দুর্গাপুর,১৮ই মার্চ
: দুর্গাপুরের কর্মসংস্হানের অন্যতম দুই উৎস হল অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর
ইস্পাত কারখানা । মোদি সরকার স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্টের পোষাকি নামের আড়ালে অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট কে বিক্রি করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা রোখা না গেলে সমূহ বিপদ নেমে আসতে
চলেছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা সহ সমগ্র আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে । এর বিরুদ্ধে
গত দেড় বছরের বেশী সময় ধরে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চ যে লড়াই চালাচ্ছে
সেই লড়াই এর অংশীদার ডি.ওয়াই.এফ.আই । এই লড়াই কে আরও জোরদার করা ও ডি.ওয়াই.এফ.আই এর
সদস্য পত্র গ্রহন করার আহ্বান জানিয়ে আজ ইস্পাতনগরীর রাণাপ্রতাপ রোড থেকে ডি.ওয়াই.এফ.আই
এর দুর্গাপুর ইস্পাত এ-জোন আঞ্চলিক কমিটির ডাকে একটি মিছিল শুরু হয়ে আশিষ মার্কেট অঞ্চল
ঘুরে শেষ হয় ।
Sunday, 18 March 2018
Wednesday, 14 March 2018
অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি রুখতে গণ প্রতিরোধের ডাক দিল কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির যৌথমঞ্চ ।
দুর্গাপুর,১৪ই মার্চ
: আজ দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সি.ই.ও এর দফ্তরের সামনে গণ অনশনের ( সকাল ৮টা থেকে
বিকাল ৫টা ) ধর্ণা মঞ্চ থেকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি রুখতে গণ প্রতিরোধের
ডাক দিল কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির নেতৃবৃন্দ । এই বিষয়ে বিভিন্ন বক্তা দাবি আদায়ের
উদাহরন হিসাবে মহারাষ্ট্রে কৃষক সভার নেতৃত্বে কৃষকদের লঙ মার্চ এর সাফল্যের কথা তুলে
ধরেন । আগামী ১১ই এপ্রিল ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট
‘ এর পোষাকি নামের আড়ালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রির দরপত্র ( টেন্ডার ) জমা
দেওয়ার শেষ দিন । আগামী ২রা মে দরপত্র প্রকাশের দিন । এই নিয়ে দুর্গাপুরে উত্তেজনার
পারদ চড়ছে । গত দেড় বছর ধরে যৌথমঞ্চের পক্ষ থেকে ইস্পাত শ্রমিক ও দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের
নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এর প্রস্তাবিত বিলগ্নীকরন রুখতে ও দুর্গাপুর
ইস্পাতের আধুনিকীকরন-সম্প্রসারনের দাবীতে কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির যৌথমঞ্চ লড়াই-আন্দোলন
পরিচালনা করছে ।
মোদি সরকারের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক
ডিসইনভেষ্টমেন্টের তালিকায় সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সালেম ও ভদ্রাবতী থাকলেও
যথাক্রমে তমিলনাড়ু ও কর্নাটক সরকারের প্রকাশ্যে তীব্র আপত্তি থাকায় কোন সংস্হা ‘এক্সপ্রেশন
অফ ইন্টারেষ্ট ‘ দেখানোর সাহস পায় নি । কেন একই অবস্হান গ্রহন করে পঃ বঙ্গ সরকার অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসছেন না ? - এই প্রশ্ন এখন দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের
মুখে মুখে ঘুরছে । গোটা দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়ে শিল্পে যেন মড়ক লেগেছে ।
বেসরকারি কল-কারখানার সাথে সাথে এই মড়ক ছড়িয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প সংস্হায়
। বন্ধ হয়েছে হিন্দুস্হান কেবলস । বন্ধের মুখে বার্ণ স্ট্যান্ডার্ড । ধুঁকছে ডিটিপিএস
। অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রি রোখা না গেলে গভীর সংকটে পরবে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা
। ইতিমধ্যে কেন্দ্রিয় সরকার কয়লা শিল্পের বেসরকারিকরনের নির্দেশ জারি করেছে । ফলে রাজ্যের
