন কে জোরদার করার জন্য বিজ্ঞান-মনস্ক দৃষ্টিভঙ্গীর প্রসারের আহ্বান জানান । আগামী দিনে ইস্পাতনগরী ও সংলগ্ন অঞ্চলে তামলা নদী - রাজগির নালা সহ জলাভূমি-পুকুর-দীঘির সংস্কার ও বনাঞ্চল বাঁচানোর জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে ।






ভয়াবহ শ্রমিক-বিরোধী ওএসএইচ কণ্ডিশন কোড-২০২০ এর বিরুদ্ধে সিআইটিইউ : মুম্বাই সেমিনারে শ্রম কোডের বিরোধিতা ।

 


দুর্গাপুর,৫ই জুন : গতকাল,ভারত সরকারের ন্যাশানাল সেফটি কাউন্সিল পক্ষ থেকে মুম্বাইতে আয়োজিত কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারী-আধিকারিকদের সুরক্ষা- স্বাস্থ্য – পরিবেশ সংক্রান্ত সর্বভারতীয় সেমিনারে অংশ গ্রহন করে মোদি সরকারের ভয়াবহ শ্রমিক-বিরোধী “শ্রম-কোড” এর অন্যতম ওএসএইচ কণ্ডিশন কোড-২০২০ এর তীব্র বিরোধিতা করেন স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ( সিআইটিইউ )এর সম্পাদক ও সুরক্ষা- স্বাস্থ্য – পরিবেশ সংক্রান্ত সাব কমিটির আহ্বায়ক প্রদ্যুত মুখার্জি । ঐ সেমিনারে তিনি ছিলেন সিআইটিইউ এর পক্ষে একমাত্র প্রতিনিধি। সেমিনারে বক্তব্য রেখে তিনি বলেন যে ১৯৪৮ সালের ফ্যাক্ট্রি অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজের বদলে নতুন আইনে সপ্তাহে ৭২ ঘন্টা কাজের বোঝা শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপরে চাপানো হয়েছে। এর ফলে তিন শিফটের কাজ কমিয়ে দুই শিফটে হওয়ায় মালিক পক্ষ মুনাফার পাহাড় গড়লেও,বেকারত্ব বাড়বে। অন্যদিকে,কাজের সময় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিক-কর্মচারী পেশাগত স্বাস্থ্য- সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। বিশেষতঃ নারী শ্রমিকদের শোচনীয় অবস্হার মুখে পড়তে হবে । নতুন আইনে ১৩টি শ্রমিক অধিকার আইন কে বিলুপ্ত করে “সুরক্ষা আইন ও বিধি”-র পরিবর্তে কেবল “ সুরক্ষা মান ”  এর কথা বলে স্বাস্থ্য- সুরক্ষার বিষয়ে শ্রমিকদের আইনি অধিকার কে বিলুপ্ত করা হয়েছে । শিল্পপতিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সেফটি ইন্সপেক্টরদের ক্ষমতা সঙ্কুচিত করার ফলে সুরক্ষা- স্বাস্থ্য – পরিবেশ সংক্রান্ত সহ ঠিকা শ্রমিকদের নুন্যতম বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষ অবহেলা করলে যে ব্যবস্হা গ্রহনের বিধি ছিল, নতুন আইনে তার বিলুপ্তি ঘটেছে ।তিনি বলেন যে “রক্তপাত-শূন্য” উৎপাদন ব্যবস্হা গড়ে তোলার জন্য দায়বদ্ধতা কে জলাঞ্জলি দিয়ে, শ্রমিক-কর্মচারী-আধিকারিকদের পেশাগত সুরক্ষা-স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প-খনি-বাগিচা-আইটি-সংবাদ মাধ্যম সহ অন্যান্য শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টা কে বিসর্জন দেওয়ার জন্য যে ওএসএইচ কণ্ডিশন কোড-২০২০ আইন করা হয়েছে। সিআইটিইউ এর প্রয়োগের বিরুদ্ধে ও ভয়াবহ আইন বাতিলের দাবিতে তীব্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।সেমিনারে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ সিআইটিইউ এর বক্তব্য কে স্বাগত জানিয়েছেন।





Wednesday, 1 June 2022

‘লেনিন সরণী’-র নাম পরিবর্তনের কোন চেষ্টা বরদাস্ত করবে না ইস্পাত শ্রমিকরা : জানিয়ে দিল সিআইটিইউ ।

 


