Friday, 11 August 2017

পৌর নির্বাচনের প্রাক্কালে ইস্পাতনগরীতে তৃণমূলের ভয়াবহ আক্রমন : সি.পি.আই.(এম ) নেতৃত্বের প্রান নাশের পরিকল্পিত চেষ্টা ?



দুর্গাপুর,১১ই আগষ্ট : গতকাল রাত ৯-০০ টা নাগাদ প্রায় ৪০-৫০ জন তৃণমূলী দুষ্কৃতি মুখে কাপড় বেঁধে অতর্কিতে ‘মমতা ব্যানার্জী জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিতে দিতে লাঠি,রড সহ অন্যান্য অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ইস্পাতনগরীর সি.পি.আই.(এম ) এর মূখ্য কার্যালয় শহীদ আশিষ-জব্বার ভবনে ঢুকে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক ও সি.পি.আই.(এম ) এর বর্ধমান ( পশ্চিম ) জেলা সাংগঠনিক কমিটির অন্যতম সদস্য সন্তোষ দেবরায়ের খোঁজ করতে থাকে । সেই সময়ে সন্তোষ দেবরায় , জেলা সাংগঠনিক কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য ও সুবীর সেনগুপ্ত এবং ৮ নং ওয়ার্ডের সি.পি.আই.(এম ) প্রার্থী কাজল চ্যাটার্জী একটি ঘরে বসে বৈঠক করছিলেন । সেই সময়ে উপস্হিত হাতে গোনা  কয়েক জন পার্টি কর্মীদের তৎপরতায় পার্টি নেতৃত্বের প্রান রক্ষা হলেও ভবনের একতলায় তৃণমূলী দুষ্কৃতিরা তান্ডব চালায় । সমস্ত আসবাবপত্র সহ টেলিফোন,বইয়ের আলমারী , দেওয়াল ঘড়ি প্রভৃতি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় ।নষ্ট করে জ্যোতি বসুর প্রতিকৃতি । চুরমার করে দেয় পার্টির গাড়ী সহ ৪টি বাইক ও ১টি স্কুটি । পার্টি নেতৃত্বের খোঁজে দফ্তরের আংশিক সময়ের কর্মী রাম পাত্র ও অলোক মুখার্জী কে বেধরক মারধোর করে এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দুষ্কৃতিরা চম্পট দেয় । খবর পেয়ে অনতিবিলম্বে ঘটনাস্হলে আসেন পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য মদন ঘোষ , বর্ধমান ( পশ্চিম ) জেলা সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী,পঙ্কজ রায় সরকার, পার্থ মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । আসেন অনেক পার্টি সদস্য ও দরদী । পরে পুলিশের কাছে পার্টির পক্ষ থেকে এফ.আই.আর দায়ের করা হলেও কেউ গ্রেপ্তার হয় নি ।


অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও ইস্পাতনগরীতে সন্ত্রাস-মুক্ত পরিবেশে ১৩ই আগষ্ট দুর্গাপুরের পৌর নিগমের নির্বাচন করার দাবীতে আজ বিকাল ৩-০০ সময়ে দুর্গাপুর থানায় সি.পি.আই.(এম ) এর পক্ষ থেকে প্রবল বিক্ষোভ দেখানো হয় । লাগাতার বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১ ঘন্টা ধরে বিক্ষোভ চলে ।  সি.পি.আই.(এম ) এর পক্ষ থেকে থানার ওসি কে দাবী সম্বলিত স্মারক লিপি জমা দেওয়া হয় । উপস্হিত ছিলেন পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য মদন ঘোষ , বর্ধমান ( পশ্চিম ) জেলা সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । 
























Wednesday, 9 August 2017

বেসরকারীকরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টে বিশাল বিক্ষোভ ।



