Thursday, 8 June 2017

সিপিআই(এম) এর সাধারন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানালো ইস্পাতনগরী ।



দুর্গাপুর,৮ই জুন : সিপিআই(এম) এর কেন্দ্রীয় কমিটির দফ্তর ও সাধারন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির উপর হামলার প্রতিাবাদ জানালো ইস্পাতনগরী ।

 প্রতিবাদ জানিয়ে , ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির ডাকে,আজ সন্ধ্যায় আশীষ মার্কেট , চন্ডিদাস বাজার ও সেইল আবাসন অঞ্চলে তিনটি পৃথক পথসভায় বহু মানুষ যোগ দেন ।




Monday, 5 June 2017

নবান্ন-অভিযানের প্রথম শহীদ সলিল বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও পুলিশের বর্বোরোচিত হামলার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে ইস্পাতনগরীতে মিছিল ।



দুর্গাপুর,৫ই জুন : আজ বিকালে নবান্ন-অভিযানের প্রথম শহীদ সলিল বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও পুলিশের বর্বোরোচিত হামলার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির ডাকে  ইস্পাতনগরীতে দুটি মিছিল হয়।
বি-জোনের মিছিল বি.টি.রণদিভে ভবন থেকে শুরু হয় বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে শেষ হয় বি.টি.রণদিভে ভবনে । সেইল সমবায় আবাসন অঞ্চলে অপর মিছিলটি হয় ।



আজ সকালে , জাতীয় কংগ্রেসের ও আই.এন.টি.ইউ.সি-র নেতা এবং দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রয়াত বংশী কর্মকার এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ইস্পাতনগরীর জাতীয় কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর মরদেহে মাল্যদান করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী)-র দুর্গাপুর ইস্পাত জোনাল কমিটির নেতৃবৃন্দ । মাল্যদান করেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ।


Tuesday, 30 May 2017

ইস্পাতনগরীতে নাগরিক পরিষেবার ক্রমাবনতির বিরুদ্ধে সি.আই.টি.ইউ এর বিক্ষোভ-সমাবেশ ।



দুর্গাপুর,৩০শে মে : প্রায় ৬০ বছরের পুরানো ইস্পাতনগরীতে  নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে । সময়ের সাথে সাথে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে , চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে , কিন্তু তার সাথে সংগতিপূর্ন পরিষেবা পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ইস্পাত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করছে না বলে অভিযোগ করেছে হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন । এর ফলে ইস্পাতনগরীর জল – বিদ্যুৎ - পয়োঃপ্রনালী ব্যবস্হা চরম সংকটে পড়েছে । এ মাসের গোড়ার দিকে প্রচন্ড গরমের সময় লাগাতার ১৫ দিন ধরে জল সরবরাহ ব্যবস্হা প্রায় অকেজ হয়ে পড়ে । জলের পাইপ-লাইন ফেটে এই বিপত্তি । জলের পাইপ-লাইন ফেটে পানীয় জলের সাথে পয়োঃপ্রনালীর জল মিশে যায় । সেই দূষিত জল পান করে অনেকে গুরুতর অসুস্হ হয়ে পরে । তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করতে হয় । হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করে ইস্পাত কর্তৃপক্ষ কে সতর্ক করা হলেও , কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ করে নি । জল সরবরাহ ব্যবস্হার সাথে সাথে জলের উৎস্হলও বিপন্ন হয়ে পড়েছে । ডিভিসি-র ক্রমান্বয় অবহেলায় সমগ্র দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের জল সরবরাহের উৎস দামোদর নদের চ্যানেল পলি পরে বুজে এসেছে । এই অবস্হায় ভয়াবহ পরিস্হিতির মোকাবিলায় ইউনিয়ন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলেও , ইস্পাত কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করছে কারন মোদি সরকারের ঘোষিত নীতি হল সেইলের টাউনশীপের বেসরকারীকরন । ফলে ইস্পাতনগরীর জল সহ সমস্ত পরিষেবা বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে । এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই, দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় প্রতিকার চেয়ে কর্তৃপক্ষ কে চিঠি দিয়েছেন ।   অন্যদিকে ইস্পাত কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য পরিষেবার বেপরোয়া মূল্য বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে । শহর ও সংলগ্ন অঞ্চল  জুড়ে শাসক তৃণমূল দলের মদতে বেআইনী বস্তি-দোকান নির্মান ও বিদ্যুৎ-চুরির রমরমায় লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা চলছে । পুলিশ ও রাজ্য  প্রশাসনের অসহযোগিতার অজুহাতে ইস্পাত কর্তৃপক্ষ ইস্পাতনগরীর সামগ্রিক আইন-শৃংখলা রক্ষার বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে । এই সমস্ত অভিযোগের অবিলম্বে প্রতিকার চেয়ে  আজ দুপুর বেলায় , হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর ডাকে ইস্পাতনগরীর পৌর প্রশাসনিক ভবনে ( টি.এ.বিল্ডিং ) বিক্ষোভ-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্বপন মজুমদার , নন্দলাল দাস , প্রকাশতরু চক্রবর্তী ও মৃত্যুঞ্জয় ঝা ।ইস্পাতনগরীর পৌর প্রশাসন কর্তৃপক্ষের জি.এম. গৌতম সাহার কাছে ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে দাবী-সম্বলিত স্মারক লিপি জমা দেওয়া হয় । কর্তৃপক্ষ খুব শীঘ্রই ইউনিয়নদের সাথে আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ।

