Wednesday, 3 May 2017

শ্রমিক সংহতি দিবস পালন করলেন অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকরা ।



দুর্গাপুর,৩রা মে : দুর্গাপুরের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এবং অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকদের কাছে একটি চির স্মরনীয় দিন হল – ৩রা মে । দুর্গাপুরের শ্রমিক আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলির সূচনা লগ্নে ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের উপর হিংস্র আক্রমনের পটভূমিতে  ১৯৬৬ সালের ৩রা মে লাল ঝাণ্ডা হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার পথ চলা শুরু হয় । জন্মলগ্ন থেকে ইউনিয়ন কে  লড়াই এর রাস্তায় চলতে হয়েছে । যখন কেন্দ্রের মোদি সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরনের চক্রান্ত শুরু করে তখন ইউনিয়নের পক্ষ কারখানা বাঁচানোর জন্য যৌথ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় । সেই যৌথ আন্দোলন আজ ইতিহাস রচনা করেছে । এই কারনে ইউনিয়ন আজ রাজ্যের শাসক দলের চক্ষুশূলে পরিনত হয়েছে । দুর্গাপুরে মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে যে কিভাবে তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা গত ২৩শে মার্চ ইউনিয়ন দফ্তর ( ২/১ তিলক রোড ) ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয় এবং নৃশংস আক্রমন চালায় ইউনিয়ন নেতৃত্বের উপর । আক্রমন চালিয়েছে ঠিকা শ্রমিকদের উপর । শ্রমিকরা এর উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন । গত ১১ই এপ্রিল মোদি সরকার অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ৯২% শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দেন ।

৩রা মে ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা দিবস শ্রমিক সংহতি দিবস হিসাবে পালন করা হয় । এই উপলক্ষ্যে আজ ইউনিয়ন দফ্তর রক্তপতাকায় সেজে ওঠে । সকালে থ্যালাসামিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আয়োজিত রক্তদান শিবিরে ৩৫ জন রক্তদান করেন । সন্ধ্যায় শ্রমিক কনভেনশনের আয়োজন করা হয় । বক্তব্য রাখেন অর্ধেন্দু দাক্ষি ,রথীন রায় , জীবন রায়,সন্তোষ দেবরায় ও মলয় ভট্টাচার্য ।












Monday, 1 May 2017

ঐতিহাসিক মে দিবস পালন করল ইস্পাতনগরী ।



দুর্গাপুর,১লা মে : আজ সকাল থেকে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মে দিবস পালন করল ইস্পাতনগরী সকালে প্রথমে বিভিন্ন ইউনিয়ন দফ্তর সেক্টার অফিসে রক্তপতাকা উত্তোলন করা হয় বি.টি.রণদিভে ভবনে ( ১নং বিদ্যাসাগর এভিন্যুরক্তপতাকা উত্তোলন করেন পি.কে.দাস ( এস.ডব্লু.এফ.আই) বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ( এইচ.এস..ইউ ) এইচ.এস..ইউ এর অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার ইউনিয়ন দফ্তরে ( / তিলক রোড ) রক্তপতাকা উত্তোলন করেন প্রনব চক্রবর্তী ট্রাঙ্ক রোডে ইউ.সি.ডব্লু.ইউ এর ইউনিয়ন দফ্তরে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন বিভূতি দাস মন্ডল । বি.টি.রণদিভে ভবন থেকে ইস্পাত শ্রমিকদের একটি বিশাল মোটর বাইক মিছিল ইস্পাতনগরীর বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে মূল অনুষ্ঠান স্হল আশীষ মার্কেটে পৌঁছায় । আশীষ মার্কেটে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন প্রবীন শ্রমিক নেতা জীবন রায় শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন জীবন রায় , সন্তোষ দেবরায় , নির্মল ভট্টাচার্য , সুবীর সেনগুপ্ত সহ বিভিন্ন বামপন্হী দল ,ট্রেড ইউনিয়ন,গন-সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান । জব্বরবাগেও শহীদ বেদীতে মাল্যদান করা হয় । এরপরে আশীষ-জব্বর ভবনে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন প্রবীন শ্রমিক নেতা অজিত মুখার্জী । বিকালে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( এইচ.এস.ই.ইউ ) উদ্যোগে বি.টি.রণদিভে ভবনে গন কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সভাপতি রথীন রায় ও অর্ধেন্দু দাক্ষী । বিভিন্ন  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ।




























Sunday, 30 April 2017

আশীষ-জব্বারের শহীদভূমি ইস্পাতনগরী সাম্প্রদায়িক মেরুকরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল ।