দুর্গাপুর,৯ই আগষ্ট : বিপন্ন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল । মোদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের শিল্প – পরমানু – প্রতিরক্ষা – মহাকাশ অভিযান এর মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলির জন্য অত্যাবশকীয় ইস্পাত সরবরাহকারী অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন করবে । একই সাথে রাষ্ট্রয়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ( সেইল )-র অন্য দুটি বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক কারখানা সালেম ( তামিলনাড়ু ) ও ভদ্রাবতী ( কর্নাটক ) কে বেসরকারীকরন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার । এর বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু ও কর্নাটক তীব্র বিরোধীতা করেছে । কিন্তু ‘রহস্যময় ‘ কারনে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীরব ! স্হানীয় সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও রাজ্যের বাম পরিষদীয় দলের নেতা ডঃ সূজন চক্রবর্তী নেতা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে পৃথক ভাবে চিঠি দিয়ে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন রোখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানালেও , মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চুপ ।
অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন রোখার জন্য সি.আই.টি.ইউ,আই.এন.টি.ইউ.সি সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ( বিএমএস ও তৃণমূল যোগ দেয় নি ) যৌথ মঞ্চ গড়ে তুলেছে । সমগ্র সেইল জুড়েও গড়ে উঠেছে যৌথ মঞ্চ ।
আজ সেইলের ইস্পাত শ্রমিক-কর্মচারীরা দিল্লিতে এই বেসরকারীকরন রোখার জন্য সংসদ ও নীতি আয়োগের দফ্তরে অভিযান করেন । দুর্গাপুর থেকে এই  অভিযানে যোগ দিতে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শয়ে শয়ে শ্রমিক-কর্মচারী  নিজেদের পয়সা খরচ করে দিল্লি গেছেন ।

এই অভিযানের সমর্থনে ও অ্যালয় স্টিল , সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন বাতিলের দাবীতে আজ সকাল থেকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টর মেইন গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে দলে দলে শ্রমিকরা যোগ দেন । আধিকারিকরা আটকে পড়েন । সমাবেশ থেকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বেসরকারীকরন রোখার আন্দোলন জোরদার করার জন্য আসন্ন দুর্গাপুর পৌর ভোটে বাম,গনতান্ত্রিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ প্রার্থীদের জয়ী করার আবেদন জানানো হয় । দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর   সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির ফলে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল বিপন্ন হয়ে পড়েছে । তাই বেসরকারীকরন বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে, তিনি আসন্ন দুর্গাপুর পৌর ভোটে বাম,গনতান্ত্রিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ প্রার্থীদের জয়ী করার আবেদন জানান । এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাম পঙ্কজ গাঙ্গুলী ,নিখিল কুমার দাস ,শত্রুঘ্ন দেওঘরিয়া , ললিত মিশ্র , রজত দিক্ষিত ,যশোদা দুলাল চক্রবর্তী ও অসীম অধিকারী । উপস্হিত ছিলেন বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ও রথীন রায় ।