দুর্গাপুর,১লা জুন : ইতিহাস মুছে দেওয়া,বিকৃতি করার জন্য সারা দেশে সংঘ পরিবার যে প্রয়াস নিয়েছে,তারই প্রতিফলন কি দুর্গাপুরে ‘লেনিন সরণী’-র নাম পরিবর্তনের জন্য দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত কে প্রভাবিত করছে? – এই জিজ্ঞাসা এখন দুর্গাপুরের শ্রমিক মহলে ঘোরাফেরা করছে । ১৯৫০ এর দশকের থেকে গড়ে ওঠা দুর্গাপুর শিল্পনগরী,স্বাধীন ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের বিশেষ করে বামপন্হী শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে । তাই দুর্গাপুরের শ্রমিক ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্নধার কমরেড লেনিন এক অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম।প্রসঙ্গত, কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন হোল বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র যারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমর্থনে খোলাখুলি সমর্থন জানায় । ১৯৬০ এর দশকে দুর্গাপুরের বিখ্যাত মাইনিং অ্যান্ড অ্যালায়েড মেশিনারি কর্পোরেশন ( এমএএমসি) ও ভারত অপথ্যালমিক গ্লাস লিমিটেড( বিওজিএল) কারখানা দুটি গড়ে ওঠে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায়।ঐতিহাসিক ভারত-সোভিয়েত মৈত্রি চুক্তি কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজও ভারত-রাশিয়া মৈত্রিবন্ধনের আবদ্ধ । দুর্গাপুর শিল্পনগরীর সাথে এমএএমসি ও বিওজিএল কারখানা সহ অসংখ্য কারখানার সংযোগকারী রাস্তা হোল ‘লেনিন সরণী’। বাজপায়ী নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার(যে মন্ত্রীসভার অন্যতম মন্ত্রী ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি)এর আমলে দুর্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা বন্ধ ও ধংস্ব করার কাজ শুরু হয়ে যায় । সেই সময় একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা এমএএমসি,ফার্টিলাইজর ও পরবর্তীতে ভারত অপথ্যালমিক ।এই সময়ে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারে উদ্যোগে ‘লেনিন সরণী’-র দু-পাশে গড়ে ওঠে অসংখ্য কারখানা । বর্তমান দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তৃণমূল পরিচালিত  পৌর বোর্ড আচমকাই ঐতিহ্যবাহী ‘লেনিন সরণী’-র নাম পরির্তন করে সদ্য প্রয়াত গায়িকা লতা মঙ্গেসকারের নামাঙ্কতি করতে চেয়ে  প্রস্তাব গ্রহন করেছে।সিপিআই-এম ও বামফ্রন্ট সহ অন্যান্য বাম দল গুলি একাট্টা হয়ে পত্রাপাঠ এই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় ও বিশাল প্রতিবাদ সভা সংগঠিত করে । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে । আজ, ইস্পাত শ্রমিক সংগঠন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(সিআইটিইউ) এর  দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার পক্ষ থেকে যৌথ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার এডিএম ও দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পুর কমিশনার ময়ূরী ভাসু ও এসডিএম শেখর কুমার চৌধুরীর সাথে দেখা করে ইউনয়নের পক্ষ থেকে এক স্মারক লিপি জমা দিয়ে অবিলম্বে এই ‘আপত্তিকর’ প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানানো হয় । স্মারক লিপিতে তুলে ধরা হয় যে ১৯৬৫ সালে তৎকালিন কংগ্রেস সরকারের সময় দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ( ডিডিএ ) ‘লেনিন সরণী’-র নামকরন করে । দেশ ও বিদেশের বহু মনীষীর নামে ইস্পাতনরী সহ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তার নামকরন করা হলেও,এর পরিবর্তনের কোন উদাহরন নেই। দুর্গাপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার এখন নামকরন হয় নি । সেই রকম কোন রাস্তার নামাঙ্কন প্রয়াত গায়িকা লতা মঙ্গেসকারের নামে করলেই তবেই তাঁর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা হবে। কিন্তু কোন ভাবেই ‘লেনিন সরণী’-র নাম পরিবর্তন করে ইতিহাস মুছে দেওয়া,বিকৃতি করা চলবে না ও শ্রমিক শ্রেনীর নেতা কমরেড লেনিনের নাম মুছে ফেলে শ্রমিকদের অপমান করার প্রচেষ্টা বরদাস্ত করবে না ইস্পাত শ্রমিকরা। আজ কমরেড লেনিনের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে,কাল গান্ধীজী-নেহেরু-সুভাষচন্দ্র বসু-ভগৎ সিং-অ্যানি বেসান্তের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হবে । ইস্পাত শ্রমিক সংগঠন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(সিআইটিইউ) এর পক্ষ থেকে এই আশংকা প্রকাশ করেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জি । প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জি,ললিত মিশ্র,সীমান্ত চ্যাটার্জী সৌরভ দত্ত ও নিখিল কুমার দাস ।