দুর্গাপুর,৩০ এপ্রিল – রাত পোহালেই ঐতিহাসিক মে দিবস । ইস্পাতনগরীর রাস্তায় রাস্তায় লাল ঝাণ্ডার মিছিলের চিরপরিচিত ছবি গত ছয় বছর ধরে শত অপচেষ্টা করে মুছে ফেলা যায় নি । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় কর্মরত ৩৫০০ বেশী ঠিকা শ্রমিক কে সি.আই.টি.ইউ করার ‘ অপরাধে ‘ কাজ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে । পার্টি নেতৃত্ব ও কর্মীদের একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে । তৃণমূলী দুষ্কৃতিদের নৃশংস হামলা শিকার হয়েছেন পার্টি নেতৃত্ব-কর্মীবৃন্দ । মহিলারাও এই হামলা থেকে রক্ষা পায় নি । দখল বা ভাঙ্গচূড় করা হয় একাধিক পার্টি-ইউনিয়ন-গন সংগঠনের অফিস । কিন্তু এত করেও রাজ্যের শাসক তৃণমূল দল ইস্পাতনগরীর বুকে লাল ঝান্ডা কে দমাতে পারে নি । ২০১১ সালের পর যখনই ‘ নির্বাচন ‘ অনুষ্ঠিত হয়েছে , তখনই লাল ঝাণ্ডা কে বেছে নিতে মানুষ ভুল করেনি । ২০১১ তৃণমূল সরকার আসার পরে পর পর দু বার দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় স্হায়ী শ্রমিকদের ইউনিয়ন স্বীকৃতি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সি.আই.টি.ইউ ) । ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম,গনতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রার্থীরা দুর্গাপুরের উভয় কেন্দ্রেই বিপুল ভোটে জয়ী হয় । আজ যখন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের হিংস্র আক্রমনে দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চল বিপন্ন,বিপন্ন মানুষের রুটি-রুজি , তখন লাল ঝান্ডা উঁচিয়ে দুর্গাপুরের মানুষ পাল্টা আন্দোলন গড়ে তোলার হিম্মৎ দেখিয়েছে । গড়ে তুলেছে শক্তিশালী যৌথ আন্দোলন । শ্রমিকের খুনে-রাঙ্গা আশীষ-জব্বারের শহীদভূমি ইস্পাতনগরী জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে বর্তমানে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বাঁচানোর  ‘ মহাকাব্যিক-লড়াই ‘ পর্যন্ত সাক্ষী রয়েছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতার মহান আদর্শ কে পাথেয় করেই মেহেনতী মানুষ-গনতন্ত্র প্রিয় মানুষের ঐক্য,দুর্গাপুরের মানুষ রুটি-রুজির লড়াই এর জয় ছিনিয়ে আনতে পারে । তাই রুটি-রুজির স্বার্থে সাম্প্রদায়িক-বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া অবস্হান গ্রহন করতে দুর্গাপুর দ্বিধা করে না ।
কিন্তু এরমধ্যে সারা দেশের সাথে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিনষ্ট করার জন্য হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী শক্তি যে প্রয়াস নিয়েছে,রাজ্যে ফ্যাসিবাদী কায়দায় শাসন চালাতে বিশ্বাসী তৃণমূল দল সেই প্রয়াসে গোপন ও প্রকাশ্য ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছে । ইস্পাতনগরীতে রামনবমীর দিনে আরএসএস এর সশস্ত্র মিছিলে অনেক পরিচিত তৃণমূলীদের অংশগ্রহন , সাম্প্রদায়িক মেরুকরনে আরএসএস ও তৃণমূলের চক্রান্ত সামনে এনেছে । ইস্পাতনগরীর মানুষ সম্প্রীতি রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষ জোট বাঁধছেন ।

 তাই,আজ বিকালে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির পক্ষ থেকে ধর্মীয় মেরুকরনের বিরুদ্ধে ও জাতীয় ঐক্য,সংহতি এবং সম্প্রীতির রক্ষার জন্য বাম-গনতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ কে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আশীষ মার্কেট থেকে আশীষ-জব্বর ভবন পর্যন্ত এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হলে , বিপুল সংখ্যায় মানুষ মিছিলে যোগদান করেন । ঝড়-বৃষ্টি-প্রবল মেঘ গর্জন উপেক্ষা করে মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং এই মিছিল ইস্পাতনগরীতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেয় এবং গতকাল শিলিগুড়িতে অশোক ভট্টাচার্যের উপর তৃণমূলের হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানায় ।






Saturday, 29 April 2017

মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রান গেল একই পরিবারের চার সদস্যের ।