সবচেয়ে শিল্প-সমৃদ্ধ দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলের সাথে সাথে রাজ্যের অর্থনীতির সংকট
ভয়াবহ রূপ ধারন করতে চলেছে । পলি পড়ে শুকিয়ে যেতে বসেছে দামোদর ও সংলগ্ন সেচ-খাল ।এর
ফলে গ্রীষ্ম কালে দুর্গাপুরে জল-সংকট চরম আকার নিচ্ছে , বর্ষায় শহর ভাসছে । শিল্পের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনায় পিছিয়ে নেই রাজ্য সরকারও । দুর্গাপুর কেমিক্যালস এর ১০০% বেসরকারীকরন
, দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড ( ডিপিএল ) এর কোক ওভেন বন্ধ সহ রুগ্নতার দিকে ঠেলে দেওয়া
, যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা অণ্ডালে প্রস্তাবিত বিমান নগরীর জায়গায় কেবল বিমান ওঠা-নামার
মধ্য সীমাবদ্ধ করা এবং তাও প্রায় বন্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া – এই সবই রাজ্যের তৃনমূল সরকারে
মোদি সরকারে নীতির অনুসরন এর সাক্ষ্য দিচ্ছে । নতুন শিল্পের কোন নাম-গন্ধ নেই । নতুন
কাজ সৃষ্টি হচ্ছে না । কর্মরতরা নতুন করে বেকার হচ্ছে । দুর্গাপুর ‘দুর্দশাপুর‘ হওয়ার
দিকে এগোচ্ছে ।
এই অবস্হায় অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি বাতিল , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার
আধুনিকিকরন ও সম্প্রসারনের দাবিতে কেন্দ্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির (সিআইটিইউ-আইএনটিইউসি-এআইটিউসি-এইইউটিইউসি-ইউটিইউসি)
যৌথমঞ্চ লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে । সাম্প্রতিক কালে পুনরায় যোগ দিয়েছে বিএমএস ।
আজ যৌথমঞ্চের ডাকে
গণ অনশন ও ধর্নায় বসেন অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিকরা
। ধর্না মঞ্চে এসে যোগ দেন ছাত্র-যুব-মহিলা সহ অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত শ্রমিকরা । সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংলগ্ন কয়লা শিল্পের শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ,বর্তমান
ও প্রাক্তন সাংসদ-বিধায়ক সহ যৌথমঞ্চ ও ইস্পাত শ্রমিক আন্দোলনের ও অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত
শ্রমিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । অনশন-বিক্ষোভ
চলাকালিন সময়ে যৌথমঞ্চের এক প্রতিনিধিদল সি.ই.ও দফ্তরে অবিলম্বে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের
বিক্রি বাতিল , অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট ও দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আধুনিকিকরন ও সম্প্রসারনের
দাবিতে স্মারক লিপি জমা দেয় ।
বক্তব্য রেখেছেন যৌথমঞ্চের
যুগ্ম আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ও বিকাশ ঘটক , দুর্গাপুরের প্রাক্তন সাংসদ
সুনীল খান ও সেখ সাইদুল হক , রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ জীবনবিহারী রায় ও আর.পি.সিং
, পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জী, দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর বিধায়ক
সন্তোষ দেবরায় ,এসডব্লুএফআই এর সম্পাদক পি.কে.দাস, বিশ্বরূপ ব্যানার্জী,বিশ্বজিত বিশ্বাস,
আমির হায়দার,শম্ভুনাথ প্রামানিক,অনিত মল্লিক,বিশ্বনাথ মন্ডল,শিবু দাস,মলয় ভট্টাচার্য
,বিজয় সাহা,অরূপ রায় ,অশোক চক্রবর্তী প্রমূখ । সভাপতিত্ব করেন রথীন রায় ।
Sunday, 11 March 2018
অ্যালয় স্টিল বাঁচানোর দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় কে স্মারকলিপি জমা দিল যৌথ মঞ্চ ।
দুর্গাপুর,১১ই মার্চ : আজ দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প দফ্তরের
রাষ্ট্রমন্ত্রী ও আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়-র কাছে অ্যালয় স্টিল বাঁচানোর জন্য তার হস্তক্ষেপের
দাবি জানিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চের
পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ করা হয় । একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর
উদ্দ্যেশে পৃথক একটি স্মারকলিপি বাবুল সুপ্রিয়-র
কাছে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় । অপর দিকে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(
এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়-র হস্তক্ষেপ
চেয়ে দু’টি পৃথক চিঠি বাবুল সুপ্রিয়-র হাতে তুলে দেন । এর আগে যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক
ও সি.আই.টি.ইউ এর পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী মন্ত্রীর
কাছে দেশ গঠনের ক্ষেত্রে অ্যালয় স্টিল , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা সহ দুর্গাপুর-আসানসোল
শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রীয় শিল্প সংস্হা গুলির অপরিসিম অবদান ও অসীম সম্ভাবনার কথা তুলে
ধরেন ও কিভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির জন্য সেগুলি বন্ধ অথবা বিক্রি হয়ে যাওয়ার ফলে
এই অঞ্চলে ভয়াবহ আর্থ-সামাজিক সংকটের সৃষ্টি হতে চলেছে মন্ত্রীর কাছে ব্যাখা করেন ।এর
সাথে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি হলে ,প্রথমেই বিপদে পড়বে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা
ও পরে সমগ্র দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল । দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ
দেবরায় বলেন এর আগেই কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অ্যালয় স্টিল
প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট তথা বিক্রি বন্ধ করার জন্য একাধিকবার যৌথ
মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে । মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় স্বীকার করেন যে অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্টের যে প্রযুক্তি আছে তা ভারতে তো বটেই , সমগ্র এশিয়া মহাদেশে তা বিরল
। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট
প্রস্তাব খারিজের জন্য যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি দল কে নিয়ে ‘ নীতি আয়োগে’ এর সাথে আগামী
এক মাসের মধ্যে আলোচনায় বসাবার চেষ্টা করবেন ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি বন্ধ
করার জন্য চেষ্টা করবেন । এর আগে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিশেষ ইস্পাতের তৈরি একটি
স্মারক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এর হাতে তুলে দেন যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে বিধায়ক সন্তোষ
দেবরায় । যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের
মধ্যে ছিলেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী , বিশ্বজিত বিশ্বাস , অনীত মল্লিক,শম্ভূ প্রামানিক
সহ অন্যান্যরা ।
এদিকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক
ডিসইনভেষ্টমেন্ট প্রস্তাব খারিজের জন্য হস্তক্ষেপ চেয়ে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীকে গত ১৮ই
ফে্রুঃ চিঠি দিয়েছেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়
।
দুর্গাপুর,১১ই মার্চ : আজ দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প দফ্তরের
রাষ্ট্রমন্ত্রী ও আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়-র কাছে অ্যালয় স্টিল বাঁচানোর জন্য তার হস্তক্ষেপের
দাবি জানিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চের
পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ করা হয় । একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর
উদ্দ্যেশে পৃথক একটি স্মারকলিপি বাবুল সুপ্রিয়-র
কাছে যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় । অপর দিকে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.(
এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায় একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়-র হস্তক্ষেপ
চেয়ে দু’টি পৃথক চিঠি বাবুল সুপ্রিয়-র হাতে তুলে দেন । এর আগে যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক
ও সি.আই.টি.ইউ এর পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী মন্ত্রীর
কাছে দেশ গঠনের ক্ষেত্রে অ্যালয় স্টিল , দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা সহ দুর্গাপুর-আসানসোল
শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রীয় শিল্প সংস্হা গুলির অপরিসিম অবদান ও অসীম সম্ভাবনার কথা তুলে
ধরেন ও কিভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির জন্য সেগুলি বন্ধ অথবা বিক্রি হয়ে যাওয়ার ফলে
এই অঞ্চলে ভয়াবহ আর্থ-সামাজিক সংকটের সৃষ্টি হতে চলেছে মন্ত্রীর কাছে ব্যাখা করেন ।এর
সাথে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি হলে ,প্রথমেই বিপদে পড়বে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা
ও পরে সমগ্র দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল । দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ
দেবরায় বলেন এর আগেই কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অ্যালয় স্টিল
প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট তথা বিক্রি বন্ধ করার জন্য একাধিকবার যৌথ
মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে । মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় স্বীকার করেন যে অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্টের যে প্রযুক্তি আছে তা ভারতে তো বটেই , সমগ্র এশিয়া মহাদেশে তা বিরল
। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট
প্রস্তাব খারিজের জন্য যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি দল কে নিয়ে ‘ নীতি আয়োগে’ এর সাথে আগামী
এক মাসের মধ্যে আলোচনায় বসাবার চেষ্টা করবেন ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিক্রি বন্ধ
করার জন্য চেষ্টা করবেন । এর আগে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের বিশেষ ইস্পাতের তৈরি একটি
স্মারক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এর হাতে তুলে দেন যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে বিধায়ক সন্তোষ
দেবরায় । যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের
মধ্যে ছিলেন বিশ্বরূপ ব্যানার্জী , বিশ্বজিত বিশ্বাস,অনীত মল্লিক,শম্ভূ প্রামানিক,অরূপ রায় সহ অন্যান্যরা ।
এদিকে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের স্ট্র্যাটেজিক
ডিসইনভেষ্টমেন্ট প্রস্তাব খারিজের জন্য হস্তক্ষেপ চেয়ে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীকে গত ১৮ই
ফে্রুঃ চিঠি দিয়েছেন দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়
।
Thursday, 8 March 2018
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে কনভেনশন ।
দুর্গাপুর,৮ই মার্চ
: আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস । এই উপলক্ষ্যে সারা ভারত গনতান্ত্রিক মহিলা সমিতির দুর্গাপুর
ইস্পাত জোনালের পক্ষ থেকে ইস্পাতনগরীর বি.টি.রণদিভে ভবনে আজ বিকালে মহিলা কনভেনশনের
আয়োজন করা হয় । বক্তব্য রাখেন সারা ভারত গনতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিম বর্ধমান জেলার
সদস্যা মৈত্রেয়ী দাস । সভাপতিত্ব করেন শুভ্রা গাঙ্গুলী । এছাড়াও উপস্হিত ছিলেন আল্পনা
চৌধুরী,মিতা ভট্টাচার্য,রাজলক্ষী দে সহ অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ ।
Wednesday, 7 March 2018
কমরেড লেনিনের আহ্বানে চলে মুক্তি সেনানী …….
দুর্গাপুর,৭ই মার্চ
: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ত্রিপুরায় আরএসএস-বিজেপি-র গেরুয়া বাহিনীর নারকীয়
ফ্যাসিবাদি সন্ত্রাসের বলি হাজার হাজার সিপিইএম কর্মী-সমর্থক । ত্রিপুরার বিলোনিয়া ও সাব্রুমে তালিবানি কায়দায় গেরুয়া বাহিনী গুঁড়িয়ে দিয়েছে মহান
চিন্তাবিদ ,বিপ্লবী ও ভারতবন্ধু লেনিনের মূর্তি । প্রতিবাদে পার্টির ডাকে আজ বিকালে ইস্পাতনগরীর
এ’জোনের আশিষ মার্কেট থেকে হর্ষবর্ধন , বি’জোনের বি.টি.রণদিভে ভবন থেকে চন্ডিদাস বাজার
ও সেইল আবাসন অঞ্চলে কবিগুরু ( দ্বিতীয় স্টপেজ ) থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন
পথ পরিক্রমা করে শেষ হয় ।
Sunday, 4 March 2018
ডাঃ নর্মান হেনরী বেথুন-এর ১২৮তম জন্মদিবস উপলক্ষ্যে রক্তদান শিবির ।
দুর্গাপুর,৪ঠা মার্চ : বিশ্ববরেণ্য চিকিৎসক,মানবতাবাদী সমাজসেবী ডাঃ নর্মান হেনরী বেথুন -এর আজ ১২৮তম
জন্মদিবস।স্পেনের গৃহযুদ্ধ চলার সময় যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের চিকিৎসায় রক্তদানের
জন্য ১৯৩৬ সালে তিনি বিশ্বের প্রথম ভ্রাম্যমান ব্লাড ব্যাঙ্কের উদ্ভাবন করেন। তাঁর জন্মদিবস পালন উপলক্ষ্যে আজ দুর্গাপুরের
বিবেকানন্দ হাসপাতালে দুর্গাপুর মহকুমা ভলান্টারী ব্লাড ডোনার্স ফোরাম ও দুর্গাপুর
অবসর এর যৌথ উদ্যোগে এক রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয় । ২১ জন রক্তদান করেছেন তাদের মধ্যে
১ জন মহিলা।এর আগে বিধাননগর ডেয়ারি কলোনি সংলগ্ন
তাঁর নামে নামাঙ্কিত রাস্তায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান হয়।
Wednesday, 28 February 2018
জীবন দিয়ে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট রক্ষার শপথ : শিল্প বাঁচাতে নয়া সংগ্রামের ইতিহাস লিখছে দুর্গাপুর
দুর্গাপুর,২৮শে ফেব্রুঃ
: গত দু বছর ধরে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের
যৌথ মঞ্চ লাগাতার লড়াই চালিয়ে আসছে । প্রায় ১৫০টি যৌথ কর্মসূচীতে হাজার হাজার শ্রমিক
সহ সাধারন মানুষ অংশ গ্রহন করেছেন । আজ যৌথ মঞ্চের ডাকে ইস্পাতনগরীর চন্ডিদাস বাজারে
প্রতিবাদ সভা কার্যতঃ জনসভার রূপ নিল । নজিরবিহীন ভাবে যৌথ মঞ্চের এই কর্মসূচীতে অংশ
নিয়ে বি.এম.এস অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এর স্ট্র্যাটেজিক
বিলগ্নীকরন এর পোশাকি নামের আড়ালে অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এর বিক্রির জন্য মোদি সরকারের
ঘৃণ্য অপচেষ্টার তীব্র বিরোধিতার ডাক দিয়েছে । তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আই.এন.টি.টি.ইউ.সি
ও এই কর্মসূচীতে যোগ দেয় । নতুন করে আসা বি.এম.এস ও আই.এন.টি.টি.ইউ.সি সহ কেন্দ্রীয়
ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চ এর স্টিয়ারিং কমিটি আগামী ৩রা মার্চ সভা করে আন্দোলনের
নয়া কর্মসূচী গ্রহন করবে বলে সভায় ঘোষনা করা হয় । শ্রমিক আন্দোলনের এই ব্যপকতম ঐক্য
অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বাঁচাও আন্দোলন কে আরো শক্তিশালী করবে । স্বাধীন ভারতে শ্রমিক অধিকার রক্ষায় , দুর্গাপুরের ইস্পাত
শ্রমিকরা যে অন্যন্য সাধারন নজীর তৈরি করছে ,তা দেশ-কালের পরিধি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক
পরিচিতি লাভ করেছে । একই সাথে রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প বাঁচাতে এবং জন্মলগ্ন থেকে এ.এস.পি ও ডি.এস.পি বাঁচাতে ও দেশের মধ্যে ইস্পাত
উৎপাদনে শীর্ষে পৌঁছাতে দুর্গাপুরের ইস্পাত
শ্রমিকরা অন্যবদ্য ভূমিকা পালন করেছে । বিগত এনডি-বিজেপি সময়ে যখন এম.এ.এম.সি – এফ.সি.আই-বি.ও.জে.এল
মত একটার পর একটা রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প বন্ধ হয়ে যায় , তখন দুর্গাপুরের ইস্পাত শ্রমিকদের যৌথ আন্দোলনের
ব্যারিকেড, এ.এস.পি কেনার জন্য আগত জিন্দাল গোষ্ঠী ও ডি.এস.পি –র ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট কেনার জন্য আগত বহুজাতিক সংস্হা এনরনের
প্রতিনিধিদের কারখানায় ঢুকতেই দেয় নি । যৌথ শ্রমিক আন্দোলন গড়ার ক্ষেত্রেও দুর্গাপুরের
ইস্পাত শ্রমিকরা সারা ভারতের মধ্যে পথিকৃৎ এর ভূমিকা পালন করছে ।অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট
বাঁচাও আন্দোলন এক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।
সংবাদপত্রে অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের ( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) খবর
প্রকাশিত হতেই দুর্গাপুরে নতুন করে আশংকার মেঘ জমতে শুরু করেছে। বিগত দেড় বছরে বেশী
সময় ধরে রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী অ্যালয়
স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির ( স্ট্র্যাটেজিক ডিসইনভেষ্টমেন্ট ) চেষ্টার বিরুদ্ধে ট্রেড
ইউনিয়ন সমূহের যৌথ মঞ্চ লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে । পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্গাপুর (
পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়। প্রসংগত বিক্রির তালিকায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ব
ইস্পাত উৎপাদক সংস্হা সেইলের বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনকারী সালেম ( তামিলনাড়ু ) ও ভদ্রাবতী
( কর্নাটক ) স্টিল প্ল্যান্ট । কিন্তু প্রবল শ্রমিক আন্দোলনের চাপে সংশ্লিষ্ট রাজ্য
সরকার গুলি বেসরকারীকরনের তীব্র বিরোধিতা করতে বাধ্য হয় । বেগতিক দেখে মোদি সরকার পিছিয়ে
আসতে বাধ্য হয় । কেবল মাত্র অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বিক্রির জন্য গ্লোবাল টেণ্ডারের
( এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ) আহ্বান করা হয়েছে । এখানেই প্রশ্ন উঠছে পঃ বঙ্গ সরকারের
ভূমিকা নিয়ে । ইতিমধ্যে দুর্গাপুর ( পূর্ব ) এর সি.পি.আই.( এম ) বিধায়ক সন্তোষ দেবরায়
ও রাজ্যে বাম পরিষদীয় দলনেতা সূজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপের
দাবি জানালেও কোন ফল হয় নি । ফলে দুর্গাপুরের মানুষের মনে কেন্দ্রের ভূমিকার সাথে সাথে
রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ জেগেছে ।
এই অবস্হায় ইস্পাত
শ্রমিক সহ দুর্গাপুরের মানুষের কাছে ঐক্যবদ্ধ
ভাবে সরাসরি রাস্তায় নেমে লড়াই করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই বলে সভায় বক্তারা জানিয়েছেন
। বক্তব্য রখেছেন যৌথ মঞ্চের যৌথ আহ্বায়ক বিনয়েন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী ( সি.আই.টি.ইউ
) ও বিকাশ ঘটক (আই.এন.টি.ইউ.সি ) ,শিবপ্রসাদ দাস ( বি.এম.এস ),রাজা চ্যাটার্জী (আই.এন.টি.টি.ইউ.সি),শম্ভূ
প্রামানিক ( এ.আই.
টি.ইউ.সি ),বিশ্বনাথ মন্ডল (এ.আই.
টি.ইউ.সি.সি ) , বিশ্বরূপ ব্যানার্জী প্রমূখ । সভাপতিত্ব করেন প্রবীন শ্রমিক নেতা রথীন
রায় ।
Subscribe to:
Posts (Atom)