Tuesday, 8 August 2017

প্রবল জনমতের চাপে দখল-মুক্ত হল বি.টি.রণদিভে ভবন ।



দুর্গাপুর ,৮ই আগষ্ট : গতকাল সকাল থেকে ইস্পাতনগরী ও সংলগ্ন অঞ্চলে আসন্ন দুর্গাপুর পৌর নির্বাচন উপলক্ষ্যে বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার চালাতে গেলে এলাকার বিধায়ক ও প্রার্থীদের, পুলিশ-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে,তৃণমূল দফায় দফায় বাধা দেয়।
গতকাল বেলা প্রায় তিন টা নাগাদ , তৃণমূলীরা আচমকা হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) ও স্টিল ওয়র্কার্স ফেডরেশন অফ ইন্ডিয়া ( সি.আই.টি.ইউ ) দফ্তর বি.টি.রণদিভে ভবনে ( ১নং বিদ্যাসাগর এভিন্যু ) ভাঙ্গচূর-লুঠপাঠ চালায়,লাল ঝাণ্ডা খুলে লোপাট করে,বোর্ড খুলে নেয় ও তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেয়।খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে ট্রেড ইউনয়নের সর্বক্ষনের কর্মী এবং ৭নং ওয়ার্ডে সি.পি.আই.(এম) এর প্রার্থী স্বপন সরকার পৌঁছালে তাকে তৃণমূলীরা মারধোর করে । প্রসংগত, দুর্গাপুর বাঁচাতে , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাতে , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বাঁচাতে এবং মোদি সরকারে নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলে এর বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্ট এর বেসরকারীকরনের বিরোধীতা করার জন্য হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) ও স্টিল ওয়র্কার্স ফেডরেশন অফ ইন্ডিয়া ( সি.আই.টি.ইউ ) এর শয়ে শয়ে সদস্য নিজেদের টাকা-পয়সা খরচা করে আজই ট্রেন যোগে দিল্লি রওনা দিয়েছেন । তারা আগামীকাল দিল্লিতে সংসদ ভবন সহ নীতি আয়োগের দফ্তরে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত শিল্পের ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মোর্চা ( বিএমএস ও তৃণমূল বাদে ) পক্ষ থেকে সারা ভারতের ইস্পাত শ্রমিক-কর্মচারিরা  বিক্ষোভ প্রদর্শনে যোগ দেবেন । এই অনুপস্হির সুযোগে তৃণমূল বি.টি.রণদিভে ভবনে কাপুরোষচিত হামলা চালায় ।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই সমস্ত দুর্গাপুর জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে । ইস্পাত শ্রমিকদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় । বিধানসভায় এই খবর পৌঁছাতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় । সি.পি.আই.(এম) বিধায়ক রুনু দত্ত বিষয়টি বিধানসভায় উথ্থাপন করলে ,স্পীকার বাধা দেন ।
ইতিমধ্যে ঘটনাস্হলে বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় সহ অন্যান্য পার্টি নেতৃবৃন্দ  ইউনিয়ন দফ্তরে পৌঁছালে , প্রবল জনমতের চাপে পুলিশ-প্রশাসন নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় এবং ইউনিয়ন অফিস দখল মুক্ত হয় ।
আরও উল্ল্যেখ্য, বি.টি.রণদিভে ভবনের উল্টোদিকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বাংলো ( ২০নং বিদ্যাসগর এভিন্যু ) তৃণমূলের অবৈধ ভাবে দখল করে নির্বাচনী দফ্তর বানিয়েছে । অভিযোগ , সেখানে দুর্গাপুর পৌর নির্বাচন ‘পরিচালনা’ করতে আানসোলের মেয়র ও তৃণমূলের নেতা জিতেন তেওয়ারির নেতৃত্বে এক দল কুখ্যাত কয়লা-মাফিয়া ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গো ঘাঁটি গেড়েছে । এ বিষয়ে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্য প্রশাসন ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ কে জানালেও , এখনও কোন ব্যবস্হা নেওয়া হয় নি ।
এ দিকে কাল সকালে ১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ইস্পাতনগরীর সংলগ্ন অঞ্চল ধোবিঘাটে ঐ ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট মনোনিত সি.পি.আই.(এম ) প্রার্থী জয়শ্রী দে বিশ্বাসের সমর্থনে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়ের নেতৃত্বে  যখন নির্বাচনী প্রচার চলছিল ,তখন তৃণমূলের দুষ্কৃতিরা বাধা দেয় ।  বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় তৎক্ষনাৎ পুলিশ কে জানালে,পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে তৃণমূলীদের সাথে সুর মিলিয়ে এলাকারই বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও অন্যান্য পার্টি নেতা-কর্মীদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন । বিকালে অন্য একটি ঘটনায়,১০ নং ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট মনোনিত সি.পি.আই.(এম ) প্রার্থী কালিশংকর ব্যানার্জী ভাবা রোড সংলগ্ন জে.সি.বোস বস্তি অঞ্চলে প্রচার চালানো সময় তৃণমূলীরা বাধা দেয় ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে । রাতে ৪নং ওয়ার্ডের নাগার্জুন , ভারতী,জয়দেব প্রভৃতি জায়গায় সি.পি.আই.(এম ) কর্মী-সমর্থকদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তৃণমূলীরা হুমকী দেয় ।
কিন্তু এর মধ্যেই বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার চলছে। কাল সন্ধ্যায় অশোক এভিন্যু এর খোলা মার্কেটে এক নির্বাচনী পথ সভায় সি.পি.আই.(এম) এর বর্ধমান জেলা ( পশ্চিম ) সাংগঠনিক কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য  এই সব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে জন-বিচ্ছিন্ন তৃণমূল পুলিশ-প্রশাসনের মদতে  দুর্গাপুর নগর নিগমের নির্বাচনে জেতার সন্ত্রাস করছে । তিনি তৃণমূলের এই জঘন্য ষরযন্ত্র ব্যর্থ করার জন্য জনগনের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান ।
আজ বিজরা গ্রামে এক পথসভায় পার্টির বর্ধমান জেলার ( পশ্চিম ) সাংগঠনিক কমিটির সদস্য সন্তোষ দেবরায় বলেন যে উন্নয়নে সম্পূর্ন ব্যর্থ ও জন-বিচ্ছিন্ন তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত জেনে সন্ত্রাসের রাস্তা নিয়েছে । প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে তিনি বামফ্রন্ট কে জয়ী করার জন্য - নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য আবেদন জানান ।


Monday, 7 August 2017

পুলিশ-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে ইস্পাতনগরীতে তৃণমূলের দফায় দফায় হামলা ,ইউনিয়ন অফিসে ভাঙ্গচূর-লুঠপাঠ ।



দুর্গাপুর ,৭ই আগষ্ট : আজ সকাল থেকে ইস্পাতনগরী ও সংলগ্ন অঞ্চলে আসন্ন দুর্গাপুর পৌর নির্বাচন উপলক্ষ্যে বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার চালাতে গেলে এলাকার বিধায়ক ও প্রার্থীদের, পুলিশ-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে,তৃণমূল দফায় দফায় বাধা দেয়। হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) ও স্টিল ওয়র্কার্স ফেডরেশন অফ ইন্ডিয়া ( সি.আই.টি.ইউ ) দফ্তর বি.টি.রণদিভে ভবনে ভাঙ্গচূর-লুঠপাঠ চালায় এবং লাল ঝাণ্ডা খুলে লোপাট করে ও তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেয়। ছবি তুলতে গেলে মারধোর করে । প্রসংগত, দুর্গাপুর বাঁচাতে , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাতে , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা বাঁচাতে এবং মোদি সরকারে নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলে এর বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা  অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট,সালেম ও ভদ্রাবতী স্টিল প্ল্যান্ট এর বেসরকারীকরনের বিরোধীতা করার জন্য হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ  ইউনিয়ন ( সি.আই.টি.ইউ ) ও স্টিল ওয়র্কার্স ফেডরেশন অফ ইন্ডিয়া ( সি.আই.টি.ইউ ) এর শয়ে শয়ে সদস্য নিজেদের টাকা-পয়সা খরচা করে আজই ট্রেন যোগে দিল্লি রওনা দিয়েছেন । তারা আগামী পরশু দিল্লিতে ইস্পাত দফ্তরে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত শিল্পের ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মোর্চা ( বিএমএস ও তৃণমূল বাদে ) পক্ষ থেকে সারা ভারতের ইস্পাত শ্রমিক-কর্মচারিরা  বিক্ষোভ প্রদর্শনে যোগ দেবেন । এই সুযোগে তৃণমূল বি.টি.রণদিভে ভবনে কাপুরোষচিত হামলা চালিয়েছে ।
আরও উল্ল্যেখ্য, বি.টি.রণদিভে ভবনের উল্টোদিকে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার বাংলো ( ২০নং বিদ্যাসগর এভিন্যু ) তৃণমূল অবৈধ ভাবে দখল করে নির্বাচনী দফ্তর বানিয়েছে । অভিযোগ , সেখানে দুর্গাপুর পৌর নির্বাচন ‘পরিচালনা’ করতে আানসোলের মেয়র ও তৃণমূলের নেতা জিতেন তেওয়ারির নেতৃত্বে এক দল কুখ্যাত কয়লা-মাফিয়া ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গো ঘাঁটি গেড়েছে । এ বিষয়ে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্য প্রশাসন ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষ কে জানালেও , এখনও কোন ব্যবস্হা নেওয়া হয় নি ।
এ দিকে আজ সকালে ১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ইস্পাতনগরীর সংলগ্ন অঞ্চল ধোবিঘাটে ঐ ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট মনোনিত সি.পি.আই.(এম ) প্রার্থী জয়শ্রী দে বিশ্বাসের সমর্থনে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়ের নেতৃত্বে  যখন নির্বাচনী প্রচার চলছিল ,তখন তৃণমূলের দুষ্কৃতিরা বাধা দেয় ।  বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় তৎক্ষনাৎ পুলিশ কে জানালে,পুলিশ ঘটনাস্হলে এসে তৃণমূলীদের সাথে সুর মিলিয়ে এলাকারই বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় ও অন্যান্য পার্টি নেতা-কর্মীদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেন । বিকালে অন্য একটি ঘটনায়,১০ নং ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট মনোনিত সি.পি.আই.(এম ) প্রার্থী কালিশংকর ব্যানার্জী ভাবা রোড সংলগ্ন জে.সি.বোস বস্তি অঞ্চলে প্রচার চালানো সময় তৃণমূলীরা বাধা দেয় ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে ।

কিন্তু এর মধ্যেই বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার চলছে। আজ সন্ধ্যায় অশোক এভিন্যু এর খোলা মার্কেটে এক নির্বাচনী পথ সভায় সি.পি.আই.(এম) এর বর্ধমান জেলা ( পশ্চিম ) সাংগঠনিক কমিটির সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য  এই সব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে জন-বিচ্ছিন্ন তৃণমূল পুলিশ-প্রশাসনের মদতে দুর্গাপুর নগর নিগমের নির্বাচনে জেতার সন্ত্রাস করছে । তিনি তৃণমূলের এই জঘন্য ষরযন্ত্র ব্যর্থ করার জন্য জনগনের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান ।






বি.টি.রণদিভে ভবন 


তৃণমূলের অবৈধ ভাবে দখল করে নির্বাচনী দফ্তর
( ২০নং বিদ্যাসগর এভিন্যু )

Sunday, 6 August 2017

আশিষ-জব্বারের রক্তে রাঙ্গা দুর্গাপুর গনতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ।



দুর্গাপুর ,৬ই আগষ্ট : আজ আবারও ৬ই আগষ্ট । দুর্গাপুরের ইতিহাসের সাথে  এই দিনটির অচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ১৯৬৬ সালের এই দিনে,শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক ও লাল ঝাণ্ডা শ্রমিক ইউনিয়ন হিন্দুস্হান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর সদস্য আব্দুল জব্বার ( ভোর রাত্রি ) এবং ইউনিয়নের সহ-সম্পাদক ও নির্বাচিত ওয়ার্কস কমিটির  আশিষ দাসগুপ্ত ( দিনে ) তৎকালীন রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের পুলিশের লাঠি-গুলিতে শহীদের মৃ্ত্যু বরণ করেন । তার পর থেকে শ্রমিক অধিকার , নাগরিক অধিকার ও গনতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখতে গিয়ে দুর্গাপুরের রাস্তা রাঙ্গা হয়ে গিয়েছে সি.পি.আই.(এম) নেতা-কর্মীর রক্তে । ৩৮ জন শহীদ হয়েছেন। তার মধ্যে,২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে শহীদ হয়েছেন দুই জন । আহত হয়েছেন শত শত । সি.আই.টি.ইউ করার অপরাধে চাকুরী থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে চার হাজারের বেশী ঠিকা শ্রমিক । রাজ্য সরকারে পুলিশ-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে সন্ত্রাস চালিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করে তৃণমূল দখল করে নিয়েছে কো-অপাঃ ব্যাঙ্ক –সমবায়-স্কুল এর পরিচালন সমিতি । কিন্তু  গনতান্ত্রিক অধিকারের টুঁটি চিপে ধরে দুর্গাপুর কে নতজানু করানোর চক্রান্ত মানুষ ব্যর্থ করে দিয়েছে । ভয়ংকর সন্ত্রাসের মধ্যও লাল ঝাণ্ডা উর্ধে তুলে মানুষ লড়াই চালিয়ে গেছে । তৃণমূলকে একে একে পরাস্ত করেছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক ইউনিয়ন স্বীকৃতি নির্বাচন ( দু-বার ),মহিলা ব্যাঙ্ক , সেইল সমবায় আবাসন সহ বিগত ২০১৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) ও দুর্গাপুর ( পশ্চিম ) দুটি আসনে ।
অন্য দিকে , দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ‘শিল্প-ধ্বংসের’ নীতি নিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকার । শিল্পাঞ্চলের প্রান-ভোমরা রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প অবলুপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে । ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা ২৫ টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ হারিয়েছে । নতুন কোন শিল্প আসে নি । লোকের মুখে মুখে প্রশ্ন ঘুরছে – ‘মোদি-দিদি’-র সৌজন্যে দুর্গাপুর কি ‘দুর্দশাপুর’ হয়ে যাবে ?
দুর্গাপুরের মানুষের দুর্দশার জন্য আজ তৃণমূল ও বিজেপি আজ আসামীর কাঠগড়ায় ।
আগামী ১৩ই আগষ্ট দুর্গাপুর নগর নির্বাচনে দুর্গাপুর আবার তৈরি হচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি কে পরাস্ত করতে ।

আজ সকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইস্পাতনগরী সহ গোটা দুর্গাপুরে পালিত হয় দুর্গাপুরের প্রথম শহীদদ্বয় আশিষ-জব্বার সহ সমস্ত শহীদের স্মরনে শহীদ দিবস । সকালে বি.টি.রণদিভে  ভবনে ( ১নং বিদ্যাসাগর এভিন্যু ) রক্তপতাকা উত্তোলন করেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী ও অরুন চৌধুরী । পরে আশীষ মার্কেট এর মূল অনুষ্ঠানে ও আশীষ-জব্বার ভবনে রক্তপতাকা উত্তোলন করেন করেন রথীন রায় । শহীদবেদীতে মাল্যদান করেন রথীন রায়,সন্তোষ দেবরায়,পি কে দাস,জীবন রায়,নির্মল ভট্টাচার্য,সুবীর সেনগুপ্ত, বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,অরুন চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।

সকালে  হিন্দুস্থান স্টীল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(সি.আই.টি.ইউ) -র উদ্যোগে শহীদ দিবস উপলক্ষে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা ও অভিভাবকদের জন্য তাৎক্ষনিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বি.টি.রণদিভে ভবনে ।






















Friday, 4 August 2017

দুর্গাপুর পৌর নিগম নির্বাচন : ইস্পাতনগরী জুড়ে চলছে বামফ্রন্টের নিবিড় প্রচার



দুর্গাপুর ,৪ঠা আগষ্ট : দুর্গাপুর বদলে গেছে ! অন্ততঃ বাইরে থেকে একঝলক দেখলে সেই রকম মনে হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয় । সারা শহর জুড়ে আক্ষরিক অর্থে প্রতিটি ইঞ্চিতে তৃণমূলের পতাকা / নেত্রীর  মুখ-শোভিত ফেষ্টুন কিংবা বিশাল বিশাল কাট আউট/তোড়ন । দুর্গাপুর যেন হয়ে উঠেছে ‘ দি গ্রেট ডিক্টেটর’ সিনেমার অ্যাডেনয়েড হাইংকেল শাসিত গা-ছম ছম করা টোমানিয়া ! নির্বাচন এলে দুর্গাপুর সরগরম হয়ে ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারে । আলোচনা চলে পাড়ায়-বাজারে-কারখানায় । ২০১১ সালের পরে আস্তে আস্তে ছবিটা পাল্টাতে শুরু করে । প্রকাশ্যে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা,তর্ক-বিতর্ক ক্রমশঃ  ‘নিষিদ্ধ’ হতে শুরু করে ।

২০১৬ এর বিধান সভা নির্বাচনে দুর্গাপুরের দুটি আসনেই তৃণমূল পর্যদুস্ত হওয়ার পরে শাসকদল তৃণমূল কে পরাজয়ের আতংক তাড়া করে ফিরছে । ১৯৬০-৭০ দশকের ‘লাল দুর্গাপুর ‘ যেমন তৎকলীন শাসকবর্গের মনে ভয় ধরিয়েছিল ,২০১৭ সালের দুর্গাপুর আজ মোদি-মমতার কাছে তেমনই হয়ে উঠছে । কারখানা বাঁচাও , দুর্গাপুর বাঁচাও আন্দোলনের, অভূতপূর্ব জোয়ার তৃণমূলের মধ্যে পরাজয়ের আতংক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে । গোদের উপর বিষফোঁড়া বিগত পাঁচ বছরে নিষ্কর্মা ও দূর্ণীতিগ্রস্হ  তৃণমূল পরিচালিত দুর্গাপুর নগর নিগমের কার্যকলাপ সরাসরি শাসকদল কে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে । বিদায়ী মেয়র কে টিকিট না দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা মাঠে মারা গেছে বুঝতে পেরে তৃণমূলের  ভরসা এখন ‘জিতু ভাই’ ! কে এই ‘জিতু ভাই’ ? আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারী বর্তমান ঠিকানা এখন দুর্গাপুর । তৃণমূল প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দিনে তাকে ঘিরে প্রকাশ্যে কয়লা-মাফিয়াদের ভীড় বুঝিয়ে দিয়েছে কেন ‘জিতু ভাই’ এর এত কদর ! তার সাথে জুটেছেন অগ্নিগর্ভ  দার্জিলিং থেকে সদ্য হাত পুড়িয়ে আসা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস । দুর্গাপুরের তৃণমূলের নেতাদের ‘দায়িত্ব বোধ ‘ সম্পর্কে সম্ভবতঃ সন্দিহান তৃণমূল নেতৃত্ব তাই কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন । তাই দুর্গাপুরে ঘাঁটি গেড়ে পরে আছেন আরেক মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র তাপস ব্যানার্জী । কান পাতলে শোনা যাচ্ছে বীরভূমের ‘গুড়-বাতাসা’ দুর্গাপুরে আসার সম্ভাবনা প্রবল । এ তো গেল নেতা-আমদানি । দুর্গাপুরে  তৃণমূলের সমর্থকের ভাঁড়ারে যে টান পড়েছে ,সেটা টের পেয়ে সমর্থক –আমদানী করার কথাও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে । অতএব ভরসা  ‘জিতু ভাই’ । অভিযোগ উঠছে যে ভোটের দিন আসার আগেই আসানসোল-উখরা-রানীগঞ্জ-লাউদোহা-পান্ডবেশ্বর মায় বিহার-ঝাড়খন্ড থেকে তৃণমূলের অতিথি-সমর্থকরা দুর্গাপুরে ১৩ই আগষ্ট পৌর নির্বাচনের দিন ‘ভোট করাতে ‘ দুর্গাপুরে আসতে শুরু করেছে এবং যোগ্য সংগত দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ-প্রশাসন ‘তৈরি’ ।
 পাড়ায় পাড়ায় বাম কর্মীদের প্রতি শাসানী , প্রার্থীদের হুমকি-বোমা ও পিস্তল নিয়ে হামলার সাথে সাথে চলছে ‘পরামর্শ দান ‘ – ভোটের দিনে আমরা থাকব না , বাইরের লোক আসবে , সাবধান , .. ।

কিন্তু এত করেও বামফ্রন্টের প্রচার বন্ধ করা যাচ্ছে না । বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রচারের উপর জোড় দেওয়া হচ্ছে । প্রচারে ছোট ছোট দল বার হলেও পড়ে তা ক্রমশঃ মিছিলের আকার ধারন করছে ।
ইস্পাতনগরীর প্রায় মাঝ বরাবর ৭ নং ওয়ার্ড । এখানে বামফ্রন্ট মনোনীত সি.পি.আই.(এম) এর তরুন প্রার্থী স্বপন সরকার । বর্তমানে সি.আই.টি.ইউ এর সর্বক্ষনের কর্মী স্বপন সরকার দুর্গাপুরের ছাত্র-যুব আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ । বিদায়ী তৃণমূলের কাউন্সিলর নিজের ওয়ার্ড ছেড়ে অন্যত্র প্রার্থী হয়েছেন । ওয়ার্ড জুড়ে অনুন্নয়ন ও প্রবল দলবাজীর অভিযোগ চাপা দেওয়ার জন্য ক্লাব ক্লাবে ২ লক্ষ টাকার টোপ চলছে বলে অভিযোগ । বামফ্রন্ট মনোনীত সি.পি.আই.(এম) এর তরুন প্রার্থী স্বপন সরকার  জানিয়েছেন বামফ্রন্টের নির্বাচনী ইস্তাহার কার্যকরী করার সাথে সাথে এলাকার ভাঙ্গাচোড়া রাস্তা-ড্রেনের মেরামতি , বস্তি উন্নয়ন , প্রাপ্য বিধবা-বার্ধক্য ভাতার দ্রুত সংস্হান কে অগ্রাধীকার দিতে চান । স্বপন সরকারের সমর্থনে প্রচারে প্রতিদিন বেশী করে মানুষ যুক্ত হচ্ছেন । সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর রুখে দাঁড়াচ্ছে ।




Thursday, 3 August 2017

দুর্গাপুরে আগুন জ্বালতে এলে মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিং ,ভাঙ্গরের মত হাত পোড়াবেন : সূর্যকান্ত মিশ্র