দুর্গাপুর,২৯শে এপ্রিল : গতকাল মধ্য রাতে ২ নং জাতীয় সড়কের অন্ডালের কাছে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ইস্পাতনগরীর রাণা প্রতাপ রোডের ( ২০/২১ ও ২০/২৩ ) বাসিন্দা একই পরিবারের চার সদস্য মারা গেছেন । প্রানে বেঁচেছেন একজন । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ব্লাষ্ট ফার্নেসের স্হায়ী  শ্রমিক জীবন মুখার্জী ও তার পরিবারের ৪ সদস্য মারুতি ভ্যানে করে পুরুলিয়ায় এক বিয়ে বাড়ীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাতে ফিরছিলেন দুর্গাপুরে । পথে অন্ডালে ট্র্যাফিক জ্যামে পড়ে গাড়ীটি একটি লোহার রড বোঝাই ট্রেলারের পেছনে দাঁড়ালে , পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা অপর একটি ট্রেলার সজোরে মারুতি ভ্যানটি কে ধাক্কা মারে এবং ধাক্কার চোটে সামনে দাঁড়ানো লোহার রড বোঝাই ট্রেলারের পেছনে মারুতি ভ্যানটি ঢুকে যায় । এর ফলে ঘটনাস্হলে ঐ চার জন মারা যান । গুরুতর জখম হলেও প্রানে বেঁচেছেন জীবন মুখার্জী । চিকিৎসাধীন জীবন মুখার্জীর অবস্হা আপাতত স্হিতিশীল । মারা গেছেন জীবন মুখার্জীর মা ভক্তি মুখার্জী ( ৭০ ), ভাই মিলন মুখার্জী ( ৪১), স্ত্রী কনিকা মুখার্জী ( ৪৪ ) ও ছেলে সৌরেন মুখার্জী ( ১৪ )।

দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন ও ক্রমবর্ধমান পথ দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ।


ভক্তি মুখার্জী 


মিলন মুখার্জী 


সৌরেন মুখার্জী


Thursday, 27 April 2017

ইস্পাতনগরীতে নারী শহিদ দিবসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মিছিল করলেন মহিলারা ।



দুর্গাপুর,২৭শে এপ্রিল : সারা ভারত গনতান্ত্রিক মহিলা সমিতি-র ইস্পাত জোনাল কমিটির উদ্যোগে  ইস্পাতনগরীতে নারী শহিদ দিবস পালিত হল । এই উপলক্ষ্যে,বি.টি.রণদিভে ভবনে সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন শুভ্রা গাঙ্গুলী । শহীদবেদীতে মাল্য দান করেন শুভ্রা গাঙ্গুলী , আল্পনা চৌধুরী , মিতা ভট্টাচার্য , রাজলক্ষী দে প্রমূখ । এর পরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রক্ষার আহ্বান জানিয়ে মহিলাদের মিছিল বি-জোনের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে চন্ডিদাস  বাজারে শেষ হয় । সেখানে পথসভায় বক্তব্য রাখেন আল্পনা চৌধুরী ।


Wednesday, 26 April 2017

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর লড়াই আরও জোরদার ও প্রসারিত করার আহ্বান ।



দুর্গাপুর,২৬শে এপ্রিল : প্রবলতম শ্রমিক আন্দোলনের মুখে , রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ সালেম ও ভদ্রাবতী কারখানা বেসরকারী হাতে বিক্রীর প্রক্রিয়া ধাক্কা খেয়েছে, কারন কোন খদ্দের কেনার জন্য এগিয়ে আসে নি । তাই কেন্দ্রীয় সরকার ২রা মে পর্যন্ত টেন্ডারের সময়সীমা বৃ্দ্ধি করেছে । কিন্তু, আজ  ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চের ডাকে , চড়া রোদ কে উপেক্ষা করে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের  মেইন গেটে সমাবেশ বুঝিয়ে দিল যে  ইস্পাত শ্রমিকরা বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে লড়াই এ বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাতে রাজি নয় । একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে । দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় গত ১১ই এপ্রিল বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের  ঐতিহাসিক ধর্মঘটের জন্য ইস্পাত শ্রমিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর লড়াই কে কেন্দ্র করে যে অভূতপূর্ব শ্রমিক ঐক্য তৈরি হয়েছে । এ যাবৎ ৭২ টি যৌথ কর্মসূচী পালিত হয়েছে ।  যৌথ আন্দোলনে কে আরও প্রসারিত করতে হবে । যারা এখনও যৌথ আন্দোলনে যুক্ত হননি,তাঁদের প্রতি তিনি কারখানা বাঁচানোর আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন জানান । আই.এন.টি.ইউ.সি-র বর্ধমান জেলার সভাপতি ও ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিকাশ ঘটক বলেন যে কারখানা বাঁচানোর আন্দোলনের ব্যাপকতা ধর্মঘটের বিরোধীদেরও মন ছুঁয়েছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও রাষ্ট্রায়ত্ব  সংস্হা ছাড়া ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের মানস-নগরী দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বেঁচে থাকা অসম্ভব । তাই অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর লড়াই এর পাশে শিল্পী-ক্রীড়াবিদ-ব্যবসায়ী সহ সমাজের সমস্ত অংশের মানুষ এসে দাঁড়িয়েছেন । সিআইটিইউ -র বর্ধমান জেলার সভাপতি বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে শ্রমিক আন্দোলনের ব্যাপকতা দেখে নানা বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর যে চেষ্টা চলছে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য ইস্পাত শ্রমিকদের কাছে আবেদন জানান । বিএমএস এর বক্তব্য খন্ডন করে তিনি বলেন অতীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী  রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কে চিঠি লিখে আশ্বাস দেওয়ার অব্যবহিত পরেই এম.এ.এম.সি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয় । সাম্প্রতিক কালে , কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দুস্হান কেবলস্ বন্ধ করে দিয়েছে । তাই কারখানা বাঁচানোর স্বার্থে , বিএমএস এর উচিৎ যৌথ আন্দোলনে সাথে যুক্ত হওয়া । একই সাথে তিনি রাজ্য সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেন ।  স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (সিআইটিইউ )-এর সম্পাদক পি.কে.দাস বলেন রাষ্ট্রায়ত্ব  সংস্হা গুলিকে  মোদী সরকারের বেসরকারীকরন-বিলগ্নীকরন করার প্রক্রিয়া আই.এম.এফ-বিশ্ব ব্যাঙ্ক নির্দেশিত তৃতীয় বিশ্বের দেশে ‘অবশিল্পায়ন’-এর চক্রান্তের অঙ্গ । রাষ্ট্রায়ত্ব  সংস্হা গুলিকে  বাঁচাতে এবং লাভজনক সংস্হায় পরিনত করার জন্য শ্রমিক আন্দোলন কে নীতি-পরিবর্তনের লড়াই গড়ে তুলতেই হবে । এছাড়াও আজকের সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিক নেতৃবৃ্ন্দ ।