এ দিকে , আজ সকালে বি.টি.রণদিভে ভবনে,সি.ই.টি.ইউ এর ৪৭-তম প্রতিষ্ঠা বারষিকী উপলক্ষ্যে রক্ত-পতাকা উত্তোলন করেন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর পক্ষে বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ও স্টিল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে পি.কে.দাস ।






Monday, 29 May 2017

মেহেনতি মানুষের সংগ্রাম বিকশিত করেই ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জোড়দার লড়াই গড়ে তোলা সম্ভব ।



দুর্গাপুর , ২৯শে মে : আজ সন্ধ্যায়  ইস্পাতনগরীর দেশবন্ধু ভবনে , ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র ইস্পাত জোনাল কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘ সাম্প্রদায়িকতার বিপদ ও আমাদের দায়িত্ব ‘- শীর্ষক আলোচনা সভায় একথা বলেন একক আলোচক ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী । তিনি বলেন যে পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারতের সাম্প্রদায়িকতার ভাবাদর্শ নির্মান করে এবং সেই ভাবাদর্শ হিন্দুত্ববাদী ও মুসলিম সাম্প্রদায়িক শক্তি উভয়ে গ্রহন করে পরিপুষ্ট হয় , যা ভারতের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ধারার সাথে মেলে না । এই প্রসঙ্গে তিনি উল্ল্যেখ করেন যে ১৯৩১ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের করাচী অধিবেশনে স্বাধীন ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহন করা হয় । তথাপি স্বাধীনতার সময়ে কলংকজনক দেশভাগের স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে । ১৯৯১ সালে দেশে নয়া অর্থনীতির প্রনোয়নের সাথে সাথে দেশে সাম্প্রদায়িকতার ধরন ও বিপদ পাল্টেছে । হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসাবে ‘ রাজনৈতিক হিন্দু ‘ ধারনা নির্মান করার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় পরিচিতি কে ব্যবহার করে মেরুকরনের মাধ্যমে কেবল রাজনৈতিক নয় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চাইছে । সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িকতা বিপজ্জনক , কিন্তু তা কোন ভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের রাস্তায় যাওয়ার সমর্থ হয় না । ‘রাজনৈতিক হিন্দু ‘ ধারনা প্রসার ঘটাতে হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বেদ-মহাকাব্য-গীতা-পুরানের ভুল ভাষ্য হাজির করছে । ইতিহাসের বিকৃতিকরন  করছে । অন্যদিকে হিন্দু ধর্মের   ‘তেত্রিশ কোটি দেবতার’ বহুত্ববাদী ধারনার বদলে এক দেবতা,এক ধর্মের ধারনায় ধর্মপ্রান মানুষ কে বেঁধে ফেলতে চাইছে হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি । বিভিন্ন বিকৃত তথ্য হাজির সংখ্যালঘু  সম্প্রদায়কে ‘কাল্পনিক’ শত্রু হিসাবে চিত্রিত করে , বর্তমান নব্য উদার অর্থনীতিতে চরম ভাবে নিষ্পেষিত মেহেনতি মানুষ কে ভুল বুঝিয়ে লড়াই-সংগ্রামের রাস্তা থেকে দুরে সরিয়ে রাখার লক্ষ্যে , সংখ্যালঘু  সম্প্রদায়কে ‘প্রতিপক্ষ ‘ চিহ্নিত করতে চাইছে । আসলে নব্য উদার অর্থনীতিতে গেরুয়া ঝাণ্ডা হল পুঁজির ঝাণ্ডা । তাই সাম্প্রাদায়িকতার বিরুদ্ধে , ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে লড়াই জোরদার করতে হলে নব্য উদার অর্থনীতির বিরু্ধে মেহেনতী মানুষের ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য গড়ে লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে । সেই লড়াই বিকশিত করা বামপন্হীদের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্মল ভট্টাচার্য । উপস্হিত ছিলেন সন্তোষ দেবরায় , মহাব্রত কুন্ডু ,সুবীর সেনগুপ্ত প্রমূখ ।











Saturday, 27 May 2017

অনায্য ভাবে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের সমবায় নির্বাচন স্হগিত করার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাল সিআইটিইউ ।



দুর্গাপুর,২৭শে মে : গতকাল এ.আর.সি.এস এর থেকে নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার অশোক মন্ডল হটাৎ এক বিজ্ঞপ্তি  দিয়ে  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এমপ্লয়িজ কো অপঃ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের আসন্ন নির্বাচন একতরফা ভাবে স্হগিত করার আদেশ জারী করেছেন । এই ঘটনায় কারখানায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে । কারন এই সমবায়ে শ্রমিক ও আধিকারিকদের বিপুল পরিমান অর্থ লগ্নি করা আছে । আগামী ২২শে জুনের মধ্যে নির্বাচন না হলে শ্রমিক প্রতিনিধির পরিবর্তে রাজ্য সমবায় দফ্তরের নিযুক্ত প্রশাসক নিযুক্ত হবে । ফলে বিপুল পরিমানের লগ্নির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে ।

বিগত ২০১২ সালের ২০শে এপ্রিল নির্বাচনের নামে প্রহসন করে জোরপূর্বক সমবায়ের দখল নেয় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আই.এন.টি.টি.ইউ.সি । তার পরে দামোদর দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর জন্য যৌথ আন্দোলনের বিরোধীতা এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বেসরকারীকরনের জন্য মোদি সরকারের প্রতি ‘ নীরব-সমর্থন ’ , শ্রমিক ও আধিকারিকদের কাছে তৃণমূলের মুখোসের আড়ালে আসল মুখ দেখিয়ে দিয়েছে । এমন কি,বেসরকারীকরনের বিরুদ্ধে গত ১১ই এপ্রিল যৌথমঞ্চের ডাকে ঐতিহাসিক ধর্মঘটে,নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে দলে দলে তৃণমূলের  সাধারন সদস্য ধর্মঘটে যোগদান করেন । অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সহ গোটা দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে । তাই নির্বাচনের মুখোমুখি হতে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে বলে অভিমত জানিয়েছে  হিন্দুসহান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ( সি.আই.টি.ইউ ) অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট শাখার পক্ষে সম্পাদকমণ্ডলীর আহ্বায়ক মলয় ভ্টাচার্য । তিনি রিটার্নিং অফিসারে জারী করা বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন যে কারখানার অভ্যন্তরে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে সি.আই.এস.এফ । এক্ষেত্রে নির্বাচন হয় কারখানার অভ্যন্তরে । তাহলে পুলিশের অজুহাতে নির্বাচন স্হগিত করার যুক্তি ধোপে টেকে কি করে ? তিনি আরও জানান যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর জন্য যৌথ আন্দোলনের সাথে সাথে অবিলম্বে সমবায় নির্বাচনের দাবীতে জোরদার আন্দোলন চালিয়ে যেতে হিন্দুসহান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ( সি.আই.টি.ইউ ) বদ্ধপরিকর । এক্ষেত্রে অন্য ইউনিয়নগুলির সাথে ঐক্যমত গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে ।

Friday, 26 May 2017

অবিলম্বে উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিকদের কাজে ফেরানো সহ একগুচ্ছ দাবীতে আই.কিউ সিটি-র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভ ।



দুর্গাপুর , ২৬শে মে : আজ বিকালে , সারা ভারত কৃষক সভার শোভাপুর অঞ্চল কমিটি ও পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন কমিটি (ইস্পাতনগরী )-র যৌথ আহ্বানে          ইস্পাতনগরী-সংলগ্ন আই.কিউ সিটি-র সামনে ৬-দফা দাবীতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । বিক্ষোভ-সমাবেশে উচ্ছেদ হওয়া শ্রমিক পরিবার , জমিদাতা চাষী পরিবার ও বস্তিবাসীরা যোগ দেন । সংহতি জানিয়ে সমাবেশে যোগ দেন ইস্পাত শ্রমিক ও ইস্পাতনগরীর গনতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকবৃন্দ ।
বিগত ২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে তৎকালিন দুর্গাপুর-১ বিধানসভার বিধায়ক ও পঃ বঙ্গের বিদ্যুৎমন্ত্রী প্রয়াত মৃণাল ব্যানার্জীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় , ১০০ একর জায়গার উপরে তিনশো বেডের হাসপাতাল সহ মেডিক্যাল কলেজ , নার্সিং ট্রেনিং কলেজ ও বিশাল আবাসন প্রকল্প নিয়ে , আই.কিউ সিটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয় । ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন । শুরুতে প্রকল্পের নাম ছিল ‘ নলেজ সিটি ‘ । রাজ্য সরকার অধিগৃহীত ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার উপর ন্যস্ত এই জমিতে ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্টের সময় চাষ করার অধিকার পান স্হানীয় গ্রাম ও বস্তিবাসি । এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে তাদের অবস্হার উন্নতি হবে এই বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় বিনা ক্ষতিপূরনে তারা জমির অধিকার ত্যাগ করেন । প্রকল্পের নির্মান কাজ শুরু হলে গ্রাম উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে জমিদাতা পরিবারের সদস্যদের নির্ম্মান কাজে শ্রমিক হিসাবে নিযুক্ত করা হয় । পরবর্তীকালে গ্রাম ও বস্তির অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা কাজ পান । প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ ও গ্রাম উন্নয়ন কমিটির পারস্পরিক সহযোগিতায় প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে । কিন্তু ২০১১ সালে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন ঘটে । মমতা ব্যানার্জী নেতৃত্বাধীন তৃনমূল সরকার গঠিত হলে সমগ্র দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সাথে সাথে আই.কিউ সিটি প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনে কালো দিন নেমে আসে । তৃণমূলীরা কর্মরত জমিদাতা শ্রমিকদের অধিকাংশ কে কাজ থেকে উচ্ছেদ করে এবং বহিরাগতদের নিয়োগ করে নিজেরা ফুলে-ফেঁপে ওঠে । শুধু তাই নয় , হটাৎ একদিন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী উপস্হিত হয়ে পুরনো ভিত্তিপ্রস্তর সরিয়ে ২০০৭ সাল থেকে চালু হওয়া আই.কিউ সিটি প্রকল্পের পুনরায় ‘ শিলান্যাস ‘ করেন । এই সুযোগে আই.কিউ সিটি প্রকল্পের কর্তৃপক্ষ দাঁত-নখ বার করে কর্মরত শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে । প্রতিবাদ করলে জুটছে কর্তৃপক্ষের গলাধাক্কা ও তৃণমূলী দুষ্কৃতিদের রক্তচক্ষু । প্রতিকার চেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারস্হ হলে সেখানে জুটছে আর এক প্রস্হ শাসানি । এই অবস্হায় এলাকার অধিবাসীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রকাশ ঘটল আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশে বলে মনে হচ্ছে ।

আজকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নির্মল ভট্টাচার্য , মনোজ হাজরা ,আল্পনা চৌধুরী ও স্বপন সরকার । বক্তারা কার্যতঃ হুঁশিয়রী দিয়ে বলেন যে অবিলম্বে যদি অবস্হার পরিবর্তন না হয় তবে কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে । উপস্হিত ছিলেন দুর্গাপুর ( পূ্র্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় , সুবীর সেনগুপ্ত , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী প্রমূখ । প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে বিক্ষোভ-সমাবেশের শেষ পর্বে ব্যাঘাত ঘটে । বিক্ষোভ-সমাবেশে চলাকালীন  এক প্রতিনিধি দল গিয়ে আই.কিউ সিটি প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী-সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন ।





Tuesday, 23 May 2017

অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বেসরকারীকরনে কেন্দ্রীয় সরকার আরও একধাপ এগলো : প্রতিবাদে প্রবল শ্রমিক বিক্ষোভ



দুর্গাপুর , ২৩শে মে : অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বেসরকারীকরনে কেন্দ্রীয় সরকার আরও একধাপ এগলো । সেইলের বিশেষ ইস্পাত কারখানা সালেম ,ভদ্রাবতী ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বেসরকারীকরনের জন্য ট্র্যানসাকশন  অ্যাডভাইসার , লিগ্যাল অ্যাডভাইসার ও  অ্যাসেট ভ্যালুয়ার চেয়ে যে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল , তাতে সারা দিয়ে যে বিভিন্ন সংস্হা এসেছে , তাদের বাছাই করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা জানতে পেয়ে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের শ্রমিকদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । ট্রেড ইউনিয়নদের যৌথ মঞ্চের ডাকে  জি-শিফটের শুরুতে কারখানার মেইন গেটে বিক্ষোভ-সমাবেশে বিপুল সংখ্যায় স্হায়ী ও ঠিকা শ্রমিক যোগ দেন । বিক্ষোভ-সমাবেশ পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় কোনমতেই বেসরকারীকরন করা যাবে না এবং কোনভাবেই ট্র্যানসাকশন  অ্যাডভাইসার , লিগ্যাল অ্যাডভাইসার ও  অ্যাসেট ভ্যালুয়ার কে কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না । সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিজয় সাহা , নিখিল দাস ,( সি.আই.টি.ইউ ) ও মনিলাল সিনহা ।