দুর্গাপুর ,৩রা আগষ্ট : আসন্ন ১৩ই আগষ্ট  দুর্গাপুর পৌর নিগম নির্বাচনে উপলক্ষ্যে আজ ইস্পাতনগরীর নিউটন ময়দানে ( ৯ নং স্ট্রীট ) বামফ্রন্টের প্রার্থীদের পক্ষে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সভায় স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূলের ‘ নির্বাচনী- সন্ত্রাস ’ কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এ কথা বলেন ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি ( মার্কসবাদী )-র রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য সূর্যকান্ত মিশ্র । তিনি শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তৃণমূলের  ‘ভোট-সন্ত্রাস’ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান । তিনি বলেন জনগনের টাকা লুঠ করে , জনগনের স্বার্থ বিরোধী নীতি নিয়ে , নির্বাচনে জনগনের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তৃণমূল হারিয়েছে । তাই তৃণমূল সন্ত্রাসের মাধ্যমে জিতবার চেষ্টা করছে । কিন্তু দুর্গাপুরে তৃণমূলের এই সন্ত্রাস রোখার জন্য বামফ্রন্টের সাথে অন্য বাম দল ও কংগ্রেস এগিয়ে এসেছে ।
তিনি বলেন যে জন-বিরোধী নীতির গ্রহনের ক্ষেত্রে কেবল কেন্দ্রীয় সরকার নয় রাজ্য সরকারও সমান ভাবে দায়ী । আজ গ্যাসের ভর্তুকি তুলে দেওয়ার বিরোধীতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী ,আমরাও করছি । কিন্তু পার্থক্য হোল তিনি দ্বিতীয় ইউ.পি.এ সরকারের সময় গ্যাসের ভর্তুকি তুলে দেওয়ার জন্য পারেখ কমিটির সুপারিশের আমরা বিরোধীতা করেছিলাম ,উনি করেন নি । জিএসটি-র লোক দেখানো বিরোধীতা করছেন ,কারন তার অর্থমন্ত্রী নিজেই জিএসটি প্রনোয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন । শ্রী মিশ্র প্রশ্ন করেন – এই বিরোধীতার পরে মুখ্যমন্ত্রী কি রাজ্যের কর কমানোর নীতি নেবেন ? নোট বাতিলের বিরোধীতা করেছিল তৃণমূল । কারন সারদা-নারদা কেলেংকারীর লুঠের টাকা ধরা পড়ার ভয় ছিল । আমরা নোট বাতিলের বিরোধীতা করি নি । আমরা বাতিল নোটের সম পরিমান টাকা ছাপানোর দাবী করেছিলাম জনগনের হয়রানি দুর করার জন্য । আজ নোট বাতিলের ফলে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক কুপ্রভাব তৈরি হয়েছে । বহু লোক কাজ হারিয়েছেন । ৫৬-ইঞ্চি ছাতি দেখিয়ে মোদি বছরে ২ কোটি কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন , মমতা ব্যানার্জী বছরে ২ লক্ষ চাকরীর  প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন । কোথায় গেল সেই প্রতিশ্রুতি ?
আজ ধর্মের নামে বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিজেপি । পিছিয়ে নেই তৃণমূল । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যারা বিরোধীতা করেছিল , তৃণমূল তাদের আশ্রয় দিচ্ছে । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষমতা নেই । দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষমতা বামপন্হ দের আছে । বাম আমলে জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে দাঙ্গাকারীরা মাথা তোলার সাহস পায় নি । দাঙ্গা ঠেকানোর ক্ষমতা বামপন্হীদেরই আছে ।
দূর্ণীতি তৃণমূলের আগাপাশতলা চেপে বসেছে । সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে তথাকথিত ‘জমি-আন্দোলন’ এর কথা বলেছিলেন । মানুষ দেখছেন যে ভাঙ্গর থেকে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রীট পর্যন্ত জমি-লুঠের পাশে আছেন মুখ্যমন্ত্রী । অনেকে মনে করেছিলেন মোদির প্রতিশ্রুতি অনুসারে চিটফান্ড কেলেংকারীর কিনারা হবে , প্রতারিতরা টাকা ফেরৎ পাবেন , দোষীরা জেলে যাবেন । কিন্তু তা হবার নয় । কারন দূর্ণীতিগ্রস্হরা উভয় দলের সম্পদ । একমাত্র উজ্জ্বল ব্যতিক্রম বামপন্হীরা ।
আজ যখন কেন্দ্র ও রাজ্যের নীতির জন্য দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ধুঁকছে , তখন বামপন্হীরাই শিল্প বাঁচাতে , শহর বাঁচাতে লড়াই লড়াই গড়ে তুলেছে । তাই দুর্গাপুর বাঁচাতে পৌর নির্বাচনে বামফ্রন্টের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে   বাম পৌর বোর্ড গঠনের জন্য রায়দান করার আবেদন জানান সূর্যকান্ত মিশ্র ।

আজকের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রেখেছেন অমল হালদার,বংশগোপাল চৌধুরী,গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী ও সন্তোষ দেবরায় ।