সমাবেশ থেকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ ও রাষ্ট্রায়ত্ব  সংস্হা বেসরকারীকরন-বিলগ্নীকরন করার বিরুদ্ধে একটি বিশাল নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত করার কথা ঘোষনা করা হয় । 






Tuesday, 25 April 2017

ইস্পাতনগরীর পরিকল্পিত পরিষেবা ব্যবস্হা মজবুত করার দাবী জোড়ালো হচ্ছে ।



দুর্গাপুর,২৫শে এপ্রিল : দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অধীনে থাকা ইস্পাতনগরীর জল-বিদ্যুৎ-পয়োঃপ্রনালী ব্যবস্হা গুরুতর সমস্যার সামনে পড়ছে । গত ১৫ দিন ধরে ইস্পাতনগরীর এস.এন.ব্যানার্জী রোডের বিস্তীর্ন অঞ্চলের কোয়ার্টারের অধিবাসীরা জলের সরবরাহের অভাবে ভয়াবহ অবস্হার সম্মুখীন হন । পানীয় জলের পাইপ ফুটো হয়ে ম্যানহোলের জল সাথে মিশে যায় । দূষিত জল পান করে ঐ অঞ্চলের কোয়র্টারের বহু মানুষ অসুস্হ হয়ে পড়েন । ১৪ জন কে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় । খবর পেয়ে স্হানীয় বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় এলাকায় ছুটে যান । দলে দলে এলাকার মানুষ বিশেষ করে বাড়ীর মহিলরা  বিধায়কের কাছে এসে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন । বিধায়ক কালবিলম্ব না করে ইস্পাত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ( সিআইটিইউ ) এর নেতৃবৃন্দ এর সাথে যোগাযোগ করেন । এরপরেই কর্তৃপক্ষের সাথে ইউনিয়ন সমূহের  নেতৃবৃন্দে  আলোচনা শুরু হয় । পরিস্হিতি মোকাবিলায় জরুরী ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য ইউনিয়ন সমূহের নেতৃবৃন্দ দাবী জানায় । কর্তৃপক্ষ দাবী মেনে জলের সরবরাহের ট্যাঙ্ক্যারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং পানীয় জলের সরবরাহকারী পাইপ লাইন ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও লোকবল নিয়োগ করে দূষনের জায়গা খুঁজে পায় ও মেরামতি শুরু করেছে । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার মুখে । এ দিকে ইউনিয়নের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই কর্তৃপক্ষ একতরফা ভাবে টাউনশীপে দিনে একবার জল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে । কর্তৃপক্ষের কাছে  ইউনিয়নের পক্ষে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীও জানানো হয়েছে বলে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী জানিয়েছেন । এছাড়াও তিনি , সুষ্ঠ নাগরিক পরিষেবার জন্য ও  ইস্পাতনগরীর জল-বিদ্যুৎ-পয়োঃপ্রনালী ব্যবস্হা উন্নতির জন্য , কর্তৃপক্ষ কে উপযুক্ত ব্যবস্হা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন ।